মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

সারাংশ লেখার নিয়ম — ধাপে ধাপে পদ্ধতি, দৈর্ঘ্য ও সাধারণ ভুল এড়ানোর কৌশল।

সারাংশ লেখার নিয়ম

সারাংশ লেখার নিয়ম — ধাপে ধাপে পদ্ধতি, দৈর্ঘ্য ও সাধারণ ভুল এড়ানোর কৌশল।

সারাংশ

সারাংশ হলো কোনো গদ্যাংশের মূল বক্তব্য নিজের ভাষায় সংক্ষেপে লেখা। মূল রচনার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দৈর্ঘ্যে, এক অনুচ্ছেদে এবং উত্তম পুরুষ বাদ দিয়ে অন্য পুরুষে লিখতে হয়।

কাজের ধাপগুলো

সারাংশ লেখার কাজ পাঁচ ধাপে ভাগ করা যায় — মূল অংশ দুইবার পড়া, কেন্দ্রীয় বক্তব্য চিহ্নিত করা, বাদযোগ্য অংশ বাছাই, নিজের ভাষায় লেখা এবং শব্দসংখ্যা মিলিয়ে নেওয়া।

দ্বিতীয় ধাপটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় বক্তব্য এক বাক্যে নিজের কাছে বলে নিতে পারলে বাকি কাজ যান্ত্রিক হয়ে যায়।

  • পড়া → কেন্দ্রীয় বক্তব্য → বাদ → লেখা → গণনা।

কী বাদ যাবে, কী থাকবে

বাদ যাবে — উদাহরণ, উদ্ধৃতি, রূপক, পুনরাবৃত্তি, অলংকার ও বিস্তারিত বর্ণনা। থাকবে কেবল বক্তব্য ও তার যুক্তিক্রম।

রূপক বাদ দেওয়া মানে ভাব বাদ দেওয়া নয় — রূপকের অর্থটি সরল ভাষায় বসিয়ে দিতে হয়। এটিই সারাংশ লেখার সবচেয়ে সূক্ষ্ম কাজ।

লেখকের অবস্থান বদলানো যাবে না। তিনি যা সমর্থন করেছেন সারাংশেও তা-ই সমর্থিত থাকবে, আর যা খণ্ডন করেছেন তা খণ্ডিতই থাকবে।

  • বাদ — উদাহরণ, রূপক, পুনরাবৃত্তি
  • রূপকের অর্থ রাখো।

ভাষা ও দৈর্ঘ্য

সারাংশ লেখা হয় নিজের ভাষায় ও তৃতীয় পুরুষে, বর্তমান কালে। মূল লেখার বাক্য হুবহু তুলে দিলে সেটি সারাংশ নয়, উদ্ধৃতি হয়ে যায়।

দৈর্ঘ্য মূল অংশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বেশি হলে সংক্ষেপণ হয়নি, কম হলে বক্তব্য অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

  • নিজের ভাষায়, তৃতীয় পুরুষে।
  • দৈর্ঘ্য — এক-তৃতীয়াংশ

ব্যাখ্যা

প্রথম ধাপ হলো মূল অংশটি অন্তত দুবার মন দিয়ে পড়া। প্রথম পাঠে সামগ্রিক ভাব বোঝা যায়, দ্বিতীয় পাঠে প্রতিটি বাক্যের ভূমিকা স্পষ্ট হয়। এরপর কোন বাক্যগুলো মূল বক্তব্য বহন করছে আর কোনগুলো কেবল উদাহরণ বা অলংকার, তা আলাদা করে চিহ্নিত করতে হয়।

দ্বিতীয় ধাপে বাদ দিতে হয় পুনরাবৃত্তি, দৃষ্টান্ত, উপমা, উদ্ধৃতি ও অলংকারবহুল বর্ণনা। এগুলো লেখাকে সুন্দর করে ঠিকই, কিন্তু মূল ভাব বহন করে না। যা থাকবে তা হলো লেখকের মূল বক্তব্য ও তার যুক্তির কাঠামো।

তৃতীয় ধাপে নিজের ভাষায় এক অনুচ্ছেদে লিখতে হয়। মূল লেখার বাক্য হুবহু তুলে দেওয়া চলবে না; তাতে সারাংশ হয় না, উদ্ধৃতি হয়। ভাষা হবে সহজ, সরল ও সরাসরি — এবং সারাংশের কোনো আলাদা শিরোনাম দেওয়া হয় না।

মন্তব্য

অনুশীলনই এখানে একমাত্র পথ। প্রতিদিন একটি করে অনুচ্ছেদের সারাংশ লিখে মূল লেখার সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে অল্প দিনেই দক্ষতা তৈরি হয়ে যায়।

সাধারণ ভুল

পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।

  • মূল লেখার বাক্য হুবহু তুলে দেওয়া। নিজের ভাষায় বক্তব্যটি নতুন করে লেখা।
  • রূপক বাদ দিতে গিয়ে ভাবটিও বাদ দেওয়া। রূপকের অর্থটি সরল ভাষায় বসিয়ে দেওয়া।
  • নিজের মতামত বা উপদেশ যোগ করা। কেবল লেখকের বক্তব্য রাখা।
  • উদাহরণ ও উদ্ধৃতি রেখে দেওয়া। উদাহরণ বাদ দিয়ে কেবল সিদ্ধান্তটি রাখা।
  • সারাংশ প্রথম পুরুষে লেখা। তৃতীয় পুরুষে ও বর্তমান কালে লেখা।

অনুশীলন

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।

  1. সারাংশ লেখার ধাপগুলো কী কী?
  2. সারাংশ কত শব্দে লিখতে হয়?
  3. সারাংশে কি উদ্ধৃতি বা উদাহরণ রাখা যায়?
  4. সারাংশে কি শিরোনাম দিতে হয়?
  5. রূপক কীভাবে সামলাবে?
  6. কোন পুরুষে ও কোন কালে লিখবে?
  7. লেখকের অবস্থান নিয়ে কী সতর্কতা?
  8. সারাংশ লেখা শেষে কী যাচাই করবে?

উত্তর

  1. মূল অংশ দুইবার পড়া, কেন্দ্রীয় বক্তব্য চিহ্নিত করা, বাদযোগ্য অংশ বাছাই, নিজের ভাষায় লেখা এবং শেষে শব্দসংখ্যা মিলিয়ে নেওয়া।
  2. মূল অংশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বেশি হলে সংক্ষেপণ হয়নি বলে নম্বর কাটা যায়, আর অনেক কম হলে বক্তব্য অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
  3. না। উদাহরণ, উদ্ধৃতি, রূপক ও অলংকার সবই বাদ যায়। উদাহরণ যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, কেবল সেই সিদ্ধান্তটিই সারাংশে থাকবে।
  4. সাধারণত নয়। প্রশ্নে আলাদা করে শিরোনাম চাওয়া না হলে কেবল সারাংশটিই লিখতে হয় — বাড়তি শিরোনাম দিলে ফর্মটি ভুল হয়ে যায়।
  5. রূপকটি বাদ দিয়ে তার অর্থটি সরল ভাষায় বসিয়ে দিতে হয়। রূপক বাদ দেওয়া মানে ভাব বাদ দেওয়া নয় — এটিই সারাংশ লেখার সবচেয়ে সূক্ষ্ম কাজ।
  6. তৃতীয় পুরুষে ও বর্তমান কালে। প্রথম পুরুষে লিখলে মনে হয় লেখক নিজেই কথা বলছেন, যা সারাংশের রীতিবিরুদ্ধ।
  7. তিনি যা সমর্থন করেছেন সারাংশেও তা সমর্থিত থাকবে, আর যা খণ্ডন করেছেন তা খণ্ডিতই থাকবে। অবস্থান উল্টে গেলে পুরো সারাংশটিই ভুল হয়ে যায়।
  8. শব্দসংখ্যা মূল অংশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হয়েছে কি না, কোনো উদাহরণ রয়ে গেছে কি না এবং লেখকের অবস্থান অক্ষুণ্ন আছে কি না — এই তিনটি।

উপযোগী শ্রেণি: ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম-দশম শ্রেণি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আরও সারাংশ ও সারমর্ম পড়ো

সারাংশ ও সারমর্ম-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকো

পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।