মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

জাতীয় স্মৃতিসৌধ নিয়ে নমুনা অনুচ্ছেদ — অবস্থান, নকশা ও প্রতীকী অর্থসহ।

অনুচ্ছেদ — জাতীয় স্মৃতিসৌধ

জাতীয় স্মৃতিসৌধ নিয়ে নমুনা অনুচ্ছেদ — অবস্থান, নকশা ও প্রতীকী অর্থসহ।

অনুচ্ছেদ

জাতীয় স্মৃতিসৌধ মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে নির্মিত বাংলাদেশের প্রধান স্মৃতিস্তম্ভ, যা সাভারে অবস্থিত। স্থপতি সৈয়দ মইনুল হোসেনের নকশায় গড়া এই সৌধ সাতটি ত্রিভুজাকৃতি ফলক দিয়ে তৈরি, যেগুলো ক্রমশ উঁচু হয়ে একটি চূড়ায় মিলেছে। ফলকগুলো আমাদের জাতীয় জীবনের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন একদল মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে — স্থাপত্যটির এই সরলতাই এর সবচেয়ে বড় শক্তি। চারপাশে সবুজ বাগান, জলাধার ও শহীদদের গণকবর রয়েছে। বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে এখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং সারা বছর হাজারো মানুষ এখানে আসেন। এটি ইট-পাথরের সৌধ নয়, একটি জাতির কৃতজ্ঞতার স্মারক।

কোন তথ্যগুলো এক অনুচ্ছেদে ধরাবে

জাতীয় স্মৃতিসৌধের অনুচ্ছেদে থাকবে — এটি কী ও কাদের স্মরণে, কোথায় অবস্থিত, স্থপতি কে, সাতটি ফলকের অর্থ এবং কখন শ্রদ্ধা জানানো হয়।

সাতটি ফলকের ব্যাখ্যাটিই এই অনুচ্ছেদের কেন্দ্র, আর এটিই প্রশ্নে সবচেয়ে বেশি আসে।

  • পরিচয় · অবস্থান · স্থপতি · সাত ফলক · শ্রদ্ধা।

সাতটি ফলকের অর্থ

সাতটি ত্রিভুজাকার ফলক ক্রমশ উঁচু হয়ে উঠেছে, আর প্রতিটি ফলক মুক্তিসংগ্রামের একেকটি পর্যায়ের প্রতীক — ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত।

ফলকগুলোর ক্রমশ উচ্চতা বাড়াই নকশার মূল ভাবনা — সংগ্রাম ধাপে ধাপে বড় হয়ে চূড়ান্ত বিজয়ে পৌঁছেছে।

স্থাপনাটি সাভারে অবস্থিত এবং এর স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন — দুটি তথ্যই এক বাক্যে বসে এবং প্রশ্নে সরাসরি আসে।

  • সাত ফলক = সংগ্রামের সাত পর্যায়
  • স্থপতি — সৈয়দ মাইনুল হোসেন

শ্রদ্ধা নিবেদনের বর্ণনা

স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

সারা বছরই দর্শনার্থীরা আসেন, আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষা সফরে যায় — এক বাক্যে এই কথাটি যোগ করা যায়।

  • দুই জাতীয় দিবসে শ্রদ্ধা

বিস্তারিত

স্থাপনাবিষয়ক অনুচ্ছেদে অবস্থান, স্থপতি ও গঠনের বর্ণনা প্রথমেই দিতে হয়, তারপর তার প্রতীকী অর্থ। এখানে "কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে" — এই একটি উপমা রাখা হয়েছে, কারণ একটি ভালো উপমা দশ বাক্যের বর্ণনার কাজ করে দেয়।

শেষ কথা

স্থাপনার বর্ণনায় একটি উপযুক্ত উপমা বসাতে পারলে পাঠকের চোখে গোটা দৃশ্যটি এক মুহূর্তেই ভেসে ওঠে।

সাধারণ ভুল

পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।

  • সাতটি ফলকের অর্থ ব্যাখ্যা না করা। প্রতিটি ফলক মুক্তিসংগ্রামের একেকটি পর্যায়ের প্রতীক — লেখা।
  • স্থপতির নাম বাদ দেওয়া। সৈয়দ মাইনুল হোসেনের নাম উল্লেখ করা।
  • শহিদ মিনারের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা। স্মৃতিসৌধ মুক্তিযুদ্ধের, শহিদ মিনার ভাষা আন্দোলনের — পার্থক্যটি রাখা।
  • উচ্চতা বা নির্মাণব্যয়ের অঙ্ক লেখা। সংখ্যা এড়িয়ে নকশার অর্থে থাকা।
  • কেবল আবেগপূর্ণ বাক্য লেখা। অবস্থান, স্থপতি ও ফলকের অর্থ — নির্দিষ্ট তথ্য রাখা।

অনুশীলন

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।

  1. জাতীয় স্মৃতিসৌধ কোথায় অবস্থিত এবং এর স্থপতি কে?
  2. সাতটি ফলক কী নির্দেশ করে?
  3. স্মৃতিসৌধ ও শহিদ মিনারের পার্থক্য কী?
  4. কখন শ্রদ্ধা জানানো হয়?
  5. ফলকগুলোর ক্রমশ উচ্চতার অর্থ কী?
  6. সংখ্যা লেখা উচিত কি?
  7. অনুচ্ছেদটি কোন ক্রমে সাজাবে?
  8. স্মৃতিসৌধ ঘিরে পরিবেশটি কেমন?

উত্তর

  1. ঢাকার অদূরে সাভারে অবস্থিত, আর এর স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন। দুটি তথ্যই এক বাক্যে বসে এবং প্রশ্নে সরাসরি জিজ্ঞাসা করা হয়।
  2. মুক্তিসংগ্রামের সাতটি পর্যায় — ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত। ফলকগুলো ক্রমশ উঁচু হয়ে উঠেছে, যা দেখায় সংগ্রাম ধাপে ধাপে বড় হয়ে চূড়ান্ত বিজয়ে পৌঁছেছে।
  3. জাতীয় স্মৃতিসৌধ মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের স্মরণে, সাভারে; শহিদ মিনার ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে, ঢাকায়। দুটি গুলিয়ে ফেলা এখানে সবচেয়ে সাধারণ ভুল।
  4. স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। সারা বছরই দর্শনার্থীরাও আসেন।
  5. সংগ্রাম একদিনে হয়নি — ধাপে ধাপে বড় হয়েছে। ছোট ফলক থেকে বড় ফলকে ওঠার এই বিন্যাসটিই নকশার মূল ভাবনা এবং এটি ব্যাখ্যা করলে অনুচ্ছেদটি আলাদা হয়।
  6. উচ্চতা বা নির্মাণব্যয়ের অঙ্ক নয়। তবে সাতটি ফলকের সংখ্যাটি অবশ্যই লিখবে, কারণ সেটিই নকশার অর্থ বহন করে এবং প্রশ্নেও আসে।
  7. পরিচয় ও কাদের স্মরণে, অবস্থান ও স্থপতি, সাতটি ফলকের অর্থ, শ্রদ্ধা নিবেদনের রীতি, তারপর তাৎপর্য — তথ্য থেকে অর্থে এগোনোই স্বাভাবিক ক্রম।
  8. বিস্তীর্ণ সবুজ প্রাঙ্গণ, কৃত্রিম জলাশয় ও সারিবদ্ধ গাছ — স্থাপনাটিকে ঘিরে পুরো এলাকাটিই পরিকল্পিতভাবে সাজানো। এই বর্ণনা এক বাক্যে দিলে অনুচ্ছেদটি জীবন্ত হয়।

উপযোগী শ্রেণি: ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম শ্রেণি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আরও অনুচ্ছেদ পড়ো

অনুচ্ছেদ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকো

পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।