কীর্তিমানের মৃত্যু নাই
কীর্তিমানের মৃত্যু নাই — ভাবসম্প্রসারণ মূলভাব, সম্প্রসারিত ভাব ও মন্তব্যসহ।
মূলভাব
দেহের মৃত্যু হলেও কীর্তিমান মানুষ তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকেন। মহৎ কীর্তি সময়ের সীমা মানে না।
মূলভাবে কী লিখবে
মূলভাবে বলতে হবে — দেহের মৃত্যু অনিবার্য, কিন্তু কীর্তির মৃত্যু নেই। কীর্তিমান মানুষ কাজের ভেতর দিয়ে বেঁচে থাকেন।
কীর্তি মানে এমন কাজ যা মানুষের কল্যাণে লাগে ও স্মরণীয় হয়ে থাকে। শব্দটির অর্থ পরিষ্কার করে নিলে ব্যাখ্যা নির্ভুল হয়।
- কীর্তি = কল্যাণকর স্মরণীয় কাজ।
- দেহ মরে, কীর্তি মরে না।
সম্প্রসারিত ভাবে কোন ক্ষেত্র নেবে
প্রথমে জ্ঞান ও সাহিত্যের ক্ষেত্র — লেখক, বিজ্ঞানী ও শিল্পীরা মৃত্যুর পরেও তাঁদের সৃষ্টির মধ্যে বেঁচে থাকেন। বই বা আবিষ্কার প্রজন্ম পেরিয়ে চলে।
তারপর সমাজসেবার ক্ষেত্র — যিনি বিদ্যালয় বা হাসপাতাল গড়েন, তাঁর নাম প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে, আর উপকৃত মানুষের স্মৃতিতে থেকে যায়।
শেষে সাধারণ মানুষের কীর্তি — খ্যাতি ছাড়াও কীর্তিমান হওয়া যায়। যে গাছ লাগান, যে প্রতিবেশীর বিপদে দাঁড়ান, তাঁর কাজও থেকে যায়।
- সৃষ্টি → প্রতিষ্ঠান → দৈনন্দিন কাজ।
- খ্যাতি শর্ত নয়।
মন্তব্যে কী লিখবে
মন্তব্যে বলো মৃত্যুকে ঠেকানো যায় না, কিন্তু কর্মের মাধ্যমে তাকে অতিক্রম করা যায়।
কেবল বিখ্যাত মানুষের প্রসঙ্গে থেমে গেলে উত্তরটি সংকীর্ণ হয় — সাধারণ মানুষের কীর্তির কথাও রাখা চাই।
সম্প্রসারিত ভাব
পৃথিবীতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ জন্মায় ও মারা যায়, কিন্তু ইতিহাস সবাইকে মনে রাখে না। মনে রাখে তাঁদেরই, যাঁরা এমন কিছু রেখে গেছেন যা পরবর্তী প্রজন্মের কাজে লাগে — একটি আবিষ্কার, একটি প্রতিষ্ঠান, একটি আন্দোলন কিংবা একটি বই।
কীর্তির বৈশিষ্ট্য হলো, তা মানুষের অনুপস্থিতিতেও কাজ করতে থাকে। যিনি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন, তাঁর মৃত্যুর পরও সেখানে শিক্ষার্থী পড়ে; যিনি চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, তাঁর অবর্তমানেও রোগী সুস্থ হয়।
কীর্তি মানেই বিশ্বখ্যাতি নয়। একজন শিক্ষক যদি প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিক্ষার্থীর মনে দাগ কাটেন, একজন কৃষক যদি নতুন কৌশল শিখিয়ে যান — সেগুলোও কীর্তি, ছোট পরিসরে হলেও স্থায়ী।
বিপরীত দিকটিও ভাবা দরকার। যে কেবল নিজের ভোগ নিয়ে ব্যস্ত থাকে, সে মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই বিস্মৃত হয়। ভোগ ফুরিয়ে যায়, কীর্তি থেকে যায়।
মন্তব্য
তাই আয়ু বাড়ানোর চিন্তার চেয়ে কীর্তি গড়ার চেষ্টাই মূল্যবান। কীর্তিমানের মৃত্যু কেবল দেহের, নামের নয়।
সাধারণ ভুল
পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।
- ✗ “কীর্তি” বলতে কেবল খ্যাতি বোঝানো। ✓ কল্যাণকর ও স্মরণীয় কাজ — এই অর্থটি ব্যবহার করা।
- ✗ কেবল বিখ্যাত ব্যক্তিদের উদাহরণ দেওয়া। ✓ সাধারণ মানুষের কীর্তির কথাও যুক্ত করা।
- ✗ মৃত্যুকে অস্বীকার করার মতো বাক্য লেখা। ✓ দেহের মৃত্যু স্বীকার করে কীর্তির স্থায়িত্ব দেখানো।
- ✗ কীর্তি ও সম্পদকে এক করে ফেলা। ✓ সম্পদ ফুরায়, কীর্তি থাকে — পার্থক্যটি দেখানো।
- ✗ তিন অনুচ্ছেদে একই ধরনের উদাহরণ দেওয়া। ✓ সৃষ্টি, প্রতিষ্ঠান ও দৈনন্দিন কাজ — তিন ক্ষেত্র থেকে নেওয়া।
অনুশীলন
নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।
- “কীর্তি” বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে?
- জ্ঞান ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে কীর্তি কীভাবে টিকে থাকে?
- বিখ্যাত না হয়েও কি কীর্তিমান হওয়া যায়?
- কীর্তি ও সম্পদের পার্থক্য কী?
- সমাজসেবার ক্ষেত্রে কোন দৃষ্টান্ত দেবে?
- মন্তব্যে কী লিখবে?
- উত্তরে কোন ভুলটি সবচেয়ে বেশি হয়?
উত্তর
- এমন কাজ যা মানুষের কল্যাণে লাগে এবং স্মরণীয় হয়ে থাকে। কেবল খ্যাতি বা প্রচার নয় — কল্যাণ ও স্থায়িত্ব দুটিই কীর্তির শর্ত।
- লেখক, বিজ্ঞানী ও শিল্পীরা মৃত্যুর পরেও তাঁদের সৃষ্টির মধ্যে বেঁচে থাকেন। একটি বই বা একটি আবিষ্কার প্রজন্ম পেরিয়ে চলে এবং নতুন পাঠক পায়।
- যায়। যে গাছ লাগান, যে প্রতিবেশীর বিপদে পাশে দাঁড়ান, যে শিক্ষার্থীকে বিনা পারিশ্রমিকে পড়ান — তাঁদের কাজও থেকে যায়। খ্যাতি কীর্তির শর্ত নয়।
- সম্পদ ভোগে ফুরায় এবং উত্তরাধিকারে ভাগ হয়ে যায়; কীর্তি ফুরায় না এবং ভাগ হলে কমে না। এ কারণেই কীর্তিকে মৃত্যুহীন বলা হয়েছে।
- যিনি বিদ্যালয়, হাসপাতাল বা গ্রন্থাগার গড়েন — তাঁর নাম প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে এবং উপকৃত মানুষের স্মৃতিতে বেঁচে থাকে।
- মৃত্যুকে ঠেকানো যায় না, কিন্তু কর্মের মাধ্যমে তাকে অতিক্রম করা যায় — এই কথাটি দিয়ে শেষ করলে উত্তরটি স্মরণীয় হয়।
- কেবল বিখ্যাত ব্যক্তিদের নামের তালিকা দিয়ে অনুচ্ছেদ ভরে ফেলা। তাতে মনে হয় কীর্তি কেবল খ্যাতিমানদের জন্য, অথচ ভাবটি তা বলছে না।
উপযোগী শ্রেণি: নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
কীর্তি বলতে এমন কাজ বোঝানো হয়েছে যা কর্তার অনুপস্থিতিতেও মানুষের উপকারে আসতে থাকে — প্রতিষ্ঠান, আবিষ্কার, রচনা বা সমাজ বদলে দেওয়া উদ্যোগ।
যায়। খ্যাতি নয়, স্থায়িত্বই কীর্তির শর্ত। ছোট পরিসরে করা কাজও যদি পরবর্তী প্রজন্মের উপকারে লাগে, তবে তা কীর্তি হিসেবেই গণ্য।
সম্পদ ভোগে ফুরায় এবং উত্তরাধিকারে ভাগ হয়ে যায়; কীর্তি ফুরায় না এবং ভাগ হলেও কমে না। এ কারণেই কীর্তিকে মৃত্যুহীন বলা হয়েছে — সম্পদ প্রজন্ম পেরোতেই শেষ হয়ে যায়, কীর্তি প্রজন্ম পেরিয়ে বাড়ে।
কেবল বিখ্যাতদের নাম দিলে মনে হয় কীর্তি খ্যাতিমানদের একচেটিয়া। যে গাছ লাগান বা প্রতিবেশীর বিপদে দাঁড়ান, তাঁর কাজও থেকে যায় — এই দৃষ্টান্ত যোগ করলে ভাবটি প্রত্যেক পাঠকের জন্য সত্য হয়ে ওঠে।
আরও ভাবসম্প্রসারণ পড়ো
ভাবসম্প্রসারণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















