যে সহে সে রহে
যে সহে সে রহে — ভাবসম্প্রসারণ মূলভাব, সম্প্রসারিত ভাব ও মন্তব্যসহ।
মূলভাব
যে ধৈর্য ধরতে জানে, সে-ই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে। সহনশীলতা দুর্বলতা নয়, বরং দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি।
মূলভাবে কী লিখবে
মূলভাবে বলতে হবে — যে সহ্য করতে জানে, সে-ই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে। সহনশীলতা এখানে নিষ্ক্রিয়তা নয়, টিকে থাকার কৌশল।
রহে শব্দের অর্থ থাকা বা টিকে থাকা। শব্দটি ব্যাখ্যা করে নিলে ভাবটির অর্থ আর ঘোলাটে থাকে না।
- রহে = টিকে থাকা।
- সহনশীলতা = কৌশল, দুর্বলতা নয়।
সম্প্রসারিত ভাবে কোন যুক্তি সাজাবে
প্রথমে প্রকৃতি থেকে দৃষ্টান্ত — ঝড়ে শক্ত গাছ ভেঙে পড়ে, নরম বাঁশ নুয়ে গিয়ে বেঁচে যায়। কঠোরতা নয়, নমনীয়তাই এখানে টিকে থাকার শর্ত।
তারপর মানুষের জীবন — যে শিক্ষার্থী প্রথম ব্যর্থতায় হাল ছাড়ে না, যে চাষি এক মৌসুমের ক্ষতিতে জমি ছাড়ে না — তারাই শেষ পর্যন্ত ফল পায়।
শেষে সীমারেখা — সব কিছু সহ্য করা ধৈর্য নয়। অন্যায় সহ্য করা কাপুরুষতা; ধৈর্য মানে লক্ষ্যের পথে বাধাকে সহ্য করা। এই পার্থক্যটি উত্তরে থাকা জরুরি।
- প্রকৃতি → জীবন → সীমারেখা।
- অন্যায় সহ্য করা ধৈর্য নয়।
মন্তব্যে কী লিখবে
মন্তব্যে বলো ধৈর্য জীবনের সবচেয়ে নীরব শক্তি — যা তাৎক্ষণিক ফল দেয় না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয়ী করে।
ধৈর্যকে সব সমস্যার সমাধান বলে দাবি না করে কেবল টিকে থাকার শর্ত হিসেবে দেখালে উত্তরটি সংযত হয়।
সম্প্রসারিত ভাব
জীবনে প্রতিকূলতা অনিবার্য। কেউ প্রথম বাধাতেই ভেঙে পড়ে, কেউ বাধা মেনে নিয়ে এগিয়ে যায়। দ্বিতীয় দলটিই শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যে পৌঁছায়, কারণ সাফল্য প্রায়ই ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের পুরস্কার।
ধৈর্য মানে সবকিছু মুখ বুজে মেনে নেওয়া নয়। এর অর্থ হলো তাৎক্ষণিক রাগ বা হতাশায় ভুল সিদ্ধান্ত না নেওয়া। যে শিক্ষার্থী একবার খারাপ ফল করে পড়া ছেড়ে দেয় না, বরং কারণ খুঁজে শোধরায়, সে-ই পরের বার ভালো করে।
প্রকৃতিতেও এর দৃষ্টান্ত আছে। ঝড়ে শক্ত গাছ ভেঙে পড়ে, কিন্তু নমনীয় বাঁশ মাথা নুইয়ে ঝড় সয়ে নেয় এবং ঝড় থামলে আবার সোজা হয়ে দাঁড়ায়। সহ্য করার ক্ষমতাই তাকে টিকিয়ে রাখে।
সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একই কথা। পরিবারে ও বন্ধুত্বে মতভেদ আসবেই; যাঁরা সামান্য অসুবিধা সহ্য করে সম্পর্ক ধরে রাখেন, দীর্ঘ দিনে তাঁদের চারপাশেই মানুষ থেকে যায়।
মন্তব্য
তাই অধৈর্য হয়ে সরে না গিয়ে সয়ে থাকতে শেখা দরকার। যে সহ্য করতে পারে, সময় শেষ পর্যন্ত তার পক্ষেই কথা বলে।
সাধারণ ভুল
পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।
- ✗ ধৈর্য ও অন্যায় সহ্য করাকে এক করে ফেলা। ✓ অন্যায় সহ্য করা কাপুরুষতা — এই সীমারেখা টানা।
- ✗ ধৈর্যকে নিষ্ক্রিয়তা হিসেবে ব্যাখ্যা করা। ✓ ধৈর্যকে টিকে থাকার সক্রিয় কৌশল হিসেবে দেখানো।
- ✗ কেবল উপদেশমূলক বাক্য লেখা। ✓ বাঁশ ও গাছের মতো চেনা উপমা দিয়ে যুক্তি সাজানো।
- ✗ “রহে” শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা না করা। ✓ “রহে” মানে টিকে থাকা — এটি স্পষ্ট করে নেওয়া।
- ✗ ধৈর্যকে সব সমস্যার সমাধান বলে দাবি করা। ✓ ধৈর্যকে টিকে থাকার শর্ত হিসেবেই সীমিত রাখা।
অনুশীলন
নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।
- “রহে” শব্দের অর্থ কী?
- প্রকৃতি থেকে কোন উপমাটি এখানে সবচেয়ে মানানসই?
- ধৈর্য আর অন্যায় সহ্য করার পার্থক্য কী?
- মানুষের জীবন থেকে কোন দৃষ্টান্ত দেবে?
- ধৈর্যকে নিষ্ক্রিয়তা বলা যায় কি?
- মন্তব্যে কী লিখলে ভালো হয়?
- উত্তরে কোন ভুলটি সবচেয়ে বেশি হয়?
উত্তর
- থাকা বা টিকে থাকা। শব্দটির অর্থ ব্যাখ্যা করে নিলে ভাবটি স্পষ্ট হয় — যে সহ্য করতে জানে, সে-ই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে।
- ঝড়ে শক্ত গাছ ভেঙে পড়ে, নরম বাঁশ নুয়ে গিয়ে বেঁচে যায়। উপমাটি দেখায় কঠোরতা নয়, নমনীয়তাই টিকে থাকার শর্ত।
- ধৈর্য মানে লক্ষ্যের পথে বাধাকে সহ্য করা; অন্যায় সহ্য করা কাপুরুষতা। এই সীমারেখাটি না টানলে উত্তরটি ভুল বার্তা দেয়।
- যে শিক্ষার্থী প্রথম ব্যর্থতায় হাল ছাড়ে না, যে চাষি এক মৌসুমের ক্ষতিতে জমি ছাড়ে না, যে ব্যবসায়ী প্রথম লোকসানে দোকান বন্ধ করে না — তারাই শেষ পর্যন্ত ফল পায়।
- যায় না। ধৈর্য মানে অপেক্ষা করা নয়, বাধা সত্ত্বেও কাজ চালিয়ে যাওয়া। এটি সক্রিয় কৌশল — নীরব, কিন্তু নিষ্ক্রিয় নয়।
- ধৈর্য জীবনের সবচেয়ে নীরব শক্তি — তাৎক্ষণিক ফল দেয় না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয়ী করে। ধৈর্যকে সব সমস্যার সমাধান বলে দাবি না করাই ভালো।
- ধৈর্য ও অন্যায় সহ্য করাকে এক করে ফেলা। এতে মনে হয় ভাবটি চুপ থাকতে বলছে, অথচ তা বলছে লক্ষ্যের পথে অবিচল থাকতে।
উপযোগী শ্রেণি: সপ্তম, অষ্টম, নবম-দশম শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
দুর্বলতা হলো প্রতিবাদ করার সামর্থ্য না থাকা; ধৈর্য হলো সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সময়ের অপেক্ষা করা এবং আবেগের বশে ভুল সিদ্ধান্ত না নেওয়া। ভাবসম্প্রসারণে এই পার্থক্যটি লিখলে উত্তর পরিণত হয়।
ঝড়ে বাঁশ ও শক্ত গাছের তুলনাটি সবচেয়ে মানানসই — নমনীয়তা কীভাবে টিকে থাকার শক্তি হয়ে ওঠে, তা এক বাক্যেই বোঝা যায়।
না। ধৈর্য মানে বাধা সত্ত্বেও কাজ চালিয়ে যাওয়া — এটি সক্রিয় কৌশল, নীরব হলেও নিষ্ক্রিয় নয়। ঝড়ে বাঁশ নুয়ে যায় বলেই টিকে থাকে; নুয়ে যাওয়া তার আত্মসমর্পণ নয়, টিকে থাকার পদ্ধতি।
নয়। অন্যায় সহ্য করা ধৈর্য নয়, কাপুরুষতা। ধৈর্য বলতে বোঝায় লক্ষ্যের পথে আসা কষ্ট ও বিলম্বকে সহ্য করা। এই সীমারেখাটি উত্তরে না টানলে ভাবটি ভুল বার্তা দিয়ে ফেলে।
আরও ভাবসম্প্রসারণ পড়ো
ভাবসম্প্রসারণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















