গতিই জীবন, স্থিতিতে মৃত্যু
গতিই জীবন স্থিতিতে মৃত্যু — ভাবসম্প্রসারণ, মূলভাব ও মন্তব্যসহ।
মূলভাব
চলমানতাই জীবনের লক্ষণ; থেমে যাওয়া মানেই মৃত্যুর দিকে এগোনো। যে ব্যক্তি বা জাতি এগোতে থাকে, সে-ই বেঁচে থাকে।
মূলভাবে কী লিখবে
স্থিতি মানে থেমে থাকা। মূলভাবে বলতে হবে চলমানতাই জীবনের লক্ষণ, আর থেমে যাওয়া মানেই ক্ষয়ের শুরু।
এখানে গতি বলতে কেবল শারীরিক চলাচল নয়, চিন্তার ও কর্মের অগ্রগতিও বোঝানো হচ্ছে। অর্থটি প্রশস্ত করে নিলে ব্যাখ্যাও প্রশস্ত হয়।
- স্থিতি = থেমে থাকা।
- গতি = চিন্তা ও কর্মের অগ্রগতি।
সম্প্রসারিত ভাবে কোন দৃষ্টান্ত সাজাবে
প্রথমে প্রকৃতি — বহতা নদীর জল স্বচ্ছ থাকে, বদ্ধ জলাশয়ের জল পচে যায়। রক্ত চলাচল থামলে দেহ অচল হয়ে পড়ে।
তারপর ব্যক্তি — যে নতুন কিছু শেখা বন্ধ করে দেয়, তার দক্ষতা পুরনো হয়ে যায়। থেমে থাকা মানে কেবল একই জায়গায় থাকা নয়, পিছিয়ে পড়া।
শেষে জাতি — যে সমাজ পরিবর্তনকে ভয় পায়, সে সমাজ পিছিয়ে পড়ে। ইতিহাসে যে জাতি জ্ঞান-বিজ্ঞানে থেমে গেছে, সে-ই পরাধীন হয়েছে।
- প্রকৃতি → ব্যক্তি → জাতি।
- থেমে থাকা = পিছিয়ে পড়া।
মন্তব্যে কী লিখবে
মন্তব্যে বলো গতিই জীবনের ধর্ম, তবে সেই গতি হতে হবে সঠিক লক্ষ্যের দিকে।
যেকোনো গতিই ভালো নয় — লক্ষ্যহীন ছোটাছুটিও এক ধরনের অপচয়। এই সীমাটি উল্লেখ করলে উত্তরটি পরিণত হয়।
সম্প্রসারিত ভাব
প্রকৃতির দিকে তাকালেই কথাটি বোঝা যায়। বহতা নদীর পানি স্বচ্ছ থাকে, আর বদ্ধ জলাশয়ে শ্যাওলা জমে দুর্গন্ধ ছড়ায়। রক্ত চলাচল বন্ধ হলে শরীর অচল হয়ে পড়ে। গতি তাই কেবল সৌন্দর্য নয়, টিকে থাকার শর্ত।
জ্ঞানের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। যিনি শেখা বন্ধ করে দেন, তাঁর অর্জিত বিদ্যা দ্রুত পুরোনো হয়ে যায়। প্রযুক্তি প্রতি কয়েক বছরে বদলায়; যে নতুন কিছু শিখতে রাজি নয়, সে কর্মজগতে পিছিয়ে পড়ে।
জাতির ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য। যে সমাজ পুরোনো ধ্যানধারণা আঁকড়ে থাকে ও পরিবর্তনকে ভয় পায়, সে সমাজ স্থবির হয়ে যায়। উন্নত দেশগুলো এগিয়েছে গবেষণা, পরীক্ষা ও নতুনকে গ্রহণ করার সাহসের জোরে।
তবে গতি মানে দিকহীন ছোটাছুটি নয়। লক্ষ্যহীন গতি শক্তি ক্ষয় করে মাত্র; লক্ষ্যযুক্ত গতিই অগ্রগতি। কোন দিকে এগোচ্ছি — এই প্রশ্নটি গতির সঙ্গেই রাখতে হয়।
মন্তব্য
সুতরাং থেমে না থেকে নিয়ত এগিয়ে চলাই জীবনের ধর্ম। স্থবিরতা মানুষকে ভেতর থেকে নিঃশেষ করে দেয়।
সাধারণ ভুল
পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।
- ✗ যেকোনো গতিকেই কল্যাণকর বলা। ✓ লক্ষ্যহীন ছোটাছুটিও অপচয় — এই সীমা টানা।
- ✗ গতি বলতে কেবল শারীরিক চলাচল বোঝানো। ✓ চিন্তা ও কর্মের অগ্রগতিকেও অন্তর্ভুক্ত করা।
- ✗ কেবল প্রাকৃতিক উপমায় থেমে যাওয়া। ✓ ব্যক্তি ও জাতির স্তরেও যুক্তি নিয়ে যাওয়া।
- ✗ বিশ্রামকে স্থিতি বলে নিন্দা করা। ✓ বিশ্রাম গতির অংশ, স্থবিরতা নয় — পার্থক্যটি রাখা।
- ✗ “স্থিতি” শব্দের অর্থ এড়িয়ে যাওয়া। ✓ “থেমে থাকা” অর্থটি স্পষ্ট করে নেওয়া।
- ✗ গতিকে কেবল ব্যক্তিগত অগ্রগতি অর্থে ব্যবহার করা। ✓ সমাজ ও জাতির অগ্রগতিকেও গতির অন্তর্ভুক্ত করে দেখানো।
অনুশীলন
নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।
- এখানে কোন উপমা ব্যবহার করা ভালো?
- ব্যক্তির স্তরে থেমে যাওয়ার ফল কী?
- জাতির স্তরে যুক্তিটি কীভাবে সাজাবে?
- যেকোনো গতিই কি ভালো?
- বিশ্রাম কি স্থিতি?
- গতি বলতে কী কী বোঝানো হচ্ছে?
- মন্তব্যে কী লিখবে?
উত্তর
- বহতা নদী ও বদ্ধ জলাশয়ের তুলনা। বহতা নদীর জল স্বচ্ছ থাকে, বদ্ধ জলের জল পচে যায় — উপমাটি সহজ, চেনা এবং ভাবটিকে এক ছবিতেই বুঝিয়ে দেয়।
- যে নতুন কিছু শেখা বন্ধ করে দেয়, তার দক্ষতা পুরনো হয়ে যায়। থেমে থাকা মানে একই জায়গায় থাকা নয় — চারপাশ এগোতে থাকে বলে থেমে থাকা কার্যত পিছিয়ে পড়া।
- যে সমাজ পরিবর্তনকে ভয় পায়, সে পিছিয়ে পড়ে। ইতিহাসে যে জাতি জ্ঞান-বিজ্ঞানে থেমে গেছে, সে-ই পরাধীন হয়েছে — গতি তাই জাতীয় নিরাপত্তারও শর্ত।
- না। লক্ষ্যহীন ছোটাছুটি শক্তির অপচয় মাত্র। গতির সঙ্গে দিকনির্দেশ থাকা চাই — এই সীমাটি উত্তরে রাখলে ব্যাখ্যা আর ঢালাও প্রশংসা থাকে না।
- নয়। বিশ্রাম গতির অংশ — পরবর্তী পর্যায়ের জন্য শক্তি জোগায়। স্থবিরতা হলো এগোনোর ইচ্ছাটিই হারিয়ে ফেলা। দুটিকে এক করে ফেললে উত্তর ভুল বার্তা দেয়।
- শারীরিক চলাচল, চিন্তার বিকাশ ও কর্মের অগ্রগতি — তিনটিই। অর্থটি প্রশস্ত করে নিলে ভাবটি কেবল প্রকৃতির উপমায় আটকে থাকে না।
- গতিই জীবনের ধর্ম, তবে সেই গতি হতে হবে সঠিক লক্ষ্যের দিকে — এই দুই অংশ একসঙ্গে বললে সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়।
উপযোগী শ্রেণি: অষ্টম, নবম-দশম শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
বহতা নদী ও বদ্ধ জলাশয়ের তুলনাটি সবচেয়ে কার্যকর। সঙ্গে শরীরে রক্ত চলাচলের উদাহরণ যোগ করলে ভাবটি আরও স্পষ্ট হয়।
না। লক্ষ্যহীন গতি কেবল শক্তি অপচয় করে। উত্তরে উল্লেখ করা উচিত যে গতির সঙ্গে দিক ও উদ্দেশ্য থাকা চাই, তবেই তা অগ্রগতিতে পরিণত হয়।
নয়। বিশ্রাম গতিরই অংশ — পরবর্তী পর্যায়ের জন্য শক্তি জোগায়। স্থবিরতা হলো এগোনোর ইচ্ছাটিই হারিয়ে ফেলা। দুটিকে এক করে ফেললে উত্তর ভুল বার্তা দেয় এবং মনে হয় বিশ্রামও দোষের।
কারণ চারপাশ থেমে থাকে না। যে নতুন কিছু শেখা বন্ধ করে দেয়, তার দক্ষতা পুরনো হয়ে যায় এবং তুলনামূলক অবস্থান নিচে নেমে আসে — একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকেও সে আসলে পিছিয়ে যায়।
আরও ভাবসম্প্রসারণ পড়ো
ভাবসম্প্রসারণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















