মূলপাতা
লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN

বর্ষাকাল রচনা — বর্ষার সৌন্দর্য, কৃষিতে প্রয়োজনীয়তা, বন্যা ও প্রস্তুতি নিয়ে রচনা।

বর্ষাকাল

বর্ষাকাল রচনা — বর্ষার সৌন্দর্য, কৃষিতে প্রয়োজনীয়তা, বন্যা ও প্রস্তুতি নিয়ে রচনা।

ভূমিকা

বর্ষা বাংলাদেশের প্রাণের ঋতু। আষাঢ়-শ্রাবণের বৃষ্টি একদিকে কৃষিকে বাঁচিয়ে রাখে, অন্যদিকে বন্যা ও দুর্ভোগও ডেকে আনে — এই দ্বৈত রূপই বর্ষার বৈশিষ্ট্য।

রচনার কাঠামো সাজাও

বর্ষার রচনায় দুই দিক সমান্তরালে সাজানোই সবচেয়ে ভালো কৌশল — প্রকৃতির রূপ ও কৃষির উপকার একদিকে, বন্যা ও দুর্ভোগ অন্যদিকে।

দুটি দিক আলাদা অনুচ্ছেদে রাখো, মিশিয়ে ফেলো না। মিশিয়ে ফেললে কোনো দিকই স্পষ্ট হয় না এবং রচনাটি এলোমেলো দেখায়।

উপসংহারে দ্বৈততাটি মেনে নিয়েই সিদ্ধান্ত টানো — বর্ষা ছাড়া এ দেশের কৃষি অচল, তাই তাকে ভালোবাসা ও প্রস্তুতি দুটিই দরকার।

  • উপকার ও দুর্ভোগ — আলাদা অনুচ্ছেদে।
  • উপসংহারে দ্বৈততা মেনে নাও

প্রকৃতি ও কৃষির অনুচ্ছেদ

আষাঢ়-শ্রাবণের টানা বৃষ্টিতে নদী-নালা, খাল-বিল পানিতে ভরে ওঠে; কদম ও কেয়া ফোটে, আর ব্যাঙের ডাক ও বৃষ্টির শব্দ মিলে বর্ষার নিজস্ব সুর তৈরি হয়।

কৃষির দিকে — আমন ধানের চারা রোপণ, পাট পচানো ও মাছের প্রজনন। বর্ষার পানি ছাড়া এ দেশের কৃষিচক্রই ভেঙে পড়ে।

নদীমাতৃক জীবনের ছবিটিও আসবে — নৌকা চলাচল, হাটবাজারে যাতায়াত এবং জেলেদের ব্যস্ততা।

  • কদম, কেয়া, ব্যাঙের ডাক।
  • আমন, পাট, মাছের প্রজনন।

দুর্ভোগ ও সাহিত্যের প্রসঙ্গ

দুর্ভোগের দিকে — বন্যা, নদীভাঙন, ফসলহানি, ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়া, পানিবাহিত রোগ এবং শহরে জলাবদ্ধতা ও যানজট।

বাংলা সাহিত্যে বর্ষা সবচেয়ে বেশি লেখা হওয়া ঋতু — রবীন্দ্রনাথের বর্ষার গান ও কবিতা এর সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ। এক-দুই বাক্যে এই প্রসঙ্গটি রচনাকে সমৃদ্ধ করে।

  • বন্যা, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা।
  • সাহিত্যে সবচেয়ে লেখা ঋতু।

মূল আলোচনা

গ্রীষ্মের দহনের পর আকাশে মেঘ জমতে শুরু করলেই বোঝা যায় বর্ষা আসছে। প্রথম বৃষ্টিতে তপ্ত মাটি থেকে যে সোঁদা গন্ধ ওঠে, তা বাঙালির অত্যন্ত প্রিয়।

বর্ষায় নদী-নালা, খাল-বিল পানিতে টইটম্বুর হয়ে ওঠে। শুকিয়ে যাওয়া জলাশয়গুলো ভরে যায়, মাছের বংশবিস্তার ঘটে এবং জেলেদের জালে ধরা পড়ে টাটকা মাছ।

কৃষির জন্য এ ঋতু অপরিহার্য। আমন ধানের চাষ পুরোপুরি বৃষ্টিনির্ভর; সময়মতো বৃষ্টি হলে সেচের খরচ বাঁচে এবং ফলন ভালো হয়।

প্রকৃতিও সাজে নতুন রূপে। গাছপালা ধুয়ে সবুজ হয়ে ওঠে, কদম ও কেয়া ফুল ফোটে, আর বিলে ফোটে শাপলা — বর্ষার সৌন্দর্য বাংলা সাহিত্যের এক অক্ষয় উপাদান।

রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের বহু গান ও কবিতা এই ঋতুকে ঘিরেই লেখা। বর্ষা তাই কেবল আবহাওয়া নয়, আমাদের সংস্কৃতিরও অবিচ্ছেদ্য অংশ।

হাওর ও নিম্নাঞ্চলে বর্ষায় যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে নৌকা। একসময় নৌকাবাইচের আয়োজন গ্রামীণ উৎসবের চেহারা নিত, আজও কোথাও কোথাও তা টিকে আছে।

কিন্তু অতিবৃষ্টি ভোগান্তিও আনে। শহরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা ডুবে যায়, যানজট ও কর্মঘণ্টা নষ্টের ক্ষতি বিপুল।

গ্রামে বন্যা হলে ঘরবাড়ি, ফসল ও গবাদিপশুর ক্ষতি হয়। পানিবাহিত রোগ — ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও চর্মরোগ — মহামারির আকার নিতে পারে।

নদীভাঙনে প্রতি বছর হাজারো পরিবার ভিটেমাটি হারায়। যাঁরা সব হারিয়ে শহরে চলে আসেন, তাঁদের জীবন শুরু হয় বস্তির এক কোণ থেকে।

শিক্ষার্থীদের জন্যও বর্ষা কষ্টের। কাদা-পানি পেরিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়া কঠিন হয়, বন্যা হলে দীর্ঘদিন পাঠদান বন্ধ থাকে এবং পাঠ্যবই নষ্ট হয়ে যায়।

তাই বর্ষাকে উপভোগের পাশাপাশি প্রস্তুতিও দরকার — ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাঁধ সংস্কার, আগাম সতর্কবার্তা ও উঁচু আশ্রয়কেন্দ্র ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে দেয়।

বর্ষায় রোগবালাই থেকে বাঁচতে সতর্কতা জরুরি। ফোটানো পানি পান করা, জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা ও মশারি ব্যবহার করলে ডেঙ্গুসহ বহু রোগ এড়ানো যায়।

ছোটদের কাছে অবশ্য বর্ষা মানেই আনন্দ। কাগজের নৌকা ভাসানো, বৃষ্টিতে ভেজা আর জমে থাকা পানিতে ছোটাছুটি — এই স্মৃতিগুলো সারা জীবন মনে থেকে যায়।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বর্ষার আচরণও বদলাচ্ছে। কখনো মৌসুম শুরুর অনেক পরে বৃষ্টি নামে, আবার কখনো অল্প সময়ে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয় — দুটিই কৃষকের হিসাব ওলটপালট করে দেয়।

উপসংহার

বর্ষা আমাদের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির প্রাণ, আবার দুর্ভোগেরও উৎস। পরিকল্পিত প্রস্তুতি নিতে পারলে এর ক্ষতি কমিয়ে সুফলটুকুই ঘরে তোলা সম্ভব।

সাধারণ ভুল

পরীক্ষায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে। ভুল রূপটি দেখে নিলে নিজের লেখায় ধরা সহজ হয়।

  • উপকার ও দুর্ভোগ একই অনুচ্ছেদে মিশিয়ে ফেলা। দুটি আলাদা অনুচ্ছেদে রেখে প্রতিটিকে স্পষ্ট করা।
  • কেবল সৌন্দর্যের বর্ণনা লেখা। কৃষি ও দুর্ভোগের বাস্তব দিকও দেখানো।
  • শহরের জলাবদ্ধতার প্রসঙ্গ বাদ দেওয়া। নগরজীবনের দুর্ভোগও যুক্ত করা।
  • বৃষ্টিপাতের নির্দিষ্ট পরিমাণ আন্দাজে লেখা। সংখ্যা এড়িয়ে বর্ণনা ও প্রভাবে থাকা।
  • সাহিত্যের প্রসঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করা। এক-দুই বাক্যে উল্লেখ করে মূল বর্ণনায় ফেরা।

অনুশীলন

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে লেখো, তারপর মিলিয়ে নাও।

  1. বর্ষাকাল রচনায় দুটি দিক কীভাবে সাজাব?
  2. বর্ষার সঙ্গে বাংলা সাহিত্যের সম্পর্ক কী?
  3. কৃষিতে বর্ষার ভূমিকা কী?
  4. দুর্ভোগের দিকে কী লিখবে?
  5. বর্ষার প্রকৃতির ছবি কীভাবে আঁকবে?
  6. উপসংহারে কী লিখবে?
  7. নদীমাতৃক জীবনের ছবি কীভাবে আনবে?

উত্তর

  1. সমান্তরালে, কিন্তু আলাদা অনুচ্ছেদে — একদিকে প্রকৃতির রূপ ও কৃষির উপকার, অন্যদিকে বন্যা ও দুর্ভোগ। মিশিয়ে ফেললে কোনো দিকই স্পষ্ট হয় না।
  2. বর্ষা বাংলা সাহিত্যে সবচেয়ে বেশি লেখা হওয়া ঋতু। রবীন্দ্রনাথের বর্ষার গান ও কবিতা এর সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ — এক-দুই বাক্যে এই প্রসঙ্গটি রচনাকে সমৃদ্ধ করে।
  3. আমন ধানের চারা রোপণ, পাট পচানো ও মাছের প্রজনন — তিনটিই বর্ষার পানির ওপর নির্ভরশীল। বর্ষা ছাড়া এ দেশের কৃষিচক্রই ভেঙে পড়ে।
  4. বন্যা, নদীভাঙন, ফসলহানি, ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়া, পানিবাহিত রোগ এবং শহরে জলাবদ্ধতা ও যানজট। গ্রাম ও শহর দুই জায়গার দুর্ভোগই থাকা চাই।
  5. টানা বৃষ্টিতে ভরে ওঠা নদী-নালা ও খাল-বিল, কদম ও কেয়া ফুল, ব্যাঙের ডাক ও বৃষ্টির শব্দ — ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ছবি দিলে বর্ণনাটি জীবন্ত হয়।
  6. দ্বৈততাটি মেনে নিয়েই সিদ্ধান্ত — বর্ষা ছাড়া এ দেশের কৃষি অচল, তাই তাকে ভালোবাসা এবং তার দুর্ভোগের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া দুটিই দরকার।
  7. নৌকায় হাটবাজারে যাতায়াত, জেলেদের ব্যস্ততা ও ঘাটে ঘাটে নৌকার ভিড়। এই ছবিগুলো দেখায় বর্ষা কেবল আবহাওয়া নয়, একটি জীবনযাপনের ধরনও।

উপযোগী শ্রেণি: ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম শ্রেণি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

আরও বাংলা রচনা পড়ো

বাংলা রচনা-এর পূর্ণ তালিকা ও বাংলা লেখার অন্যান্য অংশ এক জায়গায়।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকো

পড়াশোনার আপডেট, সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর সবার আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হও।