মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

দ্বন্দ্ব সমাসের সংজ্ঞা, অলুক ও বহুপদী দ্বন্দ্বসহ প্রকারভেদ এবং চেনার সহজ উপায়।

দ্বন্দ্ব সমাস — নিয়ম, প্রকারভেদ ও উদাহরণ

দ্বন্দ্ব সমাসের সংজ্ঞা, অলুক ও বহুপদী দ্বন্দ্বসহ প্রকারভেদ এবং চেনার সহজ উপায়।

সংজ্ঞা

যে সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয়েরই অর্থ সমানভাবে প্রধান থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। ব্যাসবাক্যে দুই পদের মাঝে "ও", "এবং" বা "আর" বসে।

উভয় পদের অর্থই টিকে থাকে

যে সমাসে সমস্যমান উভয় পদের অর্থই সমানভাবে প্রধান থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। মাতাপিতা বললে মা-ও বোঝায়, বাবাও বোঝায় — কোনো একটির অর্থ হারিয়ে যায় না। এটিই দ্বন্দ্বকে বাকি পাঁচটি সমাস থেকে আলাদা করে।

শনাক্ত করার সহজতম উপায় ব্যাসবাক্য। দ্বন্দ্ব সমাসের ব্যাসবাক্যে সব সময় , এবং বা আর — কোনো একটি সংযোজক অব্যয় বসে। মাতা ও পিতা, দোয়াত ও কলম, ভাই এবং বোন। এই অব্যয়টি দেখলেই প্রকার নিশ্চিত।

নামটির অর্থও কাজটি বলে দেয়। দ্বন্দ্ব মানে জোড়া বা যুগল — দুটি পদ জোড়ায় বসে, একে অন্যের অধীন হয় না।

  • ব্যাসবাক্যে ও / এবং / আর থাকে।
  • উভয় পদের অর্থ সমানভাবে প্রধান।
  • দুইয়ের বেশি পদেও দ্বন্দ্ব হয় — সাহেব-বিবি-গোলাম
  • মাতা ও পিতা = মাতাপিতা
  • দোয়াত ও কলম = দোয়াতকলম
  • নীল যে আকাশ = দ্বন্দ্ব নীল যে আকাশ = কর্মধারয়“যে” আছে, “ও” নেই

দ্বন্দ্ব সমাসের প্রকারভেদ

পদগুলোর সম্পর্ক অনুযায়ী দ্বন্দ্ব সমাসকে কয়েক ভাগে দেখা হয়। ভাগগুলো আলাদা করে জানতে চাওয়া হয় উচ্চতর শ্রেণিতে, আর উদাহরণ চাওয়া হয় সব শ্রেণিতেই।

দ্বন্দ্ব সমাসের ধরন

ধরনসম্পর্কউদাহরণ
মিলনার্থকসমজাতীয় দুই পদভাইবোন, মাতাপিতা
বিরোধার্থকবিপরীত দুই পদজমা-খরচ, দিনরাত, আসা-যাওয়া
সমার্থককাছাকাছি অর্থের দুই পদকাজকর্ম, ধনদৌলত
বহুপদীদুইয়ের বেশি পদসাহেব-বিবি-গোলাম, রূপ-রস-গন্ধ
অলুকবিভক্তি লোপ পায় নাদুধেভাতে, হাতেকলমে
  • জমা ও খরচ = জমাখরচ — বিরোধার্থক
  • রূপ, রস ও গন্ধ = রূপরসগন্ধ — বহুপদী

অলুক দ্বন্দ্ব — বিভক্তি টিকে থাকে

সাধারণ সমাসে সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ পায়। কিন্তু কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে বিভক্তি অপরিবর্তিত থেকে যায় — এদের বলে অলুক দ্বন্দ্ব। অলুক শব্দের অর্থই “লোপ পায় না এমন”।

দুধে ও ভাতে মিলে দুধেভাতে হয়েছে, কিন্তু বিভক্তি দুটি টিকে আছে। একইভাবে হাতেকলমে, কাগজেকলমে, জলেস্থলে। বিভক্তি দেখলেই অলুক বলে চেনা যায়।

  • দুধে ও ভাতে = দুধেভাতে
  • হাতে ও কলমে = হাতেকলমে
  • কাগজে ও কলমে = কাগজেকলমে
  • জলে ও স্থলে = জলেস্থলে
  • হাতেকলমে — অলুক দ্বন্দ্বএ বিভক্তি লোপ পায়নি
  • হাতেকলমে সাধারণ দ্বন্দ্ব এটি অলুক দ্বন্দ্ব

একশেষ দ্বন্দ্ব ও সমার্থক দ্বন্দ্ব

কিছু দ্বন্দ্বে দুটি পদের একটি লোপ পেয়ে কেবল একটিই টিকে থাকে, অথচ অর্থে দুটিই থাকে — একে বলে একশেষ দ্বন্দ্ব। পিতা ও মাতা মিলে পিতরৌ হয় সংস্কৃতে; বাংলায় এর প্রয়োগ সীমিত।

সমার্থক দ্বন্দ্বে দুটি পদের অর্থ প্রায় এক, আর জোড়া লাগায় ভাবটি জোরালো হয়। কাজকর্ম, ধনদৌলত, লোকজন — এখানে দ্বিতীয় পদটি অর্থে নতুন কিছু যোগ করে না, কেবল ব্যাপ্তি বাড়ায়।

এই দুটি ধরন দ্বিরুক্ত শব্দের সঙ্গে মিলে যায় বলে বিভ্রান্তি হয়। পার্থক্য হলো, দ্বিরুক্তিতে একই শব্দ দুবার বসে, আর দ্বন্দ্বে দুটি আলাদা শব্দ বসে।

ধরনবৈশিষ্ট্যউদাহরণ
সমার্থক দ্বন্দ্বদুই সমার্থ শব্দকাজকর্ম, লোকজন
দ্বিরুক্তিএকই শব্দ দুবারভালো ভালো, বার বার
একশেষ দ্বন্দ্বএকটি পদ লোপপিতা ও মাতা = পিতরৌ
  • কাজকর্ম — সমার্থক দ্বন্দ্বদুটি আলাদা শব্দ
  • বার বার — দ্বিরুক্তিএকই শব্দ দুবার

ব্যাসবাক্য লেখার নিয়ম

দ্বন্দ্ব সমাসের ব্যাসবাক্য লিখতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি ভুল হয় সংযোজক অব্যয় বাদ দেওয়ায়। মাতাপিতা-র ব্যাসবাক্য মাতা পিতা নয়, মাতা ও পিতা — মাঝের না থাকলে ব্যাসবাক্যটিই অসম্পূর্ণ।

বহুপদী দ্বন্দ্বে শেষ দুটি পদের মাঝে অব্যয় বসে, আগেরগুলোর মাঝে কমা। রূপ, রস ও গন্ধ — এই বিন্যাসটিই শুদ্ধ। সব পদের মাঝে বসালে বাক্যটি ভারী হয়ে যায়।

অলুক দ্বন্দ্বে বিভক্তিসহ লিখতে হয়। হাতেকলমে-র ব্যাসবাক্য হাত ও কলম নয়, হাতে ও কলমে — বিভক্তি বাদ দিলে অলুক বৈশিষ্ট্যটিই হারিয়ে যায়।

  • সংযোজক অব্যয় ও / এবং / আর বাদ দিয়ো না।
  • বহুপদীতে শেষ জোড়ায় অব্যয়, আগে কমা
  • অলুক দ্বন্দ্বে বিভক্তিসহ লেখো।
  • মাতাপিতা = মাতা পিতা মাতাপিতা = মাতা ও পিতা
  • হাতেকলমে = হাত ও কলম হাতেকলমে = হাতে ও কলমে

পরীক্ষায় কী আসে

দ্বন্দ্ব সমাস থেকে প্রশ্ন সাধারণত তিন রকম — সংজ্ঞা ও উদাহরণ, ব্যাসবাক্য লেখা, আর প্রকার নির্ণয়। প্রথম দুটি সহজ, তৃতীয়টিতে অলুক দ্বন্দ্ব চিনতে না পারলে ভুল হয়।

একটি ফাঁদ আছে সমার্থক দ্বন্দ্ব নিয়ে। কাজকর্ম বা লোকজন দেখে অনেকে দ্বিরুক্ত শব্দ ভেবে ফেলে। মনে রাখো: দ্বিরুক্তিতে একই শব্দ দুবার, আর দ্বন্দ্বে দুটি আলাদা শব্দ।

উত্তরে কেবল প্রকারের নাম নয়, ব্যাসবাক্যটিও লেখো। “মাতাপিতা — দ্বন্দ্ব সমাস, ব্যাসবাক্য: মাতা ও পিতা” — এই কাঠামোয় লিখলে পূর্ণ নম্বর নিশ্চিত।

  • ব্যাসবাক্যে থাকলে দ্বন্দ্ব।
  • বিভক্তি টিকে থাকলে অলুক দ্বন্দ্ব।
  • উত্তরে প্রকার + ব্যাসবাক্য দুটিই লেখো।
  • উত্তর: দ্বন্দ্ব সমাস। উত্তর: দ্বন্দ্ব সমাস, ব্যাসবাক্য — মাতা ও পিতা।
  • কাজকর্ম একটি দ্বিরুক্ত শব্দ কাজকর্ম সমার্থক দ্বন্দ্ব — দুটি আলাদা শব্দ

বিস্তারিত আলোচনা

দ্বন্দ্ব সমাস চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ব্যাসবাক্য লিখে দেখা — যদি মাঝখানে "ও" বা "এবং" বসাতে হয়, তবে সেটি দ্বন্দ্ব। যেমন মাতা ও পিতা = মাতাপিতা, দিন ও রাত = দিনরাত, তাল ও তমাল = তালতমাল, ভাই ও বোন = ভাইবোন।

দ্বন্দ্ব সমাসের কয়েকটি বিশেষ রূপ আছে। সমার্থক দ্বন্দ্বে দুটি সমার্থক শব্দ পাশাপাশি বসে — ধন-দৌলত, কাগজ-পত্র, খেলা-ধুলা। বিপরীতার্থক দ্বন্দ্বে বিপরীত অর্থের দুটি শব্দ বসে — জমা-খরচ, আসা-যাওয়া, লাভ-লোকসান। আবার অলুক দ্বন্দ্বে পদের বিভক্তি লোপ পায় না — যেমন দুধে-ভাতে, হাতে-কলমে, বনে-জঙ্গলে।

একাধিক পদেও দ্বন্দ্ব হতে পারে, যাকে বলে বহুপদী দ্বন্দ্ব — যেমন সাহেব, বিবি ও গোলাম = সাহেব-বিবি-গোলাম; হাত, পা ও মাথা = হাত-পা-মাথা। এসব ক্ষেত্রে সব পদই সমান গুরুত্ব পায়, কোনোটিই অন্যটির অধীন নয়।

মনে রাখার কথা

ব্যাসবাক্যে "ও" বা "এবং" বসাতে পারলেই সেটি দ্বন্দ্ব সমাস — এই একটিমাত্র পরীক্ষাই সাধারণত যথেষ্ট।

সাধারণ ভুল

পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।

  • মাতাপিতা = মাতা পিতা মাতাপিতা = মাতা ও পিতা — সংযোজক অব্যয় লাগবে।
  • “হাতেকলমে” সাধারণ দ্বন্দ্ব। এটি অলুক দ্বন্দ্ব — বিভক্তি লোপ পায়নি।
  • “কাজকর্ম” একটি দ্বিরুক্ত শব্দ। এটি সমার্থক দ্বন্দ্ব — দুটি আলাদা শব্দ মিলেছে।
  • দ্বন্দ্ব সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান। দ্বন্দ্বে উভয় পদের অর্থই সমানভাবে প্রধান।

অনুশীলন

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।

  1. দ্বন্দ্ব সমাস কাকে বলে?
  2. দ্বন্দ্ব সমাস চেনার সহজ সূত্র কী?
  3. অলুক দ্বন্দ্ব কাকে বলে? দুটি উদাহরণ দাও।
  4. ব্যাসবাক্য লেখো: জমাখরচ।
  5. বহুপদী দ্বন্দ্বের ব্যাসবাক্য কীভাবে লিখবে?
  6. দ্বিরুক্তি ও সমার্থক দ্বন্দ্বের পার্থক্য কী?
  7. দুইয়ের বেশি পদে দ্বন্দ্ব হয় কি?
  8. অলুক দ্বন্দ্বে “অলুক” শব্দের অর্থ কী?
  9. দ্বন্দ্ব সমাসের নামটি এল কোথা থেকে?
  10. দ্বন্দ্ব সমাসে কোন পদের অর্থ প্রধান?

উত্তর

  1. যে সমাসে সমস্যমান উভয় পদের অর্থই সমানভাবে প্রধান থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে — যেমন মাতা ও পিতা = মাতাপিতা।
  2. ব্যাসবাক্যে ও, এবং কিংবা আর — কোনো একটি সংযোজক অব্যয় বসে। অব্যয়টি দেখলেই প্রকার নিশ্চিত হয়।
  3. যে দ্বন্দ্বে সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব বলে — যেমন হাতেকলমে, দুধেভাতে।
  4. জমা ও খরচ। এটি বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব, কারণ দুটি পদ বিপরীত অর্থের।
  5. শেষ দুটি পদের মাঝে অব্যয় এবং আগেরগুলোর মাঝে কমা — যেমন রূপরসগন্ধ = রূপ, রস ও গন্ধ।
  6. দ্বিরুক্তিতে একই শব্দ দুবার বসে (বার বার), আর সমার্থক দ্বন্দ্বে দুটি আলাদা কিন্তু কাছাকাছি অর্থের শব্দ বসে (কাজকর্ম)।
  7. হয়। একে বহুপদী দ্বন্দ্ব বলে — যেমন সাহেব-বিবি-গোলাম, রূপরসগন্ধ।
  8. অলুক মানে “লোপ পায় না এমন”। সাধারণ সমাসে সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ পায়, কিন্তু অলুক দ্বন্দ্বে টিকে থাকে — যেমন হাতেকলমে, দুধেভাতে।
  9. “দ্বন্দ্ব” শব্দের অর্থ জোড়া বা যুগল। এই সমাসে দুটি পদ জোড়ায় বসে এবং একটি অন্যটির অধীন হয় না, তাই নামটি যথার্থ।
  10. উভয় পদেরই — এটিই দ্বন্দ্বকে বাকি পাঁচটি সমাস থেকে আলাদা করে। কর্মধারয়, তৎপুরুষ ও দ্বিগুতে পরপদের, বহুব্রীহিতে অন্য পদের এবং অব্যয়ীভাবে পূর্বপদের অর্থ প্রধান।

উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো

বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকো

পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।