পরিবেশ দূষণ
এলাকার পরিবেশ দূষণ নিয়ে সরেজমিন নমুনা প্রতিবেদন — পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশসহ।
সূচনা
আমাদের এলাকার একটি খাল ও সংলগ্ন বসতি ঘুরে পরিবেশ দূষণের বাস্তব চিত্র পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, খালটি কার্যত একটি উন্মুক্ত ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
রচনা থেকে পার্থক্যটি ধরো
পরিবেশ দূষণের রচনা সারা দেশের সাধারণ চিত্র নিয়ে; প্রতিবেদন একটি নির্দিষ্ট এলাকার নির্দিষ্ট অবস্থা নিয়ে।
রচনায় লেখা হয় দূষণ কী ও কেন খারাপ; প্রতিবেদনে লেখা হয় এই এলাকায় এখন কী অবস্থা এবং তা কে ভোগ করছে।
এই পার্থক্যটি ধরতে না পারলে প্রতিবেদনটি রচনার সংক্ষিপ্ত রূপ হয়ে দাঁড়ায়, যা প্রশ্নের উত্তর নয়।
- রচনা — সাধারণ।
- প্রতিবেদন — নির্দিষ্ট এলাকা।
সরেজমিন পর্যবেক্ষণে কী লিখবে
যা চোখে দেখা যায় — খোলা জায়গায় জমা বর্জ্য, নালার দুর্গন্ধ, কারখানার নির্গমন, ধুলা ও কালো ধোঁয়া।
যা শোনা যায় ও অনুভব করা যায় — যানবাহনের হর্ন, নির্মাণকাজের শব্দ এবং বাতাসের ভারী গন্ধ।
স্থানীয়দের ভোগান্তি এক-দুই বাক্যে — শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ ও পানিবাহিত রোগ বেড়ে যাওয়ার কথা সাধারণভাবে লেখা যায়।
- দেখা · শোনা · ভোগান্তি।
সুপারিশ ও সীমা
সুপারিশে — বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নালা পরিষ্কার, কারখানায় শোধনাগার বাধ্যতামূলক করা, বৃক্ষরোপণ ও নিয়মিত তদারকি।
দূষণের মাত্রা নিয়ে সংখ্যা বা সূচক লিখো না, আর নির্দিষ্ট কারখানার নাম উল্লেখ করেও অভিযোগ করা যাবে না।
- সূচক ও নাম নয়।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
খালের দুই পাড়ে গৃহস্থালির বর্জ্য স্তূপ হয়ে আছে। পলিথিন ও প্লাস্টিকের বোতলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
পাশের কয়েকটি ছোট কারখানার বর্জ্য সরাসরি খালে পড়ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন। পানির রং কালচে এবং দুর্গন্ধ তীব্র।
বাসিন্দারা জানান, আগে এই খালে গোসল ও মাছ ধরা হতো; এখন পানি ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীর ভাষ্য, এলাকায় চর্মরোগ ও পেটের পীড়ার রোগী তুলনামূলক বেশি এবং শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
বর্জ্য অপসারণের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে খালপাড়ে আবর্জনা ফেলছেন বলে জানান।
বাতাসেও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। খালপাড়সংলগ্ন একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানান, দুর্গন্ধে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হয়।
পরিচ্ছন্নতা অভিযান মাঝেমধ্যে হলেও তা ধারাবাহিক নয়। অভিযানের কিছুদিন পরই আগের অবস্থা ফিরে আসে বলে বাসিন্দাদের পর্যবেক্ষণ।
খালের পানি পরীক্ষা করানোর কোনো ব্যবস্থা এলাকায় নেই। ফলে দূষণের মাত্রা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি, যা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পথে বড় বাধা।
কয়েকজন তরুণ স্বেচ্ছাসেবী জানান, তাঁরা মাসে একদিন খালপাড় পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, কিন্তু পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও প্রশাসনিক সহায়তার অভাবে তা চালিয়ে যেতে পারেননি।
সুপারিশ ও উপসংহার
খালটি রক্ষায় নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, নির্দিষ্ট স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন এবং কারখানার বর্জ্য নিষ্কাশনে তদারকি জরুরি। পাশাপাশি এলাকাবাসীকে সম্পৃক্ত করে স্থায়ী পরিচ্ছন্নতা কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হলো।
সাধারণ ভুল
পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।
- ✗ প্রতিবেদনটিকে রচনার সংক্ষিপ্ত রূপ বানানো। ✓ একটি নির্দিষ্ট এলাকার অবস্থা লেখা।
- ✗ দূষণের মাত্রা বা সূচক বানিয়ে লেখা। ✓ সংখ্যা এড়িয়ে পর্যবেক্ষণে থাকা।
- ✗ নির্দিষ্ট কারখানার নাম দিয়ে অভিযোগ করা। ✓ সাধারণভাবে শিল্পবর্জ্যের কথা বলা।
- ✗ স্থানীয়দের ভোগান্তি বাদ দেওয়া। ✓ স্বাস্থ্যগত সমস্যার কথা সাধারণভাবে লেখা।
- ✗ দূষণের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ বিস্তারিত লেখা। ✓ সরেজমিন অবস্থাতেই স্থির থাকা।
অনুশীলন
নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।
- পরিবেশ দূষণের প্রতিবেদন ও রচনার পার্থক্য কী?
- সরেজমিন প্রতিবেদনে কী কী পর্যবেক্ষণ লিখব?
- স্থানীয়দের ভোগান্তি কীভাবে লিখবে?
- নির্দিষ্ট কারখানার নাম লেখা যায় কি?
- দূষণের সূচক লিখব কি?
- সুপারিশে কী লিখবে?
- দূষণের প্রকারভেদ লিখব কি?
- এলাকা নির্দিষ্ট করা কেন জরুরি?
- ছবি বা তথ্যের উৎস কীভাবে দেখাবে?
- কোন ধরনের দূষণে জোর দেবে?
উত্তর
- রচনা সারা দেশের সাধারণ চিত্র নিয়ে; প্রতিবেদন একটি নির্দিষ্ট এলাকার নির্দিষ্ট অবস্থা নিয়ে। রচনা বলে দূষণ কেন খারাপ, প্রতিবেদন বলে এখানে এখন কী অবস্থা।
- খোলা জায়গায় জমা বর্জ্য, নালার দুর্গন্ধ, কারখানার নির্গমন, ধুলা ও কালো ধোঁয়া; সেই সঙ্গে হর্ন ও নির্মাণকাজের শব্দ।
- সাধারণভাবে — শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ ও পানিবাহিত রোগ বেড়ে যাওয়ার কথা। নির্দিষ্ট রোগীর নাম বা সংখ্যা বানিয়ে লেখা যাবে না।
- না। প্রমাণ ছাড়া নাম দিয়ে অভিযোগ করা যায় না। সাধারণভাবে “স্থানীয় কারখানার বর্জ্য” লেখাই সঠিক ও নিরাপদ।
- না। বাতাসের মান সূচক বা দূষণের মাত্রা যাচাই না করে লেখা যায় না, আর তা প্রতিদিন বদলায়ও। পর্যবেক্ষণের ভাষাই যথেষ্ট।
- বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নালা পরিষ্কার, কারখানায় শোধনাগার বাধ্যতামূলক করা, বৃক্ষরোপণ এবং নিয়মিত তদারকি।
- বিস্তারিত নয়। সেটি রচনার কাজ — প্রতিবেদনে কেবল যে ধরনের দূষণ ওই এলাকায় দেখা গেছে, তারই বিবরণ থাকবে।
- কারণ প্রতিবেদনের ভিত্তিই নির্দিষ্টতা। কোন এলাকা, কোন নালা, কোন সড়ক — এসব উল্লেখ না করলে লেখাটি সরেজমিন প্রতিবেদন থাকে না, সাধারণ আলোচনা হয়ে যায়।
- সরেজমিন পরিদর্শন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য — এটুকু উল্লেখ করাই যথেষ্ট। উৎস জানালে প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে।
- যেটি ওই এলাকায় সবচেয়ে দৃশ্যমান — কোথাও বায়ুদূষণ, কোথাও পানিদূষণ। সব ধরনের দূষণ সমানভাবে লিখলে প্রতিবেদনটি সাধারণ আলোচনা হয়ে যায়।
উপযোগী শ্রেণি: সপ্তম, অষ্টম, নবম-দশম শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
রচনায় দূষণের সাধারণ কারণ ও প্রতিকার আলোচনা করা হয়; প্রতিবেদনে একটি নির্দিষ্ট স্থানের সরেজমিন পর্যবেক্ষণ, বাসিন্দাদের বক্তব্য ও স্থানীয় সুপারিশ উপস্থাপন করতে হয়।
কী দেখা গেল (বর্জ্যের ধরন, পানির অবস্থা, দুর্গন্ধ), কারা ক্ষতিগ্রস্ত, স্থানীয়রা কী বলছেন এবং বিদ্যমান ব্যবস্থার ঘাটতি কোথায় — এগুলো লেখা উচিত।
না। বাতাসের মান সূচক বা দূষণের মাত্রা নিজে যাচাই না করে লেখা যায় না, আর তা প্রতিদিন বদলায়ও। সরেজমিন পর্যবেক্ষণের ভাষাই যথেষ্ট এবং তা কখনো ভুল প্রমাণিত হয় না।
বিস্তারিত নয়। সেটি রচনার কাজ — প্রতিবেদনে কেবল যে ধরনের দূষণ ওই নির্দিষ্ট এলাকায় দেখা গেছে, তারই বিবরণ থাকবে। প্রকারভেদ ব্যাখ্যা করতে গেলে প্রতিবেদনটি রচনায় পরিণত হয়।
আরও প্রতিবেদন পড়ো
প্রতিবেদন-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















