মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

গ্রন্থাগার নিয়ে নমুনা অনুচ্ছেদ — প্রকারভেদ, গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তাসহ।

অনুচ্ছেদ — গ্রন্থাগার

গ্রন্থাগার নিয়ে নমুনা অনুচ্ছেদ — প্রকারভেদ, গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তাসহ।

অনুচ্ছেদ

গ্রন্থাগার হলো সেই প্রতিষ্ঠান যেখানে সাজিয়ে রাখা বইয়ের সংগ্রহ থেকে পাঠক নিজের প্রয়োজনমতো বই পড়তে বা ধার নিতে পারেন। একে বলা হয় জ্ঞানের ভাণ্ডার, কারণ এখানে যুগ যুগ ধরে জমে ওঠা মানুষের চিন্তা একসঙ্গে রক্ষিত থাকে। গ্রন্থাগার নানা রকম — স্কুল-কলেজের গ্রন্থাগার, সরকারি গণগ্রন্থাগার, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা গ্রন্থাগার, আবার ঘরের ছোট ব্যক্তিগত সংগ্রহও এক ধরনের গ্রন্থাগার। যার বই কেনার সামর্থ্য নেই, গ্রন্থাগার তার জন্য সবচেয়ে বড় ভরসা; তাই একে বলা যায় দরিদ্রের বিশ্ববিদ্যালয়। এখানকার নীরব পরিবেশে মনোযোগ সহজে জমে, আর একই বিষয়ে নানা লেখকের বই পাশাপাশি পাওয়ায় বিষয়টি সব দিক থেকে বোঝা যায়। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার তাই বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন।

কোন তথ্যগুলো এক অনুচ্ছেদে ধরাবে

গ্রন্থাগারের অনুচ্ছেদে থাকবে — গ্রন্থাগার কী, কত রকমের হয়, ভেতরের পরিবেশ, কী উপকার দেয় এবং কেন একে দরিদ্রের বিশ্ববিদ্যালয় বলা হয়।

প্রকারভেদটি এই অনুচ্ছেদের নিজস্ব শক্তি — ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক, সরকারি বা গণগ্রন্থাগার এবং ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার।

  • পরিচয় · প্রকার · পরিবেশ · উপকার · তুলনা।

পরিবেশের বর্ণনা

সারি সারি তাক, বিষয়ভিত্তিক সাজানো বই, নীরব পাঠকক্ষ ও ক্যাটালগ — এই ছবিগুলো দুই বাক্যেই আঁকা যায়।

নীরবতার নিয়মটি উল্লেখ করা যায়। গ্রন্থাগারের নীরবতা কেবল শৃঙ্খলা নয়, মনোযোগের শর্ত — এই ব্যাখ্যাটি অনুচ্ছেদটিকে আলাদা করে।

  • তাক, ক্যাটালগ, পাঠকক্ষ।
  • নীরবতা = মনোযোগের শর্ত

শেষ বাক্যে কী লিখবে

শেষ বাক্যে গ্রন্থাগারের সামাজিক ভূমিকা — এখানে সামর্থ্য নির্বিশেষে সবাই পড়ার সুযোগ পায়।

দেশে গ্রন্থাগারের সংখ্যা ও ব্যবহার বাড়ানোর কথাও এক বাক্যে যোগ করা যায়। এতে অনুচ্ছেদটি বর্ণনা থেকে বক্তব্যে পৌঁছায়।

  • সামর্থ্য নির্বিশেষে সবার সুযোগ

বিস্তারিত

প্রতিষ্ঠানবিষয়ক অনুচ্ছেদে শ্রেণিবিভাগ দিলে লেখাটি তথ্যবহুল হয়, তাই এখানে গ্রন্থাগারের প্রকারভেদ একটি বাক্যে গুছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর কারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হন সেই দিকটি এসেছে, আর শেষ বাক্যে একটি দাবির আকারে সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে।

শেষ কথা

কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়ে লিখলে তার প্রকারভেদ এক বাক্যে দিয়ে দাও — অল্প জায়গায় অনেক তথ্য দেওয়ার এটিই সহজ উপায়।

সাধারণ ভুল

পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।

  • গ্রন্থাগারের প্রকারভেদ বাদ দেওয়া। ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক, গণ ও ভ্রাম্যমাণ — চার প্রকার লেখা।
  • কেবল বইয়ের সংগ্রহের কথা বলা। পাঠকক্ষ, নীরবতা ও সাজানোর ব্যবস্থার কথাও লেখা।
  • নির্দিষ্ট গ্রন্থাগারের নাম ও বইয়ের সংখ্যা লেখা। নাম ও সংখ্যা এড়িয়ে ভূমিকার কথায় থাকা।
  • ইন্টারনেটকে গ্রন্থাগারের শত্রু হিসেবে দেখানো। দুটিকে ভিন্ন ধরনের পাঠের উৎস হিসেবে দেখানো।
  • সামাজিক ভূমিকার কথা এড়িয়ে যাওয়া। সামর্থ্য নির্বিশেষে সবার পড়ার সুযোগের কথা লেখা।
  • গ্রন্থাগারকে কেবল বই রাখার ঘর হিসেবে দেখানো। পড়া, খোঁজা ও মনোযোগ দেওয়ার একটি ব্যবস্থা হিসেবে দেখানো।

অনুশীলন

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।

  1. গ্রন্থাগারকে দরিদ্রের বিশ্ববিদ্যালয় বলা হয় কেন?
  2. গ্রন্থাগার কত রকমের হয়?
  3. পরিবেশের বর্ণনায় কী লিখবে?
  4. গ্রন্থাগারের নীরবতা কেন জরুরি?
  5. ইন্টারনেট থাকতে গ্রন্থাগার কেন দরকার?
  6. শেষ বাক্যে কী লিখবে?
  7. কোন তথ্যগুলো এড়িয়ে যাবে?
  8. গ্রন্থাগার ব্যবহারের নিয়মগুলো কী?
  9. ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার কী?

উত্তর

  1. কারণ এখানে অর্থ ছাড়াই জ্ঞান মেলে। যে বই কেনার সামর্থ্য নেই, সে-ও গ্রন্থাগারে বসে পড়তে পারে — সামর্থ্য নয়, আগ্রহই এখানে একমাত্র শর্ত।
  2. প্রধানত চার রকম — ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক (স্কুল-কলেজের), সরকারি বা গণগ্রন্থাগার এবং ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার, যা গাড়িতে করে বই পৌঁছে দেয়।
  3. সারি সারি তাক, বিষয়ভিত্তিক সাজানো বই, নীরব পাঠকক্ষ ও খুঁজে বের করার ক্যাটালগ — দুই বাক্যেই ছবিটি সম্পূর্ণ হয়।
  4. নীরবতা কেবল শৃঙ্খলার নিয়ম নয়, মনোযোগের শর্ত। পড়ার সময় মনোযোগ ভাঙলে বোঝা কঠিন হয়ে যায় — এ কারণেই নিয়মটি কঠোরভাবে মানা হয়।
  5. ইন্টারনেট দ্রুত তথ্য দেয়, গ্রন্থাগার দেয় ধারাবাহিক ও যাচাই করা জ্ঞান। দুটি ভিন্ন ধরনের পাঠ — একটি অন্যটির শত্রু নয়, বিকল্পও নয়।
  6. গ্রন্থাগারের সামাজিক ভূমিকা — সামর্থ্য নির্বিশেষে সবার পড়ার সুযোগ, এবং দেশে গ্রন্থাগারের সংখ্যা ও ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজন।
  7. নির্দিষ্ট গ্রন্থাগারের নাম ও তার বইয়ের সংখ্যা। এসব বদলায় এবং যাচাই করা কঠিন — গ্রন্থাগারের ভূমিকা ও পরিবেশের বর্ণনাই যথেষ্ট।
  8. সদস্য হয়ে কার্ড নেওয়া, ক্যাটালগ দেখে বই খুঁজে বের করা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বই ফেরত দেওয়া এবং পাঠকক্ষে নীরবতা বজায় রাখা। নিয়মগুলো সহজ, আর সেগুলো মানলেই সবার জন্য পরিবেশটি কাজের থাকে।
  9. গাড়িতে বই নিয়ে এলাকায় এলাকায় ঘুরে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা। যেখানে স্থায়ী গ্রন্থাগার নেই, সেখানে এটিই পাঠাভ্যাস ছড়িয়ে দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

উপযোগী শ্রেণি: ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম শ্রেণি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আরও অনুচ্ছেদ পড়ো

অনুচ্ছেদ-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকো

পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।