মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নমুনা অনুচ্ছেদ — আগে, চলাকালে ও পরের ধাপসহ।

অনুচ্ছেদ — দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নমুনা অনুচ্ছেদ — আগে, চলাকালে ও পরের ধাপসহ।

অনুচ্ছেদ

দুর্যোগের আগে, চলাকালে ও পরে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য গৃহীত পরিকল্পিত ব্যবস্থাকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে। বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও ভূমিকম্পপ্রবণ একটি দেশ, তাই এখানে এই ব্যবস্থাপনা জীবনরক্ষার প্রশ্ন। প্রস্তুতির ধাপে থাকে আগাম সতর্কবার্তা প্রচার, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ ও মহড়া। দুর্যোগের সময় দরকার দ্রুত উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া এবং খাবার ও বিশুদ্ধ পানির জোগান। আর দুর্যোগের পরে আসে পুনর্বাসন, ঘরবাড়ি মেরামত ও জীবিকা ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ। উপকূলে আশ্রয়কেন্দ্র ও আগাম সতর্কব্যবস্থা গড়ে ওঠায় এ দেশে ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানি আগের চেয়ে অনেক কমেছে। প্রস্তুতিই যে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা, এই অভিজ্ঞতা তা প্রমাণ করে।

ধাপগুলো দিয়ে কাঠামো গড়ো

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অনুচ্ছেদে ধাপগুলোই সবচেয়ে ভালো কাঠামো — প্রস্তুতি, প্রশমন, সাড়াদান ও পুনর্বাসন।

চারটি ধাপ চার বাক্যে ধরে যায়, আর ধাপ ধরে এগোলে অনুচ্ছেদটি নিজে থেকেই গোছালো থাকে ও কিছু বাদ পড়ে না।

  • প্রস্তুতি · প্রশমন · সাড়াদান · পুনর্বাসন।

প্রতিটি ধাপে কী লিখবে

প্রস্তুতিতে — আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, মহড়া ও স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন। প্রশমনে — বাঁধ ও বেড়িবাঁধ, উপকূলীয় বনায়ন ও উঁচু ভিটে।

সাড়াদানে — উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসা ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। পুনর্বাসনে — ঘরবাড়ি মেরামত, কৃষি পুনরুদ্ধার ও জীবিকার সহায়তা।

বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানি কমে আসার প্রসঙ্গটি এক বাক্যে বসে — আগাম সতর্কতা, আশ্রয়কেন্দ্র ও স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্কই তার কারণ।

  • প্রস্তুতি — সতর্কতা ও আশ্রয়কেন্দ্র
  • সাফল্য — প্রাণহানি কমেছে

কী এড়িয়ে যাবে

নির্দিষ্ট দুর্যোগের সাল, ক্ষয়ক্ষতির অঙ্ক বা আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা লিখো না — এসব বদলায় এবং যাচাই করা কঠিন।

একটি নির্দিষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের বিবরণেও ঢুকো না। প্রশ্নটি ব্যবস্থাপনার, একটি ঘটনার নয়।

  • সাল ও অঙ্ক এড়াও
  • একটি ঘটনার বিবরণ নয়

বিস্তারিত

এই অনুচ্ছেদটি সময়ের তিনটি ধাপে ভাগ করে সাজানো — আগে, চলাকালে ও পরে — কারণ ব্যবস্থাপনা মানেই ধাপে ধাপে কাজ, আর ধাপ ভাগ করে লিখলে কোনোটি বাদ পড়ে না। শেষ দুই বাক্যে একটি বাস্তব অর্জনের কথা রাখা হয়েছে, যাতে উত্তরটি কেবল তালিকা না থাকে।

শেষ কথা

ধাপে ধাপে ঘটে এমন বিষয়ে সময়ের ক্রম ধরে লিখলে অল্প কথায় গোটা প্রক্রিয়াটি স্পষ্টভাবে বোঝানো যায়।

সাধারণ ভুল

পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।

  • ধাপগুলো এলোমেলোভাবে লেখা। প্রস্তুতি, প্রশমন, সাড়াদান ও পুনর্বাসন — ক্রমে সাজানো।
  • কেবল ত্রাণ বিতরণকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভাবা। প্রস্তুতি ও পুনর্বাসনকেও ধাপ হিসেবে দেখানো।
  • নির্দিষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের বিবরণে ঢুকে পড়া। ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়াতেই স্থির থাকা।
  • ক্ষয়ক্ষতির অঙ্ক লেখা। সংখ্যা এড়িয়ে ব্যবস্থার বর্ণনায় থাকা।
  • স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা বাদ দেওয়া। সতর্কবার্তা পৌঁছানো ও উদ্ধারে তাঁদের কাজের কথা লেখা।
  • দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে কেবল সরকারের কাজ ভাবা। স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকাও দেখানো।

অনুশীলন

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।

  1. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ধাপ কয়টি?
  2. বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানি কমেছে কীভাবে?
  3. প্রস্তুতি ধাপে কী কী থাকে?
  4. প্রশমন বলতে কী বোঝায়?
  5. পুনর্বাসন ধাপে কী থাকে?
  6. নির্দিষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের বিবরণ লিখবে কি?
  7. স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা কী?
  8. সাড়াদান ধাপে কী কী থাকে?
  9. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন কেবল ত্রাণ নয়?

উত্তর

  1. চারটি — প্রস্তুতি, প্রশমন, সাড়াদান ও পুনর্বাসন। এই ধাপগুলো ধরেই অনুচ্ছেদের কাঠামো গড়লে কিছু বাদ পড়ে না এবং লেখাটি গোছালো থাকে।
  2. আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, উপকূলে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক — তিনটি একসঙ্গে কাজ করায় মানুষ সময়মতো নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে।
  3. আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়মিত মহড়া এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন ও প্রশিক্ষণ।
  4. দুর্যোগের ক্ষতি আগেভাগে কমিয়ে রাখার কাজ — বাঁধ ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ, উপকূলীয় বনায়ন এবং ঘরবাড়ি উঁচু ভিটেয় তোলা।
  5. ঘরবাড়ি মেরামত, কৃষি পুনরুদ্ধারে বীজ ও সার সরবরাহ এবং জীবিকা ফিরে পাওয়ার সহায়তা। এই ধাপটি প্রায় সব অনুচ্ছেদে বাদ পড়ে যায়।
  6. না। প্রশ্নটি ব্যবস্থাপনার, একটি ঘটনার নয়। নির্দিষ্ট ঘটনার বিবরণে ঢুকলে ধাপগুলোর জায়গা থাকে না এবং অনুচ্ছেদটি প্রতিবেদন হয়ে যায়।
  7. সতর্কবার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া, মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া, উদ্ধারকাজে সহায়তা এবং ত্রাণ বিতরণে শৃঙ্খলা রক্ষা করা।
  8. উদ্ধারকাজ, আহতদের চিকিৎসা, ত্রাণ ও শুকনো খাবার বিতরণ, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা। এই ধাপে গতি সবচেয়ে জরুরি — দেরি হলে ক্ষতি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
  9. কারণ ত্রাণ কেবল একটি ধাপ। প্রস্তুতি না থাকলে ক্ষতি বেশি হয় এবং পুনর্বাসন না হলে মানুষ জীবিকা ফিরে পায় না — চারটি ধাপ একসঙ্গে কাজ করলেই ব্যবস্থাপনা সফল হয়।

উপযোগী শ্রেণি: ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম শ্রেণি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আরও অনুচ্ছেদ পড়ো

অনুচ্ছেদ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকো

পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।