সারাংশ — সঙ্গের প্রভাব
সঙ্গের প্রভাব নিয়ে নমুনা গদ্যাংশের সারাংশ ও ব্যাখ্যাসহ অনুশীলন।
সারাংশ
মানুষ চারপাশের মানুষের আচরণ অজান্তেই গ্রহণ করে, তাই সঙ্গী নির্বাচনই তার ভবিষ্যৎ অনেকটা নির্ধারণ করে দেয়। ভালো সঙ্গ উন্নতির দিকে টানে, মন্দ সঙ্গ ধীরে ধীরে সর্বনাশ ডেকে আনে।
মূল অংশ (অনুশীলনের জন্য নমুনা)
কোনো মানুষই একা গড়ে ওঠে না। সে যাদের সঙ্গে চলে, তাদের কথা বলার ধরন, রুচি ও মূল্যবোধ ধীরে ধীরে তার ভেতরেও ঢুকে পড়ে — অনেক সময় সে নিজেও তা টের পায় না। যে দলে পড়াশোনা ও পরিশ্রম নিয়ে আলোচনা হয়, সেখানে থাকলে সেই আগ্রহ সংক্রামিত হয়। আবার যে দলে ফাঁকি দেওয়াকে চালাকি ভাবা হয়, সেখানে সৎ থাকা ক্রমেই কঠিন হয়ে ওঠে। প্রথমে ছোট একটি আপস, তারপর আরেকটি — এভাবেই পথ বদলে যায়। তাই বন্ধু বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তটিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
বিপরীত দুটি দিক থাকলে
এই অনুচ্ছেদে সঙ্গের দুই দিক আছে — ভালো সঙ্গের ফল ও মন্দ সঙ্গের ফল। সারাংশে দুটিই থাকবে, কোনোটি বাদ দেওয়া যাবে না।
বিপরীত দুটি দিক থাকলে সেগুলো একটি বাক্যেই বিপরীতার্থক সংযোজক দিয়ে জোড়া যায় — “অন্যদিকে”, “বিপরীতে”, “আবার”।
- দুই দিকই রাখো।
- বিপরীতার্থক সংযোজক।
সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ রাখতে হবে কি
“অনেক সময় সে নিজেও টের পায় না” — এমন সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ সাধারণত বক্তব্যের অংশ, অলংকার নয়। তাই সংক্ষেপে রাখতে হয়।
এই পর্যবেক্ষণটিই দেখায় সঙ্গের প্রভাব ধীর ও অলক্ষ্য। বাদ দিলে মনে হয় প্রভাবটি হঠাৎ ঘটে, যা লেখকের বক্তব্য নয়।
পার্থক্যটি চেনার উপায় — যে বাক্য প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করে তা বক্তব্য; যে বাক্য কেবল সাজায় তা অলংকার।
- প্রক্রিয়া = বক্তব্য।
- সাজানো = অলংকার।
ভারসাম্য রক্ষা
দুই দিকের মধ্যে যেটিতে লেখক বেশি জোর দিয়েছেন, সারাংশেও সেটিতে সামান্য বেশি জায়গা থাকবে।
দুটিকে যান্ত্রিকভাবে সমান জায়গা দিলে লেখকের জোরটি হারিয়ে যায় — অনুপাতও বক্তব্যের অংশ।
- অনুপাতও বক্তব্যের অংশ।
ব্যাখ্যা
মূল অংশের কেন্দ্রীয় বক্তব্য হলো সঙ্গের অদৃশ্য প্রভাব। সারাংশে সেই প্রভাবের দুই দিক — ইতিবাচক ও নেতিবাচক — দুটিই রাখা হয়েছে।
“ছোট আপস” সংক্রান্ত ধাপে ধাপে বর্ণনাটি দৃষ্টান্ত, তাই বাদ দিয়ে কেবল সিদ্ধান্তটুকু রাখা হয়েছে।
মন্তব্য
দুই বিপরীত দিক থাকলে সারাংশে দুটিই সংক্ষেপে রাখতে হয়, নইলে লেখকের বক্তব্য অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
সাধারণ ভুল
পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।
- ✗ কেবল মন্দ সঙ্গের ফল লেখা। ✓ ভালো ও মন্দ দুই দিকই রাখা।
- ✗ সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণটি অলংকার ভেবে বাদ দেওয়া। ✓ প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা বাক্য বক্তব্য — রাখা।
- ✗ দুই দিককে যান্ত্রিকভাবে সমান জায়গা দেওয়া। ✓ লেখকের জোর অনুযায়ী অনুপাত রাখা।
- ✗ বিপরীতার্থক সংযোজক বাদ দেওয়া। ✓ “অন্যদিকে”, “বিপরীতে” দিয়ে দুই দিক জোড়া।
- ✗ সঙ্গের প্রভাবকে হঠাৎ ঘটা ঘটনা হিসেবে দেখানো। ✓ ধীর ও অলক্ষ্য প্রক্রিয়াটি রাখা।
- ✗ সারাংশটিকে সতর্কবার্তায় পরিণত করা। ✓ লেখকের দুই দিকের বিশ্লেষণ অক্ষুণ্ন রাখা।
অনুশীলন
নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।
- মূল অংশে বিপরীত দুটি দিক থাকলে কী করব?
- সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণের বাক্য রাখব কি?
- বক্তব্য ও অলংকার চিনবে কীভাবে?
- দুই দিকের অনুপাত কেমন হবে?
- সঙ্গের প্রভাবের প্রকৃতি কী?
- বিপরীতার্থক সংযোজক না দিলে কী হয়?
- এই অনুচ্ছেদের কেন্দ্রীয় বক্তব্য কী?
- সঙ্গবিষয়ক অনুচ্ছেদে কোন ভুলটি সবচেয়ে বেশি হয়?
উত্তর
- দুটিই রাখতে হবে, আর সেগুলো একটি বাক্যেই বিপরীতার্থক সংযোজক দিয়ে জোড়া যায় — “অন্যদিকে”, “বিপরীতে”, “আবার”। কোনো একটি বাদ দিলে বক্তব্য অর্ধেক থেকে যায়।
- রাখতে হবে, যদি তা প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করে। “অনেক সময় সে নিজেও টের পায় না” বাক্যটি দেখায় প্রভাবটি ধীর ও অলক্ষ্য — এটি বক্তব্য, অলংকার নয়।
- যে বাক্য প্রক্রিয়া বা কারণ ব্যাখ্যা করে, সেটি বক্তব্য; যে বাক্য কেবল ভাষাকে সুন্দর করে, সেটি অলংকার। এই পরীক্ষাটি প্রায় সব অনুচ্ছেদেই কাজ করে।
- লেখক যেটিতে বেশি জোর দিয়েছেন, সারাংশেও সেটিতে সামান্য বেশি জায়গা। যান্ত্রিকভাবে সমান জায়গা দিলে লেখকের জোরটি হারিয়ে যায় — অনুপাতও বক্তব্যের অংশ।
- ধীর ও অলক্ষ্য — মানুষ একদিনে বদলায় না, বদলায় সঙ্গের ছাপে। এই প্রকৃতিটি সারাংশে না থাকলে প্রভাবটিকে হঠাৎ ঘটা ঘটনা মনে হয়।
- দুটি বিপরীত দিক পাশাপাশি বসেও সম্পর্কহীন থেকে যায়, আর পাঠক বুঝতে পারে না লেখক তুলনা করছেন।
- সঙ্গ মানুষকে গড়ে ও ভাঙে, আর সেই প্রভাব ধীরে ও অলক্ষ্যে কাজ করে। ভালো ও মন্দ দুই দিক মিলেই বক্তব্যটি সম্পূর্ণ।
- কেবল মন্দ সঙ্গের ক্ষতি লিখে ভালো সঙ্গের ফল বাদ দিয়ে ফেলা। এতে সারাংশটি সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়ায়, অথচ লেখকের বক্তব্য ছিল দুই দিক নিয়েই।
উপযোগী শ্রেণি: সপ্তম, অষ্টম শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
দুটি দিকই সারাংশে রাখতে হবে, তবে প্রতিটি এক বাক্যে। একটি বাদ দিলে লেখকের তুলনামূলক যুক্তিটিই নষ্ট হয়ে যায়।
রাখা যায় যদি তা মূল বক্তব্যের অংশ হয়। এখানে প্রভাবের অজ্ঞাতসারে ঘটা দিকটি গুরুত্বপূর্ণ, তাই “অজান্তেই” শব্দটি সারাংশে রাখা হয়েছে।
লেখক যেটিতে বেশি জোর দিয়েছেন, সারাংশেও সেটিতে সামান্য বেশি জায়গা থাকবে। যান্ত্রিকভাবে সমান জায়গা দিলে লেখকের জোরটি হারিয়ে যায় — অনুপাতও বক্তব্যের অংশ, কেবল দৈর্ঘ্যের হিসাব নয়।
ধীর ও অলক্ষ্য — মানুষ একদিনে বদলায় না, বদলায় সঙ্গের ছাপে। এই প্রকৃতিটি সারাংশে না থাকলে প্রভাবটিকে হঠাৎ ঘটা ঘটনা মনে হয়, যা লেখকের বক্তব্য নয়।
আরও সারাংশ ও সারমর্ম পড়ো
সারাংশ ও সারমর্ম-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















