মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

বাগধারার সংজ্ঞা, উৎস ও প্রয়োগের নিয়ম এবং প্রবাদের সঙ্গে পার্থক্য উদাহরণসহ।

বাগধারা কাকে বলে — অর্থ, উৎস ও প্রয়োগ

বাগধারার সংজ্ঞা, উৎস ও প্রয়োগের নিয়ম এবং প্রবাদের সঙ্গে পার্থক্য উদাহরণসহ।

সংজ্ঞা

যে শব্দগুচ্ছ তার আক্ষরিক অর্থ ছেড়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বাগধারা বলে।

আভিধানিক অর্থ ছেড়ে বিশেষ অর্থে

কোনো শব্দ বা শব্দগুচ্ছ যখন তার আভিধানিক অর্থ ছেড়ে একটি বিশেষ ও ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে বাগধারা বলে। ঘোড়ার ডিম বললে ঘোড়া বা ডিম কোনোটিই বোঝায় না — বোঝায় অলীক বা অবাস্তব কিছু।

বাগধারা শব্দটি ভাঙলে দাঁড়ায় বাক্ + ধারা, অর্থাৎ ভাষার ধারা বা রীতি। নামটিই বলে দেয় এগুলো ব্যাকরণের নিয়মে গড়া নয়, বহু বছরের ব্যবহারে ভাষার ভেতরে থিতু হওয়া প্রয়োগ।

বাগধারার একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর অংশ বদলানো যায় না। চোখের বালি মানে শত্রু, কিন্তু চোখের ধুলো বললে সেই অর্থ থাকে না। শব্দগুচ্ছটি একটি একক হিসেবেই কাজ করে।

  • বাগধারা = বাক্ + ধারা, ভাষার রীতি।
  • আভিধানিক অর্থ ছেড়ে বিশেষ অর্থ
  • অংশ বদলানো যায় না — একক হিসেবে কাজ করে।
  • ঘোড়ার ডিম — অলীক বস্তু
  • চোখের ধুলো চোখের বালি — শত্রু

বহুল ব্যবহৃত বাগধারা — প্রথম তালিকা

পরীক্ষায় বাগধারার অর্থ লিখতে বা বাক্যে প্রয়োগ করতে বলা হয়, আর প্রশ্নে ঘুরেফিরে একই শব্দগুচ্ছগুলোই আসে। নিচের তালিকাটি সেই বারবার আসা বাগধারাগুলোর সংকলন।

বাগধারা ও অর্থ (১)

বাগধারাঅর্থ
অক্কা পাওয়ামারা যাওয়া
অগস্ত্য যাত্রাচিরদিনের জন্য প্রস্থান
অন্ধের যষ্টিএকমাত্র অবলম্বন
অগাধ জলের মাছঅত্যন্ত চালাক লোক
আকাশ কুসুমঅসম্ভব কল্পনা
আঠারো মাসে বছরদীর্ঘসূত্রিতা
আক্কেল সেলামিনির্বুদ্ধিতার দণ্ড
উড়নচণ্ডীঅমিতব্যয়ী
এলাহি কাণ্ডবিরাট আয়োজন
কই মাছের প্রাণযা সহজে মরে না
  • তার আক্কেল সেলামি দিতে হলোনির্বুদ্ধিতার দণ্ড
  • ছেলেটি অগাধ জলের মাছঅত্যন্ত চালাক

বহুল ব্যবহৃত বাগধারা — দ্বিতীয় তালিকা

দ্বিতীয় তালিকার বাগধারাগুলো বেশির ভাগই কোনো চরিত্র বা স্বভাব বোঝায় — ভণ্ড, তোষামুদে, মূর্খ, অসম্ভব। রচনা ও বাক্য রচনায় এগুলো ব্যবহার করলে লেখা প্রাণবন্ত হয়।

বাগধারা ও অর্থ (২)

বাগধারাঅর্থ
কাঁঠালের আমসত্ত্বঅসম্ভব বস্তু
গোবর গণেশমূর্খ ব্যক্তি
গদাই লস্করি চালঅত্যন্ত ধীরগতি
ঘোড়ার ডিমঅলীক বস্তু
চোখের বালিশত্রু
ছা-পোষাঅত্যন্ত গরিব
তুলসী বনের বাঘভণ্ড ব্যক্তি
ঢাকের কাঠিতোষামুদে
বিড়াল তপস্বীভণ্ড সাধু
রাবণের চিতাচির অশান্তি
শাঁখের করাতউভয় সংকট
সোনার পাথরবাটিঅসম্ভব বস্তু
হ-য-ব-র-লবিশৃঙ্খলা
  • লোকটি তুলসী বনের বাঘভণ্ড
  • তার অবস্থা শাঁখের করাতউভয় সংকট

একই অর্থের একাধিক বাগধারা

কয়েকটি বাগধারা একই অর্থ বহন করে, আর পরীক্ষায় প্রায়ই জিজ্ঞাসা করা হয় কোন দুটি সমার্থক। জোড়ায় মনে রাখলে এই প্রশ্নের উত্তর সঙ্গে সঙ্গে মেলে।

অর্থবাগধারা
অসম্ভব বস্তুঘোড়ার ডিম, কাঁঠালের আমসত্ত্ব, সোনার পাথরবাটি
ভণ্ডতুলসী বনের বাঘ, বিড়াল তপস্বী, ভিজে বিড়াল
মারা যাওয়াঅক্কা পাওয়া, পটল তোলা
তোষামুদেঢাকের কাঠি, খয়ের খাঁ
অত্যন্ত গরিবছা-পোষা, নুন আনতে পান্তা ফুরায়
  • ঘোড়ার ডিম = সোনার পাথরবাটিদুটিই অসম্ভব বস্তু
  • তুলসী বনের বাঘ = বিড়াল তপস্বীদুটিই ভণ্ড

বাগধারা, প্রবাদ ও প্রবচন আলাদা

তিনটিই ভাষার ঐতিহ্যবাহী প্রয়োগ, কিন্তু গঠন ও কাজ আলাদা। বাগধারা একটি শব্দগুচ্ছ, পূর্ণ বাক্য নয় — চোখের বালিপ্রবাদ একটি পূর্ণ বাক্য যা অভিজ্ঞতার সার বহন করে — অতি লোভে তাঁতি নষ্ট

প্রবচন প্রবাদেরই কাছাকাছি, তবে সাধারণত সংক্ষিপ্ত ও উপদেশমূলক — যেমন কর্ম তেমন ফল। পরীক্ষায় তিনটি আলাদা করে চেনা জরুরি, কারণ প্রশ্নে নাম ধরেই চাওয়া হয়।

সহজ সূত্র: বাক্য হলে প্রবাদ বা প্রবচন; কেবল শব্দগুচ্ছ হলে বাগধারা। চোখের বালি বাক্য নয়, তাই বাগধারা; অতি লোভে তাঁতি নষ্ট একটি পূর্ণ বাক্য, তাই প্রবাদ।

দিকবাগধারাপ্রবাদ / প্রবচন
গঠনশব্দগুচ্ছপূর্ণ বাক্য
কাজবিশেষ অর্থ প্রকাশঅভিজ্ঞতা বা উপদেশ
উদাহরণচোখের বালিঅতি লোভে তাঁতি নষ্ট
বাক্যেবাক্যের অংশ হয়নিজেই একটি বাক্য
  • শব্দগুচ্ছ → বাগধারা
  • পূর্ণ বাক্য → প্রবাদ

পরীক্ষায় কী আসে

বাগধারা থেকে প্রশ্ন সাধারণত দুই রকম — অর্থ লেখা, অথবা বাক্যে প্রয়োগ করে দেখানো। দ্বিতীয়টিতে বেশি নম্বর, আর সেখানে বাক্যটি এমন হতে হবে যাতে বাগধারার অর্থ স্পষ্ট হয়।

বাক্য রচনার সময় কেবল বাগধারাটি বসিয়ে দিলে হবে না — প্রসঙ্গ এমন হতে হবে যে অর্থটি বোঝা যায়। সে ঢাকের কাঠি লিখলে অসম্পূর্ণ; নেতার পাশে ঢাকের কাঠির মতো ঘোরে লোকটি লিখলে অর্থ স্পষ্ট হয়।

দ্বিতীয় সতর্কতা বানান নিয়ে। গদাই লস্করি চাল, হ-য-ব-র-ল, আক্কেল সেলামি — এই বানানগুলো একটু অস্বাভাবিক, তাই আলাদা করে মনে রাখতে হয়।

  • বাক্যে প্রয়োগে প্রসঙ্গ এমন হোক যাতে অর্থ বোঝা যায়।
  • একই অর্থের বাগধারা জোড়ায় মনে রাখো।
  • অস্বাভাবিক বানানগুলো আলাদা করে দেখে নাও।
  • সে ঢাকের কাঠি। নেতার পাশে ঢাকের কাঠির মতো ঘোরে লোকটি।

বাগধারা কোথা থেকে আসে

বাগধারাগুলো আকাশ থেকে পড়েনি — প্রায় প্রতিটির পেছনে একটি গল্প, ঘটনা বা সামাজিক অভিজ্ঞতা আছে। উৎস জানা থাকলে অর্থটিও মনে থাকে, আর মুখস্থ করার শ্রম কমে যায়।

কিছু বাগধারা এসেছে পুরাণ ও মহাকাব্য থেকে। অগস্ত্য যাত্রা — অগস্ত্য মুনি দক্ষিণে গিয়ে আর ফেরেননি, তাই চিরপ্রস্থান। রাবণের চিতা — রাবণের মৃত্যুর পর চিতা নাকি নিভত না, তাই চির অশান্তি।

কিছু এসেছে দৈনন্দিন জীবন থেকে। শাঁখের করাত — শাঁখ কাটার করাত আসতে-যেতে দুদিকেই কাটে, তাই উভয় সংকট। ঢাকের কাঠি — ঢাকের পাশে কাঠি সব সময় বাজতে থাকে, তাই তোষামুদে।

বাগধারাউৎসঅর্থ
অগস্ত্য যাত্রাপুরাণ — অগস্ত্য মুনিচিরপ্রস্থান
রাবণের চিতারামায়ণচির অশান্তি
শাঁখের করাতদৈনন্দিন যন্ত্রউভয় সংকট
ঢাকের কাঠিবাদ্যযন্ত্রতোষামুদে
গদাই লস্করি চালঐতিহাসিক চরিত্রধীরগতি
  • উৎস জানলে অর্থ মনে রাখা সহজ
  • শাঁখের করাত দুদিকেই কাটে — তাই উভয় সংকট

বিস্তারিত আলোচনা

"অগস্ত্য যাত্রা" শব্দগুচ্ছের আক্ষরিক অর্থ অগস্ত্য মুনির যাত্রা, কিন্তু বাগধারা হিসেবে এর অর্থ চির প্রস্থান। এই যে আক্ষরিক অর্থ থেকে সরে গিয়ে একটি নতুন, প্রতিষ্ঠিত অর্থে দাঁড়িয়ে যাওয়া — এটিই বাগধারার বৈশিষ্ট্য। বাগধারাকে ভেঙে শব্দ ধরে অর্থ করা যায় না; পুরো গুচ্ছটিকে একক হিসেবে ধরতে হয়।

বাগধারার উৎস নানা রকম। কিছু আসে পুরাণ ও ধর্মগ্রন্থ থেকে — অকাল কুষ্মাণ্ড, গৌরচন্দ্রিকা, রাবণের চিতা। কিছু আসে সমাজজীবন ও পেশা থেকে — গোবর গণেশ, ঢাকের কাঠি, তামার বিষ। আবার কিছু আসে দেহ ও প্রকৃতির অনুষঙ্গ থেকে — চোখের বালি, হাতের পাঁচ, মাথায় হাত।

পরীক্ষায় বাগধারা থেকে সাধারণত দুই ধরনের প্রশ্ন আসে — অর্থ লেখা, এবং বাক্যে প্রয়োগ করা। বাক্যে প্রয়োগের সময় খেয়াল রাখতে হয় যেন বাগধারাটির বিশিষ্ট অর্থই বাক্যে ফুটে ওঠে, আক্ষরিক অর্থ নয়। "তার হাতের পাঁচ বলতে এই জমিটুকুই" — এখানে শেষ সম্বল অর্থেই প্রয়োগটি সার্থক হয়েছে।

মনে রাখার কথা

বাগধারা মুখস্থ করার সময় অর্থের পাশে একটি করে প্রয়োগবাক্যও লিখে রাখলে পরীক্ষায় কাজে লাগে।

সাধারণ ভুল

পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।

  • “চোখের ধুলো” — শত্রু। “চোখের বালি” — বাগধারার অংশ বদলানো যায় না।
  • বাগধারা একটি পূর্ণ বাক্য। বাগধারা শব্দগুচ্ছ; পূর্ণ বাক্য হলে সেটি প্রবাদ।
  • বাগধারার আভিধানিক অর্থই তার অর্থ। আভিধানিক অর্থ ছেড়ে বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।
  • বাক্যে কেবল বাগধারাটি বসিয়ে দেওয়া। প্রসঙ্গ এমন হতে হবে যাতে অর্থ স্পষ্ট হয়।

অনুশীলন

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।

  1. বাগধারা কাকে বলে?
  2. “বাগধারা” শব্দটির ব্যুৎপত্তি কী?
  3. অর্থ লেখো: শাঁখের করাত, রাবণের চিতা, ছা-পোষা।
  4. “অসম্ভব বস্তু” অর্থে তিনটি বাগধারা লেখো।
  5. বাগধারা ও প্রবাদের পার্থক্য কী?
  6. বাক্যে প্রয়োগ করো: তুলসী বনের বাঘ।
  7. বাগধারার অংশ বদলানো যায় না কেন?
  8. বাগধারা শেখা কেন দরকার?

উত্তর

  1. কোনো শব্দ বা শব্দগুচ্ছ যখন আভিধানিক অর্থ ছেড়ে বিশেষ ও ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে বাগধারা বলে।
  2. বাক্ + ধারা, অর্থাৎ ভাষার ধারা বা রীতি। নামটিই বলে দেয় এগুলো নিয়মে গড়া নয়, ব্যবহারে থিতু হওয়া প্রয়োগ।
  3. উভয় সংকট, চির অশান্তি এবং অত্যন্ত গরিব।
  4. ঘোড়ার ডিম, কাঁঠালের আমসত্ত্ব ও সোনার পাথরবাটি।
  5. বাগধারা একটি শব্দগুচ্ছ ও বাক্যের অংশ হয় (চোখের বালি), আর প্রবাদ একটি পূর্ণ বাক্য যা অভিজ্ঞতার সার বহন করে (অতি লোভে তাঁতি নষ্ট)।
  6. সাধু সেজে থাকলেও লোকটি আসলে তুলসী বনের বাঘ — ভণ্ডামিই তার স্বভাব।
  7. কারণ শব্দগুচ্ছটি একটি একক হিসেবে কাজ করে। “চোখের বালি” মানে শত্রু, কিন্তু “চোখের ধুলো” বললে সেই অর্থ আর থাকে না।
  8. রচনা ও বাক্যরচনায় বাগধারা লেখাকে প্রাণবন্ত করে — এক শব্দগুচ্ছে একটি পুরো চরিত্র বা অবস্থা বোঝানো যায়। পরীক্ষাতেও অর্থ ও বাক্যে প্রয়োগ দুটিই জিজ্ঞাসা করা হয়।

উপযোগী শ্রেণি: নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আরও বাংলা ব্যাকরণ পড়ো

বাংলা ব্যাকরণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকো

পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।