শুদ্ধ ও অশুদ্ধ বাক্য — বাক্য শুদ্ধিকরণের নিয়ম
বাক্যের সাধারণ অশুদ্ধিগুলো — বচন, বাহুল্য, গুরুচণ্ডালী ও কর্তা-ক্রিয়ার অসামঞ্জস্য — ও তার সংশোধন।
সংজ্ঞা
ব্যাকরণের নিয়ম মেনে লেখা বাক্য শুদ্ধ, আর নিয়মভঙ্গকারী বাক্য অশুদ্ধ। অশুদ্ধ বাক্যকে নিয়ম অনুযায়ী ঠিক করাকে শুদ্ধিকরণ বলে।
ভুল তিন জায়গায় হয়
বাংলা লেখায় ভুল প্রধানত তিন জায়গায় হয় — বানানে, শব্দ প্রয়োগে এবং বাক্যগঠনে। শুদ্ধিকরণের প্রশ্নে এই তিনটির যেকোনো একটি ধরা হয়, তাই তিন ধরনের ভুলই চিনে রাখা দরকার।
বানান-ভুল সবচেয়ে সহজে চোখে পড়ে — মুমুর্ষু বদলে মুমূর্ষু। শব্দ প্রয়োগের ভুল একটু সূক্ষ্ম — দৈন্যতা শব্দটিই নেই, শুদ্ধ রূপ দৈন্য। আর বাক্যগঠনের ভুল সবচেয়ে কম ধরা পড়ে — সকল ছাত্ররা বদলে সকল ছাত্র।
উত্তর লেখার সময় কেবল শুদ্ধ রূপটি লিখলেই যথেষ্ট; ব্যাখ্যা চাইলে তবেই কারণ লিখতে হয়। তবে কারণটি নিজে জানা থাকলে অচেনা ভুলও ধরা যায়।
- তিন ধরনের ভুল — বানান, শব্দ প্রয়োগ, বাক্যগঠন।
- ব্যাখ্যা চাইলে তবেই কারণ লেখো।
- কারণ জানা থাকলে অচেনা ভুলও ধরা যায়।
- ✗ মুমুর্ষু ✓ মুমূর্ষু — বানান-ভুল
- ✗ সকল ছাত্ররা ✓ সকল ছাত্র — বাক্যগঠনের ভুল
ভাববাচক শব্দে বাড়তি “তা”
সবচেয়ে বেশি হওয়া শব্দ-প্রয়োগ ভুলটি হলো ভাববাচক শব্দের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় তা যোগ করা। দৈন্য শব্দটি নিজেই ভাববাচক, তাই দৈন্যতা লিখলে দুবার ভাব বোঝানো হয় — এটি বাহুল্য দোষ।
একই ভুল হয় সৌজন্যতা, মাধুর্যতা, ঐক্যতা, দারিদ্রতা নিয়ে। শুদ্ধ রূপ যথাক্রমে সৌজন্য, মাধুর্য, ঐক্য, দারিদ্র্য। শব্দটির শেষে য বা ্য থাকলে সেটি সাধারণত আগেই ভাববাচক।
বাড়তি “তা”-র ভুল
| অশুদ্ধ | শুদ্ধ |
|---|---|
| দৈন্যতা | দৈন্য / দীনতা |
| সৌজন্যতা | সৌজন্য |
| মাধুর্যতা | মাধুর্য |
| ঐক্যতা | ঐক্য |
| দারিদ্রতা | দারিদ্র্য |
| সখ্যতা | সখ্য |
- ✗ সৌজন্যতা ✓ সৌজন্য
- ✗ দারিদ্রতা ✓ দারিদ্র্য
বহুল ভুল বানানের তালিকা
কিছু শব্দ বছরের পর বছর একই ভুল বানানে লেখা হয়, আর পরীক্ষায় ঠিক সেগুলোই আসে। তালিকাটি একবার মিলিয়ে নিলে শুদ্ধিকরণের প্রশ্নে বেশির ভাগ উত্তর মিলে যায়।
বহুল ভুল বানান
| অশুদ্ধ | শুদ্ধ |
|---|---|
| মুমুর্ষু | মুমূর্ষু |
| পিপিলিকা | পিপীলিকা |
| ভৌগলিক | ভৌগোলিক |
| স্বান্তনা | সান্ত্বনা |
| শিরোচ্ছেদ | শিরশ্ছেদ |
| অধীনস্ত | অধীনস্থ |
| ইতিপূর্বে | ইতঃপূর্বে |
| শ্রদ্ধাঞ্জলী | শ্রদ্ধাঞ্জলি |
| আকাংখা | আকাঙ্ক্ষা |
| উজ্জল | উজ্জ্বল |
| মনীষি | মনীষী |
- ✗ উজ্জল ✓ উজ্জ্বল — দুটি যুক্তবর্ণ
- ✗ আকাংখা ✓ আকাঙ্ক্ষা
বাক্যগঠনের ভুল
বাক্যগঠনের ভুলগুলো বানান-ভুলের চেয়ে সূক্ষ্ম, কারণ প্রতিটি শব্দ আলাদাভাবে শুদ্ধ থাকে — সমস্যা তাদের সাজানোয় বা সংগতিতে।
সবচেয়ে বেশি হয় দ্বিত্ব বহুবচনের ভুল: সকল ছাত্ররা, সব বইগুলো। সকল ও সব নিজেরাই বহুত্ব বোঝায়, তাই আবার রা বা গুলো বসানো অশুদ্ধ।
দ্বিতীয় ধরনটি কালের অসঙ্গতি — সে এল এবং বসে। একটি বাক্যে দুটি ক্রিয়ার কাল আলাদা হলে বাক্যটি খোঁড়া হয়ে যায়; শুদ্ধ রূপ সে এল এবং বসল।
| অশুদ্ধ | শুদ্ধ | ভুলের ধরন |
|---|---|---|
| সকল ছাত্ররা | সকল ছাত্র | দ্বিত্ব বহুবচন |
| সব বইগুলো | সব বই | দ্বিত্ব বহুবচন |
| সে এল এবং বসে | সে এল এবং বসল | কালের অসঙ্গতি |
| আপনি সপরিবারে আমন্ত্রিত | আপনি সপরিবার আমন্ত্রিত | বাহুল্য |
| একমাত্র অদ্বিতীয় পুত্র | একমাত্র পুত্র | বাহুল্য |
- ✗ সকল ছাত্ররা উপস্থিত ✓ সকল ছাত্র উপস্থিত
- ✗ সে এল এবং বসে ✓ সে এল এবং বসল
বাহুল্য দোষ
একই অর্থ দুবার প্রকাশ করাকে বলে বাহুল্য দোষ। একমাত্র অদ্বিতীয় পুত্র — একমাত্র ও অদ্বিতীয় একই কথা বলছে, তাই একটি বাদ দিতে হবে।
সপরিবারে শব্দটিতেই সহ অর্থ আছে, তাই সপরিবারে সহ বা সপরিবারে সবাইকে নিয়ে লেখা বাহুল্য। শুদ্ধ প্রয়োগ সপরিবার আমন্ত্রিত।
বাহুল্য ধরার সহজ উপায়: বাক্য থেকে একটি শব্দ তুলে দিয়ে দেখো অর্থ বদলায় কি না। না বদলালে শব্দটি অপ্রয়োজনীয় ছিল।
- একই অর্থ দুবার = বাহুল্য দোষ।
- শব্দ তুলে দিয়ে দেখো অর্থ বদলায় কি না।
- না বদলালে শব্দটি অপ্রয়োজনীয়।
- ✗ একমাত্র অদ্বিতীয় পুত্র ✓ একমাত্র পুত্র
- ✗ পরস্পর একে অন্যের সঙ্গে ✓ পরস্পরের সঙ্গে
পরীক্ষায় কী আসে
শুদ্ধিকরণের প্রশ্ন প্রায় প্রতি বছর আসে এবং নম্বরও ভালো। সাধারণত কয়েকটি অশুদ্ধ শব্দ বা বাক্য দিয়ে শুদ্ধ রূপ লিখতে বলা হয়।
উত্তরে কেবল শুদ্ধ রূপটি লিখলেই চলে, তবে ব্যাখ্যা চাইলে ভুলের ধরনটিও জানাতে হয় — বানান-ভুল, বাহুল্য, না দ্বিত্ব বহুবচন।
প্রস্তুতির সেরা উপায় ভুলের ধরন অনুযায়ী তালিকা করা। বাড়তি তা-র দল একসঙ্গে, বহুল ভুল বানান একসঙ্গে, বাক্যগঠনের ভুল একসঙ্গে — এভাবে সাজালে অচেনা প্রশ্নেও ধরনটি চেনা যায়।
- ভুলের ধরন অনুযায়ী তালিকা করো।
- ব্যাখ্যা চাইলে ভুলের ধরন জানাও।
- বাহুল্য ধরতে শব্দ তুলে দিয়ে দেখো।
- ✓ দৈন্যতা → দৈন্য (বাড়তি তা)
- ✓ সকল ছাত্ররা → সকল ছাত্র (দ্বিত্ব বহুবচন)
শব্দ প্রয়োগের সূক্ষ্ম ভুল
কিছু ভুল বানানেও নয়, বাক্যগঠনেও নয় — শব্দটির অর্থ না বুঝে ব্যবহার করায়। এই ধরনের ভুল সবচেয়ে কম ধরা পড়ে, অথচ লেখার মান সবচেয়ে বেশি নামায়।
উপরোক্ত শব্দটি বহুল ব্যবহৃত, অথচ অশুদ্ধ — শুদ্ধ রূপ উপর্যুক্ত। কারণ উপরি + উক্ত মিলে সন্ধিতে উপর্যুক্ত হয়, উপরোক্ত নয়। একইভাবে ইতিপূর্বে নয়, ইতঃপূর্বে।
আরেক ধরনের ভুল হলো একই অর্থের দুটি শব্দ পাশাপাশি বসানো — পরস্পর একে অন্যের সঙ্গে। পরস্পর শব্দেই পারস্পরিকতা আছে, তাই বাকিটা অপ্রয়োজনীয়।
| অশুদ্ধ | শুদ্ধ | কারণ |
|---|---|---|
| উপরোক্ত | উপর্যুক্ত | সন্ধির নিয়ম |
| ইতিপূর্বে | ইতঃপূর্বে | বিসর্গ লোপ পায় না |
| অধীনস্ত | অধীনস্থ | স্থ প্রত্যয় |
| পরস্পর একে অন্যের | পরস্পরের | বাহুল্য |
| সমসাময়িক কালে | সমকালে | বাহুল্য |
- ✗ উপরোক্ত বিষয়ে ✓ উপর্যুক্ত বিষয়ে
- ✗ ইতিপূর্বে জানানো হয়েছে ✓ ইতঃপূর্বে জানানো হয়েছে
বিস্তারিত আলোচনা
বাংলা বাক্যে অশুদ্ধি প্রধানত কয়েকটি নির্দিষ্ট জায়গায় ঘটে। বচনের অতিরিক্ত ব্যবহার একটি — "সব ছাত্ররা এসেছে" অশুদ্ধ, শুদ্ধ রূপ "সব ছাত্র এসেছে", কারণ "সব" থাকলে আর বহুবচন চিহ্ন লাগে না। একইভাবে "অনেক শিক্ষকগণ" অশুদ্ধ, শুদ্ধ "অনেক শিক্ষক"।
দ্বিতীয় সাধারণ ভুল সমার্থক শব্দের পুনরাবৃত্তি — "একমাত্র অদ্বিতীয় পুত্র" অশুদ্ধ, কারণ একমাত্র ও অদ্বিতীয় একই কথা বলছে। তৃতীয়ত সাধু ও চলিত রীতির মিশ্রণ, যাকে বলে গুরুচণ্ডালী দোষ — "মড়াটি শ্মশানে গমন করিল" এমন বাক্যে চলিত ও সাধু পাশাপাশি বসে বাক্যটিকে অশুদ্ধ করেছে।
চতুর্থত কর্তা ও ক্রিয়ার অসামঞ্জস্য — "আমি যায়" অশুদ্ধ, শুদ্ধ "আমি যাই"। পঞ্চমত অপ্রয়োজনীয় বিভক্তি বা ভুল বিভক্তি — "তাহাকে বলো যে সে যেন আসে" জাতীয় বাক্যে জটিলতা বাড়ে। শুদ্ধিকরণের সময় আগে ভুলের ধরনটি চিহ্নিত করা, তারপর নিয়ম অনুযায়ী সংশোধন করা — এই ক্রমেই কাজ করলে ভুল কম হয়।
মনে রাখার কথা
আগে ভুলের ধরনটি চিহ্নিত করো, তারপর নিয়ম প্রয়োগ করো — অনুমানে শুদ্ধ করতে গেলে নতুন ভুল ঢোকে।
সাধারণ ভুল
পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।
- ✗ দৈন্যতা, সৌজন্যতা, মাধুর্যতা ✓ দৈন্য, সৌজন্য, মাধুর্য — বাড়তি “তা” নয়।
- ✗ উজ্জল ✓ উজ্জ্বল
- ✗ সকল ছাত্ররা ✓ সকল ছাত্র — দ্বিত্ব বহুবচন ভুল।
- ✗ একমাত্র অদ্বিতীয় পুত্র ✓ একমাত্র পুত্র — বাহুল্য দোষ।
অনুশীলন
নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।
- বাংলা লেখায় ভুল কোন তিন জায়গায় হয়?
- শুদ্ধ করো: দৈন্যতা, সৌজন্যতা, ঐক্যতা।
- শুদ্ধ করো: মুমুর্ষু, পিপিলিকা, ভৌগলিক।
- বাহুল্য দোষ কাকে বলে?
- বাহুল্য ধরার সহজ উপায় কী?
- শুদ্ধ করো: সে এল এবং বসে।
- শুদ্ধ করো: আপনি সপরিবারে আমন্ত্রিত।
- শুদ্ধ করো: উপরোক্ত, ইতিপূর্বে, অধীনস্ত।
- শব্দ প্রয়োগের ভুল সবচেয়ে কম ধরা পড়ে কেন?
- শুদ্ধিকরণের প্রশ্নে উত্তরে কী লিখতে হয়?
- শুদ্ধ করো: আকাংখা, উজ্জল, শ্রদ্ধাঞ্জলী।
- শুদ্ধিকরণের প্রস্তুতি কীভাবে নেবে?
উত্তর
- বানানে, শব্দ প্রয়োগে এবং বাক্যগঠনে।
- দৈন্য, সৌজন্য ও ঐক্য — শব্দগুলো নিজেরাই ভাববাচক, তাই বাড়তি “তা” বাহুল্য।
- মুমূর্ষু, পিপীলিকা ও ভৌগোলিক।
- একই অর্থ দুবার প্রকাশ করাকে বাহুল্য দোষ বলে — যেমন “একমাত্র অদ্বিতীয় পুত্র”।
- বাক্য থেকে একটি শব্দ তুলে দিয়ে দেখা অর্থ বদলায় কি না। না বদলালে শব্দটি অপ্রয়োজনীয় ছিল।
- সে এল এবং বসল — একটি বাক্যে দুটি ক্রিয়ার কাল এক হতে হবে।
- আপনি সপরিবার আমন্ত্রিত — “সপরিবার” শব্দেই সহ অর্থ আছে।
- উপর্যুক্ত, ইতঃপূর্বে ও অধীনস্থ। প্রথমটি সন্ধির নিয়মে, দ্বিতীয়টিতে বিসর্গ লোপ পায় না, তৃতীয়টিতে “স্থ” প্রত্যয়।
- কারণ প্রতিটি শব্দ আলাদাভাবে শুদ্ধ থাকে — সমস্যা শব্দটির অর্থ না বুঝে ব্যবহার করায়। “উপরোক্ত” শুনতে স্বাভাবিক লাগে, অথচ শুদ্ধ রূপ “উপর্যুক্ত”।
- সাধারণত কেবল শুদ্ধ রূপটি। ব্যাখ্যা চাইলে তবেই ভুলের ধরনটি জানাতে হয় — বানান-ভুল, বাহুল্য, না দ্বিত্ব বহুবচন।
- আকাঙ্ক্ষা, উজ্জ্বল ও শ্রদ্ধাঞ্জলি — তিনটিই বহুল ভুল হওয়া বানান।
- ভুলের ধরন অনুযায়ী তালিকা করে। বাড়তি “তা”-র দল একসঙ্গে রাখো, বহুল ভুল বানান একসঙ্গে, আর বাক্যগঠনের ভুল একসঙ্গে। এভাবে সাজালে পরীক্ষায় অচেনা শব্দ এলেও ভুলের ধরনটি চিনে ফেলা যায়, আর ধরন চিনলে শুদ্ধ রূপও প্রায়ই বেরিয়ে আসে।
উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
একই বাক্যে সাধু ও চলিত রীতি মিশিয়ে লিখলে যে দোষ হয়, তাকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলে — যেমন "মড়াটি শ্মশানে গমন করিল"।
কারণ "সব" শব্দেই বহুত্ব বোঝাচ্ছে, তাই আবার "রা" বহুবচন চিহ্ন বসানো বাহুল্য। শুদ্ধ রূপ হলো "সব ছাত্র এসেছে"।
প্রথমে ভুলের ধরন চিহ্নিত করতে হয় — বচন, বাহুল্য, গুরুচণ্ডালী, কর্তা-ক্রিয়ার অসামঞ্জস্য না বিভক্তি — তারপর নিয়ম অনুযায়ী সংশোধন করতে হয়।
কারণ শব্দটি আগেই ভাববাচক। “দৈন্য” মানেই দীনতার ভাব, তাই “দৈন্যতা” লিখলে একই অর্থ দুবার বলা হয় — এটি বাহুল্য দোষ। একই কারণে সৌজন্যতা, মাধুর্যতা ও ঐক্যতা অশুদ্ধ।
আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো
বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















