সারাংশ — স্বাস্থ্য রক্ষা
স্বাস্থ্য রক্ষা নিয়ে নমুনা গদ্যাংশের সারাংশ ও ব্যাখ্যাসহ অনুশীলন।
সারাংশ
স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। শরীর ও মন সুস্থ না থাকলে অর্থ, খ্যাতি বা জ্ঞান কোনোটিই উপভোগ করা যায় না, তাই নিয়মিত অভ্যাসের মাধ্যমে স্বাস্থ্য রক্ষা করাই প্রথম কর্তব্য।
মূল অংশ (অনুশীলনের জন্য নমুনা)
মানুষ সারা জীবন ছুটে বেড়ায় অর্থ ও প্রতিষ্ঠার পেছনে। কিন্তু শরীর একবার ভেঙে পড়লে সেই অর্জিত সম্পদের কোনোটিই আর আনন্দ দেয় না। শয্যাশায়ী মানুষের কাছে সবচেয়ে দামি জিনিসও মূল্যহীন মনে হয়। অথচ স্বাস্থ্য রক্ষার নিয়মগুলো জটিল নয় — পরিমিত আহার, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত পরিশ্রম ও পরিচ্ছন্নতা। মুশকিল হলো, এই সহজ নিয়মগুলোই আমরা সবচেয়ে বেশি অবহেলা করি এবং রোগ ধরা পড়ার পর আফসোস করি। ভালো থাকার চেষ্টা রোগ হওয়ার পরে নয়, তার আগেই শুরু করতে হয়।
তালিকা থাকলে কী করবে
এই অনুচ্ছেদে স্বাস্থ্যরক্ষার একাধিক উপায় তালিকার মতো এসেছে। সারাংশে তালিকাটি তালিকা হিসেবে রাখা যায় না।
তালিকার সব উপাদানকে একটি সাধারণ শব্দে গুটিয়ে নিতে হয় — “নিয়মিত ঘুম, সুষম খাদ্য ও ব্যায়াম” হয়ে যায় “দৈনন্দিন সুঅভ্যাস”।
তবে তালিকাটি যদি নিজেই বক্তব্য হয় — অর্থাৎ লেখক দেখাতে চান কত রকম কাজ দরকার — তখন দুই-তিনটি প্রতিনিধিত্বমূলক উপাদান রাখা যায়।
- তালিকা গুটিয়ে ফেলো।
- তালিকাই বক্তব্য হলে প্রতিনিধি রাখো।
সবচেয়ে সাধারণ ভুল
সবচেয়ে সাধারণ ভুল হলো মূল লেখার বাক্যগুলো একটু কেটে-ছেঁটে পরপর বসিয়ে দেওয়া। এতে সংক্ষেপ হয় ঠিকই, কিন্তু নিজের ভাষা থাকে না।
দ্বিতীয় সাধারণ ভুল উদাহরণ ধরে রাখা, আর তৃতীয়টি নিজের মতামত যোগ করা। এই তিনটিতেই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটা যায়।
- কেটে-ছেঁটে তোলা নয়।
- তিন ভুল — নকল, উদাহরণ, মতামত।
যাচাইয়ের অভ্যাস
লেখা শেষে মূল অংশটি ঢেকে রেখে নিজের সারাংশটি পড়ো। যদি বক্তব্য পরিষ্কার বোঝা যায়, সারাংশটি সফল।
তারপর মিলিয়ে দেখো কোনো বক্তব্য বাদ পড়েছে কি না এবং কোনো উদাহরণ রয়ে গেছে কি না — দুই দিকেই যাচাই লাগে।
- ঢেকে রেখে পড়ো।
- দুই দিকেই মেলাও।
ব্যাখ্যা
মূল বক্তব্য হলো স্বাস্থ্যের অগ্রাধিকার এবং প্রতিরোধের গুরুত্ব। সারাংশে এই দুটি ধারণাই সংক্ষেপে রাখা হয়েছে।
শয্যাশায়ী মানুষের দৃষ্টান্ত ও নিয়মগুলোর তালিকা বাদ দিয়ে এক কথায় “নিয়মিত অভ্যাস” বলা হয়েছে, যাতে সারাংশ সংক্ষিপ্ত থাকে।
মন্তব্য
তালিকাভুক্ত উদাহরণগুলোকে একটি সাধারণ পদে রূপান্তর করাই সংক্ষেপণের প্রধান কৌশল, যা সারাংশকে ছোট ও স্পষ্ট রাখে।
সাধারণ ভুল
পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।
- ✗ তালিকাটি হুবহু সারাংশে তুলে দেওয়া। ✓ সাধারণ শব্দে গুটিয়ে ফেলা।
- ✗ মূল লেখার বাক্য কেটে-ছেঁটে বসানো। ✓ নিজের ভাষায় নতুন করে লেখা।
- ✗ উদাহরণ ধরে রাখা। ✓ উদাহরণ বাদ দিয়ে সিদ্ধান্ত রাখা।
- ✗ নিজের মতামত যোগ করা। ✓ লেখকের বক্তব্যেই সীমিত থাকা।
- ✗ লেখা শেষে যাচাই না করা। ✓ ঢেকে রেখে পড়ে বক্তব্য পরিষ্কার কি না দেখা।
অনুশীলন
নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।
- মূল অংশে তালিকা থাকলে সারাংশে কী করব?
- সারাংশ লেখার সময় সবচেয়ে সাধারণ ভুল কী?
- তালিকাটি নিজেই বক্তব্য হলে কী করবে?
- লেখা শেষে কীভাবে যাচাই করবে?
- কোন তিনটি ভুলে সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটা যায়?
- যাচাই দুই দিকে করতে হয় কেন?
- নিজের ভাষা মানে কী?
- সারাংশে বাড়তি অংশ চিনবে কীভাবে?
উত্তর
- তালিকার উপাদানগুলো একটি সাধারণ শব্দে গুটিয়ে নিতে হয় — “নিয়মিত ঘুম, সুষম খাদ্য ও ব্যায়াম” হয়ে যায় “দৈনন্দিন সুঅভ্যাস”।
- মূল লেখার বাক্যগুলো একটু কেটে-ছেঁটে পরপর বসিয়ে দেওয়া। এতে দৈর্ঘ্য কমে ঠিকই, কিন্তু নিজের ভাষা থাকে না — আর সেটিই সারাংশের প্রধান শর্ত।
- তখন দুই-তিনটি প্রতিনিধিত্বমূলক উপাদান রাখা যায়। লেখক যদি দেখাতে চান কত রকম কাজ দরকার, তবে সবটাই গুটিয়ে ফেললে সেই বক্তব্যটি হারায়।
- মূল অংশ ঢেকে রেখে নিজের সারাংশটি পড়ো — বক্তব্য পরিষ্কার বোঝা গেলে সারাংশটি সফল। তারপর মিলিয়ে দেখো কিছু বাদ পড়েছে কি না।
- মূল বাক্য হুবহু তোলা, উদাহরণ ধরে রাখা এবং নিজের মতামত যোগ করা। তিনটিই সহজে চোখে পড়ে বলে সরাসরি নম্বর কমায়।
- একদিকে দেখতে হয় কোনো বক্তব্য বাদ পড়েছে কি না, অন্যদিকে কোনো বাড়তি অংশ রয়ে গেছে কি না। একটি দেখে অন্যটি এড়িয়ে গেলে ভুল থেকেই যায়।
- বক্তব্যটি বুঝে নতুন বাক্যে লেখা — মূল লেখার শব্দক্রম বদলে দেওয়া নয়। শব্দ এদিক-ওদিক করলেই সেটি নিজের ভাষা হয় না।
- প্রতিটি বাক্য মুছে দেখো বক্তব্যটি অসম্পূর্ণ হয় কি না। না হলে বাক্যটি বাড়তি — এটিই বাদ দেওয়ার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা।
উপযোগী শ্রেণি: ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
তালিকার প্রতিটি উপাদান আলাদা করে না লিখে সবগুলোকে বোঝায় এমন একটি সাধারণ শব্দ ব্যবহার করতে হবে — যেমন খাদ্য, ঘুম ও ব্যায়ামের বদলে “স্বাস্থ্যকর অভ্যাস”।
মূল লেখার বাক্য হুবহু তুলে দেওয়া। এতে সারাংশ দীর্ঘ হয়ে যায় এবং নিজের ভাষায় লেখার শর্তটি ভঙ্গ হয়, ফলে নম্বর কাটা যায়।
বক্তব্যটি বুঝে নতুন বাক্যে লেখা — মূল লেখার শব্দক্রম বদলে দেওয়া নয়। কয়েকটি শব্দ এদিক-ওদিক করলেই সেটি নিজের ভাষা হয় না, আর পরীক্ষকও তা সহজে ধরে ফেলেন।
একদিকে দেখতে হয় কোনো বক্তব্য বাদ পড়েছে কি না, অন্যদিকে কোনো বাড়তি অংশ রয়ে গেছে কি না। একটি দেখে অন্যটি এড়িয়ে গেলে ভুল থেকেই যায় — দুই দিকের যাচাই মিলেই কাজটি সম্পূর্ণ হয়।
আরও সারাংশ ও সারমর্ম পড়ো
সারাংশ ও সারমর্ম-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















