কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে
কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে — ভাবসম্প্রসারণ, মূলভাব ও মন্তব্যসহ।
মূলভাব
কাঁটার ভয়ে ফুল তোলা থেকে বিরত থাকা কাপুরুষতা। কোনো মূল্যবান অর্জনের পথেই বাধা থাকবে, আর সেই বাধা পেরিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হয়।
মূলভাবে কী লিখবে
কণ্টক কাঁটা, কমল পদ্ম, আর ক্ষান্ত মানে বিরত। মূলভাবে শব্দগুলোর অর্থ পরিষ্কার করে নিলে ভাবটি সহজ হয়ে যায়।
বক্তব্য হলো — কাঁটার ভয়ে ফুল না তোলা কাপুরুষতা। যেকোনো মূল্যবান অর্জনের পথেই বাধা থাকে, আর বাধা পেরিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হয়।
- কমল = পদ্ম, ক্ষান্ত = বিরত।
- বাধা ছাড়া মূল্যবান অর্জন নেই।
সম্প্রসারিত ভাবে যুক্তির ধাপ
প্রথমে বাধার অনিবার্যতা — পদ্ম কাঁটার মধ্যেই ফোটে, মধু মৌচাকের হুলের পাশে থাকে। মূল্যবান জিনিস সহজে হাতে আসে না, আসাই স্বাভাবিক নয়।
তারপর ভয়ের পরিণাম — যে ভয়ে চেষ্টাই করে না, সে ব্যর্থ হওয়ার সুযোগও পায় না, শেখারও না। নিষ্ক্রিয়তার ক্ষতি ব্যর্থতার ক্ষতির চেয়ে বড়।
শেষে সীমারেখা — সাহস আর বেপরোয়া মনোভাব এক নয়। সাহস মানে ঝুঁকি বুঝে এগোনো, বেপরোয়া মানে ঝুঁকি না বুঝে ঝাঁপ দেওয়া।
- বাধা অনিবার্য।
- নিষ্ক্রিয়তার ক্ষতি বড়।
- সাহস ≠ বেপরোয়া।
মন্তব্যে কী লিখবে
মন্তব্যে বলো বাধাকে অস্বীকার না করে তার প্রস্তুতি নেওয়াই সাহসের প্রকৃত রূপ।
ঝুঁকিকে ছোট করে দেখানোর সুর এড়িয়ে চলা ভালো — প্রস্তুতির কথা বললেই বক্তব্য বাস্তবসম্মত হয়।
সম্প্রসারিত ভাব
পদ্ম ফোটে কাদার মধ্যে, গোলাপের সঙ্গে থাকে কাঁটা। প্রকৃতি যেন আগেই জানিয়ে দেয় — সুন্দর কিছু পেতে হলে অস্বস্তি সহ্য করতে হবে। যে কেবল কাঁটার দিকে তাকিয়ে থাকে, সে ফুল পায় না।
জীবনের বড় লক্ষ্যগুলোর ক্ষেত্রেও তা-ই। ভালো ফলের পথে থাকে দীর্ঘ পরিশ্রম ও বিনোদনের ত্যাগ; উদ্যোক্তা হওয়ার পথে থাকে আর্থিক ঝুঁকি; গবেষণার পথে থাকে বছরের পর বছর ব্যর্থতা। বাধাগুলো লক্ষ্যেরই অংশ।
ভয় পেয়ে সরে দাঁড়ানোর ক্ষতি দুইরকম। প্রথমত, লক্ষ্যটি অর্জিত হয় না; দ্বিতীয়ত, বারবার পিছিয়ে আসার অভ্যাস আত্মবিশ্বাসকে নষ্ট করে দেয়। ফলে পরের বাধাটি আরও বড় মনে হয়।
সাহস মানে অবশ্য বেপরোয়া হওয়া নয়। কাঁটা এড়িয়ে ফুল তোলার কৌশল শেখাও এই সাহসের অংশ — অর্থাৎ ঝুঁকি বুঝে, প্রস্তুতি নিয়ে এগোনো।
মন্তব্য
তাই বাধার ভয়ে লক্ষ্য থেকে সরে আসা চলবে না। কাঁটা সয়েই কমল তুলতে হয়।
সাধারণ ভুল
পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।
- ✗ সাহস ও বেপরোয়া মনোভাবকে এক করে ফেলা। ✓ সাহস মানে ঝুঁকি বুঝে এগোনো — পার্থক্যটি টানা।
- ✗ শব্দগুলোর অর্থ ব্যাখ্যা না করা। ✓ কণ্টক, কমল ও ক্ষান্ত — তিনটির অর্থ স্পষ্ট করে নেওয়া।
- ✗ ঝুঁকিকে ছোট করে দেখানো। ✓ ঝুঁকি স্বীকার করে তার প্রস্তুতির কথা বলা।
- ✗ কেবল উপদেশমূলক বাক্য লেখা। ✓ পদ্ম ও মৌচাকের মতো চেনা দৃষ্টান্ত দেওয়া।
- ✗ নিষ্ক্রিয়তার ক্ষতির কথা বাদ দেওয়া। ✓ চেষ্টা না করার ক্ষতি ব্যর্থতার চেয়ে বড় — এটি দেখানো।
- ✗ বাধাকে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা। ✓ মূল্যবান অর্জনের পথে বাধা থাকা নিয়ম — এটিই দেখানো।
অনুশীলন
নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।
- পঙ্ক্তিটির শব্দগুলোর অর্থ কী?
- বাধার অনিবার্যতা কীভাবে দেখাবে?
- সাহস আর বেপরোয়া মনোভাবের পার্থক্য কোথায়?
- নিষ্ক্রিয়তার ক্ষতি কেন বড়?
- ঝুঁকিকে ছোট করে দেখানো উচিত কি?
- কোন ধরনের দৃষ্টান্ত এখানে ভালো বসে?
- মন্তব্যে কী লিখবে?
উত্তর
- কণ্টক মানে কাঁটা, কমল মানে পদ্ম এবং ক্ষান্ত মানে বিরত। অর্থ তিনটি পরিষ্কার করে নিলে পঙ্ক্তিটির প্রশ্ন — কাঁটা দেখে পদ্ম তোলা থেকে বিরত হবে কেন — স্পষ্ট হয়ে যায়।
- পদ্ম কাঁটার মধ্যেই ফোটে, মধু মৌচাকের হুলের পাশে থাকে। প্রকৃতিই দেখিয়ে দেয় মূল্যবান জিনিসের সঙ্গে বাধা জড়িয়ে থাকে — এটি ব্যতিক্রম নয়, নিয়ম।
- সাহস মানে ঝুঁকি বুঝে, প্রস্তুতি নিয়ে এগোনো; বেপরোয়া মানে ঝুঁকি না বুঝেই ঝাঁপ দেওয়া। প্রথমটি প্রশংসনীয়, দ্বিতীয়টি বিপজ্জনক।
- যে ভয়ে চেষ্টাই করে না, সে ব্যর্থ হওয়ার সুযোগও পায় না, শেখারও না। ব্যর্থতা অন্তত অভিজ্ঞতা দেয়; নিষ্ক্রিয়তা কিছুই দেয় না।
- না। ঝুঁকি স্বীকার করে তার প্রস্তুতির কথা বললেই বক্তব্য বাস্তবসম্মত হয়। ঝুঁকি অস্বীকার করলে পরামর্শটি দায়িত্বজ্ঞানহীন শোনায়।
- পদ্ম ও কাঁটা, মধু ও হুল — প্রকৃতির চেনা ছবি। পাশাপাশি পরীক্ষার প্রস্তুতি বা নতুন ব্যবসা শুরু করার মতো বাস্তব দৃষ্টান্তও যুক্ত করা যায়।
- বাধাকে অস্বীকার না করে তার প্রস্তুতি নেওয়াই সাহসের প্রকৃত রূপ — এই কথাটি দিয়ে শেষ করলে সিদ্ধান্তটি ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিণত হয়।
উপযোগী শ্রেণি: নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
ভাবটি হলো — বাধার ভয়ে মূল্যবান কিছু অর্জনের চেষ্টা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। প্রতিটি বড় অর্জনের পথেই কষ্ট ও ঝুঁকি থাকে, সেগুলো পেরিয়েই সাফল্য আসে।
সাহস হলো ঝুঁকি বুঝে প্রস্তুতি নিয়ে এগোনো, আর বেপরোয়া মনোভাব হলো ঝুঁকি না মেপেই ঝাঁপিয়ে পড়া। উত্তরে এই পার্থক্যটি যোগ করলে ভাবনাটি পরিণত দেখায়।
সাহস মানে ঝুঁকি বুঝে, প্রস্তুতি নিয়ে এগোনো; বেপরোয়া মানে ঝুঁকি না বুঝেই ঝাঁপ দেওয়া। প্রথমটি প্রশংসনীয়, দ্বিতীয়টি বিপজ্জনক — এই সীমাটি উত্তরে না রাখলে পরামর্শটি দায়িত্বজ্ঞানহীন শোনায়।
যে ভয়ে চেষ্টাই করে না, সে ব্যর্থ হওয়ার সুযোগও পায় না, শেখারও না। ব্যর্থতা অন্তত অভিজ্ঞতা ও পরের বারের প্রস্তুতি দেয়; নিষ্ক্রিয়তা কিছুই দেয় না — কেবল আফসোস রেখে যায়।
আরও ভাবসম্প্রসারণ পড়ো
ভাবসম্প্রসারণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















