মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

বিদ্যার চেয়ে বুদ্ধি বড় — ভাবসম্প্রসারণ মূলভাব, সম্প্রসারিত ভাব ও মন্তব্যসহ।

বিদ্যার চেয়ে বুদ্ধি বড়

বিদ্যার চেয়ে বুদ্ধি বড় — ভাবসম্প্রসারণ মূলভাব, সম্প্রসারিত ভাব ও মন্তব্যসহ।

মূলভাব

কেবল বইয়ের বিদ্যা যথেষ্ট নয়; বাস্তব পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার বুদ্ধিই বড়। বিদ্যা তথ্য দেয়, বুদ্ধি সেই তথ্যকে কাজে লাগাতে শেখায়।

মূলভাবে কী লিখবে

মূলভাবে বিদ্যা ও বুদ্ধির সম্পর্কটি বলতে হবে — বিদ্যা তথ্য দেয়, বুদ্ধি সেই তথ্যকে সময়মতো কাজে লাগায়।

এখানে বিদ্যাকে ছোট করা হচ্ছে না। বলা হচ্ছে বিদ্যা উপকরণ, আর বুদ্ধি তার প্রয়োগকৌশল — উপকরণ থাকলেও প্রয়োগ না জানলে ফল আসে না।

  • বিদ্যা = উপকরণ, বুদ্ধি = প্রয়োগ
  • বিদ্যাকে ছোট করা নয়

সম্প্রসারিত ভাবে কোন যুক্তি সাজাবে

প্রথমে পার্থক্য — বিদ্যা অর্জন করা যায় পড়ে, বুদ্ধি গড়ে ওঠে অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণে। বইয়ে সব পরিস্থিতির উত্তর লেখা থাকে না।

তারপর দৃষ্টান্ত — বিপদের মুহূর্তে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়, আর তখন বইয়ের পাতা ওল্টানোর সময় থাকে না। উপস্থিত বুদ্ধিই তখন কাজে লাগে।

শেষে সমন্বয় — বুদ্ধিহীন বিদ্যা নিষ্ফল, আবার বিদ্যাহীন বুদ্ধি অগভীর। দুটির মিলনেই মানুষ পূর্ণ হয়।

  • বিদ্যা পড়ে, বুদ্ধি অভিজ্ঞতায়
  • বিপদে উপস্থিত বুদ্ধি
  • শেষ কথা সমন্বয়

মন্তব্যে কী লিখবে

মন্তব্যে বলো বিদ্যার সঙ্গে বিচারবুদ্ধির চর্চা না থাকলে শিক্ষা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

বিদ্যাকে অপ্রয়োজনীয় বলে শেষ করা যাবে না — সমন্বয়ের কথাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

সম্প্রসারিত ভাব

অনেক তথ্য মুখস্থ থাকলেও সংকটের মুহূর্তে কী করতে হবে, তা না জানলে সেই বিদ্যা কাজে আসে না। বিদ্যা হলো সংগ্রহ, আর বুদ্ধি হলো প্রয়োগ — সংগ্রহ যত বড়ই হোক, প্রয়োগ ছাড়া তা অব্যবহৃত ভান্ডার।

গল্পে-উপকথায় এই পার্থক্য বারবার এসেছে: পণ্ডিত ব্যক্তি বইয়ের বিধান আওড়াচ্ছেন, আর সাধারণ এক ব্যক্তি উপস্থিত বুদ্ধিতে সমস্যাটি মিটিয়ে ফেলছেন। শিক্ষা হলো, উপস্থিত বুদ্ধি অনেক সময় দীর্ঘ পাণ্ডিত্যের চেয়ে কার্যকর।

তবে এ কথার অর্থ বিদ্যাকে ছোট করা নয়। বুদ্ধি বিদ্যার বিকল্প নয়, পরিপূরক। যে চিকিৎসকের বিদ্যা নেই, তাঁর উপস্থিত বুদ্ধি রোগীর উপকারে আসবে না; আবার বিদ্যা থাকলেও সিদ্ধান্তহীনতা রোগীর ক্ষতি করবে।

শিক্ষাব্যবস্থার জন্য এটি একটি বার্তা। কেবল মুখস্থ করানো নয়, সমস্যা সমাধান, বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার চর্চা শেখানো দরকার — তবেই বিদ্যা বুদ্ধিতে পরিণত হয়।

মন্তব্য

তাই বিদ্যা অর্জনের পাশাপাশি তা প্রয়োগের বুদ্ধি গড়ে তুলতে হবে। প্রয়োগহীন বিদ্যা বোঝা, আর বিদ্যাসম্পন্ন বুদ্ধিই শক্তি।

সাধারণ ভুল

পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।

  • বিদ্যাকে অপ্রয়োজনীয় বলে দাবি করা। বিদ্যা উপকরণ, বুদ্ধি প্রয়োগ — দুটির সমন্বয়ের কথা বলা।
  • বুদ্ধিকে জন্মগত গুণ ভাবা। অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণে বুদ্ধি গড়ে ওঠে — এটি দেখানো।
  • চালাকিকে বুদ্ধি বলে ব্যাখ্যা করা। বুদ্ধি মানে সঠিক সিদ্ধান্ত, ফাঁকি দেওয়ার কৌশল নয়।
  • কেবল সংজ্ঞা লিখে যাওয়া। বিপদের মুহূর্তের মতো বাস্তব দৃষ্টান্ত দেওয়া।
  • বিদ্যাহীন বুদ্ধিকে যথেষ্ট বলা। বিদ্যাহীন বুদ্ধি অগভীর — এই সীমাটিও বলা।
  • বুদ্ধিকে কেবল দ্রুত উত্তর দেওয়ার ক্ষমতা ভাবা। পরিস্থিতি বিচার করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াকেই বুদ্ধি বলা।

অনুশীলন

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।

  1. বিদ্যা ও বুদ্ধির পার্থক্য কী?
  2. এখানে কি বিদ্যাকে অবহেলা করা হয়েছে?
  3. উপস্থিত বুদ্ধির প্রয়োজন কখন সবচেয়ে বেশি?
  4. বুদ্ধি ও চালাকি কি এক?
  5. বুদ্ধি কি জন্মগত?
  6. বিদ্যাহীন বুদ্ধির সীমা কী?
  7. মন্তব্যে কী লিখবে?
  8. বইয়ে সব উত্তর থাকে না — এ কথা কীভাবে দেখাবে?

উত্তর

  1. বিদ্যা তথ্য দেয়, বুদ্ধি সেই তথ্যকে সময়মতো ও সঠিকভাবে কাজে লাগায়। বিদ্যা অর্জিত হয় পড়ে, বুদ্ধি গড়ে ওঠে অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণে।
  2. না। বিদ্যা উপকরণ, বুদ্ধি তার প্রয়োগকৌশল। উপকরণ ছাড়া প্রয়োগ অগভীর হয়, আবার প্রয়োগ না জানলে উপকরণ নিষ্ফল — ভাবটি এই সম্পর্কটিই দেখাচ্ছে।
  3. বিপদের মুহূর্তে, যখন দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং বইয়ের পাতা ওল্টানোর সময় থাকে না। বইয়ে সব পরিস্থিতির উত্তর লেখা থাকে না — সেই ফাঁকটিই বুদ্ধি পূরণ করে।
  4. নয়। বুদ্ধি মানে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা; চালাকি মানে ফাঁকি দেওয়ার কৌশল। দুটিকে এক করে ফেললে ভাবটির নৈতিক ভিত্তিই নষ্ট হয়ে যায়।
  5. পুরোপুরি নয়। পর্যবেক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও ভুল থেকে শেখার অভ্যাসে বুদ্ধি গড়ে ওঠে। তাই একে চর্চার বিষয় হিসেবে দেখানোই বেশি যুক্তিসংগত।
  6. তা অগভীর হয়। তথ্যের ভিত্তি না থাকলে সিদ্ধান্ত আন্দাজনির্ভর হয়ে পড়ে, আর আন্দাজ বারবার সঠিক হয় না — এ কারণেই দুটির সমন্বয় দরকার।
  7. বিদ্যার সঙ্গে বিচারবুদ্ধির চর্চা না থাকলে শিক্ষা অসম্পূর্ণ থেকে যায় — এই সমন্বয়ের কথাটিই সবচেয়ে নিরাপদ ও পরিণত সিদ্ধান্ত।
  8. প্রতিটি বাস্তব পরিস্থিতির নিজস্ব শর্ত থাকে, আর বই লেখা হয় সাধারণ নিয়ম নিয়ে। কোন নিয়ম কোন পরিস্থিতিতে খাটবে, সেই বিচারটিই বুদ্ধির কাজ।

উপযোগী শ্রেণি: ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম শ্রেণি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আরও ভাবসম্প্রসারণ পড়ো

ভাবসম্প্রসারণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকো

পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।