মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

কর্তৃকারকের সংজ্ঞা এবং মুখ্য, প্রযোজক, প্রযোজ্য ও ব্যতিহার কর্তার পরিচয় উদাহরণসহ।

কর্তৃকারক — সংজ্ঞা, প্রকারভেদ ও উদাহরণ

কর্তৃকারকের সংজ্ঞা এবং মুখ্য, প্রযোজক, প্রযোজ্য ও ব্যতিহার কর্তার পরিচয় উদাহরণসহ।

সংজ্ঞা

বাক্যে যে ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্তা বলে এবং ক্রিয়ার সঙ্গে কর্তার সম্পর্ককে কর্তৃকারক বলে। ক্রিয়াকে "কে" প্রশ্ন করলে কর্তৃকারক পাওয়া যায়।

যে কাজ করে

বাক্যে যে ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্তা বলে; আর ক্রিয়ার সঙ্গে সেই কর্তার সম্পর্কই কর্তৃকারক। রহিম বই পড়েকে পড়ে? উত্তর রহিম, তাই রহিম কর্তৃকারক।

কর্তা বাক্যের সবচেয়ে সহজে চেনা অংশ, কারণ ক্রিয়াকে কে বা কারা প্রশ্ন করলেই উত্তরটি বেরিয়ে আসে। বাংলা বাক্যে কর্তা সাধারণত সবার আগে বসে, তবে সব সময় নয়।

কর্তৃকারকে সাধারণত শূন্য বিভক্তি থাকে, অর্থাৎ কোনো চিহ্ন দেখা যায় না। রহিম যায়রহিম পদে কোনো বিভক্তি-চিহ্ন নেই, তবু সেটি কর্তৃকারকে প্রথমা শূন্য বিভক্তি।

  • ক্রিয়াকে কে / কারা প্রশ্ন করলেই কর্তা মেলে।
  • সাধারণত শূন্য বিভক্তি থাকে।
  • বাংলা বাক্যে কর্তা প্রায়ই প্রথমে বসে।
  • কে পড়ে? রহিম → কর্তৃকারক
  • রহিম যায় — কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি

কর্তার প্রকারভেদ

কর্তা কীভাবে কাজটি করছে, তার ভিত্তিতে কর্তাকে কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়। ভাগগুলো বাচ্য অধ্যায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, তাই একসঙ্গে পড়লে দুটিই সহজ হয়ে যায়।

কর্তার প্রকার

প্রকারবৈশিষ্ট্যউদাহরণ
মুখ্য কর্তানিজে কাজ করেরহিম বই পড়ে
প্রযোজক কর্তাঅন্যকে দিয়ে করায়শিক্ষক ছাত্রকে পড়ান
প্রযোজ্য কর্তাযাকে দিয়ে করানো হয়শিক্ষক ছাত্রকে পড়ান
ব্যতিহার কর্তাপরস্পর কাজ করেরাজায় রাজায় যুদ্ধ
উপবাক্যীয় কর্তাখণ্ডবাক্যই কর্তাসে আসবে, এটাই আশা
  • শিক্ষক ছাত্রকে পড়ান — শিক্ষক প্রযোজক, ছাত্র প্রযোজ্য কর্তা
  • বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায় — ব্যতিহার কর্তা

কর্তৃকারকে বিভক্তির রূপভেদ

কর্তৃকারকে সাধারণত শূন্য বিভক্তি বসে, কিন্তু সব সময় নয়। বাক্যের গঠন ও বাচ্য অনুযায়ী কর্তায় , য়, তে, কর্তৃক, দ্বারা — এসব বিভক্তিও বসতে পারে।

কর্মবাচ্যে কর্তা কর্তৃক বা দ্বারা নিয়ে বসে — শিক্ষক কর্তৃক ছাত্র পুরস্কৃত হলো। ব্যতিহার কর্তায় বসে বা য়রাজায় রাজায় যুদ্ধ। এই রূপগুলো চিনতে না পারলে কর্তাকে অন্য কারক ভেবে ভুল হয়।

বিভক্তিকখন বসেউদাহরণ
শূন্যসাধারণ কর্তৃবাচ্যেরহিম যায়
এ / য়ব্যতিহার কর্তায়বাঘে-মহিষে জল খায়
তেকিছু প্রয়োগেগরুতে দুধ দেয়
কর্তৃক / দ্বারাকর্মবাচ্যেশিক্ষক কর্তৃক পুরস্কৃত
  • শিক্ষক কর্তৃক ছাত্র পুরস্কৃত হলো — কর্তৃকারক
  • “কর্তৃক” মানেই করণ কারক কর্মবাচ্যে এটি কর্তৃকারক

প্রযোজক ও প্রযোজ্য কর্তা

একটি বাক্যে দুটি কর্তাও থাকতে পারে। যিনি অন্যকে দিয়ে কাজটি করান, তিনি প্রযোজক কর্তা; আর যাকে দিয়ে কাজটি করানো হয়, তিনি প্রযোজ্য কর্তাশিক্ষক ছাত্রকে পড়ান — শিক্ষক প্রযোজক, ছাত্র প্রযোজ্য।

এখানে একটি ফাঁদ আছে: ছাত্রকে পদে কে বিভক্তি দেখে অনেকে কর্মকারক লিখে ফেলে। কিন্তু ছাত্র নিজেই পড়ছে, অর্থাৎ কাজটি করছে — তাই সেটি কর্তা, কর্ম নয়।

প্রযোজক ক্রিয়া চেনার সূত্র: ক্রিয়াপদে যুক্ত হয়ে পড়ান, খাওয়ান, দেখান জাতীয় রূপ হয়েছে কি না দেখো। পড়ে থেকে পড়ান, খায় থেকে খাওয়ান — এই রূপান্তরই প্রযোজক ক্রিয়ার চিহ্ন।

বাক্যপ্রযোজক কর্তাপ্রযোজ্য কর্তা
শিক্ষক ছাত্রকে পড়ানশিক্ষকছাত্রকে
মা শিশুকে খাওয়ানমাশিশুকে
তিনি আমাকে বইটি দেখালেনতিনিআমাকে
  • “ছাত্রকে পড়ান” — ছাত্র কর্মকারক ছাত্র প্রযোজ্য কর্তা — সে নিজেই পড়ছে

ব্যতিহার কর্তা

যখন দুই পক্ষ পরস্পরের প্রতি একই কাজ করে, তখন কর্তাকে বলে ব্যতিহার কর্তা। রাজায় রাজায় যুদ্ধ, বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়, হাতে হাতে কাজ — তিনটিতেই কাজটি পারস্পরিক।

গঠনগত চিহ্নও নির্দিষ্ট: দুটি পদে বা য় বিভক্তি বসে এবং পদ দুটি পাশাপাশি আসে। এই চেহারাটি দেখলেই ব্যতিহার কর্তা বলে চেনা যায়।

  • কাজটি পারস্পরিক
  • দুই পদে এ / য় বিভক্তি বসে।
  • ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসের সঙ্গে ধারণাগত মিল আছে।
  • রাজায় রাজায় যুদ্ধ
  • বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়

পরীক্ষায় কী আসে

কর্তৃকারক থেকে প্রশ্ন সাধারণত দুই রকম — কর্তার প্রকার নির্ণয়, অথবা বাক্যে কর্তা চিহ্নিত করে কারক ও বিভক্তি লেখা। প্রথমটিতে প্রযোজক-প্রযোজ্য জোড়াটি সবচেয়ে বেশি আসে।

সবচেয়ে বেশি ভুল হয় প্রযোজ্য কর্তাকে কর্মকারক ভেবে। কে বিভক্তি দেখে থেমে না গিয়ে প্রশ্ন করো — পদটি কি নিজে কাজ করছে? করলে সেটি কর্তা, না করলে কর্ম।

দ্বিতীয় সতর্কতা কর্মবাচ্যে। শিক্ষক কর্তৃক ছাত্র পুরস্কৃত হলো — এখানে কর্তৃক দেখে অনেকে করণ কারক লেখে, অথচ কাজটি শিক্ষকই করছেন, তাই সেটি কর্তৃকারক।

  • পদটি নিজে কাজ করছে? করলে কর্তা।
  • কর্মবাচ্যে কর্তৃক / দ্বারা থাকলেও সেটি কর্তৃকারক।
  • উত্তরে কারক + বিভক্তি দুটিই লেখো।
  • “শিক্ষক কর্তৃক” — করণ কারক কর্তৃকারকে তৃতীয়া বিভক্তি

কর্তার অবস্থান ও উহ্য কর্তা

বাংলা বাক্যে কর্তা সাধারণত প্রথমে বসে, কিন্তু এটি বাধ্যতামূলক নয়। কবিতায় বা জোর দেওয়ার প্রয়োজনে কর্তা পরেও বসতে পারে — বই পড়ে রহিম। তাই অবস্থান দেখে নয়, ক্রিয়াকে প্রশ্ন করেই কর্তা খুঁজতে হয়।

কখনো কর্তা বাক্যে থাকেই না, কিন্তু বোঝা যায় — একে বলে উহ্য কর্তা। অনুজ্ঞা ভাবের বাক্যে এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়: বসো, যাও, শোনো — তিনটিতেই কর্তা তুমি উহ্য।

উহ্য কর্তার প্রশ্নে উত্তর লিখতে হয় সম্পূর্ণ রূপে। “বসো — উহ্য কর্তা তুমি, কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি” — এভাবে লিখলে বোঝা যায় কর্তাটি তুমি চিনতে পেরেছ।

বাক্যকর্তাধরন
রহিম বই পড়েরহিমপ্রকাশ্য
বই পড়ে রহিমরহিমপ্রকাশ্য, পরে বসেছে
বসোতুমিউহ্য
যাওতুমিউহ্য
  • বসো — উহ্য কর্তা “তুমি”
  • অবস্থান দেখে কর্তা ঠিক করা ক্রিয়াকে “কে” প্রশ্ন করে কর্তা খোঁজা

বিস্তারিত আলোচনা

"রহিম বই পড়ে" বাক্যে "পড়ে" ক্রিয়াকে "কে পড়ে" প্রশ্ন করলে উত্তর আসে "রহিম" — তাই "রহিম" কর্তৃকারক। কর্তৃকারকে সাধারণত শূন্য বিভক্তি বসে, তবে "কর্তৃক", "দ্বারা", "এ", "য়", "তে" বিভক্তিও বসতে পারে, বিশেষ করে কর্মবাচ্যে।

কর্তার কয়েকটি প্রকারভেদ আছে। মুখ্য কর্তা নিজেই কাজ করে — "শিক্ষক পড়ান"। প্রযোজক কর্তা অন্যকে দিয়ে করায় আর প্রযোজ্য কর্তা সেই কাজটি করে — "মা শিশুকে খাওয়াচ্ছেন" বাক্যে "মা" প্রযোজক ও "শিশুকে" প্রযোজ্য কর্তা। ব্যতিহার কর্তায় দুই কর্তা পরস্পর একই কাজে লিপ্ত — "বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়"।

আরও দুটি প্রকার পরীক্ষায় আসে। কর্মবাচ্যের কর্তায় কর্তা গৌণ হয়ে যায় এবং তাতে "কর্তৃক" বা "দ্বারা" বসে — "আমার দ্বারা কাজটি হবে না"। আর ভাববাচ্যের কর্তায় ক্রিয়ার ভাবটিই প্রধান হয় — "তার যাওয়া হলো না"। এসব ক্ষেত্রেও ক্রিয়াকে প্রশ্ন করেই কর্তা চিহ্নিত করতে হয়।

মনে রাখার কথা

কর্তা মানেই বাক্যের প্রথম শব্দ নয় — ক্রিয়াকে "কে" প্রশ্ন করে তবেই কর্তৃকারক নির্ণয় করতে হয়।

সাধারণ ভুল

পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।

  • “ছাত্রকে পড়ান” — ছাত্র কর্মকারক। প্রযোজ্য কর্তা — ছাত্র নিজেই পড়ছে।
  • “শিক্ষক কর্তৃক” — করণ কারক। কর্মবাচ্যে এটি কর্তৃকারক।
  • কর্তৃকারকে সব সময় শূন্য বিভক্তি। এ, য়, তে, কর্তৃক, দ্বারাও বসতে পারে।
  • “রাজায় রাজায় যুদ্ধ” — অধিকরণ কারক। ব্যতিহার কর্তা — কাজটি পারস্পরিক।

অনুশীলন

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।

  1. কর্তৃকারক কাকে বলে?
  2. কর্তা চেনার সহজ উপায় কী?
  3. প্রযোজক ও প্রযোজ্য কর্তা কাকে বলে?
  4. “ছাত্রকে” পদে “কে” বিভক্তি থাকলেও সেটি কর্ম নয় কেন?
  5. ব্যতিহার কর্তা কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
  6. কর্মবাচ্যে কর্তায় কোন বিভক্তি বসে?
  7. প্রযোজক ক্রিয়া চেনার সূত্র কী?
  8. উহ্য কর্তা কাকে বলে?

উত্তর

  1. বাক্যে যে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে কর্তা বলে, আর ক্রিয়ার সঙ্গে সেই কর্তার সম্পর্কই কর্তৃকারক।
  2. ক্রিয়াকে “কে” বা “কারা” প্রশ্ন করা — উত্তরটিই কর্তা।
  3. যিনি অন্যকে দিয়ে কাজ করান তিনি প্রযোজক কর্তা, আর যাকে দিয়ে করানো হয় তিনি প্রযোজ্য কর্তা — “শিক্ষক ছাত্রকে পড়ান”।
  4. কারণ ছাত্র নিজেই পড়ছে, অর্থাৎ কাজটি করছে — তাই সেটি প্রযোজ্য কর্তা, কর্মকারক নয়।
  5. দুই পক্ষ পরস্পরের প্রতি একই কাজ করলে তাকে ব্যতিহার কর্তা বলে — যেমন “রাজায় রাজায় যুদ্ধ”।
  6. “কর্তৃক” বা “দ্বারা” — যেমন “শিক্ষক কর্তৃক ছাত্র পুরস্কৃত হলো”, এখানে শিক্ষক কর্তৃকারক।
  7. ক্রিয়াপদে “আ” যুক্ত হয়ে রূপ বদলায় — পড়ে থেকে পড়ান, খায় থেকে খাওয়ান।
  8. যে কর্তা বাক্যে লেখা থাকে না কিন্তু বোঝা যায়, তাকে উহ্য কর্তা বলে। অনুজ্ঞা ভাবের বাক্যে এটি সবচেয়ে বেশি — “বসো”, “যাও”, “শোনো”, তিনটিতেই কর্তা “তুমি” উহ্য।

উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো

বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকো

পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।