মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে বয়সের মধ্যে নয় — ভাবসম্প্রসারণ ও মন্তব্যসহ।

মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে, বয়সের মধ্যে নয়

মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে বয়সের মধ্যে নয় — ভাবসম্প্রসারণ ও মন্তব্যসহ।

মূলভাব

মানুষের প্রকৃত আয়ু বছরে মাপা যায় না, মাপা যায় কাজে। যে কাজ মানুষের উপকারে লাগে, সেই কাজের ভেতরেই মানুষ মৃত্যুর পরও বেঁচে থাকে।

মূলভাবে কী লিখবে

পঙ্‌ক্তিটি কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের চেনা ভাবনার সঙ্গে মেলে, আর তার বক্তব্য একটিই — আয়ু বছরে নয়, কাজে মাপা হয়।

মূলভাবে বয়স ও কর্মের এই পার্থক্যটিই বলতে হবে: দীর্ঘ জীবন মানেই সার্থক জীবন নয়, আর স্বল্প জীবনও কর্মে অমর হতে পারে।

  • আয়ুর মাপ কর্মে, বছরে নয়।
  • স্বল্প জীবনও অমর হতে পারে।

সম্প্রসারিত ভাবে কাদের দৃষ্টান্ত দেবে

স্বল্পায়ু কিন্তু কর্মে অমর মানুষদের কথা বলো — কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য উনিশ বছর বয়সে মারা যান, তবু তাঁর কবিতা আজও পড়া হয়। ভাষাশহিদদের জীবনও সংক্ষিপ্ত ছিল।

তারপর বিপরীত দিক — দীর্ঘ জীবন কাটিয়েও যাঁরা কোনো চিহ্ন রাখেননি, তাঁদের নাম কেউ মনে রাখে না। সময় নয়, ব্যবহারই পার্থক্য গড়ে।

শেষে সাধারণ মানুষের কথা — খ্যাতি ছাড়াও কর্মে বেঁচে থাকা যায়। যে শিক্ষক শত শিক্ষার্থীকে গড়েন, তিনি তাঁদের ভেতরেই বেঁচে থাকেন।

  • স্বল্পায়ু কর্মবীর
  • দীর্ঘায়ু নিষ্ফল
  • খ্যাতি ছাড়াও অমরত্ব

মন্তব্যে কী লিখবে

মন্তব্যে বলো জীবনের দৈর্ঘ্য নিয়ে নয়, কাজের গভীরতা নিয়ে ভাবাই সার্থকতার পথ।

মৃত্যুচিন্তার ভারী সুর এড়িয়ে কর্মে উৎসাহের সুরে শেষ করলে উত্তরটি ভালো হয়।

সম্প্রসারিত ভাব

দীর্ঘ জীবন আর সার্থক জীবন এক নয়। অনেকে আশি বছর বেঁচেও কারও স্মৃতিতে থাকেন না; আবার কেউ অল্প বয়সে চলে গিয়েও প্রজন্মের পর প্রজন্ম আলোচিত হন। পার্থক্যটি সময়ের দৈর্ঘ্যে নয়, কাজের গভীরতায়।

ভাষা আন্দোলনের শহীদদের কথা ভাবা যাক। তাঁদের অধিকাংশই ছিলেন তরুণ, জীবনের বড় অংশ তাঁরা পাননি। তবু প্রতিটি একুশে ফেব্রুয়ারিতে তাঁরা ফিরে আসেন, কারণ তাঁদের কাজ একটি জাতির ভাষাকে রক্ষা করেছিল।

বিজ্ঞানী, লেখক, শিক্ষক ও চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও তা-ই। একটি আবিষ্কার, একটি বই কিংবা একজন গড়ে তোলা ছাত্র — এগুলোর মধ্য দিয়ে মানুষ নিজের সময়ের সীমা পেরিয়ে যায়। কর্মই তার দ্বিতীয় জীবন।

এ কথা সাধারণ মানুষের জন্যও সত্য। বড় খ্যাতি না থাকলেও সততা, স্নেহ ও দায়িত্ববোধের স্মৃতি পরিবার ও প্রতিবেশীর মনে বেঁচে থাকে।

মন্তব্য

তাই কত দিন বাঁচলাম তা নয়, কী রেখে গেলাম সেটাই বিবেচ্য। কর্মই মানুষকে মৃত্যুর ওপারে নিয়ে যায়।

সাধারণ ভুল

পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।

  • কেবল বিখ্যাত মানুষের উদাহরণ দেওয়া। সাধারণ শিক্ষক বা চিকিৎসকের কথাও যুক্ত করা।
  • দীর্ঘ জীবনকে ঢালাওভাবে নিন্দা করা। দৈর্ঘ্য নয়, ব্যবহারই পার্থক্য গড়ে — এই ভারসাম্য রাখা।
  • মৃত্যুচিন্তার ভারী সুরে উত্তর শেষ করা। কর্মে উৎসাহের সুরে সিদ্ধান্ত টানা।
  • কর্ম বলতে কেবল পেশাগত কাজ বোঝানো। সমাজের জন্য করা যেকোনো কল্যাণকর কাজকে অন্তর্ভুক্ত করা।
  • একই কথা তিন অনুচ্ছেদে ঘুরিয়ে লেখা। স্বল্পায়ু, দীর্ঘায়ু ও সাধারণ মানুষ — তিন কোণ থেকে যুক্তি দেওয়া।

অনুশীলন

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।

  1. বয়স ও কর্মের পার্থক্য এক বাক্যে কীভাবে বলবে?
  2. স্বল্পায়ু কর্মবীরের কোন দৃষ্টান্ত দেবে?
  3. খ্যাতি ছাড়া কি কর্মে বেঁচে থাকা যায়?
  4. “কর্ম” বলতে এখানে কী বোঝানো হচ্ছে?
  5. দীর্ঘ জীবন কি নিন্দনীয়?
  6. সম্প্রসারিত ভাব কয় কোণ থেকে সাজাবে?
  7. মন্তব্যে কোন সুরটি ধরবে?

উত্তর

  1. বয়স জানায় কতদিন বেঁচে ছিলে, কর্ম জানায় কতটা বেঁচে ছিলে। প্রথমটি সংখ্যা, দ্বিতীয়টি অর্থ — আর মানুষ মনে রাখে দ্বিতীয়টিকেই।
  2. কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য উনিশ বছর বয়সে মারা যান, তবু তাঁর কবিতা আজও পড়া হয়। ভাষা আন্দোলনের শহিদদের জীবনও সংক্ষিপ্ত ছিল, অথচ তাঁরা জাতির স্মৃতিতে স্থায়ী।
  3. যায়। যে শিক্ষক শত শিক্ষার্থীকে গড়েন, তিনি তাঁদের ভেতরেই বেঁচে থাকেন; যে চিকিৎসক নিঃস্বার্থে সেবা দেন, রোগীর পরিবারে তাঁর নাম থেকে যায়। অমরত্বের জন্য খ্যাতি শর্ত নয়।
  4. কেবল পেশাগত কাজ নয়, সমাজের জন্য করা যেকোনো কল্যাণকর কাজ। প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়ানো বা একটি গাছ লাগানোও এই অর্থে কর্ম।
  5. না। ভাবটি দৈর্ঘ্যকে নিন্দা করছে না, বলছে দৈর্ঘ্য নিজে কোনো অর্জন নয়। দীর্ঘ জীবনে বেশি কাজ করা সম্ভব — প্রশ্ন হলো সেই সময়টি কীভাবে ব্যবহৃত হলো।
  6. তিন কোণ থেকে — স্বল্পায়ু কর্মবীর, দীর্ঘায়ু অথচ নিষ্ফল জীবন, এবং খ্যাতিহীন সাধারণ মানুষের কর্ম। তিনটি মিলে যুক্তিটি সম্পূর্ণ হয়।
  7. কর্মে উৎসাহের সুর — জীবনের দৈর্ঘ্য নিয়ে নয়, কাজের গভীরতা নিয়ে ভাবাই সার্থকতার পথ। মৃত্যুচিন্তার ভারী সুর এড়িয়ে চলাই ভালো।

উপযোগী শ্রেণি: নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আরও ভাবসম্প্রসারণ পড়ো

ভাবসম্প্রসারণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকো

পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।