মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

বচনের সংজ্ঞা, প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচন এবং সাধারণ ভুলগুলো।

বচন — একবচন ও বহুবচন গঠনের নিয়ম

বচনের সংজ্ঞা, প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচন এবং সাধারণ ভুলগুলো।

সংজ্ঞা

যে শব্দ বা শব্দাংশ দিয়ে কোনো কিছুর সংখ্যা একটি না একাধিক তা বোঝানো হয়, তাকে বচন বলে। বাংলায় বচন দুই প্রকার — একবচন ও বহুবচন।

একবচন ও বহুবচন

যে শব্দ দিয়ে সংখ্যার ধারণা বোঝায় — এক না একাধিক — তাকে বচন বলে। বাংলায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন। বই একবচন, বইগুলো বহুবচন।

সংস্কৃতে তিনটি বচন ছিল — একবচন, দ্বিবচন ও বহুবচন। বাংলায় দ্বিবচন নেই; দুটি বোঝাতেও বহুবচনই ব্যবহৃত হয়, নয়তো সংখ্যা বসিয়ে দিতে হয়। এটি বাংলার একটি সরলীকরণ।

একবচনের কোনো আলাদা চিহ্ন নেই — শব্দটি এমনিতেই একবচন। চিহ্ন যুক্ত হয় কেবল বহুবচনে, আর কোন চিহ্ন বসবে তা নির্ভর করে শব্দটি প্রাণিবাচক না অপ্রাণিবাচক তার ওপর।

  • বাংলায় বচন দুই প্রকার — সংস্কৃতের দ্বিবচন নেই।
  • একবচনের আলাদা চিহ্ন নেই
  • বহুবচনের চিহ্ন প্রাণী ও অপ্রাণীতে আলাদা
  • বই → বইগুলোঅপ্রাণিবাচক
  • ছাত্র → ছাত্ররাপ্রাণিবাচক

প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচন

মানুষ ও প্রাণী বোঝায় এমন শব্দে বহুবচনের চিহ্ন আলাদা। কথ্য ভাষায় রাএরা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়, আর সাধু বা আনুষ্ঠানিক ভাষায় গণ, বৃন্দ, মণ্ডলী জাতীয় শব্দ বসে।

প্রাণিবাচক বহুবচন

চিহ্নউদাহরণভাষারীতি
রাছাত্ররা, ছেলেরাকথ্য
এরামানুষেরা, বালকেরাকথ্য
গণশিক্ষকগণ, ভদ্রমহোদয়গণআনুষ্ঠানিক
বৃন্দশিল্পীবৃন্দ, দর্শকবৃন্দআনুষ্ঠানিক
মণ্ডলীবিচারকমণ্ডলী, সদস্যমণ্ডলীআনুষ্ঠানিক
বর্গশিক্ষকবর্গ, কর্মচারীবর্গআনুষ্ঠানিক
  • দর্শকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেনআনুষ্ঠানিক
  • ছেলেরা খেলছেকথ্য

অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচন

জড় বস্তু বা অচেতন কিছু বোঝাতে গুলি, গুলা, গুলো বসে। সাহিত্যে ও আনুষ্ঠানিক লেখায় রাজি, নিকর, মালা, আবলি, পুঞ্জ, রাশি — এই শব্দগুলোও বহুবচন গড়ে।

একটি ভুল প্রায়ই হয়: অপ্রাণিবাচক শব্দে রা বসিয়ে ফেলা। বইরা বা গাছরা বলা যায় না; বলতে হয় বইগুলো, গাছগুলো। প্রাণী কি না — এই একটি প্রশ্নই চিহ্ন বাছাই ঠিক করে দেয়।

চিহ্নউদাহরণ
গুলো / গুলাবইগুলো, ঘরগুলা
গুলিফুলগুলি, পাতাগুলি
রাজিতরুরাজি, বৃক্ষরাজি
মালাপর্বতমালা, রশ্মিমালা
আবলিগ্রন্থাবলি, রচনাবলি
পুঞ্জমেঘপুঞ্জ, কার্যপুঞ্জ
রাশিধনরাশি, শস্যরাশি
  • বইরা বইগুলোঅপ্রাণিবাচকে রা বসে না
  • পর্বতমালা, গ্রন্থাবলিসাহিত্যিক প্রয়োগ

চিহ্ন ছাড়াও বহুবচন হয়

বহুবচন বোঝাতে সব সময় চিহ্ন লাগে না। সংখ্যাবাচক শব্দ, দ্বিরুক্তি, কিংবা পরিমাণবাচক শব্দ বসিয়েও বহুত্ব প্রকাশ করা যায় — আর বাংলায় এই পথটিই বেশি স্বাভাবিক।

পাঁচটি বই বললে বই শব্দে কোনো বহুবচন চিহ্ন নেই, তবু বহুত্ব স্পষ্ট। একইভাবে ভালো ভালো বই বা রাশি রাশি ধান — দ্বিরুক্তিই বহুত্ব বোঝাচ্ছে।

উপায়উদাহরণ
সংখ্যাবাচক শব্দপাঁচটি বই, তিনজন ছাত্র
দ্বিরুক্তিভালো ভালো বই, রাশি রাশি ধান
পরিমাণবাচক শব্দঅনেক লোক, বহু মানুষ, সব ছাত্র
একই শব্দ দুবারবাড়ি বাড়ি, ঘরে ঘরে
  • পাঁচটি বইসংখ্যাই বহুত্ব বোঝাচ্ছে
  • অনেক লোক এসেছেপরিমাণবাচক শব্দ

দ্বিত্ব বহুবচন — একটি সাধারণ ভুল

একটি শব্দে একবারই বহুবচনের চিহ্ন বসে। দুবার বসালে ভুল হয়, আর এই ভুলটি লেখায় খুব সাধারণ। ছাত্ররাগণ, শিক্ষকবৃন্দগণ, সকল ছাত্ররা — তিনটিই অশুদ্ধ।

সঠিক রূপ হবে ছাত্রগণ বা ছাত্ররা; শিক্ষকবৃন্দ বা শিক্ষকগণ; সকল ছাত্র বা ছাত্ররা। একটি বাক্যে বহুত্বের ইঙ্গিত একবারই যথেষ্ট।

বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হয় সকল, সব, সমস্ত জাতীয় শব্দের পরে। এরা নিজেরাই বহুত্ব বোঝায়, তাই এদের সঙ্গে আবার রা বা গণ বসানোর দরকার নেই।

অশুদ্ধশুদ্ধ
ছাত্ররাগণছাত্রগণ / ছাত্ররা
শিক্ষকবৃন্দগণশিক্ষকবৃন্দ / শিক্ষকগণ
সকল ছাত্ররাসকল ছাত্র / ছাত্ররা
সব বইগুলোসব বই / বইগুলো
  • সকল ছাত্ররা উপস্থিত সকল ছাত্র উপস্থিত
  • সব বইগুলো নাও সব বই নাও

পরীক্ষায় কী আসে

বচন অধ্যায় থেকে প্রশ্ন সাধারণত দুই রকম — বহুবচনের চিহ্ন লেখা, আর বাক্য শুদ্ধ করা। দ্বিতীয়টিতে প্রায় সব সময় দ্বিত্ব বহুবচনের ভুলই ধরা হয়।

শুদ্ধিকরণের প্রশ্নে চোখ রাখো সকল, সব, সমস্ত, অনেক শব্দগুলোর দিকে। এদের পরে আবার বহুবচনের চিহ্ন থাকলে সেটিই কাটতে হবে। এই একটি নিয়ম মনে রাখলে এ ধরনের বেশির ভাগ প্রশ্নের উত্তর মেলে।

দ্বিতীয় সতর্কতা প্রাণী ও অপ্রাণী নিয়ে। অপ্রাণিবাচক শব্দে রা বা গণ বসে না — বইরা বা গাছগণ অশুদ্ধ। প্রশ্নে এমন রূপ দেখলে সেটিই সংশোধনের জায়গা।

  • একটি শব্দে বহুবচনের চিহ্ন একবারই
  • সকল, সব, সমস্ত-এর পরে আর চিহ্ন নয়
  • অপ্রাণিবাচকে রা / গণ বসে না।
  • শিক্ষকবৃন্দগণ শিক্ষকবৃন্দ
  • গাছগণ গাছগুলো

বহুবচন চিহ্নের ভাষারীতি

একই বহুবচন বোঝাতে বাংলায় একাধিক চিহ্ন আছে, আর কোনটি বসবে তা ঠিক করে দেয় ভাষারীতি — কথ্য না আনুষ্ঠানিক। ছাত্ররা কথ্য, ছাত্রগণ আনুষ্ঠানিক, ছাত্রবৃন্দ আরও আনুষ্ঠানিক। তিনটিই শুদ্ধ, কিন্তু প্রয়োগের জায়গা আলাদা।

রচনা, প্রতিবেদন বা দরখাস্তে গণ, বৃন্দ, মণ্ডলী ব্যবহার করলে লেখা মার্জিত শোনায়। আবার গল্প বা সংলাপে রা ব্যবহার করাই স্বাভাবিক — সেখানে ছাত্রবৃন্দ বসালে ভাষা কৃত্রিম হয়ে যায়।

সাহিত্যিক বহুবচন চিহ্নগুলোরও নিজস্ব সঙ্গী আছে। রাজি বসে গাছ বা তরুতে (তরুরাজি), মালা বসে পর্বতে (পর্বতমালা), আবলি বসে গ্রন্থে (গ্রন্থাবলি)। যেকোনো শব্দের সঙ্গে যেকোনো চিহ্ন বসে না।

চিহ্নরীতিসাধারণত যার সঙ্গে
রা / এরাকথ্যযেকোনো প্রাণিবাচক শব্দ
গণআনুষ্ঠানিকশিক্ষক, ছাত্র, নাগরিক
বৃন্দআনুষ্ঠানিকদর্শক, শিল্পী, অতিথি
রাজিসাহিত্যিকতরু, বৃক্ষ
মালাসাহিত্যিকপর্বত, রশ্মি
আবলিসাহিত্যিকগ্রন্থ, রচনা
  • তরুরাজি, পর্বতমালা, গ্রন্থাবলিচিহ্ন ও শব্দ জোড়া বাঁধা
  • গ্রন্থমালা লিখে গ্রন্থাবলি বোঝানো গ্রন্থাবলি

বিস্তারিত আলোচনা

একবচনে একটি মাত্র সত্তা বোঝায় — ছেলে, বই, গাছ। বহুবচনে একাধিক সত্তা বোঝায় — ছেলেরা, বইগুলো, গাছসমূহ। বাংলায় বহুবচন গঠনের জন্য শব্দের শেষে নির্দিষ্ট কিছু শব্দাংশ যোগ করা হয়, আর কোন শব্দাংশ কোথায় বসবে তা নির্ভর করে শব্দটি প্রাণিবাচক না অপ্রাণিবাচক তার ওপর।

প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে বসে রা, এরা, গণ, বৃন্দ, মণ্ডলী, বর্গ — যেমন ছাত্ররা, শিক্ষকগণ, বন্ধুবৃন্দ, শিক্ষকমণ্ডলী। অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে বসে গুলো, গুলি, সমূহ, রাজি, নিচয়, দাম — যেমন বইগুলো, গাছগুলি, পুস্তকসমূহ, তারকারাজি, কুসুমদাম।

কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে হয়। একই শব্দ দুবার লিখেও বহুবচন বোঝানো যায় — যেমন ঝাঁকে ঝাঁকে, দলে দলে। আবার সংখ্যাবাচক শব্দ থাকলে আলাদা করে বহুবচন চিহ্ন লাগে না — "পাঁচজন ছাত্র" বলাই যথেষ্ট, "পাঁচজন ছাত্ররা" ভুল। এই ভুলটি লেখায় খুব সাধারণ।

মনে রাখার কথা

প্রাণিবাচকে রা-গণ-বৃন্দ, অপ্রাণিবাচকে গুলো-সমূহ-রাজি — এই ভাগটুকু গুলিয়ে ফেললেই ভুল হয়।

সাধারণ ভুল

পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।

  • সকল ছাত্ররা উপস্থিত ছিল। সকল ছাত্র উপস্থিত ছিল — দ্বিত্ব বহুবচন ভুল।
  • বইরা টেবিলে আছে। বইগুলো টেবিলে আছে — অপ্রাণিবাচকে রা বসে না।
  • বাংলায় বচন তিন প্রকার। দুই প্রকার — সংস্কৃতের দ্বিবচন বাংলায় নেই।
  • শিক্ষকবৃন্দগণ আলোচনা করলেন। শিক্ষকবৃন্দ আলোচনা করলেন।

অনুশীলন

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।

  1. বচন কাকে বলে ও কত প্রকার?
  2. বাংলায় দ্বিবচন নেই কেন?
  3. প্রাণিবাচক বহুবচনের চারটি চিহ্ন লেখো।
  4. অপ্রাণিবাচক শব্দে কোন চিহ্ন বসে?
  5. চিহ্ন ছাড়া বহুবচন বোঝানোর তিনটি উপায় লেখো।
  6. শুদ্ধ করো: সকল ছাত্ররা উপস্থিত ছিল।
  7. শুদ্ধ করো: শিক্ষকবৃন্দগণ সভায় এলেন।
  8. বহুবচনের সাহিত্যিক চিহ্নগুলো কি যেকোনো শব্দের সঙ্গে বসে?
  9. বহুবচন চিহ্ন বাছাইয়ে ভাষারীতির ভূমিকা কী?

উত্তর

  1. শব্দের যে রূপ সংখ্যার ধারণা দেয় তাকে বচন বলে। বাংলায় বচন দুই প্রকার — একবচন ও বহুবচন।
  2. সংস্কৃতে দ্বিবচন থাকলেও বাংলায় তা লুপ্ত হয়েছে; দুটি বোঝাতেও বহুবচন ব্যবহৃত হয় বা সংখ্যা বসানো হয়।
  3. রা, এরা, গণ ও বৃন্দ — যেমন ছাত্ররা, মানুষেরা, শিক্ষকগণ, দর্শকবৃন্দ।
  4. গুলি, গুলা, গুলো এবং সাহিত্যে রাজি, মালা, আবলি, পুঞ্জ, রাশি — যেমন বইগুলো, পর্বতমালা, গ্রন্থাবলি।
  5. সংখ্যাবাচক শব্দ (পাঁচটি বই), দ্বিরুক্তি (ভালো ভালো বই) ও পরিমাণবাচক শব্দ (অনেক লোক)।
  6. সকল ছাত্র উপস্থিত ছিল। “সকল” নিজেই বহুত্ব বোঝায়, তাই আবার “রা” বসানো দ্বিত্ব বহুবচনের ভুল।
  7. শিক্ষকবৃন্দ সভায় এলেন। বৃন্দ ও গণ দুটিই বহুবচনের চিহ্ন, একসঙ্গে বসে না।
  8. না, প্রতিটির নির্দিষ্ট সঙ্গী আছে। “রাজি” বসে তরু বা বৃক্ষে, “মালা” বসে পর্বত বা রশ্মিতে, আর “আবলি” বসে গ্রন্থ বা রচনায় — তাই তরুরাজি, পর্বতমালা ও গ্রন্থাবলি শুদ্ধ।
  9. একই অর্থে ছাত্ররা কথ্য, ছাত্রগণ আনুষ্ঠানিক এবং ছাত্রবৃন্দ আরও আনুষ্ঠানিক। রচনা বা দরখাস্তে গণ ও বৃন্দ মানানসই, আর সংলাপে রা — সেখানে বৃন্দ বসালে ভাষা কৃত্রিম শোনায়।

উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো

বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকো

পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।