সম্পাদক বরাবর চিঠি
সম্পাদক বরাবর পত্রের নমুনা — জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যা উপস্থাপনের কাঠামো ও ভাষা।
কী লিখতে হবে
সম্পাদক বরাবর চিঠিতে একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যা তুলে ধরে তা প্রকাশের অনুরোধ জানানো হয়। এটি ব্যক্তিগত পত্র নয়, তাই ভাষা আনুষ্ঠানিক ও তথ্যনির্ভর।
এটি ব্যক্তিগত পত্র নয়
সম্পাদক বরাবর চিঠি একটি আনুষ্ঠানিক পত্র, যা সংবাদপত্রে প্রকাশের উদ্দেশ্যে লেখা হয়। প্রাপক সম্পাদক, কিন্তু পাঠক সাধারণ মানুষ।
তাই ভাষা আনুষ্ঠানিক, আর বক্তব্য এমন হওয়া চাই যা কেবল লেখকের নয়, একটি জনগোষ্ঠীর সমস্যা তুলে ধরে।
- প্রাপক সম্পাদক, পাঠক সবাই।
কী কী থাকা আবশ্যক
প্রাপকের ঠিকানা (সম্পাদক, পত্রিকার নাম ও ঠিকানা), বিষয়, সম্বোধন, প্রকাশের অনুরোধ, মূল বক্তব্য এবং শেষে নিবেদকের নাম ও ঠিকানা।
প্রকাশের অনুরোধটি প্রথম বাক্যেই থাকে — “আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকার পাঠকের কলাম বিভাগে নিম্নলিখিত বিষয়টি প্রকাশ করলে বাধিত হব”।
নিবেদকের পূর্ণ ঠিকানা জরুরি, কারণ পত্রিকা প্রয়োজনে যোগাযোগ করে এবং পরিচয়হীন চিঠি সাধারণত ছাপা হয় না।
- প্রকাশের অনুরোধ প্রথমেই।
- পূর্ণ ঠিকানা দাও।
মূল বক্তব্য কেমন হবে
সমস্যাটি নির্দিষ্ট করে বলতে হয় — কোন এলাকা, কী সমস্যা, কারা ভুক্তভোগী এবং কতদিন ধরে চলছে।
শেষে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ ও ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ। ব্যক্তিগত অভিযোগ নয়, জনস্বার্থের প্রশ্ন হিসেবে উপস্থাপন করলে চিঠিটি ছাপা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
- জনস্বার্থ, ব্যক্তিগত অভিযোগ নয়।
নমুনা আবেদন
তারিখ: [দিন/মাস/বছর]
বরাবর, সম্পাদক, [পত্রিকার নাম], [ঠিকানা]।
বিষয়: “[সমস্যার শিরোনাম]” শীর্ষক পত্রটি প্রকাশের অনুরোধ।
জনাব, আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকার পাঠক কলামে নিম্নলিখিত বিষয়টি প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বাধিত হব।
আমাদের [এলাকার নাম] এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির তীব্র সংকট চলছে। এলাকার অধিকাংশ নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ে আছে এবং সরবরাহ লাইনের পানি প্রায়ই ঘোলা আসে।
ফলে বাসিন্দাদের দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীদের সময় নষ্ট হচ্ছে। শিশুদের মধ্যে পানিবাহিত রোগও বাড়ছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।
নিবেদক — [নাম], [ঠিকানা], [এলাকা]।
মনে রাখার কথা
সম্পাদক বরাবর চিঠিতে অভিযোগ থাকলেও ভাষা সংযত রাখতে হয় এবং কারও নামে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা যায় না। সমস্যা, তার প্রভাব ও প্রত্যাশিত সমাধান — এই তিনটি স্পষ্ট থাকলেই চিঠিটি কার্যকর হয়।
সাধারণ ভুল
পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।
- ✗ ব্যক্তিগত পত্রের ভাষায় লেখা। ✓ আনুষ্ঠানিক ভাষায় লেখা।
- ✗ প্রকাশের অনুরোধ বাদ দেওয়া। ✓ প্রথম বাক্যেই প্রকাশের অনুরোধ জানানো।
- ✗ নিবেদকের ঠিকানা না দেওয়া। ✓ পূর্ণ নাম ও ঠিকানা লেখা।
- ✗ ব্যক্তিগত অভিযোগ হিসেবে লেখা। ✓ জনস্বার্থের প্রশ্ন হিসেবে উপস্থাপন করা।
- ✗ সমস্যাটি অস্পষ্ট রাখা। ✓ এলাকা, সমস্যা ও ভুক্তভোগী নির্দিষ্ট করা।
- ✗ চিঠিটি দীর্ঘ করে ফেলা। ✓ এক পৃষ্ঠার কম রাখা — পত্রিকায় জায়গা সীমিত।
অনুশীলন
নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।
- সম্পাদক বরাবর চিঠি কি ব্যক্তিগত পত্র?
- এই চিঠিতে কী কী থাকা আবশ্যক?
- প্রকাশের অনুরোধ কোথায় লিখবে?
- নিবেদকের ঠিকানা কেন জরুরি?
- মূল বক্তব্যে কী থাকবে?
- ব্যক্তিগত অভিযোগ হিসেবে লিখলে কী হয়?
- বিষয় লাইনে কী লিখবে?
- চিঠিটি কোন বিভাগে ছাপা হয়?
- চিঠির দৈর্ঘ্য কেমন হওয়া উচিত?
- কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ কীভাবে করবে?
উত্তর
- না। এটি আনুষ্ঠানিক পত্র, সংবাদপত্রে প্রকাশের উদ্দেশ্যে লেখা। প্রাপক সম্পাদক হলেও পাঠক সাধারণ মানুষ — তাই ভাষা ও বক্তব্য দুটিই আনুষ্ঠানিক হতে হয়।
- প্রাপকের ঠিকানা, বিষয়, সম্বোধন, প্রকাশের অনুরোধ, মূল বক্তব্য এবং শেষে নিবেদকের পূর্ণ নাম ও ঠিকানা।
- প্রথম বাক্যেই — পত্রিকার পাঠকের কলাম বিভাগে বিষয়টি প্রকাশের অনুরোধ জানিয়ে। এটি এই ফর্মের বাঁধা রীতি।
- কারণ পত্রিকা প্রয়োজনে যোগাযোগ করে এবং পরিচয়হীন চিঠি সাধারণত ছাপা হয় না। ঠিকানা চিঠিটির বিশ্বাসযোগ্যতাও বাড়ায়।
- সমস্যাটি নির্দিষ্ট করে — কোন এলাকা, কী সমস্যা, কারা ভুক্তভোগী ও কতদিন ধরে চলছে; শেষে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ ও ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ।
- চিঠিটি ছাপা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। সংবাদপত্র জনস্বার্থের বিষয় প্রকাশ করে — একজনের ব্যক্তিগত সমস্যা নয়।
- সমস্যাটির সংক্ষিপ্ত পরিচয় — যেমন কোন এলাকার কোন সমস্যা নিয়ে চিঠিটি লেখা। সম্পাদক তখন এক নজরেই বিষয়টি ধরতে পারেন।
- সাধারণত পাঠকের কলাম বা চিঠিপত্র বিভাগে। প্রকাশের অনুরোধে এই বিভাগের নাম উল্লেখ করলে চিঠিটি সঠিক জায়গায় পৌঁছায় এবং প্রক্রিয়া দ্রুত হয়।
- সংক্ষিপ্ত — সাধারণত এক পৃষ্ঠার কম। পত্রিকায় জায়গা সীমিত, তাই দীর্ঘ চিঠি সংক্ষেপ করে ছাপা হয় বা বাদ পড়ে যায়।
- শেষ অনুচ্ছেদে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নাম উল্লেখ করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে। নির্দিষ্ট দপ্তরের কথা বললে অনুরোধটি লক্ষ্যভেদী হয়।
উপযোগী শ্রেণি: নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
না। এটি আনুষ্ঠানিক পত্র — বরাবর, বিষয় ও নিবেদক অংশ থাকে এবং ভাষা হয় সংযত ও তথ্যনির্ভর, ঘরোয়া নয়।
সমস্যার সুনির্দিষ্ট বর্ণনা, ভুক্তভোগীদের ওপর প্রভাব, ইতিপূর্বে নেওয়া পদক্ষেপ এবং কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যাশা — এই চারটি থাকলে চিঠিটি পূর্ণাঙ্গ হয়।
চিঠিটি ছাপা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। সংবাদপত্র জনস্বার্থের বিষয় প্রকাশ করে — একজনের ব্যক্তিগত সমস্যা নয়। তাই সমস্যাটিকে এলাকার বা জনগোষ্ঠীর সমস্যা হিসেবে উপস্থাপন করতে হয়।
সমস্যাটির সংক্ষিপ্ত পরিচয় — কোন এলাকার কোন সমস্যা নিয়ে চিঠিটি লেখা। সম্পাদক তখন এক নজরেই বিষয়টি ধরতে পারেন এবং উপযুক্ত বিভাগে পাঠাতে পারেন।
আরও দরখাস্ত ও পত্র পড়ো
দরখাস্ত ও পত্র-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















