অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে
অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে — ভাবসম্প্রসারণ, মূলভাব ও মন্তব্যসহ।
মূলভাব
অন্যায়কারী যেমন দোষী, অন্যায় মুখ বুজে সহ্যকারীও তেমনি দোষী। নীরব থাকা মানে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া, তাই দুজনের শাস্তিই প্রাপ্য।
মূলভাবে কী লিখবে
পঙ্ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। মূলভাবে বলতে হবে — অন্যায়কারী ও অন্যায় সহ্যকারী দুজনেই সমান দোষী, কারণ নীরবতা অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়।
এখানে দ্বিতীয় অংশটিই আসল — সহ্য করাকে দোষ বলা। প্রথম অংশ নিয়ে সবাই একমত, তাই উত্তরের ভার দ্বিতীয় অংশেই থাকা চাই।
- কবি — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- জোর দাও সহ্যকারীর দোষে।
সম্প্রসারিত ভাবে যুক্তির ধাপ
প্রথমে দেখাও নীরবতা কেন নিরপেক্ষতা নয় — অন্যায় দেখে চুপ থাকলে অন্যায়কারী সাহস পায়, আর অন্যায় বারবার ঘটতে থাকে।
তারপর দেখাও সমাজে এর ফল — একটি ঘটনায় কেউ প্রতিবাদ না করলে পরের ঘটনায় প্রতিবাদের শক্তি আরও কমে যায়। ভয়ের এই শৃঙ্খল ভাঙাই প্রতিবাদের কাজ।
শেষে বলো প্রতিবাদ মানে সহিংসতা নয় — সাক্ষ্য দেওয়া, লিখে জানানো, পাশে দাঁড়ানোও প্রতিবাদ। এতে যুক্তিটি বাস্তবসম্মত হয়।
- নীরবতা = প্রশ্রয়।
- ভয়ের শৃঙ্খল দেখাও।
- প্রতিবাদ ≠ সহিংসতা।
মন্তব্যে কী লিখবে
মন্তব্যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান থাকবে, আর মনে করিয়ে দেওয়া হবে যে চুপ থাকা কোনো নিরাপদ অবস্থান নয়।
দুই বাক্যের বেশি লেখার দরকার নেই; বক্তব্য যত সংক্ষিপ্ত, তত জোরালো।
সম্প্রসারিত ভাব
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই উক্তি প্রতিবাদহীনতার বিরুদ্ধে এক তীব্র অভিযোগ। সমাজে অন্যায় টিকে থাকে দুই কারণে — একদল তা করে, আরেক দল তা দেখেও চুপ থাকে। দ্বিতীয় দলটি সংখ্যায় অনেক বড়, আর তাদের নীরবতাই অন্যায়কারীর সবচেয়ে বড় ভরসা।
যে শিক্ষার্থী সহপাঠীকে র্যাগিং হতে দেখে চুপ করে সরে যায়, যে প্রতিবেশী পাশের বাড়িতে বাল্যবিবাহ হতে দেখেও কিছু বলে না, তারা নিজেরা অন্যায় করছে না ঠিকই, কিন্তু অন্যায়ের পথ পরিষ্কার রাখছে। প্রতিবাদ না করার অভ্যাস একবার তৈরি হলে সমাজে অবিচার স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
ইতিহাস বলে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিবাদই পরিবর্তন এনেছে। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ — প্রতিটি অর্জনের পেছনে ছিল অন্যায় মেনে না নেওয়ার সাহস। প্রতিবাদ সব সময় বড় আন্দোলন হতে হয় না; সময়মতো একটি সত্য কথা বলাও প্রতিবাদ।
প্রতিবাদ মানে বেপরোয়া হয়ে ওঠা নয়। শিক্ষার্থীর হাতে আছে শিক্ষক ও অভিভাবককে জানানোর সুযোগ, নাগরিকের হাতে আছে অভিযোগ দায়ের, আইনি প্রতিকার ও গণমাধ্যমের কাছে যাওয়ার পথ। ভাবনাটি যত ঠান্ডা মাথায় ও প্রমাণসহ উপস্থাপন করা যায়, প্রতিবাদ তত কার্যকর হয়। ভয় নয়, বিবেচনাই প্রতিবাদের সঠিক সঙ্গী।
মন্তব্য
তাই অন্যায় দেখলে নীরব থাকা চলবে না। প্রতিবাদহীন বিবেক ধীরে ধীরে অন্যায়ের অংশীদার হয়ে যায়।
সাধারণ ভুল
পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।
- ✗ কেবল অন্যায়কারীর নিন্দা করা। ✓ সহ্যকারীর দায়টিকেই উত্তরের কেন্দ্রে রাখা।
- ✗ প্রতিবাদ মানেই সংঘর্ষ — এমন ইঙ্গিত দেওয়া। ✓ সাক্ষ্য দেওয়া বা পাশে দাঁড়ানোকেও প্রতিবাদ হিসেবে দেখানো।
- ✗ কবির নাম বাদ দেওয়া। ✓ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম উল্লেখ করা।
- ✗ একই কথা তিন অনুচ্ছেদে ঘুরিয়ে লেখা। ✓ কারণ, পরিণাম ও করণীয় — তিন ভিন্ন ধাপে সাজানো।
- ✗ নীরবতাকে নিরপেক্ষতা বলে ব্যাখ্যা করা। ✓ নীরবতা কার্যত অন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো — এই কথাটি স্পষ্ট করে বলা।
অনুশীলন
নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।
- পঙ্ক্তিটি কার এবং এর কেন্দ্রীয় দাবি কী?
- নীরবতা কেন নিরপেক্ষতা নয়?
- প্রতিবাদের বাস্তব রূপ কী হতে পারে?
- সম্প্রসারিত ভাব কয় ধাপে সাজালে ভালো হয়?
- ভয়ের শৃঙ্খল বলতে এখানে কী বোঝানো হচ্ছে?
- উত্তরে কোন ক্রমে যুক্তি সাজালে সবচেয়ে ভালো হয়?
- নীরব থাকাকে কি নিরাপদ অবস্থান বলা যায়?
উত্তর
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। কেন্দ্রীয় দাবি হলো, অন্যায়কারীর মতো অন্যায় সহ্যকারীও দোষী, কারণ নীরবতা অন্যায়কে টিকিয়ে রাখে।
- কারণ নীরবতা দেখে অন্যায়কারী সাহস পায় এবং ভুক্তভোগী আরও একা হয়ে পড়ে। ফলে নীরব থাকা কার্যত অন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোরই সমান।
- সাক্ষ্য দেওয়া, ঘটনাটি লিখে জানানো, ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানো বা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা। প্রতিবাদ মানেই সংঘর্ষ নয়।
- তিন ধাপে — নীরবতা কেন প্রশ্রয়, সমাজে তার পরিণাম কী, এবং প্রতিবাদের বাস্তব রূপ কী। প্রতিটি ধাপে নতুন যুক্তি থাকা চাই।
- একটি ঘটনায় কেউ প্রতিবাদ না করলে পরের ঘটনায় প্রতিবাদের শক্তি আরও কমে যায়, আর অন্যায়কারী আরও সাহস পায়। এভাবে নীরবতা থেকে নীরবতা জন্ম নেয় — এই ধারাবাহিকতাকেই ভয়ের শৃঙ্খল বলা যায়।
- প্রথমে নীরবতা কেন প্রশ্রয়, তারপর সমাজে তার পরিণাম, শেষে প্রতিবাদের বাস্তব রূপ। কারণ থেকে পরিণাম, পরিণাম থেকে করণীয় — এই ক্রমে এগোলে তিনটি অনুচ্ছেদেই নতুন কথা থাকে।
- যায় না। নীরবতা মুহূর্তের নিরাপত্তা দেয়, কিন্তু অন্যায়কে টিকিয়ে রাখে — আর টিকে থাকা অন্যায় একদিন নীরব দর্শকের দরজাতেও পৌঁছায়। তাই চুপ থাকা আসলে বিপদকে পিছিয়ে দেওয়া, এড়ানো নয়।
উপযোগী শ্রেণি: নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
“অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা তারে যেন তৃণসম দহে।” — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ভাবসম্প্রসারণে প্রথমে পূর্ণ উদ্ধৃতিটি লিখে নিলে উত্তর গোছানো দেখায়।
কারণ নীরবতা অন্যায়কারীকে নিরাপত্তা দেয়। প্রতিবাদ না হলে অন্যায় বারবার ঘটতে থাকে, ফলে সহনশীলতা পরোক্ষে অন্যায়কে টিকিয়ে রাখে।
না। সাক্ষ্য দেওয়া, ঘটনাটি লিখে জানানো, ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানো বা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা — এগুলোও প্রতিবাদ। উত্তরে এই বাস্তব রূপগুলো উল্লেখ করলে যুক্তিটি অনেক বেশি প্রয়োগযোগ্য দেখায় এবং পাঠক নিজের জায়গা থেকে করণীয় খুঁজে পায়।
দ্বিতীয় অংশে — অন্যায় সহ্যকারীর দোষে। অন্যায়কারী দোষী, এ নিয়ে কারও দ্বিমত নেই, তাই সেখানে যুক্তি খরচ করার দরকার নেই। উত্তরের ভার থাকা চাই নীরবতা কেন অপরাধ, সেই ব্যাখ্যায়।
আরও ভাবসম্প্রসারণ পড়ো
ভাবসম্প্রসারণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















