পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি
পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি — ভাবসম্প্রসারণ মূলভাব, সম্প্রসারিত ভাব ও মন্তব্যসহ।
মূলভাব
পরিশ্রমই মানুষের ভাগ্য গড়ে তোলে। ভাগ্য কোনো অদৃশ্য শক্তির দান নয়, বরং নিরবচ্ছিন্ন শ্রমের ফল। যে জাতি বা ব্যক্তি শ্রমে বিশ্বাসী, সৌভাগ্য তারই সঙ্গী হয়।
মূলভাবে কী লিখবে
এই ভাবটির কেন্দ্রে আছে প্রসূতি শব্দটি — অর্থাৎ জন্মদাত্রী। পরিশ্রম সৌভাগ্যের সহায়ক নয়, জন্মদাতা। মূলভাবে এই সম্পর্কটিই দুই-তিন বাক্যে বলতে হবে।
ভাগ্যকে অস্বীকার করা এখানে উদ্দেশ্য নয়; উদ্দেশ্য দেখানো যে যাকে আমরা ভাগ্য বলি, তার পেছনে জমে থাকে দীর্ঘ শ্রম। এই পার্থক্যটি ধরতে পারলে মূলভাব নির্ভুল হয়।
- প্রসূতি = জন্মদাত্রী, সহায়ক নয়।
- ভাগ্যকে অস্বীকার নয়, ব্যাখ্যা করো।
- দুই-তিন বাক্যেই যথেষ্ট।
সম্প্রসারিত ভাবে কোন তিনটি স্তর সাজাবে
প্রথম অনুচ্ছেদে ব্যক্তির স্তর — জন্মের সময় সবাই প্রায় সমান সম্ভাবনা নিয়ে আসে, পার্থক্য তৈরি হয় শ্রমে। শিক্ষার্থী ও কৃষকের চেনা দৃষ্টান্ত এখানেই ভালো বসে।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে ইতিহাসের স্তর — বিজ্ঞানী ও শিল্পীদের বছরের পর বছরের অনুশীলন। তৃতীয় অনুচ্ছেদে জাতির স্তর — শ্রমনির্ভর দেশ কীভাবে দারিদ্র্য থেকে ওঠে।
ব্যক্তি থেকে জাতিতে ওঠার এই ক্রমটিই উত্তরটিকে গভীরতা দেয়; তিনটি অনুচ্ছেদে একই কথা তিনবার বললে নম্বর কাটা যায়।
- ব্যক্তি → ইতিহাস → জাতি।
- প্রতিটি স্তরে নতুন যুক্তি।
মন্তব্যে কী লিখবে
মন্তব্যে ভাগ্যনির্ভরতার বিপরীতে কর্মে আত্মনিয়োগের আহ্বান থাকবে। এক-দুই বাক্যেই শেষ করতে হয়, নতুন যুক্তি এখানে আনা যাবে না।
অলসতা যে ভাগ্যকে দোষারোপ করে আত্মপক্ষ সমর্থন করে — এই কথাটি মন্তব্যে ছুঁয়ে গেলে উত্তরটি সম্পূর্ণ হয়।
সম্প্রসারিত ভাব
মানুষ জন্মগতভাবে ভাগ্যবান হয়ে জন্মায় না। জন্মের সময় সবাই প্রায় একই সম্ভাবনা নিয়ে আসে; পার্থক্য তৈরি হয় পরে, যখন কেউ শ্রম দেয় আর কেউ অপেক্ষা করে। যে শিক্ষার্থী প্রতিদিন নিয়ম করে পড়ে, পরীক্ষার ফল তার পক্ষে যায়; যে কৃষক সময়মতো জমি প্রস্তুত করেন, ফসল তাঁর গোলাতেই ওঠে। এখানে ভাগ্যের কোনো রহস্য নেই, আছে ধারাবাহিক পরিশ্রমের হিসাব।
পৃথিবীর ইতিহাস এ কথারই সাক্ষী। বিজ্ঞানীরা বছরের পর বছর ব্যর্থ পরীক্ষা চালিয়ে তবেই আবিষ্কারে পৌঁছেছেন, শিল্পীরা হাজার বার অনুশীলন করে তবেই দক্ষতা অর্জন করেছেন। তাঁদের সাফল্যকে আমরা দূর থেকে সৌভাগ্য বলে ডাকি, কিন্তু কাছ থেকে দেখলে দেখা যায় সেটি আসলে জমে ওঠা শ্রমের স্তূপ। অলস মানুষ ভাগ্যকে দোষ দেয়, কারণ নিজের নিষ্ক্রিয়তাকে স্বীকার করা কঠিন।
একটি জাতির ক্ষেত্রেও কথাটি সমানভাবে খাটে। যে দেশের মানুষ শ্রমকে সম্মান করে, সে দেশ দারিদ্র্য থেকে উঠে আসে। আমাদের দেশের কৃষক, শ্রমিক ও প্রবাসী শ্রমজীবী মানুষের ঘামেই অর্থনীতির ভিত দাঁড়িয়ে আছে — এ কথা মনে রাখলে শ্রমকে ছোট করে দেখার সুযোগ থাকে না।
মন্তব্য
তাই ভাগ্যের ওপর নির্ভর না করে কর্মে আত্মনিয়োগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। পরিশ্রম যাকে আপন করে নেয়, সৌভাগ্য তার দরজায় নিজেই এসে দাঁড়ায়।
সাধারণ ভুল
পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।
- ✗ ভাগ্য বলে কিছু নেই — এমন দাবি করা। ✓ ভাগ্য আছে, কিন্তু তা শ্রমেই গড়ে ওঠে — এই ভারসাম্য রাখা।
- ✗ পুরো উত্তরজুড়ে কেবল “পরিশ্রম করা উচিত” বলা। ✓ দৃষ্টান্ত দিয়ে দেখানো কীভাবে শ্রম ভাগ্য বদলায়।
- ✗ তিন অনুচ্ছেদে একই যুক্তির পুনরাবৃত্তি। ✓ ব্যক্তি, ইতিহাস ও জাতি — তিন আলাদা স্তরে যুক্তি সাজানো।
- ✗ মন্তব্যে নতুন উদাহরণ যোগ করা। ✓ মন্তব্যে কেবল সিদ্ধান্ত টানা, এক-দুই বাক্যে।
অনুশীলন
নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।
- “প্রসূতি” শব্দের অর্থ কী এবং এখানে তা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
- এই ভাবসম্প্রসারণে কোন ধরনের উদাহরণ সবচেয়ে ভালো বসে?
- জাতির স্তরে যুক্তিটি কীভাবে সাজাবে?
- উত্তরটি কত শব্দে লেখা উচিত?
- অলস মানুষ ভাগ্যকে দোষ দেয় কেন?
উত্তর
- প্রসূতি অর্থ জন্মদাত্রী। শব্দটি বলছে পরিশ্রম সৌভাগ্যের সহায়ক নয়, জন্মদাতা — অর্থাৎ শ্রম না থাকলে সৌভাগ্য জন্মাতেই পারে না। এই তীব্রতাটুকু ধরতে পারলে মূলভাব সঠিক হয়।
- প্রতিদিন নিয়ম করে পড়া শিক্ষার্থী, সময়মতো জমি প্রস্তুত করা কৃষক, বছরের পর বছর ব্যর্থ পরীক্ষা চালানো বিজ্ঞানী — চেনা ও যাচাইযোগ্য দৃষ্টান্ত। মনগড়া গল্প এড়িয়ে চলাই ভালো।
- যে দেশের মানুষ শ্রমকে সম্মান করে সে দেশ দারিদ্র্য থেকে উঠে আসে — এই কথাটি বলে কৃষক, শ্রমিক ও প্রবাসী শ্রমজীবী মানুষের অবদানের কথা উল্লেখ করো।
- সাধারণত ১৫০ থেকে ২৫০ শব্দ। মূলভাব সংক্ষিপ্ত, সম্প্রসারিত ভাব দুই-তিন অনুচ্ছেদ ও মন্তব্য এক-দুই বাক্য — এই অনুপাতেই পূর্ণ নম্বর মেলে।
- কারণ নিজের নিষ্ক্রিয়তাকে স্বীকার করা কঠিন। ভাগ্যের ওপর দায় চাপালে আত্মপক্ষ সমর্থন সহজ হয়ে যায়, আর নিজের ব্যর্থতার জন্য দায় নিতে হয় না। এই মনস্তত্ত্বটি সম্প্রসারিত ভাবের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে ছুঁয়ে গেলে উত্তরটি আরও পরিণত হয়।
উপযোগী শ্রেণি: ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম-দশম শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
মূলভাবে সংক্ষেপে লেখো যে সৌভাগ্য কোনো দৈব ব্যাপার নয়, পরিশ্রমই তার জন্মদাত্রী। দুই থেকে তিন বাক্যেই যথেষ্ট — বিস্তারিত যুক্তি সম্প্রসারিত ভাবের জন্য রেখে দাও।
সাধারণত ১৫০ থেকে ২৫০ শব্দ যথেষ্ট। মূলভাব সংক্ষিপ্ত, সম্প্রসারিত ভাব দুই-তিন অনুচ্ছেদ এবং মন্তব্য এক-দুই বাক্য — এই অনুপাতেই পূর্ণ নম্বর পাওয়া যায়।
ভাবটি ভাগ্যকে অস্বীকার করছে না, ব্যাখ্যা করছে। যাকে আমরা দূর থেকে সৌভাগ্য বলে ডাকি, কাছ থেকে দেখলে দেখা যায় সেটি জমে ওঠা শ্রমের স্তূপ। তাই উত্তরে ভাগ্য বলে কিছু নেই — এমন চরম দাবি না করে শ্রম ও ভাগ্যের সম্পর্কটি দেখানোই নিরাপদ ও যুক্তিসংগত।
তিনটি অনুচ্ছেদে — প্রথমে ব্যক্তির স্তর, তারপর ইতিহাসের স্তর, শেষে জাতির স্তর। ব্যক্তি থেকে জাতিতে ওঠার এই ক্রমটিই উত্তরকে গভীরতা দেয়। তিন অনুচ্ছেদে একই যুক্তি ঘুরিয়ে লিখলে পুনরাবৃত্তির জন্য নম্বর কাটা যায়।
আরও ভাবসম্প্রসারণ পড়ো
ভাবসম্প্রসারণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















