মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

মানবতা নিয়ে নমুনা পদ্যাংশের সারমর্ম ও ব্যাখ্যাসহ অনুশীলনের নমুনা।

সারমর্ম — মানবতা

মানবতা নিয়ে নমুনা পদ্যাংশের সারমর্ম ও ব্যাখ্যাসহ অনুশীলনের নমুনা।

সারাংশ

জাতি, ধর্ম বা সম্পদের পরিচয়ের চেয়ে মানুষের মনুষ্যত্বই বড়। কবি বলতে চেয়েছেন, যে হৃদয় অন্যের বেদনায় সাড়া দেয়, সেই হৃদয়েই প্রকৃত মানুষের পরিচয়।

মূল পদ্যাংশ (অনুশীলনের জন্য রচিত নমুনা)

কে হিন্দু কে মুসলিম, কে ধনী কে দীন — / এ প্রশ্ন করিয়া কাটে যার সারা দিন, / সে জানে না, রক্ত সবার একই রাঙা, / ক্ষুধার কাছে সব পরিচয় ভাঙা। / যে হাত বাড়ায় আর্তের পাশে গিয়া, / সে-ই তো মানুষ, সে-ই তো জীবন্ত হিয়া।

সংবেদনশীল বিষয়ে সতর্কতা

ধর্ম বা জাতি নিয়ে লেখা পদ্যাংশের সারমর্মে ভাষা সংযত রাখতে হয়। কোনো ধর্ম বা গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ না করাই নিরাপদ।

কবি যদি বিভাজনের নিন্দা করেন, সারমর্মে সেই নিন্দাটি থাকবে — কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে নয়, বিভাজনের বিরুদ্ধে।

  • নাম উল্লেখ নয়
  • নিন্দা বিভাজনের, পক্ষের নয়।

প্রশ্নবোধক পঙ্‌ক্তি

মানবতাবিষয়ক পদ্যে কবি প্রায়ই প্রশ্ন করেন — “মানুষের চেয়ে বড় কী আছে?” সারমর্মে প্রশ্নটি প্রশ্ন হিসেবে থাকে না।

প্রশ্নের ভেতরে যে উত্তরটি নিহিত, সেটিই বিবৃতি হিসেবে লিখতে হয় — “মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই”।

এই রূপান্তর ছাড়া সারমর্ম অসম্পূর্ণ থাকে, কারণ পাঠক জানে না কবি প্রশ্নটির কোন উত্তর চান।

  • প্রশ্ন → বিবৃতি

কেন্দ্রীয় ভাব

মানবতাবিষয়ক পদ্যাংশের কেন্দ্রীয় ভাব সাধারণত একটিই — জাত, ধর্ম ও বর্ণের ঊর্ধ্বে মানুষের পরিচয়।

সারমর্মে এই ভাবটি স্পষ্ট বাক্যে থাকা চাই, আর তার সমর্থনে কবি যে যুক্তি দিয়েছেন তা এক বাক্যে যোগ করা যায়।

  • কেন্দ্র — মানুষের পরিচয়

ব্যাখ্যা

পদ্যাংশে বিভাজনের প্রশ্নকে অর্থহীন বলা হয়েছে এবং তার বিপরীতে মানবিক কাজকে দাঁড় করানো হয়েছে।

“রাঙা রক্ত” ও “জীবন্ত হিয়া” চিত্রকল্প; সারমর্মে সেগুলোর অর্থ — সবার অভিন্নতা ও সহানুভূতির মূল্য — গদ্যে বলা হয়েছে।

লক্ষণীয়, কবি কোনো পক্ষ নেননি; তিনি বিভাজনের প্রশ্নটিকেই অপ্রাসঙ্গিক বলেছেন। সারমর্মেও তাই কোনো গোষ্ঠীর উল্লেখ না করে মানুষের অভিন্নতার কথাই লিখতে হবে।

মন্তব্য

বিভাজনের বিরুদ্ধে লেখা পদ্যাংশে সারমর্মের কেন্দ্রে থাকবে ঐক্য ও মানবিকতার বার্তা।

সাধারণ ভুল

পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।

  • নির্দিষ্ট ধর্ম বা গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করা। নাম এড়িয়ে বিভাজনের কথা বলা।
  • প্রশ্নবোধক পঙ্‌ক্তি হুবহু রাখা। প্রশ্নের নিহিত উত্তরটি বিবৃতিতে লেখা।
  • কেবল আবেগপূর্ণ বাক্য লেখা। কবির যুক্তিটিও এক বাক্যে রাখা।
  • কবির নাম উল্লেখ করা। সারমর্মে কেবল ভাবটি রাখা।
  • বিভাজনকে সমর্থন করে ফেলার মতো বাক্য লেখা। কবির অবস্থান অক্ষুণ্ন রাখা।

অনুশীলন

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।

  1. ধর্ম বা জাতিসংক্রান্ত পদ্যাংশের সারমর্মে কী সতর্কতা দরকার?
  2. সারমর্মে কি প্রশ্নবোধক বাক্য রাখা যায়?
  3. কেন্দ্রীয় ভাবটি কী?
  4. প্রশ্ন রূপান্তর না করলে কী হয়?
  5. আবেগ ও যুক্তির ভারসাম্য কেমন হবে?
  6. নাম উল্লেখ না করার কারণ কী?
  7. কবির অবস্থান অক্ষুণ্ন রাখতে কী খেয়াল রাখবে?
  8. কবির যুক্তিটি কীভাবে এক বাক্যে ধরাবে?

উত্তর

  1. ভাষা সংযত রাখা এবং কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ না করা। কবি বিভাজনের নিন্দা করেছেন — সারমর্মেও নিন্দাটি বিভাজনের বিরুদ্ধে থাকবে, কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে নয়।
  2. না। প্রশ্নের ভেতরে যে উত্তরটি নিহিত, সেটিই বিবৃতি হিসেবে লিখতে হয় — “মানুষের চেয়ে বড় কী আছে?” হয়ে যায় “মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই”।
  3. জাত, ধর্ম ও বর্ণের ঊর্ধ্বে মানুষের পরিচয়। এই ভাবটি স্পষ্ট বাক্যে থাকা চাই, আর তার সমর্থনে কবির যুক্তিটি এক বাক্যে যোগ করা যায়।
  4. সারমর্ম অসম্পূর্ণ থাকে, কারণ পাঠক জানে না কবি প্রশ্নটির কোন উত্তর চান। সারমর্মের কাজ ভাব স্পষ্ট করা, প্রশ্ন পুনরাবৃত্তি নয়।
  5. কবির যুক্তিটি অন্তত এক বাক্যে থাকা চাই। কেবল আবেগপূর্ণ বাক্য লিখলে সারমর্ম ঘোষণা হয়ে দাঁড়ায়, ভাবের ব্যাখ্যা হয় না।
  6. কবির বক্তব্য সর্বজনীন — কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। নাম ঢুকলে সেই সর্বজনীনতা নষ্ট হয় এবং বক্তব্য সংকীর্ণ হয়ে যায়।
  7. তিনি যা নিন্দা করেছেন তা যেন সারমর্মে সমর্থিত না হয়ে যায়। বাক্য সংক্ষেপ করতে গিয়ে নেতিবাচক অংশটি বাদ পড়লেই এই উল্টে যাওয়াটি ঘটে।
  8. যে সাধারণ সত্যটির ওপর কবি দাঁড়িয়েছেন সেটিই লেখো — সব মানুষ সুখ-দুঃখ ও প্রয়োজনে অভিন্ন। এক বাক্যেই যুক্তিটি ধরে যায় এবং সারমর্ম আবেগসর্বস্ব থাকে না।

উপযোগী শ্রেণি: অষ্টম, নবম-দশম শ্রেণি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আরও সারাংশ ও সারমর্ম পড়ো

সারাংশ ও সারমর্ম-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকো

পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।