মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী তৎপুরুষ, নঞ ও উপপদ তৎপুরুষ — নিয়ম ও উদাহরণসহ।

তৎপুরুষ সমাস — বিভক্তি অনুসারে প্রকারভেদ

দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী তৎপুরুষ, নঞ ও উপপদ তৎপুরুষ — নিয়ম ও উদাহরণসহ।

সংজ্ঞা

যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রধান থাকে, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। কোন বিভক্তি লোপ পেয়েছে, তার ভিত্তিতেই তৎপুরুষের নামকরণ হয়।

পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায়

যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রধান থাকে, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। রাজার পুত্র মিলে রাজপুত্র হয়েছে — এখানে বিভক্তিটি লোপ পেয়েছে, আর শব্দটি পুত্রই বোঝায়।

কর্মধারয়ের সঙ্গে পার্থক্য পূর্বপদে। কর্মধারয়ে পূর্বপদ বিশেষণ এবং ব্যাসবাক্যে যে বসে; তৎপুরুষে পূর্বপদ বিভক্তিযুক্ত বিশেষ্য এবং ব্যাসবাক্যে কে, দ্বারা, থেকে, জন্য, এর, — কোনো একটি বিভক্তি বসে।

কোন বিভক্তি লোপ পেয়েছে তার ওপরেই তৎপুরুষের নাম নির্ভর করে। দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত ছয়টি বিভক্তির নামেই ছয় রকম তৎপুরুষ — তাই প্রকার বলতে হলে আগে বিভক্তিটি চিনতে হয়।

  • পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায়।
  • পরপদের অর্থ প্রধান
  • বিভক্তির নামেই সমাসের নাম — দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, …
  • রাজার পুত্র = রাজপুত্রষষ্ঠী বিভক্তি লোপ
  • রাজপুত্র কর্মধারয় রাজপুত্র তৎপুরুষপূর্বপদ বিশেষণ নয়

বিভক্তি অনুযায়ী ছয় প্রকার

তৎপুরুষের প্রকার নির্ণয় আসলে বিভক্তি নির্ণয়। ব্যাসবাক্যে কোন বিভক্তি বসেছে দেখো, নামটি সেখান থেকেই আসবে। নিচের ছকটি একবার মিলিয়ে নিলে যেকোনো তৎপুরুষের প্রকার বলা যায়।

তৎপুরুষের ছয় প্রকার

প্রকারবিভক্তিব্যাসবাক্যসমস্তপদ
দ্বিতীয়াকেবিপদকে আপন্নবিপদাপন্ন
তৃতীয়াদ্বারা / দিয়েমন দিয়ে গড়ামনগড়া
চতুর্থীজন্য / নিমিত্তবসতের নিমিত্ত বাড়িবসতবাড়ি
পঞ্চমীথেকে / হতেবিলাত থেকে ফেরতবিলাতফেরত
ষষ্ঠীর / এররাজার পুত্ররাজপুত্র
সপ্তমীএ / তেগাছে পাকাগাছপাকা
  • শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ — তৃতীয়া
  • খাঁচা থেকে ছাড়া = খাঁচাছাড়া — পঞ্চমী
  • দিবাতে নিদ্রা = দিবানিদ্রা — সপ্তমী

নঞ তৎপুরুষ — না-বোধক সমাস

পূর্বপদে বা তার রূপান্তরিত রূপ (, অন, না, নি) বসে যে তৎপুরুষ হয়, তাকে নঞ তৎপুরুষ বলে। ন আচার = অনাচার, ন সম্ভব = অসম্ভব। এখানে না-বোধকতাই শব্দটির প্রধান ভাব।

সতর্কতা একটি: না-বোধক পূর্বপদ থাকলেই নঞ তৎপুরুষ নয়। অজ্ঞান মানে যার জ্ঞান নেই — অর্থ তৃতীয় কারও দিকে যাচ্ছে, তাই সেটি নঞ বহুব্রীহি। আর অসম্ভব মানে যা সম্ভব নয় — অর্থ পরপদেই আছে, তাই নঞ তৎপুরুষ।

সমস্তপদব্যাসবাক্যপ্রকার
অসম্ভবন সম্ভবনঞ তৎপুরুষ
অনাচারন আচারনঞ তৎপুরুষ
নাবালকনা বালকনঞ তৎপুরুষ
অজ্ঞাননাই জ্ঞান যারনঞ বহুব্রীহি
নিরক্ষরনাই অক্ষর যারনঞ বহুব্রীহি
  • ন সম্ভব = অসম্ভব — অর্থ পরপদেই, তাই তৎপুরুষ
  • অজ্ঞান নঞ তৎপুরুষ অজ্ঞান নঞ বহুব্রীহি — “যার” আছে

উপপদ ও অলুক তৎপুরুষ

কৃদন্ত পদের আগে যে পদ বসে তাকে উপপদ বলে, আর সেই পদের সঙ্গে সমাস হলে হয় উপপদ তৎপুরুষ। কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার, জল দেয় যে = জলদ। পরপদটি সব সময় একটি কৃদন্ত শব্দ।

অলুক তৎপুরুষে বিভক্তি লোপ পায় না — নামটাই তা বলছে। তেলে ভাজা মিলে তেলেভাজা, মাটিতে শোয়া মিলে মাটিতেশোয়া। বিভক্তি টিকে থাকা দেখেই অলুক বলে চেনা যায়।

দুটি ধরনই কম আসে, কিন্তু এলে সরাসরি নাম জানতে চাওয়া হয়। তাই উদাহরণ দুটি-তিনটি করে মনে রাখাই যথেষ্ট।

ধরনবৈশিষ্ট্যউদাহরণ
উপপদ তৎপুরুষপরপদ কৃদন্তকুম্ভকার, জলদ, পঙ্কজ
অলুক তৎপুরুষবিভক্তি লোপ পায় নাতেলেভাজা, মাটিতেশোয়া
  • কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার — উপপদ তৎপুরুষ
  • তেলে ভাজা = তেলেভাজা — অলুক তৎপুরুষ

ব্যাসবাক্য থেকে প্রকার বের করার ধাপ

তৎপুরুষের প্রশ্নে উত্তর তিন ধাপে বেরোয়। প্রথমে সমস্তপদটির ব্যাসবাক্য লেখো। তারপর দেখো ব্যাসবাক্যে কোন বিভক্তি বসেছে। শেষে সেই বিভক্তির নামেই প্রকারটি লেখো।

ব্যাসবাক্য লিখতে গিয়ে ঠিক বিভক্তি বসানোই আসল দক্ষতা। বিলাতফেরত বোঝাতে বিলাত থেকে ফেরত লিখতে হবে, বিলাতের ফেরত নয় — অর্থ বদলে যাবে। বাংলা বাক্যে স্বাভাবিকভাবে কোন বিভক্তি বসত, সেটাই ভাবার বিষয়।

  • ধাপ ১ — ব্যাসবাক্য লেখো।
  • ধাপ ২ — বিভক্তি চিহ্নিত করো।
  • ধাপ ৩ — বিভক্তির নামেই প্রকার লেখো।
  • মনগড়া → মন দিয়ে গড়া → তৃতীয়া তৎপুরুষ
  • বিলাতফেরত = বিলাতের ফেরত বিলাতফেরত = বিলাত থেকে ফেরত

পরীক্ষায় কী আসে

তৎপুরুষ সমাস থেকে প্রতি বছরই প্রশ্ন আসে, কারণ প্রকারভেদ ছয়টি এবং প্রতিটির উদাহরণ আলাদা। প্রশ্নের চেহারা সাধারণত দুটি — ব্যাসবাক্যসহ প্রকার নির্ণয়, অথবা একটি প্রকারের দুটি উদাহরণ চাওয়া।

সবচেয়ে বেশি ভুল হয় কর্মধারয়ের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলায়। মনে রাখার এক লাইনের সূত্র: পূর্বপদ বিশেষণ হলে কর্মধারয়, বিভক্তিযুক্ত বিশেষ্য হলে তৎপুরুষনীলাকাশ-এ নীল একটি বিশেষণ, তাই কর্মধারয়; রাজপুত্র-এ রাজা একটি বিশেষ্য, তাই তৎপুরুষ।

দ্বিতীয় ফাঁদ নঞ নিয়ে। না-বোধক পূর্বপদ দেখলেই নঞ তৎপুরুষ লিখে ফেলা চলবে না — ব্যাসবাক্যে যার থাকলে সেটি নঞ বহুব্রীহি। অসম্ভব তৎপুরুষ, অজ্ঞান বহুব্রীহি।

  • পূর্বপদ বিশেষণ → কর্মধারয়; বিভক্তিযুক্ত বিশেষ্য → তৎপুরুষ।
  • ব্যাসবাক্যে যার থাকলে বহুব্রীহি, তৎপুরুষ নয়।
  • উত্তরে ব্যাসবাক্য + বিভক্তির নাম দুটিই লেখো।
  • উত্তর: তৎপুরুষ সমাস। উত্তর: ষষ্ঠী তৎপুরুষ, ব্যাসবাক্য — রাজার পুত্র।

বিস্তারিত আলোচনা

তৎপুরুষ সমাস চেনার উপায় হলো ব্যাসবাক্যে পূর্বপদের সঙ্গে বিভক্তি বসছে কি না দেখা। "বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন" — এখানে দ্বিতীয়া বিভক্তি "কে" লোপ পেয়েছে, তাই এটি দ্বিতীয়া তৎপুরুষ। একইভাবে "মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা" তৃতীয়া তৎপুরুষ, "গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি" চতুর্থী তৎপুরুষ।

পঞ্চমী তৎপুরুষে "থেকে" বা "হতে" লোপ পায় — বিদ্যালয় থেকে আগত = বিদ্যালয়াগত, ঋণ থেকে মুক্ত = ঋণমুক্ত। ষষ্ঠী তৎপুরুষে "র" বা "এর" লোপ পায় — রাজার পুত্র = রাজপুত্র, চায়ের বাগান = চাবাগান। আর সপ্তমী তৎপুরুষে "এ", "য়" বা "তে" লোপ পায় — গাছে পাকা = গাছপাকা, দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা।

কয়েকটি বিশেষ তৎপুরুষও আছে। নঞ তৎপুরুষে না-বাচক অব্যয় পূর্বপদ হয় — ন আচার = অনাচার, ন কাল = অকাল। উপপদ তৎপুরুষে কৃদন্ত পদ পরপদ হয় — কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার, জল দেয় যে = জলদ। আর অলুক তৎপুরুষে বিভক্তি লোপ পায় না — যেমন গায়ে হলুদ, তেলে ভাজা।

মনে রাখার কথা

কোন বিভক্তি লোপ পেয়েছে সেটি ধরতে পারলেই তৎপুরুষের নাম আপনা থেকেই বেরিয়ে আসে।

সাধারণ ভুল

পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।

  • “রাজপুত্র” কর্মধারয় সমাস। ষষ্ঠী তৎপুরুষ — পূর্বপদ বিশেষ্য, বিভক্তি লোপ পেয়েছে।
  • “অজ্ঞান” নঞ তৎপুরুষ। নঞ বহুব্রীহি — ব্যাসবাক্য “নাই জ্ঞান যার”।
  • “বিলাতফেরত” = বিলাতের ফেরত “বিলাত থেকে ফেরত” — পঞ্চমী তৎপুরুষ।
  • “তেলেভাজা” সাধারণ তৎপুরুষ। অলুক তৎপুরুষ — বিভক্তি লোপ পায়নি।

অনুশীলন

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।

  1. তৎপুরুষ সমাস কাকে বলে?
  2. তৎপুরুষ সমাসের নাম কীসের ভিত্তিতে হয়?
  3. ব্যাসবাক্যসহ প্রকার লেখো: মনগড়া।
  4. নঞ তৎপুরুষ ও নঞ বহুব্রীহি আলাদা করবে কীভাবে?
  5. উপপদ তৎপুরুষ কাকে বলে?
  6. অলুক তৎপুরুষের দুটি উদাহরণ দাও।
  7. কর্মধারয় ও তৎপুরুষ চেনার এক লাইনের সূত্র কী?
  8. তৎপুরুষ সমাসে কোন পদের বিভক্তি লোপ পায়?
  9. উপপদ তৎপুরুষে পরপদ কেমন হয়?
  10. অলুক তৎপুরুষ চেনার চিহ্ন কী?
  11. তৎপুরুষ ও কর্মধারয় চেনার এক লাইনের সূত্র কী?

উত্তর

  1. যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রধান থাকে, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
  2. পূর্বপদে যে বিভক্তি লোপ পেয়েছে তার নামে — দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী ও সপ্তমী তৎপুরুষ।
  3. মন দিয়ে গড়া — তৃতীয়া তৎপুরুষ, কারণ “দিয়ে” তৃতীয়া বিভক্তি।
  4. ব্যাসবাক্যে “যার” থাকলে বহুব্রীহি (অজ্ঞান = নাই জ্ঞান যার), না থাকলে তৎপুরুষ (অসম্ভব = ন সম্ভব)।
  5. কৃদন্ত পদের আগে বসা পদের সঙ্গে সমাস হলে তাকে উপপদ তৎপুরুষ বলে — যেমন কুম্ভ করে যে = কুম্ভকার।
  6. তেলেভাজা ও মাটিতেশোয়া — দুটিতেই বিভক্তি লোপ পায়নি।
  7. পূর্বপদ বিশেষণ হলে কর্মধারয়, আর বিভক্তিযুক্ত বিশেষ্য হলে তৎপুরুষ।
  8. পূর্বপদের। “রাজার পুত্র” থেকে “রাজপুত্র” হওয়ার সময় ষষ্ঠী বিভক্তি লোপ পেয়েছে।
  9. সব সময় একটি কৃদন্ত শব্দ — যেমন কুম্ভকার, জলদ, পঙ্কজ। কৃদন্ত পদের আগে বসা পদটিকেই উপপদ বলে।
  10. বিভক্তি লোপ পায় না — “তেলে ভাজা” মিলে “তেলেভাজা” হয়েছে, কিন্তু “এ” বিভক্তি টিকে আছে। সাধারণ তৎপুরুষে বিভক্তি লোপ পেত।
  11. পূর্বপদ বিভক্তিযুক্ত বিশেষ্য হলে তৎপুরুষ, আর বিশেষণ হলে কর্মধারয়। দুটিতেই পরপদের অর্থ প্রধান।

উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো

বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকো

পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।