সারমর্ম — পরনিন্দা
পরনিন্দা ও আত্মসমালোচনা নিয়ে নমুনা পদ্যাংশের সারমর্ম ও ব্যাখ্যাসহ।
সারাংশ
অন্যের দোষ খোঁজায় ব্যস্ত মানুষ নিজের ত্রুটি দেখতে পায় না। কবি বলতে চেয়েছেন, পরনিন্দা ছেড়ে আত্মসমালোচনায় মন দিলেই মানুষ প্রকৃত উন্নতি করতে পারে।
মূল পদ্যাংশ (অনুশীলনের জন্য রচিত নমুনা)
পরের ছিদ্র খুঁজিতে যে জন কাটায় সারাটি বেলা, / নিজের ঘরের ফাটল দেখিতে পায় না সে কোনোকালা। / আয়না ধরিয়া অন্যের মুখে দোষ গুনে যায় যেই, / আপন মুখের কালিমা মুছিতে সময় থাকে না সেই।
উপদেশ ও ভাবের সীমা
পরচর্চাবিষয়ক পদ্যাংশে কবি প্রায়ই সরাসরি নিষেধ করেন। সেই নিষেধটি ভাবের অংশ, তাই সারমর্মে থাকবে।
কিন্তু সারমর্মকারীর নিজের উপদেশ — “তাই আমাদের পরচর্চা এড়িয়ে চলা উচিত” — যোগ করা যায় না, যদি না কবি তা বলে থাকেন।
- কবির নিষেধ থাকে।
- নিজের উপদেশ বাদ।
একাধিক রূপক থাকলে
পরচর্চাকে দেখানো হয় নানা রূপকে — বিষ, আগুন, কাঁটা। সব রূপকের অর্থ ব্যাখ্যা করার দরকার নেই।
যেগুলো ভিন্ন দিক দেখায় সেগুলোর অর্থ রাখো — বিষ যদি ধীর ক্ষতি বোঝায় আর আগুন দ্রুত ধ্বংস, তবে দুটিই আলাদা তথ্য।
কিন্তু তিনটি রূপক যদি একই কথা বলে, একটির অর্থই যথেষ্ট। রূপকের সংখ্যা নয়, অর্থের সংখ্যাই এখানে হিসাব।
- ভিন্ন দিক → রাখো।
- হিসাব — অর্থের সংখ্যা।
ক্ষতির দিকটি স্পষ্ট রাখো
পরচর্চার ক্ষতি দুই দিকে — যার সম্পর্কে বলা হচ্ছে তার, এবং যে বলছে তার নিজের। দ্বিতীয়টি প্রায়ই বাদ পড়ে যায়।
কবি যদি দুটিই বলে থাকেন, সারমর্মে দুটিই রাখতে হবে — কারণ নিজের ক্ষতির কথাটিই ভাবটিকে গভীরতা দেয়।
- ক্ষতি দুই দিকে।
ব্যাখ্যা
পদ্যাংশে পরনিন্দার অভ্যাস ও আত্মসমালোচনার অভাব — দুটি দিক পাশাপাশি রাখা হয়েছে।
“আয়না”, “কালিমা” ও “ফাটল” রূপকে বোঝানো হয়েছে নিজের ত্রুটি; সারমর্মে সেই অর্থই সরাসরি লেখা হয়েছে।
এই পদ্যাংশের সারমর্ম লিখতে গিয়ে অনেকে কেবল পরনিন্দার নিন্দা করে থামে। কিন্তু কবির বক্তব্যের দ্বিতীয় অর্ধেক — আত্মসমালোচনার প্রয়োজন — বাদ পড়লে ভাবটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
মন্তব্য
নীতিমূলক পদ্যাংশে সারমর্ম হবে সংক্ষিপ্ত ও সরাসরি, অলংকার সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে।
সাধারণ ভুল
পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।
- ✗ নিজের উপদেশ যোগ করা। ✓ কবির নিষেধেই সীমিত থাকা।
- ✗ প্রতিটি রূপকের অর্থ আলাদা করে লেখা। ✓ একই অর্থের রূপকগুলোর অর্থ একবারে লেখা।
- ✗ কেবল অন্যের ক্ষতির কথা লেখা। ✓ যে পরচর্চা করে তার নিজের ক্ষতিও রাখা।
- ✗ রূপকগুলো হুবহু রেখে দেওয়া। ✓ রূপকের অর্থ সরল গদ্যে বসানো।
- ✗ সারমর্মে নীতিবাক্য বসানো। ✓ কবির ভাবটিই প্রকাশ করা।
- ✗ কবির কড়া সুর নরম করে ফেলা। ✓ নিষেধাত্মক সুরটি সারমর্মেও ধরে রাখা।
অনুশীলন
নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।
- সারমর্মে কি উপদেশ যোগ করা যায়?
- একাধিক রূপক থাকলে সব ব্যাখ্যা করতে হবে?
- ভিন্ন দিক বলতে কী বোঝায়?
- পরচর্চার ক্ষতি কয় দিকে?
- নিজের ক্ষতির কথাটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
- রূপক হুবহু রাখলে কী হয়?
- কবির নিষেধ ও নিজের উপদেশ আলাদা করবে কীভাবে?
- পরচর্চাবিষয়ক পদ্যে সুর কেমন থাকে?
উত্তর
- কবি নিজে উপদেশ দিলে তা থাকবে, কারণ সেটি ভাবেরই অংশ। কিন্তু সারমর্মকারীর নিজের উপদেশ যোগ করা যায় না — এই সীমাটি এখানে সবচেয়ে সহজে লঙ্ঘিত হয়।
- না। যেগুলো ভিন্ন দিক দেখায় কেবল সেগুলোর অর্থ রাখতে হবে। তিনটি রূপক একই কথা বললে একটির অর্থই যথেষ্ট — হিসাবটি রূপকের সংখ্যায় নয়, অর্থের সংখ্যায়।
- বিষ যদি ধীর ক্ষতি বোঝায় আর আগুন দ্রুত ধ্বংস, তবে দুটি আলাদা তথ্য দিচ্ছে — দুটিই রাখতে হবে। একই ক্ষতির কথা বললে একটিই যথেষ্ট।
- দুই দিকে — যার সম্পর্কে বলা হচ্ছে তার, এবং যে বলছে তার নিজের। দ্বিতীয়টি প্রায়ই বাদ পড়ে, অথচ সেটিই ভাবটিকে গভীরতা দেয়।
- কারণ তা দেখায় পরচর্চা কেবল অন্যের প্রতি অন্যায় নয়, নিজের চরিত্র ও সম্পর্কেরও ক্ষতি। এই যুক্তিটিই নিষেধটিকে কেবল নীতিবাক্য থেকে আলাদা করে।
- সারমর্মটি পদ্যের গদ্যরূপ হয়ে দাঁড়ায়। সারমর্মের কাজ রূপক খুলে অর্থ দেখানো, রূপক বহন করা নয়।
- পদ্যাংশে নিষেধসূচক শব্দ আছে কি না দেখো। থাকলে সেটি কবির — রাখো। না থাকলে যা যোগ করতে চাইছ তা তোমার নিজের, আর সেটি বাদ।
- সাধারণত সতর্ক ও নিষেধাত্মক। সারমর্মেও সেই সুরটি ধরে রাখতে হয় — নরম করে ফেললে কবির কড়া অবস্থানটি হারিয়ে যায়।
উপযোগী শ্রেণি: সপ্তম, অষ্টম শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
কবি যদি নিজেই উপদেশ দিয়ে থাকেন, তবে সেটি ভাবের অংশ হিসেবে লেখা যায়। নিজের পক্ষ থেকে নতুন উপদেশ যোগ করা যাবে না।
না। সব রূপক মিলে যে একটি ভাব তৈরি হয়েছে, সেটিই লিখতে হবে; প্রতিটি রূপকের আলাদা ব্যাখ্যা সারমর্মের কাজ নয়।
কারণ তা দেখায় পরচর্চা কেবল অন্যের প্রতি অন্যায় নয়, নিজের চরিত্র ও সম্পর্কেরও ক্ষতি। এই যুক্তিটিই নিষেধটিকে সাধারণ নীতিবাক্য থেকে আলাদা করে এবং ভাবটিকে গভীরতা দেয়।
পদ্যাংশে নিষেধসূচক শব্দ আছে কি না দেখো। থাকলে সেটি কবির — সারমর্মে রাখো। না থাকলে যা যোগ করতে চাইছ তা তোমার নিজের সংযোজন, আর সেটি বাদ যাবে।
আরও সারাংশ ও সারমর্ম পড়ো
সারাংশ ও সারমর্ম-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















