জন্মভূমি স্বর্গাদপি গরীয়সী
জন্মভূমি স্বর্গাদপি গরীয়সী — ভাবসম্প্রসারণ, মূলভাব ও মন্তব্যসহ।
মূলভাব
জন্মভূমি স্বর্গের চেয়েও মহান। যে মাটিতে জন্ম, যে দেশের আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠা, তার সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক অন্য কোনো সুখের সঙ্গে তুলনীয় নয়।
মূলভাবে কী লিখবে
উক্তিটি সংস্কৃত — জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী, রামায়ণে রামের মুখে বসানো। গরীয়সী মানে মহত্তর, আর স্বর্গাদপি মানে স্বর্গের চেয়েও।
মূলভাবে বলতে হবে — জন্মভূমির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কোনো সুখের হিসাবে মাপা যায় না, তাই স্বর্গের চেয়েও তার স্থান উঁচু।
- গরীয়সী = মহত্তর।
- উৎস — রামায়ণ, সংস্কৃত শ্লোক।
সম্প্রসারিত ভাবে কোন যুক্তি সাজাবে
প্রথমে সম্পর্কের প্রকৃতি — জন্মভূমি বেছে নেওয়া যায় না, তাই সেই সম্পর্ক লেনদেনের নয়। মাটি, ভাষা ও শৈশবের স্মৃতি মিলে সম্পর্কটি গড়ে ওঠে।
তারপর প্রবাসের অভিজ্ঞতা — বিদেশে যত সুযোগ-সুবিধাই থাকুক, দেশের কথা মনে পড়ে। এই টানই প্রমাণ করে সম্পর্কটি বস্তুগত নয়।
শেষে দেশপ্রেমের বাস্তব রূপ — দেশপ্রেম মানে কেবল আবেগ নয়, কর সময়মতো দেওয়া, পরিবেশ রক্ষা করা, দুর্নীতি না করা ও নিজের কাজটি ঠিকমতো করা।
- সম্পর্ক লেনদেনের নয়।
- প্রবাসের টান।
- দেশপ্রেম = দৈনন্দিন কর্তব্য।
মন্তব্যে কী লিখবে
মন্তব্যে বলো দেশকে ভালোবাসার প্রমাণ কথায় নয়, দৈনন্দিন কাজে।
অন্য দেশের নিন্দা করে দেশপ্রেম প্রকাশ করা যাবে না — সেটি সংকীর্ণতা, দেশপ্রেম নয়।
সম্প্রসারিত ভাব
স্বদেশপ্রেম কোনো আরোপিত অনুভূতি নয়, এটি স্বাভাবিক টান। প্রবাসে যত সুযোগ-সুবিধাই থাকুক, দেশের নদী, বৃষ্টি, ভাষা ও উৎসবের স্মৃতি মানুষকে টানে। এই টানের কারণেই কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি দূরে থেকেও দেশের খবর রাখেন।
দেশের প্রতি ভালোবাসা কেবল আবেগ নয়, দায়িত্বও। কর দেওয়া, আইন মানা, পরিবেশ রক্ষা করা, দুর্নীতিতে অংশ না নেওয়া — এগুলোই দৈনন্দিন দেশপ্রেম। যিনি এসব করেন, তিনি স্লোগান ছাড়াই দেশপ্রেমিক।
যাঁরা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাঁরা এই ভালোবাসারই চূড়ান্ত রূপ দেখিয়েছেন। ১৯৭১ সালের আত্মত্যাগ প্রমাণ করে, মানুষ প্রয়োজনে নিজের জীবনের চেয়েও দেশকে বড় করে দেখতে পারে।
তবে দেশপ্রেম অন্ধ হলে তা সংকীর্ণতায় পরিণত হয়। নিজের দেশকে ভালোবাসা আর অন্য দেশকে ছোট করা এক নয় — প্রথমটি মমতা, দ্বিতীয়টি অহংকার।
মন্তব্য
সুতরাং জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসাকে কাজে প্রকাশ করতে হবে। দেশের মাটি মানুষের কাছে স্বর্গের চেয়েও প্রিয়।
সাধারণ ভুল
পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।
- ✗ অন্য দেশের নিন্দা করে দেশপ্রেম দেখানো। ✓ নিজের দেশের প্রতি কর্তব্যের কথা বলা।
- ✗ দেশপ্রেমকে কেবল আবেগ হিসেবে দেখা। ✓ কর দেওয়া, পরিবেশ রক্ষা ও সৎ কাজকে দেশপ্রেমের রূপ হিসেবে দেখানো।
- ✗ উক্তিটির উৎস উল্লেখ না করা। ✓ রামায়ণের সংস্কৃত শ্লোকটির কথা বলা।
- ✗ “গরীয়সী” শব্দের অর্থ এড়িয়ে যাওয়া। ✓ “মহত্তর” অর্থটি স্পষ্ট করে নেওয়া।
- ✗ প্রবাসীদের দেশপ্রেমহীন বলে দাবি করা। ✓ প্রবাসের টানকেই সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে দেখানো।
অনুশীলন
নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।
- উক্তিটির উৎস কী?
- “গরীয়সী” শব্দের অর্থ কী?
- জন্মভূমির সঙ্গে সম্পর্কটি লেনদেনের নয় কেন?
- প্রবাসের অভিজ্ঞতা যুক্তিটিকে কীভাবে শক্ত করে?
- দৈনন্দিন জীবনে দেশপ্রেম কীভাবে প্রকাশ পায়?
- অন্য দেশের নিন্দা করা কেন দেশপ্রেম নয়?
- মন্তব্যে কী লিখবে?
- শৈশবের স্মৃতি দেশপ্রেমের সঙ্গে কীভাবে জড়িত?
উত্তর
- সংস্কৃত শ্লোক “জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী”, রামায়ণে রামের মুখে বসানো। উত্তরে উৎসটি উল্লেখ করলে ব্যাখ্যা তথ্যনির্ভর দেখায়।
- মহত্তর বা শ্রেষ্ঠতর। “স্বর্গাদপি” মানে স্বর্গের চেয়েও — অর্থাৎ জন্মভূমির স্থান স্বর্গের চেয়েও উঁচু বলা হয়েছে।
- কারণ জন্মভূমি বেছে নেওয়া যায় না। মাটি, ভাষা ও শৈশবের স্মৃতি মিলে সম্পর্কটি গড়ে ওঠে — সেখানে লাভ-ক্ষতির হিসাব চলে না।
- বিদেশে যত সুযোগ-সুবিধাই থাকুক, দেশের কথা মনে পড়ে। এই টানই প্রমাণ করে সম্পর্কটি বস্তুগত নয় — সুবিধা বেশি হলেও টান কমে না।
- কর সময়মতো দেওয়া, পরিবেশ রক্ষা করা, দুর্নীতি না করা এবং নিজের কাজটি ঠিকমতো করা। দেশপ্রেম কেবল উৎসবের দিনের আবেগ নয়, প্রতিদিনের কর্তব্য।
- কারণ তা সংকীর্ণতা। নিজের দেশকে ভালোবাসা আর অন্যকে ছোট করা এক জিনিস নয় — প্রথমটি গড়ে, দ্বিতীয়টি কেবল বিভাজন বাড়ায়।
- দেশকে ভালোবাসার প্রমাণ কথায় নয়, দৈনন্দিন কাজে — এই কথাটি দিয়ে শেষ করলে উত্তরটি আবেগসর্বস্ব না হয়ে দায়িত্বনিষ্ঠ শোনায়।
- জন্মভূমির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে মাটি, ভাষা ও শৈশবের স্মৃতি মিলে। যে নদী, যে মাঠ, যে উৎসবের ভেতর দিয়ে মানুষ বড় হয়, সেগুলো তার পরিচয়ের অংশ হয়ে যায় — আর সে কারণেই সম্পর্কটি যুক্তি দিয়ে নয়, অনুভূতি দিয়ে বাঁধা।
উপযোগী শ্রেণি: অষ্টম, নবম-দশম শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
সংস্কৃত শ্লোক “জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী” থেকে ভাবটি এসেছে, যার অর্থ মা ও জন্মভূমি স্বর্গের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। উত্তরে এই ব্যাখ্যাটি দিলে ভালো হয়।
আইন মানা, কর দেওয়া, পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, দুর্নীতিতে যুক্ত না হওয়া ও নিজের কাজ সততার সঙ্গে করা — এগুলোই দৈনন্দিন দেশপ্রেমের বাস্তব রূপ।
নয়, সেটি সংকীর্ণতা। নিজের দেশকে ভালোবাসা আর অন্য দেশকে ছোট করা সম্পূর্ণ আলাদা দুটি জিনিস — প্রথমটি গড়ে তোলে, দ্বিতীয়টি কেবল বিভাজন বাড়ায়। উত্তরে এই পার্থক্যটি রাখলে বক্তব্য পরিণত শোনায়।
না। বরং প্রবাসের টানই প্রমাণ করে সম্পর্কটি বস্তুগত নয় — বিদেশে সুযোগ-সুবিধা বেশি হলেও দেশের কথা মনে পড়ে। প্রবাসী শ্রমজীবী মানুষের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তিও বটে।
আরও ভাবসম্প্রসারণ পড়ো
ভাবসম্প্রসারণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















