মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

অপপ্রয়োগ কাকে বলে, প্রচলিত অপপ্রয়োগের উদাহরণ এবং তা এড়ানোর ব্যবহারিক উপায়।

প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ — শব্দের যথাযথ ব্যবহার

অপপ্রয়োগ কাকে বলে, প্রচলিত অপপ্রয়োগের উদাহরণ এবং তা এড়ানোর ব্যবহারিক উপায়।

সংজ্ঞা

শব্দের নিয়মসিদ্ধ ও যথাযথ ব্যবহারকে প্রয়োগ বলে, আর নিয়মবিরুদ্ধ কিংবা অর্থের হানি ঘটায় এমন ব্যবহারকে অপপ্রয়োগ বলা হয়।

প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ কী

ভাষার শুদ্ধ ও স্বীকৃত ব্যবহারকে বলে প্রয়োগ, আর ব্যাকরণ বা রীতিবিরুদ্ধ ভুল ব্যবহারকে বলে অপপ্রয়োগ। একই শব্দ এক বাক্যে শুদ্ধ, অন্য বাক্যে অশুদ্ধ হতে পারে — প্রয়োগই সেটি ঠিক করে।

অপপ্রয়োগ নানা কারণে ঘটে — বাহুল্য, গুরুচণ্ডালী, ভুল লিঙ্গ বা বচন, ভুল বিভক্তি, দ্বিরুক্তি, অর্থের অস্পষ্টতা। প্রতিটির চেনা ধরন আছে, আর ধরন চিনলে সংশোধন দ্রুত হয়।

পরীক্ষায় সাধারণত একটি বাক্য দিয়ে বলা হয় “শুদ্ধ করো”। ভুলটি কোন শ্রেণির তা ধরতে পারলে উত্তর লিখতে সময় লাগে না।

  • শুদ্ধ ব্যবহার = প্রয়োগ, ভুল ব্যবহার = অপপ্রয়োগ
  • প্রধান কারণ — বাহুল্য, গুরুচণ্ডালী, বিভক্তি, বচন
  • প্রশ্ন আসে “শুদ্ধ করো” আকারে।
  • অন্যান্য ছাত্ররা এসেছে। অন্যান্য ছাত্র এসেছে।অন্যান্য-তেই বহুবচন

বাহুল্য দোষ

একই অর্থের দুটি শব্দ পাশাপাশি বসলে বাহুল্য দোষ হয়। অন্যান্য শব্দেই বহুবচন আছে, তাই তার পরে আবার -রা বসানো বাড়তি। একইভাবে সকল ছাত্রবৃন্দ-এ সকল-বৃন্দ দুটিই বহুবচন বোঝায়।

বাংলায় বহুবচনের চিহ্ন একবারই বসে। সব ছাত্ররা, অনেক লোকজন, সমস্ত জিনিসপত্র — তিনটিই এই দোষে দুষ্ট।

বাহুল্য দোষ ও সংশোধন

অশুদ্ধশুদ্ধকারণ
অন্যান্য ছাত্ররাঅন্যান্য ছাত্রদুইবার বহুবচন
সকল ছাত্রবৃন্দছাত্রবৃন্দ / সকল ছাত্রদুইবার বহুবচন
সব সভ্যগণসভ্যগণদুইবার বহুবচন
একমাত্র অদ্বিতীয়অদ্বিতীয়একই অর্থ দুইবার
প্রকৃত সত্যসত্যএকই অর্থ দুইবার
  • সব ছাত্ররা উপস্থিত। সব ছাত্র উপস্থিত।
  • একমাত্র অদ্বিতীয় নেতা। অদ্বিতীয় নেতা।

গুরুচণ্ডালী দোষ

একই বাক্যে সাধু ও চলিত রীতি মিশে গেলে গুরুচণ্ডালী দোষ হয়। তাহার মৃত্যুতে সবাই দুঃখ পেলতাহার সাধু, পেল চলিত।

তৎসম ও দেশি শব্দের অসংগত মিশ্রণকেও গুরুচণ্ডালী বলা হয় — মড়ার শবদাহ, গরুর গোয়ালঘর। এখানে দুই স্তরের শব্দ পাশাপাশি বসে বেমানান হয়েছে।

সংশোধনের নিয়ম সহজ: পুরো বাক্য এক রীতিতে নিয়ে আসা। সাধু হলে সব সাধু, চলিত হলে সব চলিত।

  • তাহার মৃত্যুতে সবাই দুঃখ পেল। তার মৃত্যুতে সবাই দুঃখ পেল।
  • মড়ার শবদাহ হইল। শবদাহ হলো।
  • সে বাড়ি যাইয়া ভাত খেল। সে বাড়ি গিয়ে ভাত খেল।

বচন, লিঙ্গ ও বিভক্তির অপপ্রয়োগ

প্রাণিবাচক শব্দে -রা, -গণ, -বৃন্দ বসে; অপ্রাণিবাচকে বসে -গুলো, -গুলিবইরা ভুল, বইগুলো শুদ্ধ — এটি বচনের সবচেয়ে সাধারণ অপপ্রয়োগ।

লিঙ্গের ক্ষেত্রে প্রয়োজন ছাড়া স্ত্রীবাচক রূপ চাপানো অপপ্রয়োগ। বাংলায় পদ বা পেশার নামে স্ত্রীবাচক রূপ আজ আর আবশ্যক নয় — তিনি একজন দক্ষ শিক্ষক লেখাই স্বাভাবিক।

বিভক্তির ভুলও ঘন ঘন হয়। আমি তাকে বই দিলাম শুদ্ধ, আমি তার বই দিলাম অর্থ বদলে দেয় — সম্প্রদান আর সম্বন্ধ এক নয়।

অশুদ্ধশুদ্ধকারণ
বইরাবইগুলোঅপ্রাণিবাচকে -রা বসে না
ছাত্রগুলো এসেছেছাত্ররা এসেছেপ্রাণিবাচকে -রা
সে বই পড়িতেছেসে বই পড়ছেরীতির মিশ্রণ
তাহাকে বলিলামতাকে বললামরীতির মিশ্রণ
  • বইরা টেবিলে আছে। বইগুলো টেবিলে আছে।
  • ছাত্রগুলো দাঁড়িয়ে আছে। ছাত্ররা দাঁড়িয়ে আছে।

বহুল প্রচলিত অশুদ্ধ বাক্য

পরীক্ষায় যে বাক্যগুলো ঘুরেফিরে আসে সেগুলোর একটি তালিকা মিলিয়ে রাখলে “শুদ্ধ করো” প্রশ্নে সময় বাঁচে। নিচের ছয়টি প্রায় প্রতি বছরই কোনো না কোনো বোর্ডে আসে।

অশুদ্ধ ও শুদ্ধ বাক্য

অশুদ্ধশুদ্ধ
আমার কথা প্রমাণ হয়েছে।আমার কথা প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি স্বস্ত্রীক এসেছেন।তিনি সস্ত্রীক এসেছেন।
দৈন্যতা মানুষকে ছোট করে।দৈন্য মানুষকে ছোট করে।
সে আরোগ্য হয়েছে।সে আরোগ্য লাভ করেছে।
অত্র বিদ্যালয়েএই বিদ্যালয়ে
বিদ্যান ব্যক্তিবিদ্বান ব্যক্তি
  • দৈন্যতা দৈন্য-তা প্রত্যয় বাড়তি
  • স্বস্ত্রীক সস্ত্রীক

পরীক্ষায় কী আসে

প্রশ্ন আসে দুই ভাবে — একগুচ্ছ বাক্য শুদ্ধ করতে বলা, অথবা একটি বাক্যের দোষের নাম জানতে চাওয়া। দ্বিতীয়টিতে বাহুল্য দোষ, গুরুচণ্ডালী দোষ — নামটিই উত্তর।

সবচেয়ে বেশি আসে গুরুচণ্ডালী। বাক্যে তাহার, হইল, করিয়া জাতীয় সাধু রূপের পাশে হলো, করে জাতীয় চলিত রূপ থাকলেই দোষটি ধরা পড়ে।

উত্তর লেখার সময় শুধু শুদ্ধ বাক্যটি লিখলেই যথেষ্ট, তবে দোষের নাম চাইলে এক কথায় সেটিও উল্লেখ করতে হয়।

  • দুই রীতি মিশলেই গুরুচণ্ডালী
  • দুইবার বহুবচন হলেই বাহুল্য
  • দোষের নাম চাইলে এক কথায় লেখো।
  • অন্যান্য সকল ছাত্ররা অন্যান্য ছাত্র

দ্বিরুক্তি ও অস্পষ্টতার দোষ

একই ভাব দুইবার বললে দ্বিরুক্তি দোষ হয়। পুনরায় আবার বললাম বাক্যে পুনরায়আবার একই অর্থ বহন করছে, তাই একটি বাদ দিতে হবে।

বাক্যে পদের অবস্থান ভুল হলে অর্থ অস্পষ্ট হয়ে যায়। কেবল সে আমাকে বইটি দিয়েছে আর সে কেবল আমাকে বইটি দিয়েছে — দুই বাক্যের অর্থ এক নয়, কারণ কেবল কোথায় বসেছে তার ওপর অর্থ নির্ভর করছে।

অশুদ্ধশুদ্ধ
পুনরায় আবার বললাম।আবার বললাম।
সে ফিরে প্রত্যাবর্তন করল।সে প্রত্যাবর্তন করল।
অধিক বেশি ক্ষতি হয়েছে।অধিক ক্ষতি হয়েছে।
  • সে ফিরে প্রত্যাবর্তন করল। সে ফিরে এল।প্রত্যাবর্তন মানেই ফিরে আসা

বিস্তারিত আলোচনা

অপপ্রয়োগ শুদ্ধ-অশুদ্ধের চেয়ে সূক্ষ্ম বিষয়। এখানে বাক্যটি ব্যাকরণসম্মত হতে পারে, তবু শব্দটি ভুল জায়গায় বসেছে বলে অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। "সে সাক্ষাৎ প্রমাণ দিয়েছে" বাক্যে "সাক্ষাৎ" শব্দটি অপপ্রয়োগ, কারণ এখানে দরকার ছিল "প্রত্যক্ষ"। শব্দের অর্থ ঠিকমতো না জেনে ব্যবহার করলেই এই ভুল হয়।

কয়েকটি অপপ্রয়োগ বাংলায় এতটাই প্রচলিত যে সেগুলো ভুল বলে আর মনেই হয় না। "আপনি সপরিবারে আমন্ত্রিত" শুদ্ধ, কিন্তু "আপনি সপরিবারসহ আমন্ত্রিত" অপপ্রয়োগ, কারণ "স" উপসর্গেই সঙ্গের ভাব আছে, আবার "সহ" জুড়লে পুনরুক্তি হয়। তেমনি "একমাত্র" ও "অদ্বিতীয়" একসঙ্গে বসানো বাহুল্য।

অপপ্রয়োগ এড়ানোর একটিই উপায় — শব্দের প্রকৃত অর্থ ও গঠন জানা। উপসর্গটি কী বোঝাচ্ছে, শব্দটি তৎসম না দেশি, তার প্রচলিত সহযোগী শব্দ কোনটি — এসব জানা থাকলে ভুল ব্যবহারে হাত আটকে যায়। অভিধান দেখার অভ্যাস এই জায়গাটিতে সবচেয়ে কাজে লাগে। সন্দেহ হলে শব্দটি বাদ দিয়ে সহজ একটি প্রতিশব্দ বসানোও নিরাপদ কৌশল, কারণ ভুল জায়গায় বসানো ভারী শব্দের চেয়ে ঠিক জায়গায় বসানো সাধারণ শব্দ অনেক বেশি কার্যকর।

মনে রাখার কথা

ব্যাকরণসম্মত বাক্যও অপপ্রয়োগে ভুগতে পারে — শব্দের প্রকৃত অর্থ জানা ছাড়া উপায় নেই।

সাধারণ ভুল

পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।

  • অন্যান্য ছাত্ররা এসেছে। অন্যান্য ছাত্র এসেছে — বহুবচন একবারই বসে।
  • তাহার মৃত্যুতে সবাই কাঁদল। তার মৃত্যুতে সবাই কাঁদল — গুরুচণ্ডালী।
  • বইরা টেবিলে আছে। বইগুলো টেবিলে আছে — অপ্রাণিবাচকে -রা বসে না।
  • দৈন্যতা মানুষকে ছোট করে। দৈন্য মানুষকে ছোট করে।

অনুশীলন

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।

  1. অপপ্রয়োগ কাকে বলে?
  2. গুরুচণ্ডালী দোষ কী?
  3. শুদ্ধ করো: সকল ছাত্রবৃন্দ উপস্থিত।
  4. শুদ্ধ করো: বইরা টেবিলে আছে।
  5. শুদ্ধ করো: দৈন্যতা মানুষকে ছোট করে।
  6. শুদ্ধ করো: তিনি স্বস্ত্রীক এসেছেন।
  7. বাহুল্য দোষের দুটি উদাহরণ দাও।
  8. শুদ্ধ করো: সে বাড়ি যাইয়া ভাত খেল।
  9. শুদ্ধ করো: আমার কথা প্রমাণ হয়েছে।
  10. শুদ্ধ করো: অত্র বিদ্যালয়ে বিদ্যান ব্যক্তি আছেন।
  11. অপপ্রয়োগ এড়ানোর সহজ উপায় কী?

উত্তর

  1. ব্যাকরণ বা ভাষারীতির বিরুদ্ধে শব্দ ও বাক্যের ভুল ব্যবহারকে অপপ্রয়োগ বলে — যেমন বাহুল্য, গুরুচণ্ডালী, ভুল বচন বা ভুল বিভক্তি।
  2. একই বাক্যে সাধু ও চলিত রীতি মিশে গেলে, অথবা তৎসম ও দেশি শব্দের অসংগত মিশ্রণ ঘটলে গুরুচণ্ডালী দোষ হয় — “তাহার মৃত্যুতে সবাই দুঃখ পেল”।
  3. ছাত্রবৃন্দ উপস্থিত — অথবা সকল ছাত্র উপস্থিত। “সকল” ও “-বৃন্দ” দুটিই বহুবচন, তাই একটিই থাকবে।
  4. বইগুলো টেবিলে আছে। অপ্রাণিবাচক শব্দে -রা বসে না, বসে -গুলো বা -গুলি।
  5. দৈন্য মানুষকে ছোট করে। “দৈন্য” শব্দেই ভাববাচক অর্থ আছে, তাই -তা প্রত্যয় বাড়তি।
  6. তিনি সস্ত্রীক এসেছেন।
  7. “একমাত্র অদ্বিতীয়” ও “প্রকৃত সত্য” — দুই ক্ষেত্রেই একই অর্থের শব্দ দুইবার বসেছে।
  8. সে বাড়ি গিয়ে ভাত খেল। “যাইয়া” সাধু রূপ আর “খেল” চলিত রূপ — দুই রীতি মিশে গুরুচণ্ডালী দোষ হয়েছে।
  9. আমার কথা প্রমাণিত হয়েছে। “প্রমাণ” বিশেষ্য, তাই এখানে বিশেষণরূপ “প্রমাণিত” বসবে।
  10. এই বিদ্যালয়ে বিদ্বান ব্যক্তি আছেন। “অত্র” অফিসি ভাষার বাড়তি শব্দ, আর শুদ্ধ বানান “বিদ্বান”।
  11. বাক্যটি লিখে একবার পড়ে দেখা। বহুবচনের চিহ্ন দুইবার বসেছে কি না, সাধু ও চলিত রূপ মিশে গেছে কি না, আর একই অর্থের শব্দ দুইবার এসেছে কি না — এই তিনটি প্রশ্ন করলেই বেশির ভাগ অপপ্রয়োগ ধরা পড়ে।

উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো

বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকো

পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।