মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে — ভাবসম্প্রসারণ, মূলভাব ও মন্তব্যসহ।

দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে

দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে — ভাবসম্প্রসারণ, মূলভাব ও মন্তব্যসহ।

মূলভাব

দুঃখ না পেলে সুখের প্রকৃত মূল্য বোঝা যায় না। কষ্টের অভিজ্ঞতাই সুখকে অর্থবহ করে তোলে, আর অভাবের স্মৃতিই প্রাপ্তিকে আনন্দময় করে।

মূলভাবে কী লিখবে

মহীতে মানে পৃথিবীতে। পঙ্‌ক্তিটি প্রশ্নবোধক, আর প্রশ্নটির উত্তর “না” — দুঃখ ছাড়া সুখের স্বাদ পাওয়া যায় না।

মূলভাবে তুলনার যুক্তিটি বলতে হবে: সুখ ও দুঃখ পরস্পরের মাপকাঠি। অন্ধকার না থাকলে আলোর মূল্য বোঝা যেত না।

  • মহীতে = পৃথিবীতে
  • সুখ ও দুঃখ পরস্পরের মাপকাঠি

সম্প্রসারিত ভাবে কোন যুক্তি সাজাবে

প্রথমে তুলনার যুক্তি — যে কখনো ক্ষুধার্ত হয়নি, সে খাবারের স্বাদ পুরোপুরি বোঝে না; যে কখনো রোগে ভোগেনি, সে সুস্থতার মূল্য জানে না।

তারপর গঠনের যুক্তি — দুঃখ মানুষকে ধৈর্য, সহানুভূতি ও আত্মবিশ্বাস শেখায়। যে নিজে কষ্ট পেয়েছে, সে অন্যের কষ্ট বোঝে।

শেষে সীমারেখা — দুঃখ কাম্য নয়, এবং দুঃখকে মহিমান্বিত করাও ঠিক নয়। ভাবটি দুঃখ চাইতে বলছে না, দুঃখ এলে তা থেকে শিখতে বলছে।

  • তুলনা → গঠন → সীমারেখা।
  • দুঃখ কাম্য নয়

মন্তব্যে কী লিখবে

মন্তব্যে বলো দুঃখকে ভয় না পেয়ে তার ভেতর দিয়ে যাওয়াই সুখকে অর্থবহ করে তোলে।

দুঃখকে উদযাপন করার সুরে শেষ করা যাবে না — সংযত ভাষাতেই বক্তব্য জোরালো থাকে।

সম্প্রসারিত ভাব

সব সময় আরামে থাকলে আরামটাই স্বাভাবিক মনে হয়, ফলে তা আর আনন্দ দেয় না। যে দীর্ঘ পথ রোদে হেঁটেছে, এক গ্লাস ঠান্ডা পানির স্বাদ কেবল সে-ই জানে। বিপরীত অভিজ্ঞতাই মূল্যবোধ তৈরি করে।

দুঃখের আরেকটি দান হলো শক্তি। কষ্টের ভেতর দিয়ে যেতে যেতে মানুষ ধৈর্য শেখে, সমস্যা সমাধান শেখে এবং নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে জানতে পারে। যে কখনো ব্যর্থ হয়নি, সে নিজের সীমাও চেনে না।

সহানুভূতিও জন্ম নেয় দুঃখ থেকে। যিনি অভাব দেখেছেন, তিনিই অভাবীর কষ্ট বোঝেন; যিনি অসুস্থ হয়েছেন, তিনিই রোগীর প্রতি যত্নশীল হন। দুঃখ মানুষকে মানবিক করে।

তবে দুঃখকে কামনা করার কথা এখানে বলা হয়নি। বলা হয়েছে, দুঃখ এলে তাকে ভেঙে পড়ার কারণ না ভেবে শেখার সুযোগ হিসেবে নিতে — এই দৃষ্টিভঙ্গিই মানুষকে এগিয়ে দেয়।

মন্তব্য

তাই দুঃখকে শত্রু না ভেবে জীবনের শিক্ষক হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত। দুঃখের পটভূমিতেই সুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

সাধারণ ভুল

পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।

  • দুঃখকে কাম্য বা মহিমান্বিত করে লেখা। দুঃখ এলে তা থেকে শেখার কথা বলা, দুঃখ চাওয়ার নয়।
  • “মহীতে” শব্দের অর্থ এড়িয়ে যাওয়া। “পৃথিবীতে” অর্থটি স্পষ্ট করে নেওয়া।
  • কেবল তুলনার যুক্তিতে থেমে যাওয়া। দুঃখ যে ধৈর্য ও সহানুভূতি শেখায় — সেই গঠনের যুক্তিও দেওয়া।
  • পঙ্‌ক্তিটি প্রশ্নবোধক তা লক্ষ না করা। প্রশ্নের উত্তর “না” — এটি স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা শুরু করা।
  • হতাশার সুরে উত্তর শেষ করা। দুঃখকে অতিক্রম করার আত্মবিশ্বাস দিয়ে শেষ করা।

অনুশীলন

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।

  1. “মহীতে” শব্দের অর্থ কী?
  2. তুলনার যুক্তিটি কীভাবে সাজাবে?
  3. দুঃখ থেকে কী কী অর্জন হয়?
  4. ভাবটি কি দুঃখ কামনা করতে বলছে?
  5. এই ভাবসম্প্রসারণে কোন যুক্তিটি সবচেয়ে জরুরি?
  6. আলো-অন্ধকারের তুলনা এখানে কীভাবে কাজে লাগে?
  7. মন্তব্যে কোন সুরটি ধরবে?

উত্তর

  1. পৃথিবীতে। পঙ্‌ক্তিটি প্রশ্ন করছে — পৃথিবীতে দুঃখ ছাড়া কি সুখ পাওয়া যায়? উত্তরটি “না”, আর ব্যাখ্যা সেখান থেকেই শুরু হওয়া উচিত।
  2. যে কখনো ক্ষুধার্ত হয়নি সে খাবারের স্বাদ পুরোপুরি বোঝে না; যে কখনো রোগে ভোগেনি সে সুস্থতার মূল্য জানে না। অভাবের অভিজ্ঞতাই প্রাপ্তিকে অর্থ দেয়।
  3. ধৈর্য, সহানুভূতি ও আত্মবিশ্বাস। যে নিজে কষ্ট পেয়েছে সে অন্যের কষ্ট বোঝে, আর যে একবার কষ্ট অতিক্রম করেছে সে পরেরবার কম ভয় পায়।
  4. না। দুঃখ কাম্য নয় এবং তাকে মহিমান্বিত করাও ঠিক নয়। ভাবটি বলছে দুঃখ এলে ভেঙে না পড়ে তা থেকে শিখতে — এই সীমারেখাটি উত্তরে থাকা জরুরি।
  5. সীমারেখার যুক্তিটি। তুলনা ও গঠনের কথা প্রায় সবাই লেখে; কিন্তু দুঃখ কাম্য নয় — এই স্পষ্ট সীমা টানলে উত্তরটি আলাদা হয়ে যায়।
  6. অন্ধকার না থাকলে আলোর মূল্য বোঝা যেত না — তেমনি দুঃখ না থাকলে সুখের স্বাদ অনুভূত হতো না। উপমাটি সহজ, তাই ভাবটি দ্রুত পরিষ্কার হয়।
  7. আত্মবিশ্বাসের সংযত সুর — দুঃখকে ভয় না পেয়ে তার ভেতর দিয়ে যাওয়াই সুখকে অর্থবহ করে তোলে। হতাশা বা উদযাপন দুটিই এড়িয়ে চলা ভালো।

উপযোগী শ্রেণি: সপ্তম, অষ্টম, নবম-দশম শ্রেণি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আরও ভাবসম্প্রসারণ পড়ো

ভাবসম্প্রসারণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকো

পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।