মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

পরিশ্রম নিয়ে নমুনা পদ্যাংশের সারমর্ম ও ব্যাখ্যা — অনুশীলনের জন্য নমুনা।

সারমর্ম — পরিশ্রম

পরিশ্রম নিয়ে নমুনা পদ্যাংশের সারমর্ম ও ব্যাখ্যা — অনুশীলনের জন্য নমুনা।

সারাংশ

ভাগ্যের ভরসায় বসে থাকলে কিছুই মেলে না; নিজের হাতের শ্রমেই জীবনের পথ তৈরি হয়। কবি বলতে চেয়েছেন, অলস প্রত্যাশা নয়, নিরলস কর্মই মানুষকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়।

মূল পদ্যাংশ (অনুশীলনের জন্য রচিত নমুনা)

বসিয়া থাকিলে ভাগ্য আসে না ডাকিয়া কাহারো দ্বারে, / যে হাত খাটিয়া ঘাম ঝরায়, ফল ফলে তারি ঘরে। / আকাশ চাহিয়া কাটে যার দিন, শূন্য থাকে তার থালা, / শ্রমের আগুনে যে পুড়িয়াছে, তারই গলে জয়মালা।

রূপকটি খুলে ফেলো

এই পদ্যাংশে পরিশ্রমকে দেখানো হয়েছে রূপকের আড়ালে — বীজ বোনা, ফসল কাটা বা পথ চলার ছবিতে।

সারমর্মে ছবিটি থাকবে না, থাকবে তার অর্থ। “যে বীজ বোনে সে ফসল পায়” হয়ে যায় “যে শ্রম দেয় সে ফল পায়”।

  • ছবি সরাও, অর্থ রাখো

কবির নাম ও উদ্ধৃতি

সারমর্মে কবির নাম লেখা হয় না, কবিতার নামও নয়। এমনকি “কবি বলেছেন” বাক্যাংশটিও বাদ।

কারণ সারমর্মের কাজ ভাবটি প্রকাশ করা, ভাবের উৎস জানানো নয়। উৎস জানানো ভাবসম্প্রসারণের কাজ, সারমর্মের নয়।

একই কারণে পদ্যাংশের কোনো লাইন উদ্ধৃত করাও চলে না — উদ্ধৃতি থাকলে বোঝা যায় ভাবটি নিজের ভাষায় লেখা হয়নি।

  • নাম, উদ্ধৃতি — দুটিই বাদ

দৈর্ঘ্য ও গঠন

সারমর্ম এক অনুচ্ছেদে, পদ্যাংশের চেয়ে ছোট। দুই-তিন বাক্যেই সাধারণত ভাবটি ধরে যায়।

গঠনে প্রথমে কেন্দ্রীয় ভাব, তারপর তার সম্প্রসারণ — এই ক্রমটি সবচেয়ে পরিষ্কার। উল্টো ক্রমে লিখলে পাঠক শেষে গিয়ে বুঝতে পারে ভাবটি কী।

  • ভাব আগে, ব্যাখ্যা পরে

ব্যাখ্যা

পদ্যাংশে দুটি চরিত্র মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে — একজন অপেক্ষমাণ, অন্যজন পরিশ্রমী। সারমর্মে এই বৈপরীত্যটিই মূল কথা।

“জয়মালা”, “শূন্য থালা” ও “শ্রমের আগুন” রূপক; এগুলোর আক্ষরিক অর্থ না লিখে অন্তর্নিহিত ভাব — সাফল্য ও ব্যর্থতা — গদ্যে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য

সারমর্মে চিত্রকল্প নয়, চিত্রকল্পের অর্থটুকুই লিখতে হয় — এটিই এই অনুশীলনের মূল শিক্ষা।

সাধারণ ভুল

পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।

  • পদ্যের রূপক হুবহু রেখে দেওয়া। রূপকের অর্থ সরল গদ্যে বসানো।
  • কবির নাম বা “কবি বলেছেন” লেখা। কেবল ভাবটি লেখা।
  • পদ্যাংশের লাইন উদ্ধৃত করা। নিজের ভাষায় ভাবটি প্রকাশ করা।
  • সারমর্মকে ভাবসম্প্রসারণের মতো দীর্ঘ করা। দুই-তিন বাক্যে, এক অনুচ্ছেদে রাখা।
  • ব্যাখ্যা আগে, ভাব পরে লেখা। কেন্দ্রীয় ভাব দিয়ে শুরু করা।
  • কবিতার শব্দ সাজিয়ে গদ্য বানানো। ভাব বুঝে সম্পূর্ণ নতুন বাক্যে লেখা।

অনুশীলন

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।

  1. সারমর্মে রূপক কীভাবে ব্যাখ্যা করব?
  2. সারমর্মে কি কবির নাম লিখতে হয়?
  3. পদ্যাংশের লাইন উদ্ধৃত করা যায় কি?
  4. সারমর্ম কত বড় হবে?
  5. গঠনের সবচেয়ে পরিষ্কার ক্রম কোনটি?
  6. সারমর্ম ও ভাবসম্প্রসারণের পার্থক্য কী?
  7. রূপকের অর্থ ঠিক ধরেছ কি না বুঝবে কীভাবে?
  8. কৃষিবিষয়ক রূপক পদ্যে বেশি আসে কেন?
  9. নিজের ভাষায় লেখা মানে কী?

উত্তর

  1. রূপকের ছবিটি সরিয়ে তার অর্থটি সরল গদ্যে বসাতে হয়। “যে বীজ বোনে সে ফসল পায়” হয়ে যায় “যে শ্রম দেয় সে ফল পায়” — ছবি যায়, ভাব থাকে।
  2. না। কবির নাম, কবিতার নাম বা “কবি বলেছেন” — কিছুই লেখা হয় না। সারমর্মের কাজ ভাবটি প্রকাশ করা, ভাবের উৎস জানানো নয়।
  3. না। উদ্ধৃতি থাকলে বোঝা যায় ভাবটি নিজের ভাষায় লেখা হয়নি — আর নিজের ভাষায় লেখাই সারমর্মের প্রধান শর্ত।
  4. এক অনুচ্ছেদ, পদ্যাংশের চেয়ে ছোট। দুই-তিন বাক্যেই সাধারণত ভাবটি ধরে যায় — বড় করলে সেটি ভাবসম্প্রসারণ হয়ে দাঁড়ায়।
  5. প্রথমে কেন্দ্রীয় ভাব, তারপর তার সম্প্রসারণ। উল্টো ক্রমে লিখলে পাঠক শেষে গিয়ে বুঝতে পারে ভাবটি আসলে কী ছিল।
  6. সারমর্ম ভাবটি সংক্ষেপে প্রকাশ করে; ভাবসম্প্রসারণ ভাবটিকে যুক্তি ও দৃষ্টান্ত দিয়ে বিস্তৃত করে। একটি ছোট হয়, অন্যটি বড়।
  7. অর্থটি বসিয়ে পুরো পদ্যাংশটি আবার পড়ে দেখো — বাকি পঙ্‌ক্তিগুলোর সঙ্গে মিললে অর্থটি ঠিক, না মিললে ভুল।
  8. কারণ বীজ বোনা ও ফসল কাটার ছবিটি কারণ ও ফলের সম্পর্ককে সবচেয়ে সরলভাবে দেখায়, আর কৃষিনির্ভর সমাজে ছবিটি সবার চেনা। সারমর্মে সেই সম্পর্কটিই সরল বাক্যে বসাতে হয়।
  9. পদ্যাংশের ভাব বুঝে সম্পূর্ণ নতুন বাক্যে তা প্রকাশ করা। কবিতার শব্দগুলো সাজিয়ে গদ্য বানানো নিজের ভাষা নয় — পরীক্ষকও তা সহজে ধরে ফেলেন।

উপযোগী শ্রেণি: সপ্তম, অষ্টম শ্রেণি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আরও সারাংশ ও সারমর্ম পড়ো

সারাংশ ও সারমর্ম-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকো

পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।