দশে মিলি করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ
দশে মিলি করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ — ভাবসম্প্রসারণ ও মন্তব্যসহ।
মূলভাব
সবাই মিলে কাজ করলে জয়-পরাজয় নিয়ে লজ্জার কিছু থাকে না, কারণ দায়িত্ব ও ফল দুটিই ভাগ হয়ে যায়। সম্মিলিত প্রচেষ্টাই সাফল্যের নিরাপদতম পথ।
মূলভাবে কী লিখবে
পঙ্ক্তিটির পরের অংশ — হারি জিতি নাহি লাজ। মূলভাবে দুটি অংশ একসঙ্গে ধরতে হবে: সম্মিলিত কাজে দায়িত্ব ভাগ হয়, তাই ফল যাই হোক লজ্জার কিছু থাকে না।
অনেকে কেবল প্রথম অংশ ব্যাখ্যা করে থেমে যায়। দ্বিতীয় অংশটিই ভাবটিকে আলাদা করে — এটি ঐক্যের কথা নয়, ঝুঁকি ভাগ করার কথা।
- পরের অংশ — হারি জিতি নাহি লাজ।
- কেবল ঐক্য নয়, ঝুঁকি ভাগ।
সম্প্রসারিত ভাবে কোন দিক জোর দেবে
প্রথমে দায়িত্ব ভাগের যুক্তি — একা কাজ করলে ব্যর্থতার পুরো ভার একজনের ওপর পড়ে, আর সেই ভয়ে অনেকে শুরুই করে না। দল থাকলে ঝুঁকি নেওয়া সহজ হয়।
তারপর সামর্থ্যের যুক্তি — দলের প্রত্যেকের আলাদা দক্ষতা থাকে, আর সেগুলো মিলে এমন কাজ সম্ভব হয় যা কারও একার পক্ষে সম্ভব নয়।
শেষে সতর্কতা — দলগত কাজ ব্যর্থ হয় যখন দায়িত্ব স্পষ্ট থাকে না বা কেউ কেউ ফাঁকি দেয়। ঐক্যের সঙ্গে জবাবদিহি না থাকলে ফল আসে না।
- ঝুঁকি ভাগ হয়।
- দক্ষতা যোগ হয়।
- দরকার জবাবদিহি।
মন্তব্যে কী লিখবে
মন্তব্যে বলো সম্মিলিত প্রচেষ্টাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ, তবে তার শর্ত স্পষ্ট দায়িত্ব ও পারস্পরিক আস্থা।
শর্তটি উল্লেখ করলে উত্তরটি নিছক প্রশংসাবাক্য থাকে না।
সম্প্রসারিত ভাব
একা কাজ করলে ভুলের বোঝাও একার, সাফল্যের চাপও একার। দলবদ্ধ কাজে পরিশ্রম ভাগ হয়, বুদ্ধি যুক্ত হয়, আর কেউ একজন ভুল করলে বাকিরা তা শুধরে দিতে পারে। ফলে কাজটি ভালো হয় এবং ব্যক্তির ওপর অযৌক্তিক চাপ পড়ে না।
পরাজয়ের ক্ষেত্রেও দলগত কাজ মানুষকে ভেঙে পড়া থেকে বাঁচায়। সবাই মিলে চেষ্টা করে হেরে গেলে সেই হার শিক্ষায় পরিণত হয়, লজ্জায় নয়। এ কারণেই প্রবাদটি বলে, একসঙ্গে কাজ করলে হার-জিতে লজ্জা নেই।
বিদ্যালয়ের দলগত প্রকল্প, খেলার মাঠের দল কিংবা দুর্যোগে স্বেচ্ছাসেবীদের কাজ — সবখানেই দেখা যায়, সমন্বয় থাকলে অল্প সময়ে অনেক বড় কাজ সম্পন্ন হয়। বন্যার সময় পাড়ার তরুণেরা মিলে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার দৃশ্য আমাদের চেনা।
তবে দলগত কাজের শর্ত হলো দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া। যে দলে কয়েকজন কাজ করে আর বাকিরা কেবল নাম লেখায়, সে দল সাফল্য পায় না — সেখানে ঐক্য নামমাত্র।
মন্তব্য
তাই একক কৃতিত্বের মোহ ছেড়ে সম্মিলিত উদ্যোগে অভ্যস্ত হওয়া দরকার। দশজনে মিলে করা কাজে সাফল্য বড় হয়, ব্যর্থতা ছোট।
সাধারণ ভুল
পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।
- ✗ কেবল প্রথম অংশ ব্যাখ্যা করা। ✓ “হারি জিতি নাহি লাজ” অংশটিও ব্যাখ্যা করা।
- ✗ দলগত কাজের কেবল সুফল লেখা। ✓ দায়িত্ব অস্পষ্ট থাকলে দল ব্যর্থ হয় — সতর্কতাটিও দেওয়া।
- ✗ ভাবটিকে হুবহু “একতাই বল”-এর মতো ব্যাখ্যা করা। ✓ এখানে ঝুঁকি ভাগ করার দিকটিই আলাদা — সেটি তুলে ধরা।
- ✗ ব্যক্তির উদ্যোগকে অস্বীকার করা। ✓ ব্যক্তির দক্ষতা দলে যুক্ত হলেই ফল দেয় — এই সংগতি দেখানো।
- ✗ জবাবদিহির কথা বাদ দেওয়া। ✓ ঐক্যের সঙ্গে জবাবদিহি না থাকলে ফল আসে না — এটি বলা।
অনুশীলন
নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।
- পঙ্ক্তিটির পরের অংশ কী এবং তা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
- দল থাকলে ঝুঁকি নেওয়া সহজ হয় কেন?
- দলগত কাজে সামর্থ্য কীভাবে বাড়ে?
- দলগত কাজ কখন ব্যর্থ হয়?
- এই ভাব আর “একতাই বল” কি একই?
- ব্যক্তির উদ্যোগের জায়গা কোথায়?
- মন্তব্যে কোন শর্তটি উল্লেখ করবে?
উত্তর
- “হারি জিতি নাহি লাজ”। এই অংশটিই ভাবটিকে আলাদা করে — কথাটি কেবল ঐক্যের নয়, ঝুঁকি ও দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার। শুধু প্রথম অংশ ব্যাখ্যা করলে ভাবটি অসম্পূর্ণ থাকে।
- কারণ একা কাজ করলে ব্যর্থতার পুরো ভার একজনের ওপর পড়ে, আর সেই ভয়ে অনেকে শুরুই করে না। দলে সেই ভার ভাগ হয়ে যায় বলে নতুন কিছু চেষ্টা করা সম্ভব হয়।
- দলের প্রত্যেকের আলাদা দক্ষতা থাকে, আর সেগুলো মিলে এমন কাজ সম্ভব হয় যা কারও একার পক্ষে সম্ভব নয়। দক্ষতাগুলো যোগ হয়, ভাগ হয় না।
- যখন দায়িত্ব স্পষ্টভাবে ভাগ করা থাকে না বা কেউ কেউ ফাঁকি দেয়। ঐক্য থাকলেও জবাবদিহি না থাকলে কাজ এগোয় না — এই সতর্কতাটি উত্তরে থাকা দরকার।
- কাছাকাছি, তবে এক নয়। “একতাই বল” সংঘবদ্ধ শক্তির কথা বলে, আর এই পঙ্ক্তি বলে ঝুঁকি ও দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার কথা। পার্থক্যটি উত্তরে ধরতে পারলে ব্যাখ্যা আলাদা হয়।
- ভাবটি ব্যক্তির উদ্যোগকে অস্বীকার করছে না। ব্যক্তির দক্ষতা ও উদ্যোগ দলে যুক্ত হলেই সবচেয়ে ভালো ফল দেয় — একক প্রতিভা আর সম্মিলিত প্রয়াস পরস্পরের বিকল্প নয়।
- স্পষ্ট দায়িত্ব ও পারস্পরিক আস্থা। এই শর্ত দুটি উল্লেখ করলে উত্তরটি নিছক প্রশংসাবাক্য থাকে না, বাস্তব পরামর্শে পরিণত হয়।
উপযোগী শ্রেণি: ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
দায়িত্ব ও ফলাফল দুটিরই ভাগাভাগির দিকটি জোর দাও — এতে পরিশ্রম কমে, ভুল ধরা পড়ে এবং ব্যর্থতার মানসিক চাপ ভাগ হয়ে যায়।
যখন দায়িত্ব স্পষ্টভাবে ভাগ করা হয় না এবং কয়েকজনের ওপর পুরো কাজের ভার পড়ে। সমন্বয় ও জবাবদিহি ছাড়া দল কেবল নামেই দল থাকে।
কাছাকাছি, তবে এক নয়। “একতাই বল” সংঘবদ্ধ শক্তির কথা বলে; এই পঙ্ক্তি বলে ঝুঁকি ও দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার কথা, যাতে হার-জিত নিয়ে লজ্জার কিছু না থাকে। পার্থক্যটি ধরতে পারলে দুটি ভাবের উত্তর আলাদা হয়ে যায়।
কারণ দায়িত্ব স্পষ্ট না থাকলে প্রত্যেকে ভাবে কাজটি অন্য কেউ করবে, আর শেষে কেউই করে না। ঐক্যের সঙ্গে স্পষ্ট দায়িত্ব ও জবাবদিহি যুক্ত হলে তবেই সম্মিলিত প্রয়াস ফল দেয়।
আরও ভাবসম্প্রসারণ পড়ো
ভাবসম্প্রসারণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















