পরের অনিষ্ট চিন্তা করে যেই জন
পরের অনিষ্ট চিন্তা করে যেই জন, নিজের অনিষ্ট বীজ করে সে বপন — ভাবসম্প্রসারণ।
মূলভাব
যে অন্যের ক্ষতি করার কথা ভাবে, সে আসলে নিজের সর্বনাশের বীজ বোনে। পরের জন্য খোঁড়া গর্তে শেষ পর্যন্ত নিজেকেই পড়তে হয়।
মূলভাবে কী লিখবে
মূলভাবে বলতে হবে — পরের ক্ষতির চিন্তা যে করে, ক্ষতিটা শেষ পর্যন্ত তারই হয়। অন্যের জন্য খোঁড়া গর্তে নিজেকেই পড়তে হয়।
বীজের রূপকটি এখানে মূল — অনিষ্টচিন্তা একটি বীজ, আর বীজ যিনি বোনেন ফসলও তাঁরই ঘরে ওঠে। রূপকটি ব্যাখ্যা করে নিলে মূলভাব স্পষ্ট হয়।
- রূপক — বীজ ও ফসল।
- ক্ষতি ফিরে আসে নিজের কাছেই।
সম্প্রসারিত ভাবে কোন স্তর সাজাবে
প্রথমে মনের স্তর — অন্যের ক্ষতির পরিকল্পনা মানুষকে ভেতর থেকে অস্থির করে তোলে। ঈর্ষা ও শত্রুতা বয়ে বেড়ানো নিজেই একধরনের শাস্তি।
তারপর সামাজিক স্তর — যে অন্যের ক্ষতি করে, সে ধীরে ধীরে বিশ্বাস হারায়। বিপদের দিনে তার পাশে কেউ দাঁড়ায় না, আর তখনই ক্ষতিটি পূর্ণ হয়।
শেষে সময়ের স্তর — ষড়যন্ত্র একদিন প্রকাশ পায়, আর প্রকাশ পেলে ক্ষতির পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। গোপনীয়তা কোনো স্থায়ী আশ্রয় নয়।
- মন → সমাজ → সময়।
- বিশ্বাস হারানোই বড় ক্ষতি।
মন্তব্যে কী লিখবে
মন্তব্যে বলো পরের অনিষ্ট চিন্তা ছেড়ে নিজের কর্মে মনোযোগ দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
অভিশাপের ভাষা এড়িয়ে যুক্তির ভাষায় শেষ করলে উত্তরটি বেশি বিশ্বাসযোগ্য হয়।
সম্প্রসারিত ভাব
হিংসা ও ষড়যন্ত্র মানুষের ভেতরটাকে আগে নষ্ট করে। যে প্রতিনিয়ত অন্যের ক্ষতি ভাবে, তার মন শান্তি হারায়, ঘুম নষ্ট হয়, স্বাভাবিক সম্পর্কগুলোও ভেঙে যায়। ক্ষতি করার আগেই সে নিজের মানসিক স্বাস্থ্য হারিয়ে ফেলে।
সমাজেও এর ফল ফেরত আসে। ষড়যন্ত্র একদিন প্রকাশ পায়, আর তখন মানুষ তাকে এড়িয়ে চলে। বিশ্বাস একবার নষ্ট হলে তা ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব; ফলে অন্যের ক্ষতি করতে গিয়ে সে নিজের সবচেয়ে বড় সম্পদ — বিশ্বাসযোগ্যতা — হারায়।
ইতিহাস ও সাহিত্যে এমন উদাহরণ অজস্র। যারা ক্ষমতার লোভে অন্যের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছে, তাদের পতনও ঘটেছে সেই চক্রান্তেরই ফাঁদে। অন্যদিকে যাঁরা অন্যের কল্যাণ চেয়েছেন, বিপদের দিনে মানুষ তাঁদের পাশেই দাঁড়িয়েছে।
ছাত্রজীবনে এই প্রবণতা বিশেষভাবে ক্ষতিকর। সহপাঠীর ভালো ফলে ঈর্ষান্বিত হয়ে কেউ যদি তার নোট লুকিয়ে রাখে বা তার নামে কুৎসা রটায়, সে নিজের পড়ার সময়টুকুই নষ্ট করে। প্রতিযোগিতার সঠিক জবাব প্রতিহিংসা নয়, নিজের প্রস্তুতি বাড়ানো।
এর ইতিবাচক দিকটিও মনে রাখা দরকার: অন্যের ভালো চাওয়া কোনো দুর্বলতা নয়, বরং নিজের নিরাপত্তা তৈরির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।
মন্তব্য
তাই পরশ্রীকাতরতা ছেড়ে অন্যের মঙ্গল কামনা করাই শ্রেয়। অন্যের জন্য ভালো ভাবলে সেই ভালো ঘুরে নিজের কাছেই ফিরে আসে।
সাধারণ ভুল
পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।
- ✗ বীজের রূপকটি ব্যাখ্যা না করে কেবল উল্লেখ করা। ✓ বীজ যিনি বোনেন ফসলও তাঁরই — এই সম্পর্কটি খুলে বলা।
- ✗ কেবল বাহ্যিক ক্ষতির কথা লেখা। ✓ মনের অস্থিরতাকেও ক্ষতির অংশ হিসেবে দেখানো।
- ✗ অভিশাপের ভাষায় উত্তর শেষ করা। ✓ যুক্তির ভাষায় সিদ্ধান্ত টানা।
- ✗ সমাজে বিশ্বাস হারানোর দিকটি বাদ দেওয়া। ✓ বিপদের দিনে কেউ পাশে না দাঁড়ানোর পরিণামটি দেখানো।
- ✗ ভাবটিকে কেবল ব্যক্তিগত শত্রুতার প্রসঙ্গে সীমাবদ্ধ রাখা। ✓ কর্মক্ষেত্র ও সমাজজীবনের দৃষ্টান্তও যুক্ত করা।
অনুশীলন
নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।
- বীজের রূপকটি কীভাবে ব্যাখ্যা করবে?
- মনের স্তরে ক্ষতিটি কীভাবে হয়?
- সামাজিক স্তরে পরিণাম কী?
- গোপন ষড়যন্ত্র কি নিরাপদ?
- মন্তব্যে কোন ভাষা এড়িয়ে চলবে?
- কর্মক্ষেত্র থেকে কোন দৃষ্টান্ত দেওয়া যায়?
- সম্প্রসারিত ভাব কোন ক্রমে সাজাবে?
উত্তর
- অনিষ্টচিন্তা একটি বীজ, আর বীজ যিনি বোনেন ফসল তাঁরই ঘরে ওঠে। তাই অন্যের ক্ষতির পরিকল্পনা করলে ফলটি নিজের জীবনেই ফলে — রূপকটি এভাবে খুলে বললে ভাবটি স্পষ্ট হয়।
- অন্যের ক্ষতির পরিকল্পনা মানুষকে ভেতর থেকে অস্থির করে তোলে। ঈর্ষা ও শত্রুতা বয়ে বেড়ানো নিজেই একধরনের শাস্তি, যা কেউ বাইরে থেকে দেখতে পায় না।
- সে ধীরে ধীরে মানুষের বিশ্বাস হারায়। বিপদের দিনে তার পাশে কেউ দাঁড়ায় না — আর এই একাকিত্বই সবচেয়ে বড় ক্ষতি, যা কোনো সম্পদ দিয়ে পূরণ হয় না।
- নয়। ষড়যন্ত্র একদিন প্রকাশ পায়, আর প্রকাশ পেলে ক্ষতির পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। গোপনীয়তা সাময়িক আশ্রয় দেয়, স্থায়ী নিরাপত্তা নয়।
- অভিশাপের ভাষা। “তার সর্বনাশ হবেই” জাতীয় বাক্যের বদলে যুক্তির ভাষায় সিদ্ধান্ত টানলে উত্তরটি অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য ও পরিণত শোনায়।
- সহকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে পদোন্নতি পাওয়ার চেষ্টা। সত্য প্রকাশ পেলে অভিযোগকারীই বিশ্বাস হারায় এবং তার অবস্থান আগের চেয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে।
- মন, সমাজ ও সময় — এই তিন স্তরে। ভেতর থেকে বাইরে এবং তাৎক্ষণিক থেকে দীর্ঘমেয়াদির দিকে এগোলে প্রতিটি অনুচ্ছেদে নতুন যুক্তি থাকে।
উপযোগী শ্রেণি: অষ্টম, নবম-দশম শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
“পরের অনিষ্ট চিন্তা করে যেই জন, নিজের অনিষ্ট বীজ করে সে বপন।” বাংলা পাঠ্যবইয়ে এটি হিংসার পরিণাম বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, এবং ভাবসম্প্রসারণে শুরুতেই পুরো লাইনটি উদ্ধৃত করা ভালো।
বীজ বোনার অর্থ হলো পরিণামের সূচনা করা। অন্যের ক্ষতির পরিকল্পনা করার মুহূর্তেই ব্যক্তি নিজের পতনের প্রক্রিয়া শুরু করে দেয় — এভাবে ব্যাখ্যা করলে রূপকটি স্পষ্ট হয়।
না। ব্যক্তিগত সম্পর্কের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্র, ব্যবসা ও সমাজজীবনেও কথাটি সমানভাবে খাটে। সহকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ বা প্রতিযোগীর ক্ষতি করার চেষ্টা — সব ক্ষেত্রেই ক্ষতিটি শেষ পর্যন্ত উদ্যোক্তার কাছেই ফিরে আসে।
পরের অনিষ্ট চিন্তা ছেড়ে নিজের কর্মে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান দিয়ে। শত্রুতার হিসাব রাখতে যে সময় ও মনোযোগ যায়, তা নিজের কাজে দিলে ফল অনেক বেশি — এই যুক্তিতেই সিদ্ধান্তটি সবচেয়ে জোরালো হয়।
আরও ভাবসম্প্রসারণ পড়ো
ভাবসম্প্রসারণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















