আলস্য দুঃখের প্রসূতি
আলস্য দুঃখের প্রসূতি — ভাবসম্প্রসারণ মূলভাব, সম্প্রসারিত ভাব ও মন্তব্যসহ।
মূলভাব
আলস্য মানুষের সব দুঃখের জন্মদাত্রী। যে কাজ এড়িয়ে চলে, দারিদ্র্য, রোগ ও অপমান ধীরে ধীরে তার জীবনে জায়গা করে নেয়।
মূলভাবে কী লিখবে
প্রসূতি মানে জন্মদাত্রী। মূলভাবে বলতে হবে আলস্য দুঃখের সহচর নয়, জন্মদাতা — দারিদ্র্য, রোগ ও অপমান তারই সন্তান।
আলস্য ও বিশ্রামের পার্থক্যটি মূলভাবেই ছুঁয়ে গেলে ভালো: বিশ্রাম কাজের পরে আসে, আলস্য কাজের বদলে।
- প্রসূতি = জন্মদাত্রী।
- বিশ্রাম কাজের পরে, আলস্য কাজের বদলে।
সম্প্রসারিত ভাবে কোন পরিণাম দেখাবে
প্রথমে অর্থনৈতিক পরিণাম — কাজ এড়িয়ে চললে উপার্জন থেমে যায় এবং দারিদ্র্য স্থায়ী হয়। যে সুযোগ আজ হাতছাড়া হয়, তা সাধারণত ফিরে আসে না।
তারপর শারীরিক ও মানসিক পরিণাম — নিষ্ক্রিয় শরীরে রোগ বাসা বাঁধে, আর কর্মহীন মনে হতাশা ও আত্মগ্লানি জন্মায়। দুটি একে অপরকে বাড়িয়ে তোলে।
শেষে সামাজিক পরিণাম — অলস মানুষ ধীরে ধীরে পরিবারের বোঝা হয়ে দাঁড়ায় এবং সম্মান হারায়। এই অপমানই আলস্যের সবচেয়ে তিক্ত ফল।
- অর্থনৈতিক → শারীরিক → সামাজিক।
- তিনটি একে অপরকে বাড়ায়।
মন্তব্যে কী লিখবে
মন্তব্যে বলো আলস্যকে ছোট দোষ ভাবা সবচেয়ে বড় ভুল, কারণ তার ক্ষতি জমে জমে বড় হয়।
অলস মানুষকে ঘৃণা করার আহ্বান নয়, কর্মে উৎসাহের সুরেই শেষ করা ভালো।
সম্প্রসারিত ভাব
অলস মানুষ সময়কে সম্পদ মনে করে না। ফলে যে সুযোগগুলো পরিশ্রমীর হাতে সম্ভাবনায় পরিণত হয়, তার হাতে সেগুলো অপচয় হয়ে যায়। বছর শেষে সে দেখে, সমবয়সীরা অনেক দূর এগিয়ে গেছে আর সে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে।
আলস্যের ক্ষতি কেবল অর্থনৈতিক নয়, শারীরিক ও মানসিকও। অচল শরীরে রোগ বাসা বাঁধে, আর কর্মহীন মন হতাশা ও বিরক্তিতে ভরে ওঠে। কাজের মধ্যে যে আনন্দ থাকে, অলসতা মানুষকে তা থেকেও বঞ্চিত করে।
পরিবার ও সমাজেও অলস ব্যক্তি বোঝা হয়ে ওঠেন। তাঁর ওপর কেউ দায়িত্ব দিতে ভরসা পায় না, ফলে ধীরে ধীরে তিনি গুরুত্বহীন হয়ে পড়েন। এই গুরুত্বহীনতা থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি।
অথচ আলস্য কাটানো কঠিন কিছু নয়। ছোট কাজ দিয়ে দিন শুরু করা, নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে চলা এবং কাজকে ছোট ছোট ভাগে ভেঙে নেওয়া — এই তিনটি অভ্যাসই বেশিরভাগ অলসতাকে হারিয়ে দেয়।
মন্তব্য
তাই আলস্যকে নির্দোষ বিশ্রাম ভাবার সুযোগ নেই। কর্মেই সুখ, আর আলস্যেই দুঃখের সূচনা।
সাধারণ ভুল
পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।
- ✗ আলস্য ও বিশ্রামকে এক করে ফেলা। ✓ বিশ্রাম কাজের পরে, আলস্য কাজের বদলে — পার্থক্যটি টানা।
- ✗ কেবল দারিদ্র্যের কথা লেখা। ✓ রোগ, হতাশা ও সামাজিক অসম্মানের কথাও যুক্ত করা।
- ✗ অলস মানুষকে ঘৃণা করার সুরে শেষ করা। ✓ কর্মে উৎসাহের সুরে সিদ্ধান্ত টানা।
- ✗ আলস্যকে সাময়িক দোষ হিসেবে দেখা। ✓ জমে জমে বড় হওয়া ক্ষতির প্রক্রিয়াটি দেখানো।
- ✗ “প্রসূতি” শব্দের অর্থ এড়িয়ে যাওয়া। ✓ জন্মদাত্রী অর্থটি স্পষ্ট করে তবেই যুক্তিতে যাওয়া।
অনুশীলন
নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।
- আলস্য আর বিশ্রামের পার্থক্য কী?
- আলস্যের অর্থনৈতিক পরিণাম কী?
- শারীরিক ও মানসিক পরিণাম কীভাবে যুক্ত?
- সামাজিক পরিণামটি কী?
- আলস্য কাটানোর ব্যবহারিক উপায় কী?
- আলস্যকে বড় দোষ বলা হচ্ছে কেন?
- মন্তব্যে কোন সুরটি ধরবে?
উত্তর
- বিশ্রাম কাজের পরে আসে এবং পরবর্তী কাজের জন্য শক্তি জোগায়; আলস্য কাজের বদলে আসে এবং কাজটিকেই সরিয়ে দেয়। প্রথমটি প্রয়োজনীয়, দ্বিতীয়টি ক্ষতিকর।
- কাজ এড়িয়ে চললে উপার্জন থেমে যায় এবং দারিদ্র্য স্থায়ী হয়ে বসে। আজ হাতছাড়া হওয়া সুযোগ সাধারণত ফিরে আসে না — ক্ষতিটি তাই কেবল আজকের নয়।
- নিষ্ক্রিয় শরীরে রোগ বাসা বাঁধে, আর কর্মহীন মনে হতাশা ও আত্মগ্লানি জন্মায়। শরীর দুর্বল হলে মন আরও নিষ্ক্রিয় হয় — দুটি একে অপরকে বাড়িয়ে তোলে।
- অলস মানুষ ধীরে ধীরে পরিবারের বোঝা হয়ে দাঁড়ায় এবং সম্মান হারায়। এই অসম্মানই আলস্যের সবচেয়ে তিক্ত ফল, কারণ তা টাকায় পূরণ হয় না।
- কাজটি ছোট ছোট ভাগে ভাগ করা, নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা এবং প্রথম পাঁচ মিনিট শুরু করে ফেলা। শুরুর জড়তা কেটে গেলে কাজ নিজেই এগোয়।
- কারণ তার ক্ষতি একদিনে দেখা যায় না, জমে জমে বড় হয়। প্রতিদিনের সামান্য এড়িয়ে যাওয়া বছর শেষে বড় ব্যর্থতায় পরিণত হয় — এই সঞ্চয়ন প্রক্রিয়াটিই আলস্যকে বিপজ্জনক করে।
- কর্মে উৎসাহের সুর। অলস মানুষকে ঘৃণা করার আহ্বান নয়, বরং আলস্যকে ছোট দোষ ভাবার ভুলটি ধরিয়ে দেওয়াই মন্তব্যের কাজ।
উপযোগী শ্রেণি: ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
বিশ্রাম কাজের পর শক্তি ফিরে পাওয়ার উপায়, আর আলস্য কাজ এড়ানোর অভ্যাস। বিশ্রামের পর কাজ শুরু হয়, আলস্যের পর কেবল আরও দেরি হয় — এই পার্থক্যটি উত্তরে লেখা ভালো।
নির্দিষ্ট সময়সূচি, বড় কাজকে ছোট ভাগে ভাগ করা এবং দিনের শুরুতেই একটি কাজ শেষ করার অভ্যাস — এই ব্যবহারিক পরামর্শগুলো উত্তরকে কেবল নীতিকথা থেকে বাস্তবে নামিয়ে আনে।
কারণ তার ক্ষতি একদিনে দেখা যায় না, জমে জমে বড় হয়। প্রতিদিনের সামান্য এড়িয়ে যাওয়া বছর শেষে বড় ব্যর্থতায় পরিণত হয়, আর তখন আর সংশোধনের সময় থাকে না। এই সঞ্চয়ন প্রক্রিয়াটিই আলস্যকে অন্য দোষের চেয়ে বিপজ্জনক করে তোলে।
অর্থনৈতিক, শারীরিক-মানসিক ও সামাজিক। উপার্জন থেমে যাওয়া, রোগ ও হতাশা জন্মানো এবং পরিবারের বোঝা হয়ে সম্মান হারানো — তিনটি একসঙ্গে দেখালে যুক্তিটি সম্পূর্ণ হয় এবং কেবল দারিদ্র্যের কথায় আটকে থাকে না।
আরও ভাবসম্প্রসারণ পড়ো
ভাবসম্প্রসারণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















