মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য — ভাবসম্প্রসারণ, মূলভাব ও মন্তব্যসহ।

দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য

দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য — ভাবসম্প্রসারণ, মূলভাব ও মন্তব্যসহ।

মূলভাব

বিদ্যা থাকলেই মানুষ গ্রহণযোগ্য হয় না। চরিত্র খারাপ হলে তার বিদ্যা সমাজের উপকারে আসে না, বরং ক্ষতির অস্ত্র হয়ে ওঠে — তাই দুর্জন যত বিদ্বানই হোক, তাকে এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

মূলভাবে কী লিখবে

মূলভাবে বলতে হবে — বিদ্যা ও চরিত্র আলাদা জিনিস, আর দুটির মধ্যে চরিত্রই নির্ধারক। দুর্জনের বিদ্যা তাকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে।

প্রচলিত উপমাটি কাজে লাগে — মণিধারী সাপ। মণি মূল্যবান, কিন্তু সাপ সাপই থাকে; বিদ্যা মূল্যবান, কিন্তু দুর্জন দুর্জনই থাকে।

  • বিদ্যা ≠ চরিত্র
  • উপমা — মণিধারী সাপ

সম্প্রসারিত ভাবে যুক্তির ধাপ

প্রথমে দেখাও বিদ্যা একটি হাতিয়ার — হাতিয়ার কার হাতে পড়ছে তার ওপরই তার ফল নির্ভর করে। ছুরি শল্যচিকিৎসকের হাতে জীবন বাঁচায়, দুর্বৃত্তের হাতে জীবন নেয়।

তারপর দেখাও শিক্ষিত দুর্জন কেন বেশি ভয়ংকর — সে অন্যায়কে যুক্তি দিয়ে সাজাতে জানে, আইনের ফাঁক চেনে এবং ধরা পড়ার সম্ভাবনা কমিয়ে ফেলে।

শেষে বলো শিক্ষার লক্ষ্য কী হওয়া উচিত — কেবল তথ্য নয়, মূল্যবোধ। শিক্ষা যদি চরিত্র না গড়ে, সে শিক্ষা অসম্পূর্ণ।

  • বিদ্যা একটি হাতিয়ার
  • শিক্ষিত দুর্জন বেশি ভয়ংকর
  • শিক্ষার লক্ষ্য মূল্যবোধ

মন্তব্যে কী লিখবে

মন্তব্যে সিদ্ধান্ত টানো — বিদ্যার পাশাপাশি চরিত্রগঠনই শিক্ষার প্রকৃত সার্থকতা।

দুর্জনকে ঘৃণা করার আহ্বান নয়, বরং চরিত্রের গুরুত্ব বোঝানোই মন্তব্যের কাজ।

সম্প্রসারিত ভাব

বিদ্যা একটি শক্তি, আর শক্তি নিজে ভালো বা মন্দ নয় — ব্যবহারকারীর চরিত্রই তা ঠিক করে। একই রসায়নবিদ্যা দিয়ে ওষুধ তৈরি হয়, আবার বিষও। একই প্রযুক্তি জ্ঞান দিয়ে কেউ সেবা দেয়, কেউ প্রতারণা করে। তাই বিদ্যার সঙ্গে সততা যুক্ত না হলে সে বিদ্যা ভয়ংকর।

সাপের মাথায় মণি থাকলেও সাপকে কেউ কোলে তুলে নেয় না — এই প্রচলিত তুলনাটি এখানে যথার্থ। দুর্জনের বিদ্যা তার কুমতলবকে আরও সূক্ষ্ম ও কার্যকর করে তোলে, ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে তার ফাঁদ বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।

এ কারণেই শিক্ষার লক্ষ্য কেবল তথ্য মুখস্থ করানো নয়, চরিত্র গঠনও। নৈতিকতা বাদ দিয়ে যে শিক্ষা কেবল সনদ ও চাকরির দিকে ছোটে, সে শিক্ষা অসম্পূর্ণ।

বর্তমান সময়ে কথাটির প্রাসঙ্গিকতা আরও বেড়েছে। সাইবার প্রতারণা, পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস বা জাল সনদের কারবার — এগুলোর কোনোটিই অশিক্ষিত মানুষের কাজ নয়; বরং দক্ষ ও শিক্ষিত হাতেই এসব অপরাধ ঘটে। তাই কাউকে যাচাই করার সময় তার সনদের পাশাপাশি তার আচরণ ও সততার ইতিহাসও দেখা দরকার।

মন্তব্য

সুতরাং বিদ্যার পাশাপাশি চরিত্রের বিচারও জরুরি। সৎ ও বিদ্বান মানুষই সমাজের প্রকৃত সম্পদ।

সাধারণ ভুল

পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।

  • বিদ্যাকেই দোষ দেওয়া। বিদ্যা নয়, বিদ্যার অপব্যবহারকে দোষ দেওয়া।
  • দুর্জন মানেই অশিক্ষিত — এমন ধরে নেওয়া। শিক্ষিত দুর্জনই এখানে আলোচ্য, আর সে বেশি বিপজ্জনক।
  • মণিধারী সাপের উপমাটি বাদ দেওয়া। উপমাটি ব্যবহার করে ভাবটি স্পষ্ট করা।
  • মন্তব্যে ঘৃণার সুর আনা। চরিত্রগঠনের গুরুত্ব দিয়ে শেষ করা।
  • বিদ্যাকে ও চরিত্রকে একই জিনিস ধরে নেওয়া। দুটিকে আলাদা করে দেখিয়ে বলা, বিদ্যা সামর্থ্য দেয় আর চরিত্র ঠিক করে সেই সামর্থ্য কোন দিকে খরচ হবে।

অনুশীলন

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।

  1. এই ভাবের সবচেয়ে উপযোগী উপমা কোনটি?
  2. শিক্ষিত দুর্জন কেন বেশি বিপজ্জনক?
  3. বিদ্যাকে হাতিয়ার বলা হয় কেন?
  4. এই ভাব থেকে শিক্ষার লক্ষ্য সম্পর্কে কী সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়?
  5. “পরিত্যাজ্য” বলতে কি ঘৃণা করা বোঝানো হয়েছে?
  6. মন্তব্যে কোন সুরটি ধরা উচিত?
  7. দুর্জনের বিদ্যা সমাজের কী ক্ষতি করে?

উত্তর

  1. মণিধারী সাপ। মণি মূল্যবান হলেও সাপ সাপই থাকে — তেমনি বিদ্যা মূল্যবান হলেও দুর্জন দুর্জনই থাকে।
  2. কারণ সে অন্যায়কে যুক্তি দিয়ে সাজাতে জানে, আইনের ফাঁক চেনে এবং ধরা পড়ার সম্ভাবনা কমিয়ে ফেলে। তার অন্যায় তাই দীর্ঘস্থায়ী হয়।
  3. কারণ হাতিয়ারের ফল নির্ভর করে তা কার হাতে পড়ছে তার ওপর। ছুরি শল্যচিকিৎসকের হাতে জীবন বাঁচায়, দুর্বৃত্তের হাতে জীবন নেয়।
  4. শিক্ষার লক্ষ্য কেবল তথ্য দেওয়া নয়, মূল্যবোধ গড়া। শিক্ষা যদি চরিত্র না গড়ে, সে শিক্ষা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
  5. না। পরিত্যাজ্য অর্থ বর্জনীয় — অর্থাৎ তার সংসর্গ এড়িয়ে চলা উচিত। ঘৃণার আহ্বান এখানে নেই; আছে সতর্কতার পরামর্শ, কারণ দুর্জনের সংসর্গ নিজের ক্ষতি ডেকে আনে।
  6. চরিত্রগঠনের গুরুত্ব দিয়ে শেষ করা। দুর্জনকে ঘৃণা করার আহ্বান নয়, বরং বিদ্যার পাশাপাশি চরিত্র গড়াই যে শিক্ষার প্রকৃত সার্থকতা — এই সিদ্ধান্তেই উত্তরটি সবচেয়ে পরিণত শোনায়।
  7. সে বিদ্যাকে ঢাল বানিয়ে অন্যায়কে বৈধতা দেয়। শিক্ষিত দুর্জন আইনের ফাঁক চেনে, নথিপত্র সাজাতে জানে এবং যুক্তি দিয়ে নিজের কাজকে ন্যায্য দেখাতে পারে — ফলে তার অন্যায় ধরা পড়ে দেরিতে এবং ক্ষতি হয় অনেক বড়।

উপযোগী শ্রেণি: নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আরও ভাবসম্প্রসারণ পড়ো

ভাবসম্প্রসারণ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকো

পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।