জন্ম হোক যথা তথা, কর্ম হোক ভালো
জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভালো — ভাবসম্প্রসারণ, মূলভাব ও মন্তব্যসহ।
মূলভাব
জন্ম কোথায় হলো তা মানুষের হাতে নেই, কিন্তু কী কাজ করবে তা তার নিজের হাতে। বংশ বা পরিচয় নয়, কাজই মানুষের প্রকৃত মর্যাদা নির্ধারণ করে।
মূলভাবে কী লিখবে
মূলভাবে বলতে হবে — জন্ম মানুষের হাতে নেই, কর্ম আছে। তাই মর্যাদার মাপকাঠি হওয়া উচিত কর্ম, বংশ বা জন্মপরিচয় নয়।
যথা তথা মানে যেখানে সেখানে। শব্দবন্ধটি জন্মস্থান ও বংশপরিচয়কে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক ঘোষণা করছে — এই তীব্রতাটুকু ধরতে হবে।
- যথা তথা = যেখানে সেখানে।
- মাপকাঠি কর্ম, জন্ম নয়।
সম্প্রসারিত ভাবে কোন দৃষ্টান্ত সাজাবে
প্রথমে যুক্তি — জন্ম একটি দুর্ঘটনা, কেউ নিজের বংশ বা দেশ বেছে নেয় না। যার ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই, তাকে মর্যাদার ভিত্তি বানানো অযৌক্তিক।
তারপর দৃষ্টান্ত — বহু মহৎ মানুষ সাধারণ বা দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছেন, আবার বহু অভিজাত বংশের মানুষ ইতিহাসে কোনো চিহ্ন রাখেননি।
শেষে সামাজিক প্রয়োগ — বংশমর্যাদার ধারণা সমাজে বৈষম্য টিকিয়ে রাখে। কর্মকে মাপকাঠি করলে সমাজে সুযোগের সমতা আসে।
- জন্ম একটি দুর্ঘটনা।
- দৃষ্টান্ত দুই দিক থেকেই।
- কর্ম = সুযোগের সমতা।
মন্তব্যে কী লিখবে
মন্তব্যে বলো জন্ম নিয়ে গর্ব বা লজ্জা দুটিই অর্থহীন — মানুষের একমাত্র পরিচয়পত্র তার কর্ম।
নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম নিয়ে তুলনা না করাই ভালো; সাধারণ যুক্তিতেই বক্তব্য জোরালো হয়।
সম্প্রসারিত ভাব
কেউ ধনীর ঘরে জন্মায়, কেউ দরিদ্রের; কেউ শহরে, কেউ প্রত্যন্ত গ্রামে। এর কোনোটিই ব্যক্তির অর্জন নয়, নিছক ঘটনা। তাই জন্মপরিচয় নিয়ে গর্ব বা হীনম্মন্যতা — দুটিই অর্থহীন।
ইতিহাস বহু মানুষের কথা বলে, যাঁরা অতি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে জাতির গর্ব হয়েছেন। তাঁদের পথ সহজ ছিল না, কিন্তু কাজের গুণেই তাঁরা নিজেদের জায়গা তৈরি করে নিয়েছেন। আবার উঁচু বংশে জন্মেও কুকর্মের কারণে বহু মানুষ ঘৃণিত হয়েছেন।
সমাজে যখন জন্মপরিচয়কে যোগ্যতার চেয়ে বড় করে দেখা হয়, তখন প্রতিভা নষ্ট হয় এবং অযোগ্যরা দায়িত্ব পেয়ে যায়। এতে ক্ষতি কেবল ব্যক্তির নয়, গোটা জাতির।
শিক্ষার্থীদের জন্য এই ভাব বিশেষভাবে সাহসের। প্রতিকূল পরিবেশ পড়াশোনার পথে বাধা হতে পারে, কিন্তু তা কখনো চূড়ান্ত রায় নয়; কাজ দিয়ে সেই রায় বদলে দেওয়া যায়।
মন্তব্য
তাই জন্মের হিসাব ভুলে কর্মের হিসাবেই মনোযোগ দেওয়া উচিত। ভালো কাজই মানুষকে সম্মানিত করে তোলে।
সাধারণ ভুল
পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।
- ✗ কেবল দরিদ্র থেকে উঠে আসা মানুষের কথা লেখা। ✓ অভিজাত বংশের নিষ্ফল জীবনের কথাও যুক্ত করা।
- ✗ জন্মপরিচয়কে সম্পূর্ণ ভুলে যেতে বলা। ✓ জন্মপরিচয় থাকতে পারে, কিন্তু তা মর্যাদার মাপকাঠি নয় — এই সীমা টানা।
- ✗ “যথা তথা” শব্দবন্ধের অর্থ এড়িয়ে যাওয়া। ✓ “যেখানে সেখানে” অর্থটি স্পষ্ট করে নেওয়া।
- ✗ সামাজিক বৈষম্যের প্রসঙ্গ বাদ দেওয়া। ✓ বংশমর্যাদার ধারণা কীভাবে বৈষম্য টেকায় তা দেখানো।
- ✗ নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম নিয়ে তুলনা টানা। ✓ সাধারণ যুক্তিতে বক্তব্য গড়া।
- ✗ কর্মকে কেবল পেশাগত সাফল্য অর্থে ব্যবহার করা। ✓ সমাজের জন্য করা যেকোনো কল্যাণকর কাজকেও কর্মের অন্তর্ভুক্ত করা।
অনুশীলন
নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।
- জন্মকে দুর্ঘটনা বলা হচ্ছে কেন?
- “যথা তথা” শব্দবন্ধের অর্থ কী?
- দৃষ্টান্ত দুই দিক থেকে দেওয়া দরকার কেন?
- বংশমর্যাদার ধারণা সমাজে কী ক্ষতি করে?
- ভাবটি কি জন্মপরিচয় ভুলে যেতে বলছে?
- মন্তব্যে কী লিখবে?
- উত্তরে নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম নেওয়া উচিত কি?
উত্তর
- কারণ কেউ নিজের বংশ, দেশ বা পরিবার বেছে নিতে পারে না। যার ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, তাকে মর্যাদার ভিত্তি বানানো যুক্তিহীন — এই যুক্তিটিই ভাবের ভিত্তি।
- যেখানে সেখানে। শব্দবন্ধটি জন্মস্থান ও বংশপরিচয়কে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক ঘোষণা করছে — এই তীব্রতাটুকু ব্যাখ্যায় ধরা পড়া দরকার।
- কারণ কেবল দরিদ্র থেকে উঠে আসা মানুষের কথা বললে যুক্তিটি অর্ধেক থাকে। পাশাপাশি অভিজাত বংশের নিষ্ফল জীবনের কথা বললে দেখা যায় জন্ম কোনো দিকেই নির্ধারক নয়।
- তা বৈষম্যকে টিকিয়ে রাখে এবং যোগ্য মানুষকে সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে। কর্মকে মাপকাঠি করলে সুযোগের সমতা আসে এবং সমাজ প্রতিভা হারায় না।
- না। জন্মপরিচয় থাকতেই পারে — ভাবটি কেবল বলছে তা মর্যাদার মাপকাঠি নয়। শিকড়ের প্রতি টান আর শিকড় দিয়ে মানুষ বিচার করা এক জিনিস নয়।
- জন্ম নিয়ে গর্ব বা লজ্জা দুটিই অর্থহীন — মানুষের একমাত্র পরিচয়পত্র তার কর্ম। এই সংযত সিদ্ধান্তটিই সবচেয়ে জোরালো।
- সাধারণত নয়। নাম নিয়ে তুলনা টানলে বিতর্কের ঝুঁকি থাকে এবং যুক্তির চেয়ে ব্যক্তি বড় হয়ে ওঠে। সাধারণ যুক্তিতেই বক্তব্য নিরাপদ ও জোরালো থাকে।
উপযোগী শ্রেণি: অষ্টম, নবম-দশম শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
মূল বার্তা হলো, জন্ম মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে কিন্তু কর্ম তার নিজের হাতে; তাই মর্যাদা নির্ধারিত হবে বংশপরিচয়ে নয়, কাজের গুণে।
সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা শিক্ষক, বিজ্ঞানী বা ক্রীড়াবিদের উদাহরণ মানানসই। ব্যক্তির নাম নিয়ে নিশ্চিত না হলে সাধারণভাবে লেখাই নিরাপদ।
না। শিকড়ের প্রতি টান থাকা স্বাভাবিক এবং সেটি নিন্দনীয় নয়। ভাবটি কেবল বলছে জন্মপরিচয় মর্যাদার মাপকাঠি নয় — শিকড়কে ভালোবাসা আর শিকড় দিয়ে মানুষ বিচার করা সম্পূর্ণ আলাদা দুটি জিনিস।
কেবল দরিদ্র থেকে উঠে আসা মানুষের কথা বললে যুক্তিটি অর্ধেক থাকে। পাশাপাশি অভিজাত বংশের নিষ্ফল জীবনের কথা বললে বোঝা যায় জন্ম কোনো দিকেই নির্ধারক নয় — না সাফল্যের, না ব্যর্থতার।
আরও ভাবসম্প্রসারণ পড়ো
ভাবসম্প্রসারণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















