মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

চাকরির আবেদনপত্রের নমুনা — কাঠামো, সংযুক্তি ও আনুষ্ঠানিক ভাষার নিয়ম।

চাকরির আবেদনপত্র

চাকরির আবেদনপত্রের নমুনা — কাঠামো, সংযুক্তি ও আনুষ্ঠানিক ভাষার নিয়ম।

কী লিখতে হবে

চাকরির আবেদনপত্রে পদের নাম, বিজ্ঞপ্তির সূত্র, নিজের যোগ্যতা ও সংযুক্ত কাগজপত্রের তালিকা থাকতে হয়। এটি ব্যক্তিগত পত্র নয়, তাই ভাষা হবে আনুষ্ঠানিক ও সংক্ষিপ্ত।

দৈর্ঘ্য ও গঠন

চাকরির আবেদনপত্র এক পৃষ্ঠার বেশি হওয়া উচিত নয়। নিয়োগকর্তা বহু আবেদন পড়েন — দীর্ঘ চিঠি পুরোটা পড়া হয় না।

গঠন — তারিখ, প্রাপক, বিষয় (পদের নাম ও বিজ্ঞপ্তির সূত্র), সম্বোধন, তিন-চার অনুচ্ছেদের মূল অংশ, বিনীত সমাপ্তি ও স্বাক্ষর।

  • এক পৃষ্ঠা, তার বেশি নয়।

আবেদনপত্র ও জীবনবৃত্তান্ত আলাদা

আবেদনপত্র বলে কেন আপনি এই পদের জন্য উপযুক্ত; জীবনবৃত্তান্ত বলে আপনি কী কী করেছেন। একটি যুক্তি, অন্যটি তথ্য।

তাই আবেদনপত্রে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার পুরো তালিকা দেওয়া হয় না — কেবল যেটুকু এই পদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, সেটুকুই।

জীবনবৃত্তান্ত সংযুক্ত করার কথা আবেদনপত্রে এক বাক্যে উল্লেখ করতে হয়, আর সেটিই দুটির সম্পর্ক স্পষ্ট করে।

  • আবেদনপত্র — যুক্তি
  • জীবনবৃত্তান্ত — তথ্য

বিষয় লাইন ও সূত্র

বিষয় লাইনে পদের নাম এবং বিজ্ঞপ্তির তারিখ ও উৎস উল্লেখ করতে হয় — কোন পত্রিকায় বা কোন ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তিটি দেখেছেন।

সূত্র থাকলে নিয়োগকর্তা সহজেই বুঝতে পারেন আবেদনটি কোন পদের এবং তা সঠিক ফাইলে যায়।

  • বিষয়ে পদ ও সূত্র

নমুনা আবেদন

তারিখ: [দিন/মাস/বছর]

বরাবর, [পদবি], [প্রতিষ্ঠানের নাম], [ঠিকানা]।

বিষয়: [পদের নাম] পদে নিয়োগের জন্য আবেদন।

জনাব, [তারিখ] তারিখে [পত্রিকার নাম/ওয়েবসাইট]-এ প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে আমি উক্ত পদে আবেদন করছি।

আমি [প্রতিষ্ঠান] থেকে [ডিগ্রি] সম্পন্ন করেছি এবং [বিষয়]-এ [ফলাফল] অর্জন করেছি। এ ছাড়া [প্রাসঙ্গিক দক্ষতা/অভিজ্ঞতা] রয়েছে।

সংযুক্তি: জীবনবৃত্তান্ত, শিক্ষাগত সনদের সত্যায়িত অনুলিপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি এবং সদ্য তোলা পাসপোর্ট আকারের ছবি।

অতএব, বিনীত প্রার্থনা এই যে, আমার আবেদনটি সদয় বিবেচনা করে আমাকে যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ দিয়ে বাধিত করবেন।

নিবেদক — [নাম], [ঠিকানা], মোবাইল: [নম্বর], ই-মেইল: [ঠিকানা]।

আমি বিশ্বাস করি, আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অর্জিত দক্ষতা এই পদের দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে।

সুযোগ পেলে আমি প্রতিষ্ঠানের নিয়ম মেনে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকব।

মনে রাখার কথা

চাকরির আবেদনে বিজ্ঞপ্তির সূত্র ও পদের নাম হুবহু লিখতে হয়, নইলে আবেদন বাছাইয়ে বাদ পড়তে পারে। যোগাযোগের তথ্য অবশ্যই সচল হওয়া চাই।

সাধারণ ভুল

পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।

  • আবেদনপত্র এক পৃষ্ঠার বেশি করা। এক পৃষ্ঠায় সীমিত রাখা।
  • শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার পুরো তালিকা দেওয়া। পদের সঙ্গে যুক্ত অংশটুকুই লেখা।
  • বিজ্ঞপ্তির সূত্র উল্লেখ না করা। বিষয় লাইনে পদ ও সূত্র দুটিই দেওয়া।
  • জীবনবৃত্তান্তের কথা না বলা। সংযুক্তির কথা এক বাক্যে উল্লেখ করা।
  • আবেদনপত্রকে জীবনবৃত্তান্তের মতো লেখা। যুক্তি দিয়ে উপযুক্ততা প্রমাণ করা।

অনুশীলন

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।

  1. চাকরির আবেদন কত বড় হওয়া উচিত?
  2. আবেদনপত্র ও জীবনবৃত্তান্তের পার্থক্য কী?
  3. বিষয় লাইনে কী লিখবে?
  4. শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা কতটুকু লিখবে?
  5. আবেদনপত্রের গঠন কেমন?
  6. জীবনবৃত্তান্তের কথা কীভাবে বলবে?
  7. মূল অংশে কী লিখবে?
  8. সংযুক্তির তালিকা কীভাবে দেবে?
  9. বিজ্ঞপ্তির শর্ত না মিললে কী করবে?
  10. আবেদনপত্রে কোন ভুলটি সবচেয়ে ক্ষতিকর?

উত্তর

  1. এক পৃষ্ঠার বেশি নয়। নিয়োগকর্তা বহু আবেদন পড়েন — দীর্ঘ চিঠি পুরোটা পড়া হয় না, ফলে গুরুত্বপূর্ণ কথাটিও চোখ এড়িয়ে যায়।
  2. আবেদনপত্র বলে কেন আপনি এই পদের জন্য উপযুক্ত; জীবনবৃত্তান্ত বলে আপনি কী কী করেছেন। একটি যুক্তি, অন্যটি তথ্য।
  3. পদের নাম এবং বিজ্ঞপ্তির তারিখ ও উৎস — কোন পত্রিকায় বা ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তিটি দেখেছেন। সূত্র থাকলে আবেদনটি সঠিক ফাইলে যায়।
  4. কেবল যেটুকু এই পদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। পুরো তালিকা জীবনবৃত্তান্তে থাকে — আবেদনপত্রে তার পুনরাবৃত্তি অপ্রয়োজনীয়।
  5. তারিখ, প্রাপক, বিষয়, সম্বোধন, তিন-চার অনুচ্ছেদের মূল অংশ, বিনীত সমাপ্তি ও স্বাক্ষর। সংযুক্তির তালিকা শেষে দেওয়া যায়।
  6. এক বাক্যে — “প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জীবনবৃত্তান্ত সংযুক্ত করা হলো”। এতে দুটির সম্পর্ক স্পষ্ট হয় এবং প্রাপক জানেন কী কী পাঠানো হয়েছে।
  7. প্রথম অনুচ্ছেদে কোন পদে আবেদন ও সূত্র; দ্বিতীয়টিতে প্রাসঙ্গিক যোগ্যতা; তৃতীয়টিতে কেন আপনি উপযুক্ত; শেষে বিনীত অনুরোধ।
  8. আবেদনপত্রের শেষে সংখ্যা দিয়ে — জীবনবৃত্তান্ত, শিক্ষাগত সনদের অনুলিপি, অভিজ্ঞতার সনদ ও ছবি। তালিকা থাকলে প্রাপক মিলিয়ে দেখতে পারেন কিছু বাদ পড়েছে কি না।
  9. আবেদন না করাই ভালো। ন্যূনতম যোগ্যতার শর্ত পূরণ না হলে আবেদনটি প্রথম বাছাইয়েই বাদ পড়ে, আর তাতে সময় ও কাগজ দুটিই নষ্ট হয়।
  10. বানান ও নামের ভুল। নিয়োগকর্তা প্রথমেই সেটি লক্ষ করেন এবং সতর্কতার অভাব ধরে নেন — তাই পাঠানোর আগে অন্তত দুইবার পড়ে দেখা দরকার।

উপযোগী শ্রেণি: নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আরও দরখাস্ত ও পত্র পড়ো

দরখাস্ত ও পত্র-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকো

পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।