নানান দেশের নানান ভাষা, বিনা স্বদেশী ভাষা মিটে কি আশা
নানান দেশের নানান ভাষা বিনা স্বদেশী ভাষা মিটে কি আশা — ভাবসম্প্রসারণ।
মূলভাব
পৃথিবীর নানা দেশে নানা ভাষা আছে, কিন্তু মাতৃভাষা ছাড়া মনের কথা পূর্ণভাবে প্রকাশ করা যায় না। নিজের ভাষাতেই মানুষের হৃদয় সবচেয়ে স্বাভাবিকভাবে খুলে যায়।
মূলভাবে কী লিখবে
পঙ্ক্তিটি অতুলপ্রসাদ সেনের গান থেকে নেওয়া, আর তার পরের চরণ — বিনা স্বদেশী ভাষা মিটে কি আশা। মূলভাবে এই দুই চরণ একসঙ্গে ধরতে হবে।
বক্তব্য একটিই — পৃথিবীতে ভাষার অভাব নেই, কিন্তু মনের কথা পূর্ণভাবে প্রকাশ পায় কেবল মাতৃভাষায়। অন্য ভাষা তথ্য বহন করে, মাতৃভাষা বহন করে অনুভূতি।
- গীতিকার — অতুলপ্রসাদ সেন।
- অন্য ভাষা তথ্য, মাতৃভাষা অনুভূতি।
সম্প্রসারিত ভাবে কোন যুক্তি সাজাবে
প্রথমে ভাষার সঙ্গে চিন্তার সম্পর্ক — মানুষ যে ভাষায় ভাবে, সেই ভাষাতেই সবচেয়ে গভীর ভাব প্রকাশ করতে পারে। অনূদিত অনুভূতি কখনো মূলের সমান হয় না।
তারপর জাতীয় প্রসঙ্গ — ভাষা আন্দোলনে বাঙালি প্রাণ দিয়ে প্রমাণ করেছে মাতৃভাষা কেবল যোগাযোগের উপকরণ নয়, আত্মপরিচয়ের ভিত্তি।
শেষে ভারসাম্য — বিদেশি ভাষা শেখা প্রয়োজন এবং জ্ঞানের জানালা খুলে দেয়, কিন্তু তা মাতৃভাষার বিকল্প নয়, পরিপূরক। এই সীমাটি উত্তরে থাকা জরুরি।
- ভাষা ↔ চিন্তা।
- ভাষা আন্দোলন = আত্মপরিচয়।
- বিদেশি ভাষা পরিপূরক।
মন্তব্যে কী লিখবে
মন্তব্যে বলো মাতৃভাষার চর্চা ছাড়া কোনো জাতির মানসিক স্বাধীনতা পূর্ণ হয় না।
বিদেশি ভাষার বিরোধিতা করে শেষ করলে উত্তরটি সংকীর্ণ শোনায় — অগ্রাধিকারের কথা বললেই যথেষ্ট।
সম্প্রসারিত ভাব
ভাষা কেবল শব্দের সমষ্টি নয়, একটি জাতির চিন্তার ধরন। শিশু প্রথম যে ভাষায় মা-কে ডাকে, সেই ভাষাতেই তার আবেগ, স্বপ্ন ও যুক্তি গড়ে ওঠে। অন্য ভাষা শেখা যায়, কিন্তু তাতে ভাব প্রকাশ করতে গেলে সব সময় একটি অনুবাদের দূরত্ব থেকে যায়।
বিদেশি ভাষা জানা নিঃসন্দেহে প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানে ইংরেজিসহ অন্যান্য ভাষার দক্ষতা কাজে লাগে। কিন্তু প্রয়োজনের ভাষা আর অন্তরের ভাষা এক নয়; প্রথমটি হাতিয়ার, দ্বিতীয়টি পরিচয়।
বাঙালির ইতিহাস এই সত্যেরই সাক্ষ্য দেয়। ১৯৫২ সালে মাতৃভাষার মর্যাদার জন্য প্রাণ দেওয়ার ঘটনা পৃথিবীতে বিরল, আর সেই আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
তাই মাতৃভাষাকে অবহেলা করা মানে নিজের শিকড়কে অস্বীকার করা। যে জাতি নিজের ভাষায় জ্ঞানচর্চা করে না, তার চিন্তাও ধার করা থেকে যায়।
মন্তব্য
সুতরাং অন্য ভাষা শেখার পাশাপাশি মাতৃভাষাকে ভালোবাসতে হবে। স্বদেশি ভাষা ছাড়া মনের আশা পূর্ণ হয় না।
সাধারণ ভুল
পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।
- ✗ বিদেশি ভাষা শেখার বিরোধিতা করা। ✓ বিদেশি ভাষাকে পরিপূরক বলা, বিকল্প নয় — এই সীমা টানা।
- ✗ গীতিকারের নাম উল্লেখ না করা। ✓ অতুলপ্রসাদ সেনের নাম উল্লেখ করা।
- ✗ কেবল ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস লিখে ভরিয়ে ফেলা। ✓ ইতিহাস সংক্ষেপে, জোর ভাষা ও চিন্তার সম্পর্কে।
- ✗ মাতৃভাষাকে কেবল যোগাযোগের উপকরণ ভাবা। ✓ আত্মপরিচয়ের ভিত্তি হিসেবে দেখানো।
- ✗ পরের চরণটি বাদ দিয়ে ব্যাখ্যা শুরু করা। ✓ “বিনা স্বদেশী ভাষা মিটে কি আশা” — দুই চরণ একসঙ্গে ধরা।
অনুশীলন
নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।
- পঙ্ক্তিটি কার এবং পরের চরণ কী?
- ভাষা ও চিন্তার সম্পর্ক কী?
- ভাষা আন্দোলনের প্রসঙ্গ কীভাবে টানবে?
- বিদেশি ভাষা শেখা কি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে?
- মাতৃভাষাকে আত্মপরিচয়ের ভিত্তি বলা হয় কেন?
- মন্তব্যে কী লিখবে?
- উত্তরে কোন ভুলটি সবচেয়ে বেশি হয়?
উত্তর
- অতুলপ্রসাদ সেনের গান থেকে নেওয়া, আর পরের চরণ “বিনা স্বদেশী ভাষা মিটে কি আশা”। দুই চরণ একসঙ্গে ধরলে ভাবটির পূর্ণ অর্থ বোঝা যায়।
- মানুষ যে ভাষায় ভাবে, সেই ভাষাতেই সবচেয়ে গভীর ভাব প্রকাশ করতে পারে। অন্য ভাষায় অনূদিত অনুভূতি কখনো মূলের সমান হয় না — কিছু না কিছু হারিয়েই যায়।
- দেখাও বাঙালি প্রাণ দিয়ে প্রমাণ করেছে মাতৃভাষা কেবল যোগাযোগের উপকরণ নয়, আত্মপরিচয়ের ভিত্তি। ইতিহাসটি সংক্ষেপে বললেই যথেষ্ট।
- না। বিদেশি ভাষা জ্ঞানের জানালা খুলে দেয় এবং কর্মজীবনে প্রয়োজন। ভাবটি কেবল বলছে তা মাতৃভাষার বিকল্প নয়, পরিপূরক।
- কারণ ভাষার সঙ্গেই জড়িয়ে থাকে ইতিহাস, সাহিত্য, লোকগান ও পারিবারিক স্মৃতি। ভাষা হারালে জাতি কেবল শব্দ নয়, নিজের অতীতটিই হারিয়ে ফেলে।
- মাতৃভাষার চর্চা ছাড়া কোনো জাতির মানসিক স্বাধীনতা পূর্ণ হয় না — এই কথাটি দিয়ে শেষ করা যায়। বিদেশি ভাষার বিরোধিতা করে শেষ করলে উত্তর সংকীর্ণ শোনায়।
- পুরো উত্তরটি ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস দিয়ে ভরিয়ে ফেলা। প্রশ্নটি ইতিহাসের নয়, মাতৃভাষার অপরিহার্যতার — তাই যুক্তির ভার সেখানেই থাকা চাই।
উপযোগী শ্রেণি: অষ্টম, নবম-দশম শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
পঙ্ক্তিটি কবি অবদুল হাকিমের “বঙ্গবাণী” কবিতার, যেখানে তিনি মাতৃভাষার প্রতি অবহেলার তীব্র সমালোচনা করেছেন। ভাবসম্প্রসারণে কবি ও কবিতার নাম উল্লেখ করলে উত্তর সমৃদ্ধ হয়।
না। বিদেশি ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেই বলা হয়েছে, মাতৃভাষার জায়গা আলাদা। উত্তরে এই ভারসাম্যটি রাখলে যুক্তি পরিণত দেখায়।
মানুষ যে ভাষায় ভাবে, সেই ভাষাতেই সবচেয়ে গভীর ভাব প্রকাশ করতে পারে। অন্য ভাষায় বলতে গেলে ভাবটিকে আগে অনুবাদ করতে হয়, আর অনুবাদে কিছু না কিছু হারিয়ে যায় — বিশেষত আবেগ, ব্যঙ্গ ও ঘরোয়া উপমা।
কারণ ভাষার সঙ্গেই জড়িয়ে থাকে ইতিহাস, সাহিত্য, লোকগান ও পারিবারিক স্মৃতি। ভাষা হারালে জাতি কেবল কিছু শব্দ নয়, নিজের অতীতটিই হারিয়ে ফেলে — ভাষা আন্দোলনের ত্যাগ সেই উপলব্ধিরই প্রমাণ।
আরও ভাবসম্প্রসারণ পড়ো
ভাবসম্প্রসারণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















