সারমর্ম লেখার নিয়ম
সারমর্ম লেখার নিয়ম — কবিতার ভাব গদ্যে প্রকাশের পদ্ধতি ও সারাংশের সঙ্গে পার্থক্য।
সারাংশ
সারমর্ম হলো কবিতা বা পদ্যাংশের মূল ভাব গদ্যে, নিজের ভাষায়, সংক্ষেপে লেখা। এখানে কবিতার শব্দ নয়, কবির বক্তব্যটুকুই গুরুত্বপূর্ণ।
সারাংশ থেকে পার্থক্যটি ধরো
সারাংশ লেখা হয় গদ্যের, সারমর্ম পদ্যের। আর পার্থক্যটি কেবল উৎসে নয় — সারাংশ সংক্ষেপ করে, সারমর্ম ব্যাখ্যা করে।
পদ্যে ভাব লুকিয়ে থাকে উপমা ও রূপকের ভেতরে, তাই সারমর্মে সেই আড়ালটি সরিয়ে ভাবটি সরল গদ্যে বলতে হয়।
- সারাংশ সংক্ষেপ, সারমর্ম ব্যাখ্যা।
- উৎস — পদ্য।
কাজের ধাপ
প্রথমে পদ্যাংশটি দুইবার পড়ে ভাব বুঝে নাও। তারপর প্রতিটি উপমা ও রূপকের অর্থ আলাদা করে নিজের কাছে বলে নাও।
এরপর সব অর্থ মিলিয়ে একটি কেন্দ্রীয় বক্তব্য দাঁড় করাও এবং সেটিই সরল গদ্যে লেখো। শেষে দেখো কোনো উপমা ভুলে রয়ে গেছে কি না।
পদ্যের লাইনক্রম মানার দরকার নেই — সারমর্ম ভাবের ক্রমে চলে, পঙ্ক্তির ক্রমে নয়। এই স্বাধীনতাটি অনেকেই জানে না।
- উপমার অর্থ আলাদা করো।
- লাইনক্রম মানতে হয় না।
ভাষা ও দৈর্ঘ্য
সারমর্মে কবির নাম, কবিতার নাম বা “কবি বলেছেন” — কিছুই লেখা হয় না। কেবল ভাবটিই থাকে, বক্তার পরিচয় নয়।
দৈর্ঘ্য সাধারণত এক অনুচ্ছেদ, পদ্যাংশের চেয়ে ছোট। প্রশ্নবোধক বাক্যও গদ্যে রূপান্তর করে নিতে হয়।
- কবির নাম লিখো না।
- প্রশ্নবোধক → বিবৃতি।
ব্যাখ্যা
কবিতা রূপক ও চিত্রকল্পে ভরা থাকে, তাই প্রথম কাজ হলো রূপকের আড়ালের অর্থটি বোঝা। যেমন কোনো কবিতায় “অন্ধকার” বলতে অজ্ঞতা বা দুঃসময় বোঝানো হতে পারে; আক্ষরিক অর্থ ধরে নিলে সারমর্ম ভুল হয়ে যাবে।
দ্বিতীয় ধাপে পুরো পদ্যাংশের একটি কেন্দ্রীয় বার্তা খুঁজে বের করতে হয়। প্রতিটি চরণের আলাদা ব্যাখ্যা নয়, সব চরণ মিলে কবি যা বলতে চেয়েছেন সেটিই সারমর্ম।
তৃতীয় ধাপে তা গদ্যে লিখতে হয় — এক অনুচ্ছেদে, সহজ ভাষায়। কবিতার পঙ্ক্তি হুবহু তুলে দেওয়া যাবে না এবং ছন্দ বা অলংকার রক্ষার চেষ্টাও করতে হবে না।
মন্তব্য
সারাংশ ও সারমর্মের পার্থক্য মনে রাখা জরুরি — একটি গদ্যের সংক্ষেপ, অন্যটি পদ্যের ভাব। দুটিতেই নিজের ভাষা ব্যবহারই মূল শর্ত।
সাধারণ ভুল
পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।
- ✗ “কবি বলেছেন” লিখে শুরু করা। ✓ কেবল ভাবটি লেখা, বক্তার পরিচয় নয়।
- ✗ পদ্যের উপমা হুবহু রেখে দেওয়া। ✓ উপমার অর্থ সরল গদ্যে বসানো।
- ✗ পঙ্ক্তির ক্রম মেনে লেখা। ✓ ভাবের ক্রমে সাজানো, লাইনক্রমে নয়।
- ✗ প্রশ্নবোধক বাক্য হুবহু তুলে দেওয়া। ✓ প্রশ্নটিকে বিবৃতিতে রূপান্তর করা।
- ✗ সারমর্মকে ভাবসম্প্রসারণের মতো দীর্ঘ করা। ✓ এক অনুচ্ছেদে, পদ্যাংশের চেয়ে ছোট রাখা।
অনুশীলন
নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।
- সারাংশ ও সারমর্মের পার্থক্য কী?
- সারমর্মে কি কবিতার লাইন উদ্ধৃত করা যাবে?
- সারমর্ম কত বড় হবে?
- পদ্যের লাইনক্রম কি মানতে হয়?
- কবির নাম লেখা যায় কি?
- প্রশ্নবোধক পঙ্ক্তি থাকলে কী করবে?
- কাজের ধাপগুলো কী?
- সারমর্মে উপমা ব্যাখ্যা করার উপায় কী?
- সারমর্ম শেষে কী যাচাই করবে?
উত্তর
- সারাংশ গদ্যের, সারমর্ম পদ্যের। আর কাজের দিক থেকেও আলাদা — সারাংশ সংক্ষেপ করে, সারমর্ম উপমা ও রূপকের আড়াল সরিয়ে ভাবটি ব্যাখ্যা করে।
- না। পদ্যাংশের কোনো লাইন হুবহু তুলে দেওয়া যায় না — উপমাটির অর্থ সরল গদ্যে বসিয়ে দিতে হয়।
- সাধারণত এক অনুচ্ছেদ এবং পদ্যাংশের চেয়ে ছোট। ভাবসম্প্রসারণের মতো দীর্ঘ করে ফেললে ফর্মটিই ভুল হয়ে যায়।
- না। সারমর্ম ভাবের ক্রমে চলে, পঙ্ক্তির ক্রমে নয়। শেষ পঙ্ক্তির ভাব দিয়ে শুরু করাও চলে, যদি ভাবের যুক্তি তা-ই দাবি করে।
- না। কবির নাম, কবিতার নাম বা “কবি বলেছেন” — কিছুই সারমর্মে থাকে না। কেবল ভাবটিই থাকে, বক্তার পরিচয় নয়।
- প্রশ্নটিকে বিবৃতিতে রূপান্তর করে লিখতে হয়। কবি প্রশ্নের মাধ্যমে যে উত্তরটি বোঝাতে চেয়েছেন, সারমর্মে সেই উত্তরটিই সরাসরি বসে।
- পদ্যাংশ দুইবার পড়া, প্রতিটি উপমা ও রূপকের অর্থ আলাদা করে বুঝে নেওয়া, সব অর্থ মিলিয়ে একটি কেন্দ্রীয় বক্তব্য দাঁড় করানো এবং সেটিই সরল গদ্যে লেখা।
- উপমাটি কীসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তা আগে ঠিক করো, তারপর সেই তুলনার অর্থটি সরল বাক্যে লেখো। উপমার ছবি নয়, তার নির্দেশিত ভাবটিই সারমর্মে বসে।
- কোনো উপমা ব্যাখ্যা না করে রয়ে গেছে কি না, কবির নাম বা পঙ্ক্তি ঢুকে পড়েছে কি না এবং দৈর্ঘ্য পদ্যাংশের চেয়ে ছোট হয়েছে কি না।
উপযোগী শ্রেণি: ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম-দশম শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
সারাংশ লেখা হয় গদ্যাংশ থেকে এবং তাতে মূল বক্তব্য সংক্ষেপে থাকে; সারমর্ম লেখা হয় পদ্যাংশ থেকে এবং তাতে কবিতার অন্তর্নিহিত ভাব গদ্যে প্রকাশ করতে হয়।
না। কবিতার পঙ্ক্তি হুবহু তুলে দিলে সেটি আর সারমর্ম থাকে না। ভাবটি নিজের গদ্যভাষায় প্রকাশ করতে হয়।
সাধারণত মূল পদ্যাংশের এক-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি, এক অনুচ্ছেদে। ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশ পাওয়াই আসল শর্ত, শব্দসংখ্যা নয়।
না। সারমর্ম ভাবের ক্রমে চলে, পঙ্ক্তির ক্রমে নয়। শেষ পঙ্ক্তির ভাব দিয়ে শুরু করাও চলে, যদি ভাবের যুক্তি তা-ই দাবি করে। এই স্বাধীনতাটি অনেকেই জানে না বলে অকারণে পঙ্ক্তি ধরে ধরে লেখে।
আরও সারাংশ ও সারমর্ম পড়ো
সারাংশ ও সারমর্ম-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















