সারাংশ — প্রকৃতি ও পরিবেশ
প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে নমুনা গদ্যাংশের সারাংশ ও ব্যাখ্যাসহ অনুশীলন।
সারাংশ
প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হলে তার ফল মানুষকেই ভোগ করতে হয়। নির্বিচারে বন উজাড় ও দূষণের কারণে জলবায়ু বদলে যাচ্ছে, তাই পরিবেশ রক্ষা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষারই অংশ।
মূল অংশ (অনুশীলনের জন্য নমুনা)
মানুষ নিজেকে প্রকৃতির মালিক ভাবতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনের অজুহাতে সে বন কেটেছে, নদী ভরাট করেছে, বাতাসে ধোঁয়া ছড়িয়েছে। কিছুকাল এতে লাভ হয়েছে বলে মনে হয়েছিল, কিন্তু এখন হিসাব মেলাতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে ক্ষতির পাল্লাই ভারী। ঋতু বদলে যাচ্ছে, অসময়ে বৃষ্টি নামছে, গ্রীষ্মের তাপ অসহনীয় হয়ে উঠছে। প্রকৃতি প্রতিশোধ নেয় না, সে কেবল হিসাব রাখে; যে যতটুকু নষ্ট করে, তাকে ততটুকুই ফেরত দেয়। তাই গাছ লাগানো ও দূষণ কমানো এখন আর দয়ার কাজ নয়, নিজেদের টিকে থাকার শর্ত।
একাধিক উদাহরণ থাকলে
এই অনুচ্ছেদে দূষণের একাধিক উদাহরণ আছে — বায়ু, পানি ও মাটি। সারাংশে প্রতিটি আলাদা করে লেখার দরকার নেই।
একই শ্রেণির একাধিক উদাহরণ থাকলে সেগুলো একটি সাধারণ শব্দে গুটিয়ে ফেলতে হয় — “বায়ু, পানি ও মাটি” হয়ে যায় “পরিবেশের নানা উপাদান”।
- উদাহরণ গুটিয়ে ফেলো।
- সাধারণ শব্দে প্রতিস্থাপন।
কার্যকারণ সম্পর্ক ধরে রাখো
এই লেখায় কারণ ও ফলের একটি শৃঙ্খল আছে — মানুষের কাজ থেকে দূষণ, দূষণ থেকে স্বাস্থ্য ও প্রকৃতির ক্ষতি।
সারাংশে এই শৃঙ্খলটি অবশ্যই থাকবে, কারণ এটিই লেখকের যুক্তি। কেবল “পরিবেশ দূষিত হচ্ছে” লিখলে কারণটি হারিয়ে যায়।
কার্যকারণ দেখাতে “ফলে”, “এর পরিণামে”, “কারণ” — এমন সংযোজক ব্যবহার করতে হয়, নইলে দুটি বাক্য বিচ্ছিন্ন থেকে যায়।
- শৃঙ্খল — কাজ → দূষণ → ক্ষতি।
- সংযোজক ব্যবহার করো।
সমাধান অংশটি কীভাবে সামলাবে
মূল অংশে যদি প্রতিকারের কথা থাকে, সারাংশে তা এক বাক্যে থাকবে — বিস্তারিত তালিকা নয়।
প্রতিকার না থাকলে নিজে থেকে যোগ করা যাবে না। সারাংশ লেখকের বক্তব্য পূরণ করে না, কেবল সংক্ষেপ করে।
- প্রতিকার এক বাক্যে।
- নিজে থেকে যোগ নয়।
ব্যাখ্যা
মূল বক্তব্য হলো কার্যকারণ সম্পর্ক — মানুষের কাজের ফল মানুষের ওপরই ফিরে আসছে। সারাংশে সেই সম্পর্কটি স্পষ্ট রাখা হয়েছে।
ঋতু বদল ও তাপমাত্রার বর্ণনা দৃষ্টান্ত হিসেবে এসেছে, তাই সংক্ষেপে “জলবায়ু বদলে যাচ্ছে” বলেই তা ধরা হয়েছে।
মন্তব্য
দীর্ঘ দৃষ্টান্তকে এক বা দুই শব্দে ধরে ফেলতে পারাই সারাংশ লেখার আসল দক্ষতা, যা নিয়মিত চর্চায় আয়ত্তে আসে।
সাধারণ ভুল
পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।
- ✗ প্রতিটি উদাহরণ আলাদা করে লেখা। ✓ একই শ্রেণির উদাহরণ সাধারণ শব্দে গুটিয়ে ফেলা।
- ✗ কার্যকারণ সম্পর্ক বাদ দেওয়া। ✓ কারণ ও ফলের শৃঙ্খলটি সংযোজক দিয়ে রাখা।
- ✗ মূল লেখায় না থাকা প্রতিকার যোগ করা। ✓ কেবল লেখকের বক্তব্যেই সীমিত থাকা।
- ✗ প্রতিকারের বিস্তারিত তালিকা দেওয়া। ✓ থাকলে এক বাক্যে সংক্ষেপ করা।
- ✗ দূষণের মাত্রা নিয়ে সংখ্যা যোগ করা। ✓ মূল লেখায় না থাকলে সংখ্যা না লেখা।
- ✗ উদাহরণ গুটিয়ে ফেলতে গিয়ে শ্রেণিটিও ভুল বেছে নেওয়া। ✓ যে সাধারণ শব্দে সব উদাহরণ ধরে, ঠিক সেটিই বেছে নেওয়া।
অনুশীলন
নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।
- একাধিক উদাহরণ থাকলে সারাংশে কী করব?
- সারাংশে কি কার্যকারণ সম্পর্ক দেখাতে হয়?
- কার্যকারণ দেখাবে কীভাবে?
- মূল লেখায় প্রতিকার থাকলে কী করবে?
- প্রতিকার না থাকলে যোগ করা যায় কি?
- এই অনুচ্ছেদের কারণ-শৃঙ্খলটি কী?
- সংখ্যা বা পরিসংখ্যান রাখবে কি?
- সাধারণ শব্দে গুটিয়ে ফেলার উদাহরণ দাও।
উত্তর
- একই শ্রেণির উদাহরণগুলো একটি সাধারণ শব্দে গুটিয়ে ফেলতে হয় — “বায়ু, পানি ও মাটি” হয়ে যায় “পরিবেশের নানা উপাদান”। এতে জায়গা বাঁচে, বক্তব্য অক্ষুণ্ন থাকে।
- হ্যাঁ, যদি মূল লেখায় থাকে। কারণ ও ফলের শৃঙ্খলটিই লেখকের যুক্তি — কেবল “পরিবেশ দূষিত হচ্ছে” লিখলে কারণটি হারিয়ে যায় এবং যুক্তিটি ভেঙে পড়ে।
- সংযোজক শব্দ দিয়ে — “ফলে”, “এর পরিণামে”, “কারণ”। এগুলো না থাকলে দুটি বাক্য পাশাপাশি বসেও বিচ্ছিন্ন থেকে যায়।
- এক বাক্যে সংক্ষেপ করে রাখবে। প্রতিকারের বিস্তারিত তালিকা সারাংশে জায়গা পায় না, কিন্তু লেখক যদি তা বলে থাকেন তবে বাদও দেওয়া যায় না।
- না। সারাংশ লেখকের বক্তব্য পূরণ করে না, কেবল সংক্ষেপ করে। বাইরে থেকে কিছু যোগ করলে সেটি আর সারাংশ থাকে না।
- মানুষের কাজ থেকে দূষণ, দূষণ থেকে স্বাস্থ্য ও প্রকৃতির ক্ষতি। তিনটি ধাপই সারাংশে থাকা চাই, নইলে যুক্তিটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
- মূল লেখায় থাকলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণটি রাখা যায়, নইলে নয়। নিজে থেকে সংখ্যা যোগ করা সারাংশে সরাসরি ভুল।
- “কারখানার ধোঁয়া, যানবাহনের নির্গমন ও ইটভাটার ধুলা” লেখার বদলে “শিল্প ও যানবাহনের নির্গমন” লেখা। তিনটি উদাহরণ একটি শ্রেণিতে ধরা পড়ে যায়।
উপযোগী শ্রেণি: সপ্তম, অষ্টম, নবম-দশম শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
সবগুলো উদাহরণ একসঙ্গে বোঝায় এমন একটি সাধারণ শব্দ বা বাক্যাংশ ব্যবহার করতে হবে — যেমন কয়েকটি আবহাওয়ার উদাহরণের বদলে “জলবায়ু পরিবর্তন”।
মূল লেখায় কার্যকারণ সম্পর্ক থাকলে অবশ্যই দেখাতে হয়, কারণ সেটি বাদ দিলে লেখকের যুক্তির কাঠামোই হারিয়ে যায়।
সংযোজক শব্দ দিয়ে — “ফলে”, “এর পরিণামে”, “কারণ”। এগুলো না থাকলে দুটি বাক্য পাশাপাশি বসেও বিচ্ছিন্ন থেকে যায়, আর পাঠক বুঝতে পারে না কোনটি কারণ ও কোনটি ফল।
মূল লেখায় থাকলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণটি রাখা যায়, নইলে নয়। নিজে থেকে সংখ্যা যোগ করা সারাংশে সরাসরি ভুল, কারণ তাতে লেখকের বলা কথার বাইরে তথ্য ঢুকে পড়ে।
আরও সারাংশ ও সারমর্ম পড়ো
সারাংশ ও সারমর্ম-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















