মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

অসুস্থতাজনিত ছুটির আবেদনের নমুনা — কাঠামো, সময়সীমা ও সংযুক্তির নিয়ম।

অসুস্থতার ছুটির আবেদন

অসুস্থতাজনিত ছুটির আবেদনের নমুনা — কাঠামো, সময়সীমা ও সংযুক্তির নিয়ম।

কী লিখতে হবে

অসুস্থতার ছুটির আবেদনে অসুস্থতার ধরন, ছুটির সময়সীমা ও কবে থেকে অনুপস্থিত ছিলে — এই তিনটি জানাতে হয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের সনদ সংযুক্ত করতে হয়।

আবেদনে কী থাকবে

অসুস্থতার ছুটির আবেদনে থাকবে — অসুস্থতার সাধারণ পরিচয়, কবে থেকে কবে পর্যন্ত ছুটি প্রয়োজন এবং মোট কত দিন।

রোগের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়ার দরকার নেই। “জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী” — এটুকুই যথেষ্ট।

  • রোগ · তারিখ · দিনসংখ্যা।

চিকিৎসকের সনদ কখন লাগে

সাধারণত তিন দিনের বেশি ছুটির জন্য চিকিৎসকের সনদ চাওয়া হয়, তবে নিয়ম প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা।

সনদ থাকলে আবেদনে তা সংযুক্ত করার কথা এক বাক্যে লিখতে হয়। না থাকলে সুস্থ হয়ে যোগদানের পর জমা দেওয়ার কথা বলা যায়।

সনদ ছাড়া দীর্ঘ ছুটি চাইলে আবেদনটি দুর্বল হয়ে যায়, তাই এই তথ্যটি আবেদনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

  • তিন দিনের বেশি → সনদ

আগাম ছুটি থেকে পার্থক্য

আগাম ছুটির আবেদন লেখা হয় ঘটনার আগে — বিয়ে, সফর বা পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য, আর তাতে অনুমতি চাওয়া হয়।

অসুস্থতার ছুটি প্রায়ই ঘটনার পরে লেখা হয়, কারণ অসুস্থতা আগে থেকে জানা যায় না। তখন ভাষা হয় অনুমতি নয়, মঞ্জুরির অনুরোধ।

  • আগাম — অনুমতি
  • অসুস্থতা — মঞ্জুরি

নমুনা আবেদন

তারিখ: [দিন/মাস/বছর]

বরাবর, প্রধান শিক্ষক, [প্রতিষ্ঠানের নাম], [ঠিকানা]।

বিষয়: অসুস্থতাজনিত ছুটির জন্য আবেদন।

জনাব, বিনীত নিবেদন এই যে, আমি আপনার বিদ্যালয়ের [শ্রেণি] শ্রেণির ছাত্র/ছাত্রী, রোল নম্বর [রোল]।

গত [তারিখ] থেকে আমি জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী আছি। চিকিৎসকের পরামর্শে আমাকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে বলা হয়েছে।

এ অবস্থায় [তারিখ] থেকে [তারিখ] পর্যন্ত মোট [সংখ্যা] দিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের অনুলিপি সঙ্গে সংযুক্ত করা হলো।

অতএব, বিনীত প্রার্থনা এই যে, উল্লিখিত দিনগুলোর ছুটি মঞ্জুর করে বাধিত করবেন।

নিবেদক — আপনার অনুগত ছাত্র/ছাত্রী, [নাম], শ্রেণি: [শ্রেণি], রোল: [রোল]।

মনে রাখার কথা

ছুটির আবেদন যথাসম্ভব আগে জমা দেওয়া ভালো; আকস্মিক অসুস্থতায় সুস্থ হওয়ার পর প্রথম দিনেই জমা দিতে হয়। তারিখ ও দিনসংখ্যা স্পষ্ট না থাকলে আবেদন গ্রহণে জটিলতা হয়।

সাধারণ ভুল

পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।

  • রোগের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া। অসুস্থতার সাধারণ পরিচয়ই যথেষ্ট।
  • ছুটির তারিখ ও দিনসংখ্যা না লেখা। কবে থেকে কবে পর্যন্ত ও মোট কত দিন — স্পষ্ট করা।
  • সনদের কথা এড়িয়ে যাওয়া। সংযুক্ত করা বা পরে জমা দেওয়ার কথা লেখা।
  • আগাম ছুটির ভাষায় লেখা। ঘটনার পরে হলে মঞ্জুরির অনুরোধ হিসেবে লেখা।
  • অতিরিক্ত করুণ ভাষা ব্যবহার করা। সংযত ও তথ্যনিষ্ঠ ভাষায় লেখা।

অনুশীলন

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।

  1. ছুটির আবেদনে কি চিকিৎসকের সনদ লাগে?
  2. আগাম ছুটি ও অসুস্থতার ছুটির পার্থক্য কী?
  3. আবেদনে কী কী তথ্য থাকবে?
  4. রোগের বিস্তারিত লিখব কি?
  5. সনদ ছাড়া দীর্ঘ ছুটি চাইলে কী হয়?
  6. ভাষা কেমন হবে?
  7. ছুটি শেষে কী করণীয়?
  8. ছুটির আবেদন কার কাছে করবে?
  9. অভিভাবকের স্বাক্ষর লাগে কি?
  10. ছুটির আবেদনে সবচেয়ে বেশি কোন ভুলটি হয়?

উত্তর

  1. সাধারণত তিন দিনের বেশি ছুটির জন্য লাগে, তবে নিয়ম প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা। সনদ থাকলে সংযুক্তির কথা লিখতে হয়, না থাকলে পরে জমা দেওয়ার কথা।
  2. আগাম ছুটির আবেদন ঘটনার আগে লেখা হয় এবং তাতে অনুমতি চাওয়া হয়; অসুস্থতার ছুটি প্রায়ই পরে লেখা হয় এবং তাতে মঞ্জুরির অনুরোধ থাকে।
  3. অসুস্থতার সাধারণ পরিচয়, কবে থেকে কবে পর্যন্ত ছুটি প্রয়োজন এবং মোট কত দিন। তারিখ ও দিনসংখ্যা ছাড়া আবেদনটি অসম্পূর্ণ।
  4. না। “জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী” — এটুকুই যথেষ্ট। বিস্তারিত বর্ণনা আবেদনপত্রে অপ্রয়োজনীয় এবং ব্যক্তিগত তথ্যের বাড়তি প্রকাশ।
  5. আবেদনটি দুর্বল হয়ে যায় এবং মঞ্জুর না-ও হতে পারে। তাই সনদের প্রসঙ্গটি আবেদনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
  6. সংযত ও তথ্যনিষ্ঠ। অতিরিক্ত করুণ ভাষা আবেদনটিকে দুর্বল করে — প্রয়োজনটি স্পষ্ট থাকলেই অনুরোধটি যথেষ্ট জোরালো হয়।
  7. সুস্থ হয়ে যোগদানের সময় প্রয়োজনে চিকিৎসকের সনদ জমা দেওয়া। আবেদনে এই কথাটি লিখে রাখলে পরে জটিলতা হয় না।
  8. শ্রেণিশিক্ষক বা প্রধান শিক্ষকের কাছে — প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী। প্রাপক ভুল হলে আবেদনটি যথাসময়ে বিবেচিত হয় না।
  9. অনেক প্রতিষ্ঠানে লাগে, বিশেষত নিচের শ্রেণিতে। নিয়ম থাকলে আবেদনে অভিভাবকের স্বাক্ষরের জায়গা রাখতে হয়।
  10. তারিখ ও দিনসংখ্যা স্পষ্ট না করা। কবে থেকে কবে পর্যন্ত ছুটি চাই তা না লিখলে আবেদনটি অসম্পূর্ণ থেকে যায় এবং হাজিরার হিসাবেও গোলমাল হয়।

উপযোগী শ্রেণি: ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম শ্রেণি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আরও দরখাস্ত ও পত্র পড়ো

দরখাস্ত ও পত্র-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকো

পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।