অতি দর্পে হত লঙ্কা
অতি দর্পে হত লঙ্কা — ভাবসম্প্রসারণ মূলভাব, সম্প্রসারিত ভাব ও মন্তব্যসহ।
মূলভাব
অতিরিক্ত অহংকারই পতনের কারণ। যত বড় শক্তিই হোক, দম্ভ তাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় — লঙ্কার রাজা রাবণের পরিণতিই তার প্রমাণ।
মূলভাবে কী লিখবে
প্রবাদটির উৎস রামায়ণ — লঙ্কার রাজা রাবণের পতন। দর্প মানে অহংকার, আর হত মানে ধ্বংসপ্রাপ্ত।
মূলভাবে বলতে হবে অহংকার শক্তিকে রক্ষা করে না, ধ্বংস করে। রাবণের বল, বিদ্যা ও ঐশ্বর্য কোনোটিই তাঁকে বাঁচাতে পারেনি।
- উৎস — রামায়ণ, রাবণের পতন।
- দর্প = অহংকার।
সম্প্রসারিত ভাবে যুক্তির ধাপ
প্রথমে অহংকারের প্রক্রিয়া — অহংকার মানুষকে অন্ধ করে দেয়। সে পরামর্শ শোনে না, সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে এবং প্রতিপক্ষকে ছোট করে দেখে।
তারপর পরিণাম — সহযোগীরা দূরে সরে যায়, ভুল ধরিয়ে দেওয়ার কেউ থাকে না, আর ছোট ভুল জমে বড় বিপর্যয় হয়ে দাঁড়ায়।
শেষে ইতিহাস ও সমকাল — বহু সাম্রাজ্য ও প্রতিষ্ঠান পতনের আগে নিজেকে অজেয় ভেবেছিল। অহংকার তাই ব্যক্তিরও, প্রতিষ্ঠানেরও রোগ।
- অহংকার অন্ধ করে।
- ভুল ধরিয়ে দেওয়ার কেউ থাকে না।
- রোগটি প্রাতিষ্ঠানিকও।
মন্তব্যে কী লিখবে
মন্তব্যে বলো বিনয়ই শক্তিকে টিকিয়ে রাখে, কারণ বিনয়ী মানুষ সমালোচনা শুনতে পারে।
আত্মবিশ্বাসকে অহংকার বলে নিন্দা করা যাবে না — পার্থক্যটি স্পষ্ট রাখা জরুরি।
সম্প্রসারিত ভাব
অহংকার মানুষের বিচারবুদ্ধি নষ্ট করে দেয়। যে নিজেকে অজেয় ভাবে, সে পরামর্শ শোনে না, ঝুঁকি মাপে না এবং প্রতিপক্ষকে তুচ্ছ মনে করে। এই তিনটি ভুলই পতনের জন্য যথেষ্ট।
রামায়ণে রাবণ ছিলেন পাণ্ডিত্য ও শক্তিতে অসাধারণ। কিন্তু দম্ভের কারণে তিনি বিভীষণের সতর্কবাণী উপেক্ষা করেন এবং অন্যায়কে ন্যায় বলে চালাতে চান। ফলে সমৃদ্ধ লঙ্কা ধ্বংস হয়ে যায়।
ইতিহাসেও এমন দৃষ্টান্ত ভরপুর — বিশাল সাম্রাজ্য, অপরাজেয় ভাবা সেনাবাহিনী কিংবা প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান, নিজেদের অভ্রান্ত ভাবতে শুরু করার পরই ভেঙে পড়েছে। শক্তি নয়, শক্তির অহংকারই তাদের শত্রু ছিল।
ব্যক্তিজীবনেও একই কথা। যে শিক্ষার্থী প্রথম হয়ে ভাবে আর পড়ার দরকার নেই, পরের পরীক্ষাতেই সে হোঁচট খায়। বিনয় তাই দুর্বলতা নয়, শেখার দরজা খোলা রাখার উপায়।
মন্তব্য
তাই সামর্থ্য যত বাড়ুক, বিনয় হারানো চলবে না। অতিরিক্ত দম্ভ শক্তিশালীকেও ধ্বংস করে ছাড়ে।
সাধারণ ভুল
পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।
- ✗ আত্মবিশ্বাস ও অহংকারকে এক করে ফেলা। ✓ আত্মবিশ্বাস নিজের সামর্থ্যে ভরসা, অহংকার অন্যকে ছোট দেখা — পার্থক্যটি টানা।
- ✗ কেবল রামায়ণের কাহিনি বলে অনুচ্ছেদ ভরে ফেলা। ✓ কাহিনি সংক্ষেপে, জোর অহংকারের প্রক্রিয়ায়।
- ✗ অহংকারকে কেবল ব্যক্তিগত দোষ ভাবা। ✓ প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ দেখানো।
- ✗ “দর্প” শব্দের অর্থ এড়িয়ে যাওয়া। ✓ “অহংকার” অর্থটি স্পষ্ট করে নেওয়া।
- ✗ সাফল্যকেই অহংকারের কারণ বলে দাবি করা। ✓ সাফল্য নয়, সাফল্যের ভুল ব্যাখ্যাই অহংকার জন্মায় — এটি দেখানো।
- ✗ পতনের কারণ হিসেবে কেবল বাইরের শত্রুকে দায়ী করা। ✓ অহংকার যে ভেতর থেকেই দুর্বল করে দেয়, সেই প্রক্রিয়াটি দেখানো।
অনুশীলন
নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।
- প্রবাদটি কোন কাহিনি থেকে এসেছে?
- অহংকার মানুষকে কীভাবে অন্ধ করে?
- আত্মবিশ্বাস আর অহংকারের পার্থক্য কী?
- অহংকারীর চারপাশে কী ঘটে?
- অহংকার কি কেবল ব্যক্তিগত দোষ?
- সাফল্য কি অহংকারের কারণ?
- মন্তব্যে কী লিখবে?
- রাবণের কোন কোন সম্পদ তাঁকে বাঁচাতে পারেনি?
উত্তর
- রামায়ণ থেকে — লঙ্কার রাজা রাবণের পতনের কাহিনি। তাঁর বল, বিদ্যা ও ঐশ্বর্য কোনোটিই অহংকারের পরিণাম থেকে তাঁকে রক্ষা করতে পারেনি।
- সে পরামর্শ শোনে না, সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে এবং প্রতিপক্ষকে ছোট করে দেখে। ফলে বিপদ চোখের সামনে থাকলেও সে তা দেখতে পায় না।
- আত্মবিশ্বাস নিজের সামর্থ্যে ভরসা রাখা; অহংকার অন্যকে ছোট করে দেখা। প্রথমটি সমালোচনা শুনতে পারে, দ্বিতীয়টি পারে না — এখানেই আসল পার্থক্য।
- সহযোগীরা দূরে সরে যায় এবং ভুল ধরিয়ে দেওয়ার কেউ থাকে না। ফলে ছোট ভুল সংশোধিত না হয়ে জমতে থাকে এবং একদিন বড় বিপর্যয়ে পরিণত হয়।
- না। বহু সাম্রাজ্য ও প্রতিষ্ঠান পতনের ঠিক আগে নিজেকে অজেয় ভেবেছিল। অহংকার তাই প্রাতিষ্ঠানিক রোগও — এই বিস্তারটি উত্তরে থাকলে ব্যাখ্যা গভীর হয়।
- সাফল্য নয়, সাফল্যের ভুল ব্যাখ্যা। যে ভাবে সাফল্য কেবল তার নিজের কৃতিত্ব, সে অহংকারী হয়; যে সহযোগিতা ও সুযোগের ভূমিকা স্বীকার করে, সে হয় না।
- বিনয়ই শক্তিকে টিকিয়ে রাখে, কারণ বিনয়ী মানুষ সমালোচনা শুনতে পারে এবং সময়মতো নিজেকে সংশোধন করে নিতে পারে।
- বল, বিদ্যা ও ঐশ্বর্য — তিনটিই তাঁর ছিল, তবু পতন ঠেকেনি। প্রবাদটি তাই বলছে সামর্থ্য যত বড়ই হোক, অহংকার তাকে ভেতর থেকেই ফাঁপা করে দেয়।
উপযোগী শ্রেণি: অষ্টম, নবম-দশম শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
রামায়ণের লঙ্কাকাণ্ড থেকে। শক্তিশালী রাজা রাবণ অহংকারবশত সতর্কবাণী উপেক্ষা করেন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর রাজ্য ধ্বংস হয় — সেখান থেকেই প্রবাদটির জন্ম।
আত্মবিশ্বাস নিজের সামর্থ্যের বাস্তব মূল্যায়ন, আর অহংকার সেই মূল্যায়নের অতিরঞ্জন। আত্মবিশ্বাসী মানুষ পরামর্শ শোনে, অহংকারী শোনে না — এখানেই মূল পার্থক্য।
সাফল্য নয়, সাফল্যের ভুল ব্যাখ্যা। যে ভাবে অর্জনটি কেবল তার নিজের কৃতিত্ব, সে অহংকারী হয়; যে সহযোগিতা, সুযোগ ও পরিস্থিতির ভূমিকা স্বীকার করে, সে একই সাফল্যের পরেও বিনয়ী থাকে।
খাটে। বহু সাম্রাজ্য ও প্রতিষ্ঠান পতনের ঠিক আগে নিজেকে অজেয় ভেবেছিল এবং সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল। অহংকার তাই ব্যক্তিগত দোষের পাশাপাশি একটি প্রাতিষ্ঠানিক রোগও।
আরও ভাবসম্প্রসারণ পড়ো
ভাবসম্প্রসারণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















