মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

কর্মধারয় সমাসের সংজ্ঞা এবং মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত ও রূপক কর্মধারয়ের উদাহরণ।

কর্মধারয় সমাস — প্রকারভেদ ও উদাহরণ

কর্মধারয় সমাসের সংজ্ঞা এবং মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত ও রূপক কর্মধারয়ের উদাহরণ।

সংজ্ঞা

যে সমাসে বিশেষণ ও বিশেষ্য পদ মিলিত হয়ে পরপদের অর্থ প্রধান রাখে, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। এখানে দুই পদ একই বস্তু বা ব্যক্তিকে বোঝায়।

বিশেষণ + বিশেষ্য, পরপদের অর্থ প্রধান

যে সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ, পরপদ বিশেষ্য এবং পরপদের অর্থই প্রধান থাকে, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। নীল যে আকাশ মিলে নীলাকাশ — শব্দটি আকাশই বোঝায়, নীল রঙটি কেবল তার বিশেষণ।

শনাক্ত করার সূত্র ব্যাসবাক্যে। কর্মধারয়ের ব্যাসবাক্যে সব সময় যে, ন্যায় বা রূপ — কোনো একটি সংযোগ থাকে। মহৎ যে জন = মহাজন, তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র, বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু

তৎপুরুষের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা সবচেয়ে সাধারণ ভুল, কারণ দুটিতেই পরপদের অর্থ প্রধান। পার্থক্য পূর্বপদে — কর্মধারয়ে পূর্বপদ বিশেষণ, তৎপুরুষে বিভক্তিযুক্ত বিশেষ্য।

  • পূর্বপদ বিশেষণ, পরপদ বিশেষ্য
  • ব্যাসবাক্যে যে / ন্যায় / রূপ বসে।
  • পরপদের অর্থই প্রধান।
  • নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম
  • মহৎ যে জন = মহাজন
  • রাজপুত্র কর্মধারয় রাজপুত্র তৎপুরুষ — রাজার পুত্র

কর্মধারয়ের পাঁচ প্রকার

কর্মধারয় সমাসের প্রকারভেদ পরীক্ষায় সরাসরি আসে, আর পাঁচটি ভাগের প্রতিটির চেনার আলাদা সূত্র আছে। ব্যাসবাক্যের শব্দ দেখেই প্রকার বলা যায়।

কর্মধারয়ের প্রকার

প্রকারব্যাসবাক্যে যা থাকেউদাহরণ
সাধারণযেনীল যে আকাশ = নীলাকাশ
মধ্যপদলোপীমাঝের পদ লোপসিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন
উপমানন্যায় + সাধারণ ধর্মতুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র
উপমিতন্যায় + উপমানমুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র
রূপকরূপবিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু
  • ঘি মাখা ভাত = ঘিভাত — মধ্যপদলোপী
  • মন রূপ মাঝি = মনমাঝি — রূপক

উপমান ও উপমিত — সবচেয়ে বড় ফাঁদ

দুটিতেই ব্যাসবাক্যে ন্যায় বসে, তাই এই জোড়াটিই সবচেয়ে বেশি গুলিয়ে যায়। পার্থক্য কোন পদটি আগে বসেছে তাতে। উপমানে আগে বসে উপমান (যার সঙ্গে তুলনা) আর পরে বসে সাধারণ ধর্ম (গুণ)। উপমিতে আগে বসে উপমেয় (যাকে তুলনা করা হচ্ছে) আর পরে উপমান

তুষারশুভ্র — তুষার উপমান, শুভ্র সাধারণ ধর্ম, তাই উপমান কর্মধারয়। মুখচন্দ্র — মুখ উপমেয়, চন্দ্র উপমান, তাই উপমিত কর্মধারয়। পরপদটি গুণ না বস্তু, এই একটি প্রশ্নেই উত্তর মেলে।

দিকউপমান কর্মধারয়উপমিত কর্মধারয়
পূর্বপদউপমানউপমেয়
পরপদসাধারণ ধর্ম (গুণ)উপমান (বস্তু)
উদাহরণতুষারশুভ্র, কাজলকালোমুখচন্দ্র, চরণকমল
যাচাইপরপদ গুণবাচকপরপদ বস্তুবাচক
  • কাজলের ন্যায় কালো = কাজলকালো — উপমান
  • চরণ কমলের ন্যায় = চরণকমল — উপমিত
  • মুখচন্দ্র উপমান কর্মধারয় মুখচন্দ্র উপমিত কর্মধারয়

রূপক কর্মধারয় — অভেদ কল্পনা

রূপক কর্মধারয়ে উপমেয় ও উপমানের মধ্যে কোনো তুলনা নয়, অভেদ কল্পনা করা হয় — অর্থাৎ দুটিকে এক বলে ধরা হয়। বিষাদসিন্ধু মানে বিষাদ সিন্ধুর মতো নয়, বিষাদই সিন্ধু। ব্যাসবাক্যে রূপ শব্দটি এই অভেদই বোঝায়।

সাহিত্যে রূপক কর্মধারয় খুব প্রিয়, কারণ এটি এক শব্দেই একটি চিত্রকল্প তৈরি করে। জীবনতরী, ক্রোধানল, মনমাঝি — প্রতিটিতেই বিমূর্ত ভাবকে মূর্ত বস্তু বলে ধরা হয়েছে।

সমস্তপদব্যাসবাক্যকী অভেদ
বিষাদসিন্ধুবিষাদ রূপ সিন্ধুদুঃখ = সমুদ্র
ক্রোধানলক্রোধ রূপ অনলরাগ = আগুন
জীবনতরীজীবন রূপ তরীজীবন = নৌকা
মনমাঝিমন রূপ মাঝিমন = মাঝি
  • ব্যাসবাক্যে “রূপ” আছে → রূপক কর্মধারয়
  • বিষাদসিন্ধু উপমিত কর্মধারয় বিষাদসিন্ধু রূপক কর্মধারয়

মধ্যপদলোপী কর্মধারয়

কিছু কর্মধারয়ে ব্যাসবাক্যের মাঝের পদটি সমস্তপদে লোপ পায়। সিংহ চিহ্নিত আসন মিলে সিংহাসন হয়েছে — মাঝের চিহ্নিত শব্দটি আর নেই। এদের বলে মধ্যপদলোপী কর্মধারয়।

চেনার উপায়: সমস্তপদটি দেখে ব্যাসবাক্য লিখতে গেলে একটি অতিরিক্ত শব্দ যোগ করতে হচ্ছে কি না দেখো। ঘিভাত বোঝাতে ঘি মাখা ভাত লিখতে হয়, মাখা শব্দটি যোগ করতে হচ্ছে — তাই মধ্যপদলোপী।

সমস্তপদব্যাসবাক্যলুপ্ত পদ
সিংহাসনসিংহ চিহ্নিত আসনচিহ্নিত
ঘিভাতঘি মাখা ভাতমাখা
পলান্নপল মিশ্রিত অন্নমিশ্রিত
ছাগদুগ্ধছাগীর দুগ্ধ
হাসিমুখহাসি যুক্ত মুখযুক্ত
  • ঘি মাখা ভাত = ঘিভাতমাঝের পদ লোপ
  • হাসি যুক্ত মুখ = হাসিমুখ

পরীক্ষায় কী আসে

কর্মধারয় থেকে প্রশ্ন প্রায় সব সময় প্রকার নির্ণয়ের — একটি সমস্তপদ দিয়ে বলা হয় ব্যাসবাক্য লিখে প্রকার জানাতে। তাই ব্যাসবাক্যটি ঠিকভাবে লিখতে পারাই আসল কাজ, প্রকার তার পরেই বেরিয়ে আসে।

সবচেয়ে বেশি ভুল হয় উপমান ও উপমিতে। মনে রাখার এক লাইনের সূত্র: পরপদ গুণ হলে উপমান, পরপদ বস্তু হলে উপমিতশুভ্র একটি গুণ, তাই তুষারশুভ্র উপমান; চন্দ্র একটি বস্তু, তাই মুখচন্দ্র উপমিত।

উত্তরে ব্যাসবাক্য ও প্রকার দুটিই লেখো, এবং প্রকারের কারণটিও এক বাক্যে জানাও। “মুখচন্দ্র — উপমিত কর্মধারয়, কারণ পরপদ চন্দ্র একটি উপমান” — এই কাঠামোই পূর্ণ নম্বর দেয়।

  • পরপদ গুণ → উপমান; পরপদ বস্তু → উপমিত।
  • ব্যাসবাক্যে রূপ → রূপক।
  • অতিরিক্ত শব্দ যোগ করতে হলে মধ্যপদলোপী
  • উত্তর: কর্মধারয় সমাস। উত্তর: উপমিত কর্মধারয়, ব্যাসবাক্য — মুখ চন্দ্রের ন্যায়।

বিস্তারিত আলোচনা

কর্মধারয় সমাসে বিশেষণ পদটি বিশেষ্যের গুণ বা অবস্থা বোঝায়, আর দুই পদ মিলে একই সত্তাকে নির্দেশ করে। যেমন নীল যে আকাশ = নীলাকাশ, মহৎ যে জন = মহাজন, কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা, পীত যে অম্বর = পীতাম্বর। এখানে নীল আর আকাশ আলাদা দুটি জিনিস নয়, একই আকাশের বর্ণনা।

কর্মধারয় সমাসের কয়েকটি উপবিভাগ আছে। মধ্যপদলোপী কর্মধারয়ে ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পায় — সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন, ঘি মাখা ভাত = ঘিভাত। উপমান কর্মধারয়ে সাধারণ ধর্ম উপমেয়ের সঙ্গে যুক্ত হয় — তুষারের মতো শুভ্র = তুষারশুভ্র। উপমিত কর্মধারয়ে উপমেয় উপমানের সঙ্গে বসে — পুরুষ সিংহের ন্যায় = পুরুষসিংহ।

রূপক কর্মধারয়ে উপমেয় ও উপমানের মধ্যে অভেদ কল্পনা করা হয়, ব্যাসবাক্যে বসে "রূপ" — যেমন বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু, মন রূপ মাঝি = মনমাঝি, ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল। এই উপবিভাগগুলো পরীক্ষায় নিয়মিত আসে, তাই প্রতিটির অন্তত দুটি উদাহরণ মনে রাখা দরকার।

মনে রাখার কথা

কর্মধারয়ে দুই পদ একই সত্তাকে বোঝায় — এটি মনে রাখলে তৎপুরুষের সঙ্গে গুলিয়ে যাবে না।

সাধারণ ভুল

পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।

  • “মুখচন্দ্র” উপমান কর্মধারয়। উপমিত কর্মধারয় — পরপদ চন্দ্র একটি বস্তু।
  • “বিষাদসিন্ধু” উপমিত কর্মধারয়। রূপক কর্মধারয় — ব্যাসবাক্যে “রূপ” আছে।
  • “রাজপুত্র” কর্মধারয় সমাস। তৎপুরুষ — পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তি লোপ পেয়েছে।
  • “সিংহাসন”-এর ব্যাসবাক্য “সিংহ যে আসন”। “সিংহ চিহ্নিত আসন” — এটি মধ্যপদলোপী।

অনুশীলন

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।

  1. কর্মধারয় সমাস কাকে বলে?
  2. কর্মধারয় কত প্রকার ও কী কী?
  3. উপমান ও উপমিত কর্মধারয়ের পার্থক্য কী?
  4. ব্যাসবাক্য লেখো: বিষাদসিন্ধু।
  5. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় চেনার উপায় কী?
  6. কর্মধারয় ও তৎপুরুষ আলাদা করবে কীভাবে?
  7. রূপক কর্মধারয় সাহিত্যে এত ব্যবহৃত হয় কেন?
  8. কর্মধারয় সমাসে পূর্বপদ কী হয়?
  9. উপমান ও উপমিত চেনার এক লাইনের সূত্র কী?
  10. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়ে কোন পদ লোপ পায়?
  11. রূপক কর্মধারয়ে কী কল্পনা করা হয়?

উত্তর

  1. যে সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ, পরপদ বিশেষ্য এবং পরপদের অর্থই প্রধান থাকে, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
  2. পাঁচ প্রকার — সাধারণ, মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত ও রূপক কর্মধারয়।
  3. উপমানে পরপদ থাকে সাধারণ ধর্ম বা গুণ (তুষারশুভ্র), আর উপমিতে পরপদ থাকে উপমান বা বস্তু (মুখচন্দ্র)।
  4. বিষাদ রূপ সিন্ধু। এটি রূপক কর্মধারয়, কারণ উপমেয় ও উপমানে অভেদ কল্পনা করা হয়েছে।
  5. ব্যাসবাক্য লিখতে গিয়ে একটি অতিরিক্ত পদ যোগ করতে হলে সেটি মধ্যপদলোপী — যেমন ঘিভাত = ঘি মাখা ভাত।
  6. কর্মধারয়ে পূর্বপদ বিশেষণ এবং ব্যাসবাক্যে “যে” বসে; তৎপুরুষে পূর্বপদ বিভক্তিযুক্ত বিশেষ্য এবং ব্যাসবাক্যে বিভক্তি বসে।
  7. কারণ এটি এক শব্দেই একটি চিত্রকল্প তৈরি করে — বিমূর্ত ভাবকে মূর্ত বস্তু বলে ধরে নেয়, যেমন জীবনতরী বা ক্রোধানল।
  8. বিশেষণ। এখানেই তৎপুরুষের সঙ্গে পার্থক্য — তৎপুরুষে পূর্বপদ বিভক্তিযুক্ত বিশেষ্য হয়।
  9. পরপদ গুণবাচক হলে উপমান (তুষারশুভ্র), আর পরপদ বস্তুবাচক হলে উপমিত (মুখচন্দ্র)।
  10. ব্যাসবাক্যের মাঝের পদটি। “সিংহ চিহ্নিত আসন” থেকে “সিংহাসন” হওয়ার সময় “চিহ্নিত” শব্দটি লোপ পেয়েছে।
  11. উপমেয় ও উপমানের মধ্যে অভেদ — দুটিকে এক বলে ধরা হয়। “বিষাদসিন্ধু” মানে বিষাদ সিন্ধুর মতো নয়, বিষাদই সিন্ধু।

উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো

বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকো

পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।