বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না
বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না — ভাবসম্প্রসারণ, মূলভাব ও মন্তব্যসহ।
মূলভাব
বই কেনায় যে অর্থ ব্যয় হয়, তা ক্ষতি নয় — বিনিয়োগ। বই মানুষকে জ্ঞানে ও রুচিতে সমৃদ্ধ করে, তাই বইয়ের পেছনে ব্যয় করে কেউ কখনো নিঃস্ব হয় না।
মূলভাবে কী লিখবে
দেউলিয়া শব্দটি অর্থনৈতিক — সর্বস্বান্ত হওয়া। প্রবাদটি সেই অর্থনৈতিক শব্দকে ব্যবহার করে বলছে, বই কেনা খরচ নয়, বিনিয়োগ।
মূলভাবে এই উল্টো টানটিই ধরতে হবে: বইয়ে ব্যয় করা টাকা ফুরায় না, কারণ তার ফল সারা জীবন থেকে যায়।
- দেউলিয়া = সর্বস্বান্ত।
- বই কেনা বিনিয়োগ, খরচ নয়।
সম্প্রসারিত ভাবে কোন যুক্তি সাজাবে
প্রথমে বইয়ের স্থায়িত্ব — জামা পুরনো হয়, খাবার ফুরায়, কিন্তু বই থেকে পাওয়া জ্ঞান বছরের পর বছর কাজে লাগে এবং অন্যকেও দেওয়া যায়।
তারপর বইয়ের বিস্তার — একটি বই পাঠককে শত বছরের অভিজ্ঞতার সামনে দাঁড় করায়। যে অভিজ্ঞতা নিজে অর্জন করতে সারা জীবন লাগত, বই তা কয়েক দিনে দেয়।
শেষে গ্রন্থাগার ও পাঠাভ্যাসের কথা — বই কেনা সম্ভব না হলে গ্রন্থাগার ব্যবহার করা যায়, কিন্তু ঘরে বই থাকার আলাদা মূল্য আছে; তা পরের প্রজন্মেও পৌঁছায়।
- স্থায়িত্ব → বিস্তার → পাঠাভ্যাস।
- বই পরের প্রজন্মেও যায়।
মন্তব্যে কী লিখবে
মন্তব্যে বলো বই কেনার অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে লাভজনক অভ্যাস, কারণ এর ফল কখনো ফুরায় না।
অন্য কোনো ব্যয়কে ছোট করে দেখিয়ে শেষ করার দরকার নেই — তুলনাটি বইয়ের পক্ষেই যথেষ্ট।
সম্প্রসারিত ভাব
অন্য পণ্য ব্যবহারে ক্ষয়ে যায়, বই ব্যবহারে বাড়ে। একটি বই একবার কিনলে তা বহুবার পড়া যায়, পরিবারের সবাই পড়তে পারে, পরের প্রজন্মও পড়তে পারে। যে অর্থ একবার ব্যয় হলো, তার প্রতিদান আজীবন চলতে থাকে।
বই কেবল তথ্য দেয় না, দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়। ভালো বই পাঠকের কল্পনাশক্তি বাড়ায়, ভাষা শাণিত করে, অন্যের জীবন ও সময়ের ভেতর ঢুকতে শেখায়। এই অর্জনের কোনো বাজারমূল্য নেই, অথচ এটিই মানুষকে সবচেয়ে বেশি সমৃদ্ধ করে।
সিদ্ধান্তটি পরিবারের জন্যও লাভজনক। যে ঘরে বইয়ের তাক আছে, সে ঘরের শিশু পড়ার অভ্যাস নিয়ে বড় হয়। এই অভ্যাসের মূল্য বইয়ের দামের তুলনায় বহুগুণ বেশি।
অবশ্য বই কেনার আগে বাছাই করাও শেখা দরকার। পাঠ্যবইয়ের বাইরে সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান ও জীবনীর মিশেল রাখলে পড়ার রুচি প্রশস্ত হয়। বইমেলা, পাঠাগার কিংবা পুরোনো বইয়ের দোকান — সীমিত সামর্থ্যেও ভালো বই সংগ্রহের পথ অনেক। কেনা বই পড়া হলে তবেই খরচটি বিনিয়োগে পরিণত হয়।
মন্তব্য
সুতরাং বইয়ের খরচকে অপচয় ভাবা ভুল। বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না, বরং না পড়ে থেকেই মানুষ প্রকৃত অর্থে দরিদ্র হয়।
সাধারণ ভুল
পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।
- ✗ “দেউলিয়া” শব্দের অর্থ না বোঝা। ✓ “দেউলিয়া” মানে সর্বস্বান্ত — শব্দটি ব্যাখ্যা করে নেওয়া।
- ✗ বইকে কেবল পরীক্ষার উপকরণ হিসেবে দেখা। ✓ পাঠ্যবইয়ের বাইরের বইয়ের মূল্যও দেখানো।
- ✗ অন্য সব ব্যয়কে অপচয় বলে দাবি করা। ✓ কেবল বইয়ের স্থায়ী ফলটিই তুলে ধরা।
- ✗ গ্রন্থাগারের কথা একেবারেই না বলা। ✓ বই কেনা সম্ভব না হলে গ্রন্থাগারের বিকল্পটিও উল্লেখ করা।
- ✗ বইয়ের সংখ্যাকেই পাঠাভ্যাসের পরিমাপ ধরা। ✓ সংগ্রহ নয়, নিয়মিত পড়ার অভ্যাসটিকেই আসল সম্পদ হিসেবে দেখানো।
অনুশীলন
নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।
- “দেউলিয়া” শব্দটি প্রবাদে কেন গুরুত্বপূর্ণ?
- বইয়ের স্থায়িত্ব কীভাবে দেখাবে?
- একটি বই পাঠককে কী দেয়?
- বই কেনার সামর্থ্য না থাকলে কী করণীয়?
- পাঠ্যবইয়ের বাইরের বইয়ের গুরুত্ব কী?
- উত্তরে অন্য ব্যয়কে অপচয় বলা উচিত কি?
- ঘরে বই থাকার আলাদা মূল্য কী?
উত্তর
- শব্দটি অর্থনৈতিক — সর্বস্বান্ত হওয়া। প্রবাদটি সেই অর্থনৈতিক শব্দকে উল্টে দিয়ে বলছে বই কেনা খরচ নয়, বিনিয়োগ।
- জামা পুরনো হয়, খাবার ফুরায়, কিন্তু বই থেকে পাওয়া জ্ঞান বছরের পর বছর কাজে লাগে এবং অন্যকেও দেওয়া যায়।
- শত বছরের সঞ্চিত অভিজ্ঞতার সামনে দাঁড় করায়। যে অভিজ্ঞতা নিজে অর্জন করতে সারা জীবন লাগত, বই তা কয়েক দিনেই পৌঁছে দেয়।
- গ্রন্থাগার ব্যবহার করা। তবে ঘরে বই থাকার আলাদা মূল্য আছে — তা পরের প্রজন্মের হাতেও পৌঁছায়।
- পাঠ্যবই পরীক্ষার জন্য, আর পাঠ্যবইয়ের বাইরের বই জীবনের জন্য। সাহিত্য, ইতিহাস ও বিজ্ঞানের বই কল্পনাশক্তি ও বিবেচনাবোধ গড়ে, যা কোনো পরীক্ষার সিলেবাসে ধরা পড়ে না অথচ সারা জীবন কাজে লাগে।
- না। অন্য সব ব্যয়কে ছোট করে দেখালে যুক্তিটি দুর্বল হয়ে যায় এবং উত্তর অবাস্তব শোনায়। কেবল বইয়ের স্থায়ী ফলটি তুলে ধরাই যথেষ্ট — তুলনাটি নিজেই বইয়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে যায়।
- চোখের সামনে বই থাকলে পাঠাভ্যাস নিজে থেকেই গড়ে ওঠে, আর সেই সংগ্রহ পরের প্রজন্মের হাতেও পৌঁছায়। গ্রন্থাগারের বই ফেরত দিতে হয়; ঘরের বই থেকে যায় এবং বারবার ফিরে পড়া যায়।
উপযোগী শ্রেণি: সপ্তম, অষ্টম, নবম-দশম শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
উক্তিটি সাধারণত প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক শ্রীপান্থের নামে প্রচলিত এবং বাংলা পাঠ্যবইয়ে বই পড়ার গুরুত্ব বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
ই-বুক ও অনলাইন লাইব্রেরির প্রসঙ্গ যোগ করতে পারো — মাধ্যম বদলালেও পড়ার মূল্য বদলায় না, বরং বই এখন আরও সহজলভ্য।
কারণ বইয়ের ফল ফুরায় না। জামা পুরনো হয়, খাবার শেষ হয়, কিন্তু বই থেকে পাওয়া জ্ঞান বছরের পর বছর কাজে লাগে, অন্যকেও দেওয়া যায় এবং বইটি পরের প্রজন্মের হাতেও পৌঁছায়।
গ্রন্থাগার ব্যবহারের কথা লেখা যায়। তবে ঘরে বই থাকার আলাদা মূল্য আছে — চোখের সামনে বই থাকলে পাঠাভ্যাস গড়ে ওঠে, আর সেই অভ্যাসই আসল সম্পদ, বইয়ের সংখ্যা নয়।
আরও ভাবসম্প্রসারণ পড়ো
ভাবসম্প্রসারণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















