বন্ধুর কাছে বই পড়া নিয়ে চিঠি
বই পড়ার অভ্যাস নিয়ে বন্ধুকে লেখা ব্যক্তিগত পত্রের নমুনা ও নিয়ম।
কী লিখতে হবে
ব্যক্তিগত পত্রে কোনো বরাবর বা বিষয় লেখা হয় না। শুরু হয় স্থান-তারিখ ও সম্বোধন দিয়ে, শেষ হয় ইতি ও নাম দিয়ে — ভাষা হয় ঘরোয়া ও আন্তরিক।
ব্যক্তিগত পত্র ও আবেদনপত্র আলাদা
ব্যক্তিগত পত্রে থাকে সম্বোধন, কুশল বিনিময়, মূল বক্তব্য ও বিদায়সম্ভাষণ। আবেদনপত্রে থাকে প্রাপক, বিষয় ও নিবেদক।
ব্যক্তিগত পত্রে “বিষয়” লাইন থাকে না, আর ভাষা হয় ঘরোয়া ও আন্তরিক — আবেদনপত্রের আনুষ্ঠানিকতা এখানে বেমানান।
- ব্যক্তিগত পত্রে বিষয় নেই।
বই পড়া নিয়ে কী লিখবে
বন্ধুকে বই পড়তে উৎসাহ দেওয়ার চিঠিতে উপদেশের সুর এড়াতে হয়। নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে বললে কথাটি বেশি গ্রহণযোগ্য হয়।
“আমি সম্প্রতি একটি বই পড়ে যা পেলাম” — এভাবে শুরু করলে চিঠিটি উপদেশ না হয়ে ভাগ করে নেওয়া হয়ে ওঠে।
বইয়ের ধরন উল্লেখ করা যায় — গল্প, ভ্রমণকাহিনি বা জীবনী। বন্ধুর আগ্রহ অনুযায়ী পরামর্শ দিলে চিঠিটি ব্যক্তিগত হয়।
- উপদেশ নয়, অভিজ্ঞতা।
শেষে কী লিখতে হয়
চিঠির শেষে বিদায়সম্ভাষণ ও নিজের নাম। পরিবারের বড়দের সালাম ও ছোটদের স্নেহ জানানোর রীতিও প্রচলিত।
চিঠির উত্তর চাওয়ার কথাও এক বাক্যে লেখা যায় — এতে চিঠিটি সংলাপের সূচনা হয়ে ওঠে, একতরফা বার্তা নয়।
- বিদায়সম্ভাষণ ও নাম।
নমুনা আবেদন
[স্থান], [তারিখ]
প্রিয় [বন্ধুর নাম],
আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নিও। অনেক দিন তোমার কোনো চিঠি পাইনি। আশা করি তুমি ও তোমার পরিবারের সবাই ভালো আছ।
আজ তোমাকে একটি বিশেষ কথা লিখতে বসেছি। ইদানীং আমি পাঠ্যবইয়ের বাইরে গল্প, ভ্রমণকাহিনি ও জীবনীগ্রন্থ পড়া শুরু করেছি, আর তাতে যে কী আনন্দ পাচ্ছি তা বলে বোঝাতে পারব না।
বই পড়ার সবচেয়ে বড় মজা হলো, নিজের ঘরে বসেই অন্য দেশ, অন্য সময় আর অন্য মানুষের জীবন দেখা যায়। এতে শব্দভান্ডার বাড়ে, বাংলা ও ইংরেজি দুই বিষয়েই লিখতে সুবিধা হয়।
তুমি প্রায়ই বল অবসরে কিছু করার থাকে না। আমার পরামর্শ, মাসে অন্তত একটি বই পড়ার অভ্যাস শুরু করো। বইমেলা বা স্থানীয় পাঠাগার থেকেই শুরু করতে পারো।
আজ এখানেই শেষ করছি। তোমার বাবা-মাকে আমার সালাম দিও এবং ছোটদের স্নেহ জানিও। চিঠির উত্তর দিতে ভুলো না।
ইতি — তোমার বন্ধু, [নাম]।
মনে রাখার কথা
ব্যক্তিগত পত্রে “বিনীত নিবেদন” বা “বাধিত করবেন” জাতীয় আনুষ্ঠানিক বাক্য ব্যবহার করা যাবে না। খামের ওপর প্রাপকের নাম ও পূর্ণ ঠিকানা স্পষ্ট করে লিখতে হয়।
সাধারণ ভুল
পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।
- ✗ ব্যক্তিগত পত্রে “বিষয়” লাইন লেখা। ✓ সম্বোধন দিয়ে সরাসরি শুরু করা।
- ✗ উপদেশের সুরে লেখা। ✓ নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে বলা।
- ✗ আবেদনপত্রের আনুষ্ঠানিক ভাষা ব্যবহার করা। ✓ ঘরোয়া ও আন্তরিক ভাষায় লেখা।
- ✗ বিদায়সম্ভাষণ বাদ দেওয়া। ✓ শেষে বিদায়সম্ভাষণ ও নিজের নাম লেখা।
- ✗ কুশল বিনিময় বাদ দিয়ে সরাসরি বিষয়ে যাওয়া। ✓ প্রথম অনুচ্ছেদে কুশল জিজ্ঞাসা করা।
- ✗ চিঠিতে অনেকগুলো অনুচ্ছেদ লেখা। ✓ তিন অনুচ্ছেদে সীমিত রেখে চিঠির রূপ ধরে রাখা।
অনুশীলন
নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।
- ব্যক্তিগত পত্র ও আবেদনপত্রের পার্থক্য কী?
- চিঠির শেষে কী লিখতে হয়?
- উপদেশের সুর এড়াবে কীভাবে?
- কোন ধরনের বইয়ের কথা লিখবে?
- চিঠির ভাষা কেমন হবে?
- প্রথম অনুচ্ছেদে কী থাকবে?
- উত্তর চাওয়ার কথা কেন লিখবে?
- চিঠিতে ঠিকানা কোথায় লিখবে?
- বই পড়ার কোন উপকারের কথা লিখবে?
- চিঠিতে কতটি অনুচ্ছেদ থাকবে?
উত্তর
- ব্যক্তিগত পত্রে থাকে সম্বোধন, কুশল বিনিময়, মূল বক্তব্য ও বিদায়সম্ভাষণ; আবেদনপত্রে থাকে প্রাপক, বিষয় ও নিবেদক। ব্যক্তিগত পত্রে “বিষয়” লাইন থাকে না।
- বিদায়সম্ভাষণ ও নিজের নাম। পরিবারের বড়দের সালাম ও ছোটদের স্নেহ জানানোর রীতিও প্রচলিত, আর উত্তর চাওয়ার কথাও এক বাক্যে লেখা যায়।
- নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে বলে — “আমি সম্প্রতি একটি বই পড়ে যা পেলাম”। এভাবে বললে চিঠিটি উপদেশ না হয়ে ভাগ করে নেওয়া হয়ে ওঠে।
- গল্প, ভ্রমণকাহিনি বা জীবনী — বন্ধুর আগ্রহ অনুযায়ী। আগ্রহের সঙ্গে মিলিয়ে পরামর্শ দিলে চিঠিটি ব্যক্তিগত ও কার্যকর হয়।
- ঘরোয়া ও আন্তরিক। আবেদনপত্রের আনুষ্ঠানিক ভাষা বন্ধুর চিঠিতে বেমানান এবং সম্পর্কের সুরটিই নষ্ট করে দেয়।
- কুশল বিনিময় — বন্ধু ও তার পরিবারের খোঁজ। সরাসরি মূল বিষয়ে গেলে চিঠিটি রুক্ষ শোনায়।
- কারণ তাতে চিঠিটি সংলাপের সূচনা হয়ে ওঠে, একতরফা বার্তা নয়। বন্ধুও উত্তর দিতে উৎসাহ পায়।
- চিঠির ওপরে ডান দিকে নিজের ঠিকানা ও তারিখ, আর খামের ওপর প্রাপকের পূর্ণ ঠিকানা। পরীক্ষায় খামের ঠিকানাও লিখতে বলা হয়, তাই তা বাদ দেওয়া চলে না।
- যেটি বন্ধুর কাজে লাগবে — মনোযোগ বাড়া, ভাষার দখল ও নতুন জগৎ চেনা। সব উপকার একসঙ্গে লিখলে চিঠিটি প্রবন্ধ হয়ে যায়।
- সাধারণত তিনটি — কুশল বিনিময়, মূল বক্তব্য এবং সমাপ্তি। বেশি অনুচ্ছেদে চিঠিটি প্রবন্ধের চেহারা নিয়ে ফেলে।
উপযোগী শ্রেণি: ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম শ্রেণি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
আবেদনপত্রে বরাবর, বিষয় ও আনুষ্ঠানিক ভাষা থাকে এবং শেষে বিনীত প্রার্থনা থাকে; ব্যক্তিগত পত্রে সম্বোধন, ঘরোয়া ভাষা ও ইতি থাকে, বিষয় লেখা হয় না।
বন্ধুকে লেখা চিঠিতে “ইতি — তোমার বন্ধু” লিখে নিজের নাম দিতে হয়। গুরুজনকে লিখলে “ইতি — তোমার স্নেহের” বা উপযুক্ত সম্বোধন ব্যবহার করতে হয়।
কুশল বিনিময় — বন্ধু ও তার পরিবারের খোঁজ। সরাসরি মূল বিষয়ে গেলে চিঠিটি রুক্ষ শোনায় এবং ব্যক্তিগত পত্রের আন্তরিক সুরটি হারিয়ে যায়।
কারণ তাতে চিঠিটি সংলাপের সূচনা হয়ে ওঠে, একতরফা বার্তা নয়। বন্ধুও উত্তর দিতে উৎসাহ পায় এবং যোগাযোগটি চলতে থাকে।
আরও দরখাস্ত ও পত্র পড়ো
দরখাস্ত ও পত্র-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকো
পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।






















