মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

যেখানে দেখিবে ছাই উড়াইয়া দেখো তাই — ভাবসম্প্রসারণ ও মন্তব্যসহ।

যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখো তাই

যেখানে দেখিবে ছাই উড়াইয়া দেখো তাই — ভাবসম্প্রসারণ ও মন্তব্যসহ।

মূলভাব

বাইরের চেহারা দেখে কোনো কিছুকে তুচ্ছ ভাবা ঠিক নয়। ছাইয়ের নিচেও মূল্যবান রত্ন লুকিয়ে থাকতে পারে, তাই যাচাই না করে কিছু ফেলে দেওয়া উচিত নয়।

মূলভাবে কী লিখবে

প্রবাদটির পরের অংশ — পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য রতন। মূলভাবে দুই অংশ একসঙ্গে ধরতে হবে, নইলে বক্তব্যটি অসম্পূর্ণ থাকে।

বক্তব্য হলো — বাইরের চেহারা দেখে কিছু তুচ্ছ ভাবা ঠিক নয়। ছাইয়ের নিচেও রত্ন থাকতে পারে, তাই যাচাই না করে কিছু ফেলে দেওয়া উচিত নয়।

  • পরের অংশ — অমূল্য রতন
  • যাচাই ছাড়া ফেলে দিয়ো না

সম্প্রসারিত ভাবে কোন ক্ষেত্র নেবে

প্রথমে মানুষ চেনার ক্ষেত্র — পোশাক, ভাষা বা পেশা দেখে মানুষকে বিচার করা ভুল। সাধারণ চেহারার মানুষের ভেতরেও অসাধারণ যোগ্যতা থাকতে পারে।

তারপর শিক্ষাক্ষেত্র — যে শিক্ষার্থী পরীক্ষায় পিছিয়ে, তার অন্য কোনো ক্ষেত্রে প্রতিভা থাকতে পারে। একটিমাত্র মাপকাঠিতে সবাইকে বিচার করলে প্রতিভা হারিয়ে যায়।

শেষে সম্পদ ও সুযোগের ক্ষেত্র — ফেলে দেওয়া জিনিস পুনর্ব্যবহারে মূল্যবান হয়ে ওঠে, আর তুচ্ছ মনে হওয়া সুযোগ পরে বড় হয়ে দাঁড়ায়।

  • মানুষ → শিক্ষা → সুযোগ।
  • এক মাপকাঠিতে সব বিচার নয়

মন্তব্যে কী লিখবে

মন্তব্যে বলো যাচাই করার অভ্যাসই মানুষকে ভুল বিচার থেকে বাঁচায়।

কৌতূহলকে অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করে শেষ করলে বক্তব্য গঠনমূলক হয়।

সম্প্রসারিত ভাব

মানুষ সাধারণত বাইরের রূপ দেখে বিচার করে — পোশাক, চেহারা, ভাষার ধরন কিংবা প্রতিষ্ঠানের নাম। কিন্তু এই বাহ্যিক লক্ষণগুলো প্রায়ই ভেতরের যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল ধারণা দেয়।

অনেক প্রতিভা সাধারণ পরিবেশে চাপা পড়ে থাকে। গ্রামের একটি স্কুলে হয়তো এমন শিক্ষার্থী আছে, যাকে সুযোগ দিলে সে দেশের গর্ব হতে পারে। যাচাই না করে তাকে উপেক্ষা করা মানে জাতির সম্পদ নষ্ট করা।

গবেষণা ও উদ্ভাবনের ইতিহাসেও এই নীতি কাজ করেছে। যেসব বিষয়কে প্রথমে অকেজো মনে হয়েছিল, পরে সেগুলো থেকেই বড় আবিষ্কার এসেছে। অনুসন্ধিৎসু মন বলেই এসব সম্ভব হয়েছে।

তবে যাচাই মানে অন্ধ বিশ্বাসও নয়। প্রবাদটি বলছে পরীক্ষা করে দেখতে — অর্থাৎ প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে, আগাম ধারণা দিয়ে নয়।

মন্তব্য

সুতরাং বাহ্যিক চেহারায় সিদ্ধান্ত না নিয়ে যাচাই করে দেখা উচিত। অবহেলিত জায়গাতেও মূল্যবান কিছু মিলতে পারে।

সাধারণ ভুল

পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।

  • প্রবাদের দ্বিতীয় অংশ বাদ দেওয়া। “পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য রতন” অংশটিও ব্যাখ্যা করা।
  • কেবল বস্তুগত অর্থে ব্যাখ্যা করা। মানুষ চেনা ও প্রতিভা মূল্যায়নের প্রসঙ্গেও নিয়ে যাওয়া।
  • যাচাই ছাড়াই সব কিছু মূল্যবান — এমন দাবি করা। যাচাই করার কথাই বলা, ঢালাও মূল্য দেওয়ার নয়।
  • শিক্ষাক্ষেত্রের প্রয়োগটি বাদ দেওয়া। এক মাপকাঠিতে বিচার করলে প্রতিভা হারায় — এটি দেখানো।
  • উদাহরণ ছাড়া কেবল নীতিবাক্য লেখা। পুনর্ব্যবহার ও প্রতিভা মূল্যায়নের বাস্তব দৃষ্টান্ত দেওয়া।
  • তাড়াহুড়ার বিচারকে বাস্তববুদ্ধি ভাবা। তাড়াহুড়ার বিচারেই সবচেয়ে বেশি ভুল হয় — এটি স্পষ্ট করা।

অনুশীলন

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।

  1. প্রবাদটির পরের অংশ কী?
  2. মানুষ চেনার ক্ষেত্রে প্রবাদটি কীভাবে খাটে?
  3. শিক্ষাক্ষেত্রে এটি কীভাবে প্রয়োগ করা যায়?
  4. সম্পদের ক্ষেত্রে কোন দৃষ্টান্ত দেবে?
  5. প্রবাদটি কি বলছে সব কিছুই মূল্যবান?
  6. এই প্রবাদের মূল শিক্ষা কী?
  7. মন্তব্যে কী লিখবে?

উত্তর

  1. “পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য রতন।” দুই অংশ একসঙ্গে ধরলে বোঝা যায় প্রবাদটি কেবল সতর্ক করছে না, অনুসন্ধানে উৎসাহও দিচ্ছে।
  2. পোশাক, ভাষা বা পেশা দেখে মানুষকে বিচার করা ভুল। সাধারণ চেহারার মানুষের ভেতরেও অসাধারণ যোগ্যতা থাকতে পারে — বাইরের চিহ্ন ভেতরের সামর্থ্য জানায় না।
  3. যে শিক্ষার্থী পরীক্ষায় পিছিয়ে, তার খেলাধুলা, শিল্প বা হাতের কাজে প্রতিভা থাকতে পারে। একটিমাত্র মাপকাঠিতে সবাইকে বিচার করলে বহু প্রতিভা অচেনা থেকে যায়।
  4. ফেলে দেওয়া জিনিস পুনর্ব্যবহারে মূল্যবান হয়ে ওঠে — কাগজ, প্লাস্টিক ও ধাতু তার উদাহরণ। তুচ্ছ মনে হওয়া সুযোগও পরে বড় হয়ে দাঁড়ায়।
  5. না। এটি বলছে যাচাই না করে কিছু ফেলে দিয়ো না। যাচাইয়ের পর তুচ্ছ প্রমাণিত হলে ফেলে দেওয়াই ঠিক — প্রবাদটি অনুসন্ধানের কথা বলছে, ঢালাও মূল্যায়নের নয়।
  6. বাইরের চেহারা দেখে সিদ্ধান্তে না আসা এবং যাচাই করার অভ্যাস গড়ে তোলা। তাড়াহুড়ার বিচারেই সবচেয়ে বেশি ভুল হয়।
  7. যাচাই করার অভ্যাসই মানুষকে ভুল বিচার থেকে বাঁচায় — কৌতূহলকে অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করে শেষ করলে বক্তব্য গঠনমূলক হয়।

উপযোগী শ্রেণি: সপ্তম, অষ্টম, নবম-দশম শ্রেণি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আরও ভাবসম্প্রসারণ পড়ো

ভাবসম্প্রসারণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকো

পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।