মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

শ্রমের মর্যাদা নিয়ে নমুনা অনুচ্ছেদ — উদাহরণনির্ভর, উপদেশনির্ভর নয়।

অনুচ্ছেদ — শ্রমের মর্যাদা

শ্রমের মর্যাদা নিয়ে নমুনা অনুচ্ছেদ — উদাহরণনির্ভর, উপদেশনির্ভর নয়।

অনুচ্ছেদ

শ্রমের মর্যাদা বলতে বোঝায় ছোট-বড় নির্বিশেষে সব সৎ কাজকে সম্মানের চোখে দেখা। আমাদের সমাজে অনেকে কায়িক পরিশ্রমকে হেয় মনে করেন; অথচ যিনি রাস্তা পরিষ্কার করেন, যিনি ইট বয়ে দালান তোলেন, যিনি মাঠে ফসল ফলান — তাঁদের শ্রম ছাড়া শহর এক দিনও চলে না। কোনো কাজই ছোট নয়, ছোট কেবল অসৎ উপায়ে অর্জিত অর্থ। পৃথিবীর বহু বড় মানুষ জীবনের শুরুতে সামান্য কাজ করেছেন এবং তা নিয়ে কখনো লজ্জা পাননি। নিজের হাতে কাজ করলে আত্মনির্ভরতা জন্মে, অন্যের শ্রমের প্রতি শ্রদ্ধা তৈরি হয় এবং অলসতা দূর হয়। তাই শ্রমজীবী মানুষকে সম্মান করা এবং নিজের কাজ নিজে করতে শেখা — দুটোই সভ্য সমাজের লক্ষণ।

ধারণাটি স্পষ্ট করো

শ্রমের মর্যাদা মানে — কোনো সৎ কাজই ছোট নয়, আর শ্রমজীবী মানুষ সমাজের সমান মর্যাদার অধিকারী।

এই সংজ্ঞাটি প্রথম বাক্যেই বলে নিলে বাকি বাক্যগুলো সহজে বসে, কারণ পাঠক জানে ঠিক কোন দাবিটি প্রমাণ করা হচ্ছে।

  • সৎ কাজ ছোট নয়
  • সংজ্ঞা প্রথম বাক্যে

কোন যুক্তি ও দৃষ্টান্ত দেবে

যুক্তির দিকে — সমাজ টিকে থাকে সব ধরনের শ্রমের ওপর। কৃষক, শ্রমিক, মিস্ত্রি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকলে কোনো শহর একদিনও চলে না।

দৃষ্টান্তে বিদেশের প্রসঙ্গটি কাজে লাগে — উন্নত দেশে শিক্ষার্থীরা পড়ার পাশাপাশি হাতের কাজ করে এবং তাতে কেউ ছোট হয় না।

নিজের কাজ নিজে করার অভ্যাসটিও এক বাক্যে বসে — শ্রমের মর্যাদা কেবল অন্যের শ্রমকে সম্মান করা নয়, নিজে শ্রম দেওয়াও।

  • সমাজ টিকে সব শ্রমে
  • নিজে শ্রম দেওয়াও মর্যাদা।

কোন ভুলটি সবচেয়ে বেশি হয়

সবচেয়ে সাধারণ ভুল — শ্রমজীবী মানুষের প্রতি করুণার সুরে লেখা। করুণা মর্যাদার বিপরীত, আর অনুচ্ছেদটির দাবিই তখন ভেঙে পড়ে।

সমতার ভাষায় লিখতে হবে — তাঁরা দয়ার পাত্র নন, সমাজের অপরিহার্য অংশ। সুরটিই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

  • করুণা = মর্যাদার বিপরীত
  • ভাষা হবে সমতার

বিস্তারিত

এখানে বিমূর্ত নীতিকথার বদলে তিনজন শ্রমজীবী মানুষের ছবি পরপর রাখা হয়েছে, কারণ পাঠকের চোখে দৃশ্য ভেসে উঠলে কথাটি মনে গেঁথে যায়। এরপর একটি প্রতিতুলনা — কাজ নয়, অসৎ অর্থই ছোট — এসেছে, আর শেষে দুটি করণীয় দিয়ে অনুচ্ছেদটি শেষ হয়েছে।

শেষ কথা

নীতিমূলক বিষয়ে লেখার সময় উপদেশ নয়, উদাহরণ দাও — পাঠকের চোখে ছবি ভেসে উঠলে কথাটি অনেক বেশি কাজ করে।

সাধারণ ভুল

পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।

  • শ্রমজীবী মানুষের প্রতি করুণার সুরে লেখা। সমতার ভাষায় তাঁদের অপরিহার্য ভূমিকা দেখানো।
  • কেবল কায়িক শ্রমকে শ্রম ভাবা। মানসিক শ্রমকেও শ্রমের অন্তর্ভুক্ত করা।
  • নিজে শ্রম দেওয়ার কথা বাদ দেওয়া। নিজের কাজ নিজে করার অভ্যাসের কথাও লেখা।
  • কেবল উপদেশমূলক বাক্য লেখা। সমাজ কীভাবে শ্রমের ওপর দাঁড়িয়ে তা দেখানো।
  • মজুরি বা শ্রমিকের সংখ্যা লেখা। সংখ্যা এড়িয়ে মর্যাদার প্রশ্নে থাকা।

অনুশীলন

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।

  1. শ্রমের মর্যাদা বলতে কী বোঝায়?
  2. এই অনুচ্ছেদে কোন ভুলটি সবচেয়ে বেশি হয়?
  3. সমাজ শ্রমের ওপর দাঁড়িয়ে — এ কথা কীভাবে দেখাবে?
  4. বিদেশের প্রসঙ্গ কীভাবে টানবে?
  5. শ্রম বলতে কি কেবল কায়িক শ্রম?
  6. নিজে শ্রম দেওয়ার কথা কেন লিখবে?
  7. শেষ বাক্যে কী লিখবে?
  8. শ্রমকে ছোট ভাবার মানসিকতা কোথা থেকে আসে?

উত্তর

  1. কোনো সৎ কাজই ছোট নয় এবং শ্রমজীবী মানুষ সমাজের সমান মর্যাদার অধিকারী — এই দুটি কথাই শ্রমের মর্যাদার সংজ্ঞা।
  2. শ্রমজীবী মানুষের প্রতি করুণার সুরে লেখা। করুণা মর্যাদার বিপরীত — সমতার ভাষায় লিখলে তবেই অনুচ্ছেদের দাবিটি টেকে।
  3. কৃষক, শ্রমিক, মিস্ত্রি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকলে কোনো শহর একদিনও চলে না — এই সরল পর্যবেক্ষণটিই যুক্তিটিকে অকাট্য করে তোলে।
  4. উন্নত দেশে শিক্ষার্থীরা পড়ার পাশাপাশি রেস্তোরাঁ বা দোকানে কাজ করে, আর তাতে কেউ ছোট হয় না — এই তুলনাটি আমাদের সমাজের সংকোচকে প্রশ্ন করে।
  5. না। শিক্ষকতা, গবেষণা ও পরিকল্পনার মতো মানসিক শ্রমও শ্রম। দুটিই সমান প্রয়োজনীয় — একটিকে অন্যটির চেয়ে উঁচু ভাবাই মূল সমস্যা।
  6. কারণ শ্রমের মর্যাদা কেবল অন্যের শ্রমকে সম্মান করা নয়, নিজের কাজ নিজে করাও। নিজের ঘর গোছানো বা বাসন ধোয়াকে ছোট ভাবলে সম্মানের কথাটি ফাঁপা হয়ে যায়।
  7. শ্রমের প্রতি সম্মান কেবল কথায় নয়, আচরণে প্রকাশ পাওয়া উচিত — মজুরি সময়মতো দেওয়া, ভদ্র ব্যবহার করা এবং নিজের কাজ নিজে করা।
  8. সামাজিক শ্রেণিবিভাজন ও শিক্ষাকে কেবল “অফিসের চাকরির” পথ ভাবার অভ্যাস থেকে। এই মানসিকতা বদলাতে হলে ঘর ও বিদ্যালয় থেকেই শুরু করতে হয়।

উপযোগী শ্রেণি: ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম শ্রেণি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আরও অনুচ্ছেদ পড়ো

অনুচ্ছেদ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকো

পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।