মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

অনুবাদের সংজ্ঞা ও দুই প্রকার, ইংরেজি-বাংলা কাঠামোগত পার্থক্য এবং ভালো অনুবাদের শর্ত।

অনুবাদ — আক্ষরিক ও ভাবানুবাদের নিয়ম

অনুবাদের সংজ্ঞা ও দুই প্রকার, ইংরেজি-বাংলা কাঠামোগত পার্থক্য এবং ভালো অনুবাদের শর্ত।

সংজ্ঞা

এক ভাষার বক্তব্যকে অর্থ ও ভাব অক্ষুণ্ন রেখে অন্য ভাষায় প্রকাশ করাকে অনুবাদ বলে। অনুবাদ প্রধানত দুই প্রকার।

অনুবাদ কী

এক ভাষার বক্তব্য অন্য ভাষায় প্রকাশ করাকে অনুবাদ বলে। পরীক্ষায় সাধারণত ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করতে দেওয়া হয়।

ভালো অনুবাদের প্রথম শর্ত ভাব ঠিক রাখা, শব্দ নয়। শব্দে শব্দে মিলিয়ে অনুবাদ করলে বাক্য অস্বাভাবিক হয়ে যায় — He is a man of letters মানে “তিনি চিঠির লোক” নয়, “তিনি একজন পণ্ডিত ব্যক্তি”।

দ্বিতীয় শর্ত ভাষার স্বাভাবিকতা। অনুবাদ পড়ে যেন মনে না হয় এটি অনুবাদ — বাক্য বাংলা বাক্যের মতোই চলবে।

  • ভাব রক্ষা করো, শব্দ নয়
  • বাক্য যেন বাংলা বাক্যের মতো চলে।
  • বাগধারা আক্ষরিক অনুবাদ কোরো না।
  • He is a man of letters — তিনি চিঠির লোক। তিনি একজন পণ্ডিত ব্যক্তি।

অনুবাদের প্রকারভেদ

অনুবাদ প্রধানত দুই রকম — আক্ষরিক ও ভাবানুবাদ। আক্ষরিক অনুবাদে মূলের শব্দক্রম যতটা সম্ভব রাখা হয়; ভাবানুবাদে মূলের ভাব রেখে ভাষা স্বাধীনভাবে গড়া হয়।

বিজ্ঞান, আইন বা চুক্তির ভাষায় আক্ষরিক অনুবাদ দরকার, কারণ সেখানে প্রতিটি শব্দ গুরুত্বপূর্ণ। সাহিত্য ও সাধারণ গদ্যে ভাবানুবাদই কাম্য।

আক্ষরিক ও ভাবানুবাদ

দিকআক্ষরিক অনুবাদভাবানুবাদ
লক্ষ্যশব্দ ও ক্রম রক্ষাভাব রক্ষা
ভাষাকিছুটা কৃত্রিমস্বাভাবিক
উপযোগীবিজ্ঞান, আইনসাহিত্য, গদ্য
ঝুঁকিঅর্থ বিকৃতিমূল থেকে দূরে সরা
  • It is raining cats and dogs — মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে (ভাবানুবাদ)
  • It is raining cats and dogs — বিড়াল-কুকুর বৃষ্টি হচ্ছে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে

অনুবাদের ধাপ

প্রথমে পুরো অনুচ্ছেদটি দুইবার পড়ে ভাব বুঝে নিতে হয়। এক বাক্য পড়ে অনুবাদ শুরু করলে পরের বাক্যের সঙ্গে সংগতি নষ্ট হয়।

তারপর কঠিন শব্দ ও বাগধারা আলাদা করে তাদের বাংলা প্রতিশব্দ ঠিক করতে হয়। এরপর বাক্যে বাক্যে অনুবাদ, শেষে পুরোটা পড়ে ভাষা মসৃণ করা।

শেষ ধাপটি বাদ দিলে অনুবাদ খসড়াই থেকে যায়। মনে মনে একবার পড়লে অস্বাভাবিক বাক্য নিজেই ধরা পড়ে।

  • পুরোটা দুইবার পড়ো
  • কঠিন শব্দ ও বাগধারার প্রতিশব্দ আগে ঠিক করো
  • শেষে পড়ে দেখে ভাষা মসৃণ করো।
  • অনুবাদ শেষে পড়ে দেখো — অস্বাভাবিক বাক্য ধরা পড়বে

বাক্যগঠনের পার্থক্য

ইংরেজি বাক্যের ক্রম কর্তা–ক্রিয়া–কর্ম, বাংলায় কর্তা–কর্ম–ক্রিয়া। তাই ক্রিয়াপদ বাক্যের শেষে নিতে হয় — I read a book হয় “আমি একটি বই পড়ি”।

ইংরেজির passive voice বাংলায় প্রায়ই কর্তৃবাচ্যে ভালো শোনায়। The work was done by him এর স্বাভাবিক বাংলা “সে কাজটি করেছিল”, “কাজটি তার দ্বারা করা হয়েছিল” নয়।

ইংরেজির article (a, an, the) বাংলায় সব সময় অনুবাদ হয় না। The sun rises in the east হয় “সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে” — the-এর জন্য আলাদা শব্দ লাগে না।

ইংরেজিআক্ষরিক (অস্বাভাবিক)স্বাভাবিক বাংলা
I read a book.আমি পড়ি একটি বই।আমি একটি বই পড়ি।
The work was done by him.কাজটি তার দ্বারা করা হয়েছিল।সে কাজটি করেছিল।
The sun rises in the east.সূর্য ওঠে পূর্বে।সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।
He is fond of music.সে সংগীতের অনুরাগী হয়।সে সংগীত ভালোবাসে।
  • আমি পড়ি একটি বই। আমি একটি বই পড়ি।ক্রিয়া বাক্যের শেষে

বাগধারা ও প্রবাদের অনুবাদ

বাগধারার আক্ষরিক অনুবাদ প্রায় সব সময়ই ভুল হয়, কারণ বাগধারার অর্থ শব্দগুলোর যোগফল নয়। এমন ক্ষেত্রে বাংলায় সমার্থক বাগধারা খুঁজে নিতে হয়।

সমার্থক বাগধারা না পেলে অর্থটি সরল ভাষায় লিখে দেওয়াই নিরাপদ। ভুল বাগধারা বসানোর চেয়ে সরল ব্যাখ্যা ভালো।

ইংরেজি বাগধারার বাংলা রূপ

ইংরেজিবাংলা
Kill two birds with one stoneএক ঢিলে দুই পাখি
A drop in the oceanসিন্ধুতে বিন্দু
Tit for tatযেমন কর্ম তেমন ফল
To add fuel to the fireআগুনে ঘি ঢালা
Out of sight, out of mindচোখের আড়াল, মনের আড়াল
  • A drop in the ocean — সাগরে এক ফোঁটা জল সিন্ধুতে বিন্দু

পরীক্ষায় কী আসে

পরীক্ষায় সাধারণত পাঁচ থেকে আট বাক্যের একটি ইংরেজি অনুচ্ছেদ দেওয়া হয় এবং বাংলায় অনুবাদ করতে বলা হয়। নম্বর থাকে ভাব রক্ষা, ভাষার স্বাভাবিকতা ও বানানের ওপর।

সময় বাঁচাতে খসড়া না করে সরাসরি লেখা ভালো, তবে লেখার আগে পুরো অনুচ্ছেদটি অবশ্যই পড়ে নিতে হয়। একটি বাক্য বাদ দিলে নম্বর কাটা যায়, তাই কোনো বাক্য এড়ানো চলবে না।

কঠিন শব্দের অর্থ না জানলেও অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ থেকে আন্দাজ করে কাছাকাছি অর্থ লেখা উচিত — ফাঁকা রাখলে নম্বর নিশ্চিত কাটা যায়।

  • পুরো অনুচ্ছেদ পড়ে তবেই লেখা শুরু করো।
  • কোনো বাক্য বাদ দিয়ো না।
  • কঠিন শব্দে প্রসঙ্গ থেকে আন্দাজ করো, ফাঁকা রেখো না।
  • কঠিন বাক্যটি বাদ দিয়ে বাকিটা লেখা প্রসঙ্গ বুঝে কাছাকাছি অর্থ লেখা

বিস্তারিত আলোচনা

আক্ষরিক অনুবাদে মূল ভাষার প্রতিটি শব্দ ধরে ধরে অনুবাদ করা হয়। এতে মূলের সঙ্গে মিল বেশি থাকে, কিন্তু অনেক সময় বাক্যটি অস্বাভাবিক শোনায়, কারণ দুই ভাষার বাক্যগঠন এক নয়। ভাবানুবাদে মূল বক্তব্যের ভাবটি ধরে লক্ষ্য ভাষার স্বাভাবিক গঠনে প্রকাশ করা হয়; পরীক্ষায় সাধারণত এই ধরনটিই প্রত্যাশিত।

ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদের সময় কয়েকটি কাঠামোগত পার্থক্য মাথায় রাখতে হয়। ইংরেজি বাক্য চলে কর্তা-ক্রিয়া-কর্ম ক্রমে, বাংলা চলে কর্তা-কর্ম-ক্রিয়া ক্রমে। ইংরেজির preposition বসে শব্দের আগে, বাংলার অনুসর্গ বসে পদের পরে। ইংরেজিতে article আছে, বাংলায় নেই — বদলে আছে পদাশ্রিত নির্দেশক টি, টা, খানা।

ভালো অনুবাদের কয়েকটি শর্ত আছে। মূল ভাব কোনোভাবেই বদলানো যাবে না; বাক্য বাংলায় স্বাভাবিক শোনাতে হবে; পরিভাষা ব্যবহারে সামঞ্জস্য রাখতে হবে; আর একটি লেখায় সাধু ও চলিত মেশানো চলবে না। অনুবাদ শেষ করে মূল লেখাটি একবার পাশে রেখে পড়ে নিলে বাদ পড়া বা বেশি যোগ হওয়া অংশ ধরা পড়ে।

মনে রাখার কথা

অনুবাদ শেষে মূল লেখাটি পাশে রেখে একবার পড়ে নাও — বাদ পড়া বা বাড়তি অংশ তখনই ধরা পড়ে।

সাধারণ ভুল

পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।

  • শব্দে শব্দে মিলিয়ে অনুবাদ। ভাব বুঝে স্বাভাবিক বাংলায় অনুবাদ।
  • আমি পড়ি একটি বই। আমি একটি বই পড়ি — বাংলায় ক্রিয়া শেষে বসে।
  • It is raining cats and dogs — বিড়াল-কুকুর বৃষ্টি। মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে।
  • কঠিন বাক্য বাদ দিয়ে যাওয়া। প্রসঙ্গ ধরে কাছাকাছি অর্থ লিখে দেওয়া।

অনুশীলন

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।

  1. অনুবাদ কাকে বলে?
  2. আক্ষরিক অনুবাদ ও ভাবানুবাদের পার্থক্য কী?
  3. অনুবাদ করো: The sun rises in the east.
  4. অনুবাদ করো: The work was done by him.
  5. বাংলা ও ইংরেজি বাক্যক্রমের পার্থক্য কী?
  6. অনুবাদ করো: Kill two birds with one stone.
  7. অনুবাদের ধাপগুলো কী কী?
  8. অনুবাদ করো: A drop in the ocean.
  9. অনুবাদে সবচেয়ে বড় ভুল কোনটি?
  10. অনুবাদে ইংরেজি article কীভাবে সামলাব?

উত্তর

  1. এক ভাষার বক্তব্য অর্থ ও ভাব ঠিক রেখে অন্য ভাষায় প্রকাশ করাকে অনুবাদ বলে।
  2. আক্ষরিক অনুবাদে মূলের শব্দ ও শব্দক্রম যতটা সম্ভব রাখা হয়, ভাবানুবাদে মূলের ভাব রেখে ভাষা স্বাধীনভাবে গড়া হয়। বিজ্ঞান ও আইনে প্রথমটি, সাহিত্যে দ্বিতীয়টি উপযোগী।
  3. সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।
  4. সে কাজটি করেছিল। ইংরেজির passive বাংলায় প্রায়ই কর্তৃবাচ্যে স্বাভাবিক শোনায়।
  5. ইংরেজিতে ক্রম কর্তা–ক্রিয়া–কর্ম, বাংলায় কর্তা–কর্ম–ক্রিয়া। তাই অনুবাদে ক্রিয়াপদ বাক্যের শেষে নিতে হয়।
  6. এক ঢিলে দুই পাখি।
  7. পুরো অনুচ্ছেদ দুইবার পড়া, কঠিন শব্দ ও বাগধারার প্রতিশব্দ ঠিক করা, বাক্যে বাক্যে অনুবাদ করা এবং শেষে পুরোটা পড়ে ভাষা মসৃণ করা।
  8. সিন্ধুতে বিন্দু। আক্ষরিক অনুবাদ “সাগরে এক ফোঁটা জল” লিখলে বাগধারার ভাবটি হারিয়ে যায়।
  9. শব্দে শব্দে মিলিয়ে অনুবাদ করা। এতে বাক্য অস্বাভাবিক হয়ে যায় এবং অনেক সময় অর্থও বদলে যায় — যেমন “He is a man of letters” হয়ে দাঁড়ায় “তিনি চিঠির লোক”।
  10. ইংরেজির a, an, the বাংলায় সব সময় অনুবাদ হয় না। “The sun rises in the east” হয় “সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে” — the-এর জন্য আলাদা কোনো শব্দ বসাতে হয় না। প্রয়োজন হলে “একটি” বা “-টি”, “-টা” নির্দেশক দিয়ে ভাবটি বোঝানো যায়।

উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো

বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকো

পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।