সারমর্ম — ঐক্যের শক্তি
ঐক্য নিয়ে নমুনা পদ্যাংশের সারমর্ম ও ব্যাখ্যাসহ অনুশীলনের নমুনা।
সারাংশ
একা থাকলে মানুষ দুর্বল, কিন্তু সবাই মিলে দাঁড়ালে বড় বাধাও তুচ্ছ হয়ে যায়। কবি ঐক্যের শক্তিকেই জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসা বলেছেন।
মূল পদ্যাংশ (অনুশীলনের জন্য রচিত নমুনা)
একটি কাঠি ভাঙিতে পারে যে শিশুও অনায়াসে, / দশটি বাঁধিলে সে কাঠি ভাঙে না বলিষ্ঠ হাতে-ও। / বিচ্ছিন্ন জন হারায় সহজে, মিলিলে জাগে বল, / একসাথে যারা পথ চলে, তারা পার হয় গভীর জল।
উপমা বাদ দিলে ছোট হয়ে যায় — সমস্যা নয়
ঐক্যবিষয়ক পদ্যাংশে উপমার ভিড় থাকে — সুতা ও দড়ি, জলধারা ও নদী, ইট ও প্রাসাদ। উপমা বাদ দিলে সারমর্ম ছোট হয়ে যায়, আর সেটিই স্বাভাবিক।
সারমর্মের মাপকাঠি দৈর্ঘ্য নয়, ভাবের সম্পূর্ণতা। ভাব সম্পূর্ণ হলে দুই বাক্যেও সারমর্ম সফল।
- ছোট হওয়া স্বাভাবিক।
- মাপকাঠি — ভাবের সম্পূর্ণতা।
একই উপমা একাধিকবার থাকলে
একাধিক উপমা যদি একই কথা বলে, তবে অর্থটি একবারই লিখতে হয়। তিনটি উপমার জন্য তিনটি বাক্য লেখা অপচয়।
তবে যদি উপমাগুলো ভিন্ন দিক দেখায় — একটি শক্তির, একটি সৌন্দর্যের, একটি টিকে থাকার — তখন প্রতিটির অর্থ আলাদা করে রাখতে হয়।
পার্থক্য চেনার উপায় — প্রতিটি উপমার অর্থ লিখে দেখো, দুটি অর্থ এক হলে একটিই রাখো।
- একই অর্থ → একবার।
- ভিন্ন দিক → আলাদা।
ভাবটি কীভাবে বসাবে
ঐক্যের ভাব সাধারণত একটিই — বিচ্ছিন্ন শক্তি দুর্বল, সংঘবদ্ধ শক্তি অজেয়। এটি প্রথম বাক্যেই বসিয়ে দাও।
দ্বিতীয় বাক্যে তার ফল বা প্রয়োগ — সমাজ বা জাতির স্তরে। এতেই সারমর্মটি সম্পূর্ণ হয়ে যায়।
- ভাব আগে, ফল পরে।
ব্যাখ্যা
কাঠির উপমাটি পুরো পদ্যাংশের ভিত্তি। সারমর্মে সেই উপমা নয়, তার শিক্ষা — ঐক্যের শক্তি — লেখা হয়েছে।
শেষ চরণে ব্যক্তিগত জীবনের বাইরে সমষ্টির প্রসঙ্গ এসেছে, তাই সারমর্মে বাধা অতিক্রমের কথাটি রাখা হয়েছে।
এখানে ভুল হয় তখনই, যখন শিক্ষার্থী কাঠির গল্পটি বিস্তারিত লিখে ফেলে। কাঠি কেবল দৃষ্টান্ত; সারমর্মে থাকবে মানুষের ঐক্য ও সম্মিলিত শক্তির কথা।
মন্তব্য
উপমাভিত্তিক পদ্যাংশে সারমর্ম মানেই উপমার পেছনের সাধারণ সত্যটি খুঁজে বের করা।
সাধারণ ভুল
পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।
- ✗ দৈর্ঘ্য বাড়াতে উপমা রেখে দেওয়া। ✓ উপমা বাদ দিয়ে ছোট সারমর্মই লেখা।
- ✗ একই অর্থের প্রতিটি উপমার জন্য আলাদা বাক্য লেখা। ✓ অর্থটি একবারে লেখা।
- ✗ ভিন্ন দিক দেখানো উপমাগুলো এক করে ফেলা। ✓ ভিন্ন অর্থ হলে আলাদা রাখা।
- ✗ ঐক্যকে মতের অভিন্নতা হিসেবে লেখা। ✓ অভিন্ন লক্ষ্যে একসঙ্গে দাঁড়ানোকেই ঐক্য বলা।
- ✗ কবিতার উপমা গদ্যে অনুবাদ করে বসানো। ✓ উপমার অর্থ বসানো, উপমাটি নয়।
- ✗ ভাবটি বিমূর্ত ঘোষণায় থামিয়ে দেওয়া। ✓ এক টুকরো প্রয়োগ যোগ করে বাস্তবে নামানো।
অনুশীলন
নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।
- উপমা বাদ দিলে সারমর্ম ছোট হয়ে যায় — সমস্যা হবে?
- একই উপমা একাধিক পদ্যাংশে থাকলে কী করব?
- উপমাগুলো এক না ভিন্ন — বুঝবে কীভাবে?
- ঐক্যের ভাবটি কীভাবে বসাবে?
- ঐক্য মানে কি মতের অভিন্নতা?
- উপমা অনুবাদ ও অর্থ বসানোর পার্থক্য কী?
- সারমর্ম দুই বাক্যে হলে নম্বর কমে কি?
- ঐক্যের ফল কীভাবে লিখবে?
- ঐক্যবিষয়ক সারমর্মে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কী?
উত্তর
- না, সেটিই স্বাভাবিক। সারমর্মের মাপকাঠি দৈর্ঘ্য নয়, ভাবের সম্পূর্ণতা। ভাব সম্পূর্ণ হলে দুই বাক্যেও সারমর্ম সফল।
- অর্থগুলো মিলিয়ে দেখো। একই কথা বললে অর্থটি একবারই লিখবে; ভিন্ন দিক দেখালে প্রতিটির অর্থ আলাদা করে রাখবে।
- প্রতিটির অর্থ আলাদা করে লিখে দেখো। দুটি অর্থ এক হলে একটিই রাখো; আলাদা হলে দুটিই রাখো। এই পরীক্ষাটি সহজ ও নির্ভরযোগ্য।
- প্রথম বাক্যেই — বিচ্ছিন্ন শক্তি দুর্বল, সংঘবদ্ধ শক্তি অজেয়। দ্বিতীয় বাক্যে তার ফল বা প্রয়োগ; এতেই সারমর্মটি সম্পূর্ণ হয়।
- না। ভিন্নমত রেখেও অভিন্ন লক্ষ্যে একসঙ্গে দাঁড়ানোই ঐক্য। সারমর্মে এই সূক্ষ্মতাটি থাকলে ভাবটি আরও নির্ভুল হয়।
- অনুবাদে ছবিটি থেকে যায়, কেবল ছন্দ যায়; অর্থ বসালে ছবিটিও যায় এবং তার নির্দেশিত ভাবটি আসে। সারমর্মে দ্বিতীয়টিই কাম্য।
- না, যদি ভাব সম্পূর্ণ হয়। বরং অপ্রয়োজনে বাড়ালে উপমা বা ব্যাখ্যা ঢুকে পড়ে, আর তাতেই নম্বর কাটা যায়।
- দ্বিতীয় বাক্যে এক টুকরো প্রয়োগ দিয়ে — সমাজ বা জাতির স্তরে সংঘবদ্ধ প্রয়াস কী অর্জন করে। এতে ভাবটি বিমূর্ত না থেকে বাস্তবে নামে।
- উপমার সংখ্যা দেখে প্রতিটির জন্য বাক্য লিখে ফেলা। তাতে সারমর্ম উপমার তালিকা হয়ে দাঁড়ায়, অথচ ভাবটি একটিই ছিল।
উপযোগী শ্রেণি: ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
না। সারমর্ম সংক্ষিপ্তই হওয়ার কথা। ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশ পেলে ছোট হওয়া দোষের নয়, বরং সেটিই কাঙ্ক্ষিত।
প্রতিটি পদ্যাংশের নিজস্ব জোর আলাদা হয়। কোন দিকটিতে কবি বেশি জোর দিয়েছেন তা দেখে সেই অনুযায়ী সারমর্ম লিখতে হবে।
না, যদি ভাব সম্পূর্ণ হয়। বরং অপ্রয়োজনে দৈর্ঘ্য বাড়াতে গেলে উপমা বা ব্যাখ্যা ঢুকে পড়ে, আর তাতেই নম্বর কাটা যায়। সারমর্মে সংক্ষেপই গুণ।
অনুবাদে ছবিটি থেকে যায়, কেবল ছন্দ যায়; অর্থ বসালে ছবিটিও যায় এবং তার নির্দেশিত ভাবটি আসে। সারমর্মে দ্বিতীয়টিই কাম্য — এটিই সারমর্ম ও গদ্যানুবাদের মূল পার্থক্য।
আরও সারাংশ ও সারমর্ম পড়ো
সারাংশ ও সারমর্ম-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















