মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

নদীমাতৃক বাংলাদেশ নিয়ে নমুনা অনুচ্ছেদ — নদীর অবদান ও বর্তমান সংকটসহ।

অনুচ্ছেদ — নদীমাতৃক বাংলাদেশ

নদীমাতৃক বাংলাদেশ নিয়ে নমুনা অনুচ্ছেদ — নদীর অবদান ও বর্তমান সংকটসহ।

অনুচ্ছেদ

বাংলাদেশকে নদীমাতৃক দেশ বলা হয়, কারণ অসংখ্য নদী এ দেশের বুক চিরে বয়ে গেছে এবং সেই নদীর পলিতেই গড়ে উঠেছে আমাদের উর্বর ভূমি। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, কর্ণফুলী — এমন বড় নদীর পাশাপাশি রয়েছে অজস্র শাখা ও উপনদী। নদী আমাদের সেচের পানি দেয়, মাছ দেয়, নৌপথে পণ্য ও মানুষ বহন করে, আর নদীর তীরেই গড়ে উঠেছে দেশের প্রাচীন শহর ও বন্দরগুলো। বাঙালির গান, কবিতা ও লোকজীবনও নদীকে ঘিরেই আবর্তিত। কিন্তু আজ দখল, ভরাট ও বর্জ্যের কারণে বহু নদী মরে যাচ্ছে; শুষ্ক মৌসুমে অনেক নদীতে হাঁটুজল থাকে না। নদী বাঁচলেই দেশ বাঁচবে, তাই নদী রক্ষা করা এখন সবচেয়ে জরুরি কাজগুলোর একটি।

কোন তথ্যগুলো এক অনুচ্ছেদে ধরাবে

নদীমাতৃক বাংলাদেশের অনুচ্ছেদে থাকবে — কেন এই নাম, প্রধান নদীগুলো, নদী কী দেয়, নদীর ওপর সংস্কৃতির নির্ভরতা এবং নদীর বর্তমান অবস্থা।

প্রধান নদীর নাম তিন-চারটির বেশি নয় — পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র। বেশি নাম দিলে অনুচ্ছেদটি তালিকা হয়ে যায়।

  • নাম · নদী · অবদান · সংস্কৃতি · অবস্থা।

নদী কী দেয়

কৃষিতে সেচ ও পলিমাটি, মাছ ও জীবিকা, নৌপথে সস্তা পরিবহন এবং ব-দ্বীপ গঠন — চারটি অবদান এক-দুই বাক্যেই ধরে যায়।

পলিমাটির কথাটি আলাদা করে বলা দরকার — নদীবাহিত পলিই এই দেশের মাটিকে উর্বর করেছে এবং ভূখণ্ডটিই গড়ে তুলেছে।

সংস্কৃতির দিকটিও এক বাক্যে বসে — ভাটিয়ালি গান, নৌকাবাইচ, নদীকেন্দ্রিক সাহিত্য ও লোকজ উৎসব।

  • সেচ · পলি · মাছ · নৌপথ।
  • সংস্কৃতি — ভাটিয়ালি ও নৌকাবাইচ

বর্তমান অবস্থা

শেষ দিকে নদীর দুরবস্থার কথা — দখল, দূষণ, উজানে পানি প্রত্যাহার এবং পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়া।

এই অংশটি না থাকলে অনুচ্ছেদটি কেবল প্রশংসা হয়ে যায়। দুই বাক্যে দুরবস্থা ও করণীয় বললেই বক্তব্যটি সম্পূর্ণ হয়।

  • দখল · দূষণ · নাব্যতা।

বিস্তারিত

ভৌগোলিক পরিচয়ের অনুচ্ছেদে কেন নামটি দেওয়া হয়েছে সেই ব্যাখ্যা প্রথম বাক্যেই থাকা দরকার। এরপর নদীর নাম, তারপর নদী থেকে পাওয়া সুবিধাগুলো, তারপর সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্ক, আর শেষে বর্তমান সংকট — সময়ের ক্রমেই বর্ণনাটি এগিয়েছে।

শেষ কথা

কোনো দেশ বা অঞ্চলের পরিচয় লিখলে অতীতের গৌরবের পাশাপাশি বর্তমান সংকটের কথাও রেখো, তাতে লেখাটি সময়োপযোগী হয়।

সাধারণ ভুল

পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।

  • অনেকগুলো নদীর নাম সাজিয়ে তালিকা বানানো। তিন-চারটি প্রধান নদীর নাম দিয়ে অবদানে যাওয়া।
  • নদীর বর্তমান দুরবস্থা বাদ দেওয়া। দখল, দূষণ ও নাব্যতা হ্রাসের কথা লেখা।
  • পলিমাটির ভূমিকা এড়িয়ে যাওয়া। পলিই ভূখণ্ড ও উর্বরতা গড়েছে — এটি বলা।
  • নদীর সংখ্যা নিয়ে আন্দাজে লেখা। সংখ্যা এড়িয়ে ভূমিকার কথায় থাকা।
  • সংস্কৃতির দিকটি বাদ দেওয়া। ভাটিয়ালি, নৌকাবাইচ ও লোকজ উৎসবের কথা যোগ করা।

অনুশীলন

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।

  1. বাংলাদেশকে নদীমাতৃক দেশ বলা হয় কেন?
  2. নদী মরে যাওয়ার কারণ কী?
  3. প্রধান নদীগুলোর নাম লিখবে কতগুলো?
  4. নদী কী কী দেয়?
  5. সংস্কৃতির প্রসঙ্গ কীভাবে আনবে?
  6. পলিমাটির কথা আলাদা করে কেন লিখবে?
  7. শেষ অংশে কী লিখবে?
  8. নৌপথের গুরুত্ব কী?

উত্তর

  1. কারণ এ দেশের ভূখণ্ডই নদীবাহিত পলি দিয়ে গড়া, আর কৃষি, মৎস্য, পরিবহন ও সংস্কৃতি সবই নদীর ওপর নির্ভরশীল। নদী এখানে কেবল জলপ্রবাহ নয়, দেশের জন্মদাত্রী।
  2. নদী দখল ও ভরাট, শিল্পবর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্যে দূষণ, উজানে পানি প্রত্যাহার এবং পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়া — চারটি কারণ একসঙ্গে কাজ করে।
  3. তিন-চারটি — পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র। বেশি নাম দিলে অনুচ্ছেদটি তালিকা হয়ে যায় এবং অবদানের কথা বলার জায়গা থাকে না।
  4. কৃষিতে সেচ ও উর্বর পলিমাটি, মাছ ও জেলেদের জীবিকা, নৌপথে সস্তা পরিবহন এবং ব-দ্বীপ গঠনের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
  5. ভাটিয়ালি গান, নৌকাবাইচ, নদীকেন্দ্রিক সাহিত্য ও লোকজ উৎসবের কথা এক বাক্যে বলে। এতে বোঝা যায় নদী কেবল অর্থনীতি নয়, মননও গড়েছে।
  6. কারণ নদীবাহিত পলিই এই ভূখণ্ড গড়েছে এবং মাটিকে উর্বর করেছে। এটি নদীর সবচেয়ে মৌলিক অবদান, অথচ বেশির ভাগ অনুচ্ছেদে বাদ পড়ে যায়।
  7. নদীর বর্তমান দুরবস্থা ও করণীয় — দখলমুক্ত করা, দূষণ বন্ধ করা এবং খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা। এতে অনুচ্ছেদটি প্রশংসা থেকে বক্তব্যে পৌঁছায়।
  8. নৌপথে পরিবহন খরচ সড়কপথের চেয়ে কম এবং একবারে বেশি পণ্য বহন করা যায়। নাব্যতা ধরে রাখতে পারলে এটিই সবচেয়ে সাশ্রয়ী পরিবহন ব্যবস্থা হতে পারত।

উপযোগী শ্রেণি: ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম শ্রেণি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আরও অনুচ্ছেদ পড়ো

অনুচ্ছেদ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকো

পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।