মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে নমুনা অনুচ্ছেদ — কারণ, ক্ষতি ও দৈনন্দিন করণীয়সহ।

অনুচ্ছেদ — প্লাস্টিক দূষণ

প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে নমুনা অনুচ্ছেদ — কারণ, ক্ষতি ও দৈনন্দিন করণীয়সহ।

অনুচ্ছেদ

প্লাস্টিক দূষণ বলতে বোঝায় ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক পরিবেশে জমে গিয়ে মাটি, পানি ও প্রাণিজগতের ক্ষতি করা। প্লাস্টিক সস্তা, হালকা ও টেকসই বলে এর ব্যবহার বেড়েই চলেছে; কিন্তু এই টেকসই হওয়াটাই বিপদ, কারণ একবার ফেলে দিলে তা শত শত বছরেও পচে না। ব্যবহৃত পলিথিন ড্রেন আটকে শহরে জলাবদ্ধতা তৈরি করে, নদীতে গিয়ে মাছের পেটে ঢোকে, আর মাটিতে মিশে উর্বরতা নষ্ট করে। পোড়ালে বিষাক্ত ধোঁয়া বাতাসে মেশে। সমাধান একটিমাত্র আইনে হবে না — পাটের ব্যাগ ও কাগজের মোড়কে ফেরা, একবার ব্যবহারের প্লাস্টিক বর্জন, বর্জ্য আলাদা করে পুনর্ব্যবহার এবং নাগরিক সচেতনতা একসঙ্গে দরকার। প্রতিদিনের ছোট অভ্যাস বদলেই এই দূষণ কমানো সম্ভব।

সমস্যাটি স্পষ্ট করে শুরু করো

প্রথম বাক্যে বলো প্লাস্টিক দূষণ কী — ব্যবহৃত প্লাস্টিক পরিবেশে জমে থেকে মাটি, পানি ও জীবজগতের ক্ষতি করা।

দ্বিতীয় বাক্যে সমস্যার মূল কারণ — প্লাস্টিক পচে না, শত শত বছর টিকে থাকে। এই একটি বৈশিষ্ট্যই গোটা সমস্যাটির উৎস।

  • সংজ্ঞা → পচে না → ক্ষতি।

ক্ষতির ধরনগুলো

মাটিতে — পলিথিন মাটির নিচে স্তর তৈরি করে পানি চলাচল ও গাছের শিকড় বৃদ্ধিতে বাধা দেয়।

পানিতে — নালা ও ড্রেন বন্ধ করে জলাবদ্ধতা তৈরি করে; নদী ও সাগরে গিয়ে মাছ ও জলজ প্রাণীর মৃত্যুর কারণ হয়।

স্বাস্থ্যে — মাইক্রোপ্লাস্টিক খাদ্যচক্রে ঢুকে পড়ে, আর প্লাস্টিক পোড়ালে বিষাক্ত ধোঁয়া বাতাসে মেশে।

  • মাটি · পানি · স্বাস্থ্য।
  • পোড়ানো = বিষাক্ত ধোঁয়া

শিক্ষার্থীরা কী করতে পারে

কাপড় বা পাটের ব্যাগ ব্যবহার করা, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক এড়ানো, পানির বোতল পুনর্ব্যবহার করা এবং প্লাস্টিক আলাদা করে ফেলা।

বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতা কর্মসূচির কথাও যোগ করা যায় — এতে করণীয়টি ব্যক্তিগত থেকে সামষ্টিক হয়।

  • পাটের ব্যাগ, পুনর্ব্যবহার, আলাদা করা।

বিস্তারিত

এখানে একটি বৈপরীত্য কাজে লাগানো হয়েছে — প্লাস্টিকের যে গুণে সেটি জনপ্রিয়, সেই টেকসই হওয়াটাই এর সবচেয়ে বড় সমস্যা। এমন একটি বৈপরীত্য দিয়ে সমস্যা ব্যাখ্যা করলে পাঠক বিষয়টি সহজে বোঝেন এবং কথাটি মনে রাখেন।

শেষ কথা

পরিবেশবিষয়ক অনুচ্ছেদের শেষে বড় নীতির বদলে প্রতিদিনের একটি অভ্যাসের কথা লিখলে পরামর্শটি বাস্তবসম্মত মনে হয়।

সাধারণ ভুল

পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।

  • প্লাস্টিক পচে না — এই মূল কারণটি বাদ দেওয়া। শত শত বছর টিকে থাকার কথাটি প্রথমেই বলা।
  • সমাধান হিসেবে প্লাস্টিক পোড়ানোর কথা বলা। পোড়ালে বিষাক্ত ধোঁয়া হয় — এটি সতর্ক করা।
  • কেবল পরিবেশের ক্ষতির কথা বলা। স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জলাবদ্ধতার কথাও লেখা।
  • প্লাস্টিকের পরিমাণ নিয়ে আন্দাজে সংখ্যা লেখা। সংখ্যা এড়িয়ে ক্ষতির ধরনে থাকা।
  • করণীয়ে কেবল সরকারের নিষেধাজ্ঞার কথা বলা। ব্যক্তির অভ্যাস বদলের কথাও যোগ করা।

অনুশীলন

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।

  1. প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য এত ক্ষতিকর কেন?
  2. প্লাস্টিক দূষণ কমাতে শিক্ষার্থীরা কী করতে পারে?
  3. মাটিতে প্লাস্টিক কী ক্ষতি করে?
  4. পানিতে প্লাস্টিকের প্রভাব কী?
  5. প্লাস্টিক পোড়ানো কি সমাধান?
  6. মাইক্রোপ্লাস্টিক কী?
  7. অনুচ্ছেদটি কোন ক্রমে সাজাবে?
  8. পুনর্ব্যবহার কীভাবে সাহায্য করে?

উত্তর

  1. কারণ প্লাস্টিক পচে না — শত শত বছর পরিবেশে টিকে থাকে। ফলে যা একবার ফেলা হয়, তা মাটি ও পানিতে জমতেই থাকে এবং ক্ষতি বাড়তে থাকে।
  2. কাপড় বা পাটের ব্যাগ ব্যবহার করা, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক এড়ানো, পানির বোতল পুনর্ব্যবহার করা, প্লাস্টিক আলাদা করে ফেলা এবং বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেওয়া।
  3. পলিথিন মাটির নিচে স্তর তৈরি করে পানি চলাচলে বাধা দেয় এবং গাছের শিকড় বৃদ্ধি ব্যাহত করে। ফলে জমির উর্বরতা ধীরে ধীরে কমে যায়।
  4. নালা ও ড্রেন বন্ধ করে শহরে জলাবদ্ধতা তৈরি করে, আর নদী ও সাগরে গিয়ে মাছ ও জলজ প্রাণীর মৃত্যুর কারণ হয়।
  5. না। পোড়ালে বিষাক্ত ধোঁয়া বাতাসে মেশে, যা শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি করে। সমস্যাটি তখন মাটি থেকে বাতাসে স্থানান্তরিত হয় মাত্র।
  6. প্লাস্টিক ভেঙে তৈরি হওয়া অতি ক্ষুদ্র কণা, যা মাছ ও অন্যান্য প্রাণীর শরীরে ঢুকে খাদ্যচক্রের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত মানুষের শরীরেও পৌঁছায়।
  7. সংজ্ঞা, পচে না — এই মূল কারণ, মাটি-পানি-স্বাস্থ্যে ক্ষতি, তারপর করণীয়। কারণ থেকে ফলে ও ফল থেকে সমাধানে এগোলে যুক্তিটি পরিষ্কার থাকে।
  8. ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক আলাদা করে সংগ্রহ করলে তা গলিয়ে নতুন পণ্য তৈরি করা যায়। এতে নতুন প্লাস্টিকের চাহিদা কমে এবং পরিবেশে জমা হওয়ার পরিমাণও কমে আসে।

উপযোগী শ্রেণি: ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম শ্রেণি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আরও অনুচ্ছেদ পড়ো

অনুচ্ছেদ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকো

পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।