মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের সংজ্ঞা, কৃৎ ও তদ্ধিতের পার্থক্য এবং প্রত্যয় নির্ণয়ের সহজ উপায়।

প্রকৃতি ও প্রত্যয় — সংজ্ঞা, প্রকারভেদ ও নির্ণয়

প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের সংজ্ঞা, কৃৎ ও তদ্ধিতের পার্থক্য এবং প্রত্যয় নির্ণয়ের সহজ উপায়।

সংজ্ঞা

শব্দ বা ধাতুর মূল অংশকে প্রকৃতি বলে, আর তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে যে শব্দাংশ, তাকে প্রত্যয় বলে। প্রত্যয় সবসময় প্রকৃতির পরে বসে।

প্রকৃতি কী, প্রত্যয় কী

যে শব্দ বা ধাতুকে আর ভাঙা যায় না, সেই মূল অংশটিকে বলে প্রকৃতি। আর প্রকৃতির শেষে যে অর্থহীন শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে, তাকে বলে প্রত্যয়। চলন্ত শব্দটি ভাঙলে পাওয়া যায় চল্ ধাতু আর অন্ত প্রত্যয় — মূল অংশটি প্রকৃতি, যুক্ত অংশটি প্রত্যয়।

প্রকৃতি দুই ধরনের। ক্রিয়ার মূলকে বলে ধাতু বা ক্রিয়াপ্রকৃতি, আর বিশেষ্য-বিশেষণের মূলকে বলে নামপ্রকৃতি বা শব্দপ্রকৃতি। √চল্ একটি ধাতু, হাত একটি নামপ্রকৃতি। কোন ধরনের প্রকৃতির সঙ্গে প্রত্যয় বসছে, তার ওপরই প্রত্যয়ের শ্রেণি নির্ভর করে।

উপসর্গের সঙ্গে পার্থক্যটি সহজ — উপসর্গ বসে শব্দের আগে, প্রত্যয় বসে শেষে। দুটিরই নিজস্ব অর্থ নেই, দুটিই নতুন শব্দ গড়ে, কিন্তু অবস্থান আলাদা।

শব্দপ্রকৃতিপ্রত্যয়প্রকৃতির ধরন
চলন্ত√চল্অন্তধাতু
গমন√গম্অনধাতু
বাঘাবাঘনামপ্রকৃতি
ঢাকাইঢাকাআইনামপ্রকৃতি
দর্শনীয়√দৃশ্অনীয়ধাতু
  • √কৃ + অক = কারকধাতু + প্রত্যয়
  • চলন্ত-এর অন্ত একটি উপসর্গ অন্ত একটি প্রত্যয়, শব্দের শেষে বসেছে

প্রত্যয়ের দুই শ্রেণি

প্রত্যয় কোন ধরনের প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হলে কৃৎ প্রত্যয়, আর নামপ্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত হলে তদ্ধিত প্রত্যয়। এই একটি প্রশ্নেই শ্রেণি নির্ণয়ের কাজ শেষ।

কৃৎ প্রত্যয় যোগে যে শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে কৃদন্ত শব্দ, আর তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে তৈরি শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ। পরীক্ষায় শব্দটির নাম জিজ্ঞাসা করা হয়, তাই দুটি নামই মনে রাখা দরকার।

কৃৎ বনাম তদ্ধিত

দিককৃৎ প্রত্যয়তদ্ধিত প্রত্যয়
কীসের সঙ্গেধাতু বা ক্রিয়াপ্রকৃতিনামপ্রকৃতি
গঠিত শব্দের নামকৃদন্ত শব্দতদ্ধিতান্ত শব্দ
উদাহরণ√চল্ + অন্ত = চলন্তবাঘ + আ = বাঘা
চিহ্নপ্রকৃতির আগে √ বসে√ বসে না
  • √গম্ + অন = গমন — কৃদন্ত শব্দ
  • ঢাকা + আই = ঢাকাই — তদ্ধিতান্ত শব্দ

ধাতুর আগে √ চিহ্ন কেন

ব্যাকরণে ধাতু বোঝাতে তার আগে √ চিহ্ন বসানো হয় — √চল্, √কর্, √দৃশ্। চিহ্নটি কেবল সাজসজ্জা নয়; এটি জানিয়ে দেয় অংশটি ক্রিয়ার মূল, নামশব্দ নয়। কর লিখলে বোঝা যায় না এটি ধাতু না বিশেষ্য, কিন্তু √কর্ লিখলে সংশয় থাকে না।

উত্তর লেখার সময় এই চিহ্নটি ব্যবহার করলে পরীক্ষক বুঝতে পারেন তুমি প্রকৃতির ধরন চিনতে পেরেছ। তাই কৃৎ প্রত্যয়ের উত্তর লেখার সময় √ বসানো অভ্যাস করা ভালো।

  • √ চিহ্ন কেবল ধাতুর আগে বসে, নামপ্রকৃতির আগে নয়।
  • ধাতুর শেষে হসন্ত থাকে — √চল্, √গম্, √কৃ।
  • উত্তরে √ ব্যবহার করলে প্রকৃতির ধরন স্পষ্ট হয়।
  • চলন্ত = চল + অন্ত চলন্ত = √চল্ + অন্ত
  • বাঘা = √বাঘ + আ বাঘা = বাঘ + আবাঘ ধাতু নয়, নামপ্রকৃতি

প্রত্যয় যোগে অর্থ কী হয়

প্রত্যয় নিজে অর্থহীন হলেও যুক্ত হয়ে শব্দে নির্দিষ্ট ভাব আনে। কোন প্রত্যয় কী ভাব আনে তা জানা থাকলে অচেনা শব্দের অর্থও অনুমান করা যায়, আর ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর মেলে।

প্রত্যয়যে ভাব আনেউদাহরণ
অন্তচলমানতাচলন্ত, জ্বলন্ত, উড়ন্ত
অনীয়যোগ্যতাদর্শনীয়, পঠনীয়, বরণীয়
তব্যঅবশ্যকর্তব্যকর্তব্য, বক্তব্য, দ্রষ্টব্য
আইস্থান বা সম্বন্ধঢাকাই, মিঠাই, বোম্বাই
ইকসম্বন্ধসামাজিক, বার্ষিক, দৈনিক
তাভাব বা গুণমহত্তা, সরলতা, নম্রতা
  • √দৃশ্ + অনীয় = দর্শনীয়দেখার যোগ্য
  • সমাজ + ইক = সামাজিকসমাজ সম্বন্ধীয়

প্রকৃতি-প্রত্যয় নির্ণয়ের পদ্ধতি

একটি শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় বের করতে বলা হলে তিনটি ধাপে কাজটি করা যায়। প্রথমে শব্দটির মূল অর্থ কোন অংশে আছে তা খোঁজো — সেটিই প্রকৃতি। তারপর বাকি অংশটি আলাদা করো — সেটিই প্রত্যয়। শেষে দেখো প্রকৃতিটি ধাতু না নামশব্দ, তাতেই শ্রেণি ঠিক হয়ে যায়।

সতর্কতা একটি: প্রত্যয় যোগে প্রকৃতির চেহারা বদলে যেতে পারে। √দৃশ্ থেকে দর্শনীয় হওয়ার সময় ধাতুটি দর্শ রূপ নিয়েছে। তাই ভাঙার পর মিলিয়ে দেখতে হয় জোড়া লাগালে মূল শব্দটিই ফিরে আসে কি না।

  • ধাপ ১ — মূল অর্থ কোন অংশে, সেটিই প্রকৃতি।
  • ধাপ ২ — বাকি অংশ প্রত্যয়।
  • ধাপ ৩ — প্রকৃতি ধাতু হলে কৃৎ, নামশব্দ হলে তদ্ধিত।
  • জোড়া লাগিয়ে যাচাই করো মূল শব্দ ফিরে আসছে কি না।
  • গায়ক = √গৈ + অক — কৃৎ প্রত্যয়
  • মধুর = মধু + র — তদ্ধিত প্রত্যয়
  • সামাজিক = √সমাজ্ + ইক সামাজিক = সমাজ + ইকসমাজ ধাতু নয়

কেন এই অধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ

প্রকৃতি-প্রত্যয় বাংলা শব্দভাণ্ডার গড়ার প্রধান কৌশল। উপসর্গ যেমন সামনে থেকে অর্থ বদলায়, প্রত্যয় তেমনি পেছন থেকে শব্দের শ্রেণিই বদলে দেয় — ক্রিয়া থেকে বিশেষ্য, বিশেষ্য থেকে বিশেষণ। √চল্ একটি ক্রিয়ামূল, কিন্তু অন যোগে চলন হয় বিশেষ্য আর অন্ত যোগে চলন্ত হয় বিশেষণ।

এই কারণেই পরিভাষা তৈরিতে প্রত্যয় অপরিহার্য। নতুন কোনো ধারণার বাংলা নাম দিতে হলে চেনা ধাতুর সঙ্গে উপযুক্ত প্রত্যয় বসিয়ে দিলেই শব্দটি তৈরি হয়ে যায়, এবং পাঠক অর্থও অনুমান করতে পারেন।

পরীক্ষার দিক থেকেও অধ্যায়টি লাভজনক। প্রশ্ন নির্দিষ্ট, উত্তরও নির্দিষ্ট — প্রকৃতি ও প্রত্যয় আলাদা করে দেখাতে পারলেই নম্বর। ব্যাখ্যা লিখতে হয় না বলে সময়ও কম লাগে।

  • প্রত্যয় শব্দের পদশ্রেণি বদলে দেয় — ক্রিয়া থেকে বিশেষ্য বা বিশেষণ।
  • একই ধাতু থেকে ভিন্ন প্রত্যয়ে ভিন্ন পদ — চলন, চলন্ত, চলতি।
  • পরিভাষা গড়ার প্রধান হাতিয়ার।
  • √চল্ + অন = চলন (বিশেষ্য)
  • √চল্ + অন্ত = চলন্ত (বিশেষণ)

বিস্তারিত আলোচনা

"চালক" শব্দটি ভাঙলে পাওয়া যায় √চাল্ + অক। এখানে √চাল্ হলো প্রকৃতি এবং অক হলো প্রত্যয়। প্রকৃতি দুই প্রকার — ধাতু প্রকৃতি ও নাম প্রকৃতি। ক্রিয়ামূল হলে তাকে ধাতু প্রকৃতি বলে, আর বিশেষ্য-বিশেষণ জাতীয় শব্দমূল হলে নাম প্রকৃতি।

প্রত্যয়ও সেই অনুযায়ী দুই প্রকার। ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে কৃৎ প্রত্যয় বলে এবং তাতে গঠিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ — যেমন √পড় + উয়া = পড়ুয়া। আর নাম প্রকৃতির সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে, তাতে গঠিত শব্দ তদ্ধিতান্ত — যেমন ঢাকা + আই = ঢাকাই।

প্রত্যয় নির্ণয়ের সময় প্রথমে দেখতে হবে মূল অংশটি ক্রিয়া না বিশেষ্য। ক্রিয়া হলে কৃৎ, আর বিশেষ্য বা বিশেষণ হলে তদ্ধিত। এই একটি প্রশ্নেই বেশির ভাগ উত্তর মিলে যায়। যেমন "গায়ক" শব্দে মূল √গৈ একটি ধাতু, তাই এটি কৃৎ প্রত্যয়; কিন্তু "মানবতা" শব্দে মানব একটি বিশেষ্য, তাই এটি তদ্ধিত।

মনে রাখার কথা

মূল অংশ ক্রিয়া কি না — এই একটি প্রশ্ন করলেই কৃৎ ও তদ্ধিতের বিভ্রান্তি দূর হয়ে যায়।

সাধারণ ভুল

পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।

  • প্রত্যয় শব্দের আগে বসে। প্রত্যয় শব্দের শেষে বসে; আগে বসে উপসর্গ।
  • বাঘা = √বাঘ + আ বাঘা = বাঘ + আ — বাঘ ধাতু নয়, নামপ্রকৃতি।
  • কৃৎ প্রত্যয় নামশব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়। কৃৎ প্রত্যয় ধাতুর সঙ্গে; নামশব্দের সঙ্গে তদ্ধিত।
  • তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত শব্দকে কৃদন্ত বলে। তাকে তদ্ধিতান্ত শব্দ বলে; কৃদন্ত হয় কৃৎ প্রত্যয়ে।

অনুশীলন

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।

  1. প্রকৃতি কাকে বলে?
  2. প্রত্যয় কত প্রকার ও কী কী?
  3. কৃদন্ত ও তদ্ধিতান্ত শব্দ বলতে কী বোঝ?
  4. প্রকৃতি-প্রত্যয় নির্ণয় করো: দর্শনীয়।
  5. প্রকৃতি-প্রত্যয় নির্ণয় করো: সামাজিক।
  6. ধাতুর আগে √ চিহ্ন বসানো হয় কেন?
  7. একই ধাতু থেকে ভিন্ন পদ তৈরির একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর

  1. শব্দ বা ধাতুর যে মূল অংশকে আর বিশ্লেষণ করা যায় না, তাকে প্রকৃতি বলে। এটি দুই ধরনের — ধাতু ও নামপ্রকৃতি।
  2. দুই প্রকার — কৃৎ প্রত্যয় (ধাতুর সঙ্গে) ও তদ্ধিত প্রত্যয় (নামপ্রকৃতির সঙ্গে)।
  3. কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দকে কৃদন্ত এবং তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দকে তদ্ধিতান্ত শব্দ বলে।
  4. √দৃশ্ + অনীয়। এটি কৃৎ প্রত্যয়, অর্থ দেখার যোগ্য।
  5. সমাজ + ইক। সমাজ নামপ্রকৃতি, তাই এটি তদ্ধিত প্রত্যয়।
  6. অংশটি যে ক্রিয়ার মূল, নামশব্দ নয় — তা স্পষ্ট করার জন্য। যেমন √চল্, √কৃ।
  7. √চল্ থেকে অন যোগে চলন (বিশেষ্য) এবং অন্ত যোগে চলন্ত (বিশেষণ) — প্রত্যয় পদশ্রেণি বদলে দেয়।

উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো

বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকো

পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।